ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯৫ ২/১৫ পৃষ্ঠা ৮-১২
  • ধার্মিক ব্যক্তিদের পুনরুত্থান হবে

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • ধার্মিক ব্যক্তিদের পুনরুত্থান হবে
  • ১৯৯৫ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • মেষতুল্য ব্যক্তিদের একত্রীকরণ
  • পুনরুত্থানের আশা
  • বিশ্বাসীগণ “ধার্ম্মিক গণিত হয়”
  • পার্থিব পুনরুত্থান
  • একটি আশা যা সান্ত্বনা দেয়
  • পুনরুত্থান—এমন এক শিক্ষা যা আপনাকে প্রভাবিত করে
    ২০০৫ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • পুনরুত্থানের আশার শক্তি
    একমাত্র সত্য ঈশ্বরের উপাসনা করুন
  • মৃতেরা অবশ্যই আবার বেঁচে উঠবে—এই আশা আমাদের শক্তি দেয়
    ২০০০ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • পুনরুত্থানের আশা—আপনার জন্য এটা কী অর্থ রাখে?
    ২০০৫ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
আরও দেখুন
১৯৯৫ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯৫ ২/১৫ পৃষ্ঠা ৮-১২

ধার্মিক ব্যক্তিদের পুনরুত্থান হবে

“আমি ঈশ্বরে এই প্রত্যাশা করিতেছি যে, ধার্ম্মিক অধার্ম্মিক উভয় প্রকার লোকের পুনরুত্থান হইবে।”—প্রেরিত ২৪:১৫.

১. আদম ও হবার পাপ করার পর সমগ্র মানবজাতিকে কোন্‌ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে?

“তোমার হস্ত যে কোন কার্য্য করিতে পায়, তোমার তোমার শক্তির সহিত তাহা কর; কেননা তুমি যে স্থানে যাইতেছ, সেই পাতালে কোন কার্য্য কি সঙ্কল্প, কি বিদ্যা কি প্রজ্ঞা, কিছুই নাই।” (উপদেশক ৯:১০) আমাদের প্রথম পিতামাতা, আদম ও হবার পাপের পতনের পর প্রত্যেক বংশকে যে পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয় তা, উত্তমভাবে বাছাই করা এই অল্প কয়েকটি কথার দ্বারা জ্ঞানী রাজা শলোমন বর্ণনা করেছেন। কাউকে ব্যতিক্রম না রেখে অবশেষে মৃত্যু—ধনি ও দরিদ্র, রাজা ও প্রজা, বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসী সকলকেই শেষ করে দেয়। সত্যই, মৃত্যু “রাজত্ব” করে।—রোমীয় ৫:১৭.

২. এই শেষের দিনে কেন কিছু বিশ্বস্ত ব্যক্তিরা নিরুৎসাহী হয়ে পড়েছে?

২ অতি সম্প্রতি চিকিৎসা বিজ্ঞানে এত অগ্রগতি হওয়া সত্ত্বেও, মৃত্যু আজকের দিনেও রাজার ন্যায় রাজত্ব করে। যদিও এটি কোন অবাক হওয়ার বিষয় নয়, কেউ কেউ হয়ত পরিশেষে এই দীর্ঘকালীন শত্রু মৃত্যুর সম্মুখীন হয়ে কিছুটা অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে। কেন? কারণ, বিগত ১৯২০-র দশকে ওয়াচ টাওয়ার সোসাইটি এই বার্তা ঘোষণা করেছিল “লক্ষ লক্ষ ব্যক্তি যারা এখন জীবিত তারা কখনও মরবে না?” কারা এই লক্ষ লক্ষ ব্যক্তি? যীশুর মেষ ও ছাগের বিষয় মন্তব্যে যাদের “মেষ” বলা হয় তারা। (মথি ২৫:৩১-৪৬) ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল যে, এই মেষতুল্য ব্যক্তিদের শেষকালে দেখা যাবে এবং পরমদেশ পৃথিবীতে অনন্ত জীবন হবে তাদের আশা। সময় অতিবাহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যিহোবার উদ্দেশ্যে এই ‘মেষদের’ স্থান সম্বন্ধে ঈশ্বরের লোকেরা আরও ভালভাবে বুঝতে পারে। এটা বোঝা গিয়েছিল যে বাধ্য ব্যক্তিদের একরোখা ‘ছাগেদের’ থেকে পৃথক করা হবে এবং ছাগদের ধ্বংস করার পর, মেষেরা রাজ্যের পৃথিবীস্থ এলাকার অধিকারী হবে যা তাদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

মেষতুল্য ব্যক্তিদের একত্রীকরণ

৩. ১৯৩৫ সাল থেকে ঈশ্বরের লোকেরা কী কাজের উপর বেশি জোর দিয়েছে?

