কতদিন দরিদ্রদের অপেক্ষা করে থাকতে হবে?
“যদি একটি স্বাধীন সমাজ, অধিকাংশ মানুষই যারা দরিদ্র, তাদের সাহায্য করতে না পারে, তাহলে অল্প সংখ্যক যারা ধনী, তাদের তারা রক্ষা করতে পারবে না।”—জন এফ. কেনেডি।
“আমি চাই সকলের জন্য এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ—যেখানে দরিদ্রতা নেই, কেউ আর পার্কে ঘুমাবে না, ঠিক যেন এক পরমদেশ!” ব্রাজিলের, সাও পাওলো শহরের একজন ১২ বছরের ছেলে এই উক্তিটি করে। কিন্তু দরিদ্রতাকে মুছে ফেলা কি সম্ভব? কতদিন দরিদ্রদের অপেক্ষা করে থাকতে হবে?
কিছু লোক নিজেদের দরিদ্র বলে মনে করে, কারণ, তারা যা চায় তা তারা কিনতে পারে না বলে। কিন্তু, তাদের অবস্থার কথা চিন্তা করুন যারা প্রকৃতই দারিদ্র-পীড়িত। সেই সব লোকেদের চরম অবস্থা ও দুঃখের কথা কি আপনি কল্পনা করতে পারেন? তাদের মধ্যে কয়েকজন যখন আবর্জনার মধ্যে যায় খাবার খুঁজতে, তখন তাদের চিল আর ইঁদুরের সাথে সমান তালে লড়াই করতে হয়! কতদিন এইধরনের দরিদ্রতা মানবজাতিকে পীড়ন করবে? ইউনেসকোর (রাষ্ট্রসংঘের শিক্ষামূলক, বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন) ডিরেকটার জেনারেল ফেডরিকো মেয়রের আবেদনটি খুবই যথার্থ যখন তিনি বলেন: “এই দ্বিধাগ্রস্ত প্রশ্রয়তার থেকে আসুন আমরা নিজেদের মুক্ত করি যা আমাদের সুযোগ দেয় এক অসহ্য জিনিসকে প্রশ্রয় দিতে—অর্থাৎ দরিদ্রতা, ক্ষুধা আর লক্ষ লক্ষ মানুষের উৎপীড়ন।”
সকলের মঙ্গল, এই যে স্বপ্নটি, তা কি কখনও বাস্তবে পরিণত হবে? দরিদ্রদের জন্য কী আশা রয়েছে?
দরিদ্রদের জন্য কোন্ সুযোগগুলি আছে?
সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে কিছু নেতারা আরও বেশি চাকুরি, আরও ভাল বেতন, উন্নত সামাজিক কর্মসূচি এবং ভূমি উন্নয়নের প্রস্তাব দিয়ে থাকেন। তারা হয়ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডির সাথে একমত হতে পারেন যিনি, বলেছিলেন: “যদি একটি স্বাধীন সমাজ, অধিকাংশ যারা দরিদ্র তাদের সাহায্য করতে না পারে তাহলে অল্প সংখ্যক যারা ধনী তাদের তারা রক্ষা করতে পারবে না।” দারিদ্র উচ্ছেদ করার জন্য উত্তম উদ্দেশ্যই যথেষ্ট নয়। উদাহরণস্বরূপ, অর্থনৈতিক প্রগতি কি সাধারণভাবে দরিদ্রদের সাহায্য করবে? সম্ভবত না। ভারতের প্রাক্তন নেতা জহরলাল নেহেরু বলেছিলেন: “পুঁজিবাদী সমাজের শক্তিকে যদি অনিয়ন্ত্রিত অবস্থায় রাখা হয়, তাহলে সেটি ধনীদের আরও ধনবান এবং দরিদ্রদের আরও দরিদ্রতর করে তোলার প্রবণতা রাখবে।” কিন্তু, কষ্ট ও খাদ্যাভাব ছাড়াও মূল্যহীনতার মনোভাব দরিদ্রদের বোঝাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। মানব নেতারা কি দরিদ্রদের এই অসহায় ও আশাহীন মনোভাবের মোকাবিলা করতে সাহায্য করতে পারবেন?
বস্তুতপক্ষে, অনেক দরিদ্র যারা দারিদ্রের চরম সীমায় রয়েছে, তারা এই দারিদ্রের মোকাবিলা করতে এবং আকাশ ছোঁয়া মুদ্রাস্ফীতি ও বেকারত্বের মাঝে নিজেদের ছোট করে দেখার মনোভাবকে কাটিয়ে উঠতে শিখেছে। এছাড়াও, দুর্ভিক্ষ, গৃহহীনতা এবং দুঃখদুর্দশা অবশ্যম্ভাবীরূপে সমূলে উৎপাটিত হবে। এটা কি আপনার কাছে আশ্চর্য লাগছে? আমরা আপনাকে পরবর্তী প্রবন্ধটি পড়তে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি যার বিষয়বস্তু হল: “অদূর ভবিষ্যতে, কেউ আর দরিদ্র থাকবে না!”