৩ ‘বিশ্বস্ত দাস’ ১৯৩৫ সালের শুরু থেকে এইধরনের মেষতুল্য ব্যক্তিদের খুঁজে বার করার ও তাদের যিহোবার সংগঠনে নিয়ে আসবার উপর জোর দিয়েছে। (মথি ২৪:৪৫; যোহন ১০:১৬) এই শিক্ষা গ্রহণে তৎপর খ্রীষ্টানেরা বুঝতে পেরেছে যে যিহোবার স্বর্গীয় রাজ্যে যীশু এখন রাজত্ব করছেন এবং এই দুষ্ট বিধিব্যবস্থার শেষ আরও কাছে এসে গেছে এবং নতুন জগৎ যেখানে ধার্মিকতা বাস করবে তা আগত প্রায়। (২ পিতর ৩:১৩; প্রকাশিত বাক্য ১২:১০) সেই নতুন জগতে, যিশাইয়ের এই উৎসাহদানকারী কথাগুলি পরিপূর্ণ হবে: “তিনি মৃত্যুকে অনন্তকালের জন্য বিনষ্ট করিয়াছেন।”—যিশাইয় ২৫:৮.

৪. যিহোবার সার্বভৌমত্ব আরমাগিদোনে জয়লাভ করবে তা উৎসুকভাবে দেখবার আশা করা সত্ত্বেও, অপর মেষের অংশ যারা তাদের অনেকের কী হয়েছে?

৪ যেহেতু শয়তানের জগতের শেষ খুবই সন্নিকট, তাই মেষতুল্য খ্রীষ্টানেরা বেঁচে থাকতে খুবই আনন্দ পায় যতক্ষণ না আসন্ন ক্লেশের দ্বারা মহতী বাবিল ও শয়তানের জগতের অবশিষ্ট অংশের উপর যিহোবার সার্বভৌমত্ব মহিমান্বিত হয়। (প্রকাশিত বাক্য ১৯:১-৩, ১৯-২১) অনেকের ক্ষেত্রে তা ঘটেনি। অনেকে “লক্ষ লক্ষদের” মধ্যে থাকবে বলে আশা রেখেছিল যারা কখনও মরবে না বাস্তবিকই তারা মারা যায়। সত্যের জন্য কেউ কেউ কারাগারে এবং কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে অথবা ধর্মীয় গোঁড়া ব্যক্তিদের হাতে শহীদ হয়। অন্যান্যেরা দুর্ঘটনা অথবা তথাকথিত স্বাভাবিক কারণগুলি—রোগ ও বৃদ্ধাবস্থার জন্য মারা যায়। (গীতসংহিতা ৯০:৯, ১০; উপদেশক ৯:১১) স্পষ্টত, শেষ আসার আগে আরও অনেকে মারা যাবে। তাহলে এক নতুন জগতে যেখানে ধার্মিকতা বাস করবে কিভাবে তারা সেই প্রতিজ্ঞার পরিপূর্ণতা দেখবে?

পুনরুত্থানের আশা

৫, ৬. পার্থিব আশা নিয়ে যারা আরমাগিদোনের আগে মারা যায়, তাদের কী ভবিষ্যৎ রয়েছে?

৫ রোমীয় রাজ্যপাল ফীলিক্সের সাথে কথা বলার সময় পৌল এর উত্তর দেন। যেমন প্রেরিত ২৪:১৫, পদে লিপিবদ্ধ করা রয়েছে, পৌল সাহসের সাথে ঘোষণা করেন: “আমি ঈশ্বরে এই প্রত্যাশা করিতেছি যে, ধার্ম্মিক অধার্ম্মিক উভয় প্রকার লোকের পুনরুত্থান হইবে।” পুনরুত্থানের আশা আমাদের অত্যন্ত খারাপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে সাহস যোগায়। এই আশার জন্য, আমাদের প্রিয় বন্ধুরা যারা পীড়িত হয় এবং বুঝতে পারে যে তারা মারা যাবে, অতিরিক্ত নিরুৎসাহী হয়ে পড়ে না। যাই ঘটুক না কেন, তারা জানে যে তারা বিশ্বস্ততার পুরস্কার পাবে। পুনরুত্থানের আশার দরুন, আমাদের সাহসী ভাই ও বোনেরা যারা নির্যাতনকারীদের হাতে মৃত্যু ভোগ করে তারা জানে যে, তাদের নির্যাতনকারীরা কখনও জয়লাভ করতে পারবে না। (মথি ১০:২৮) মণ্ডলীর কোন ব্যক্তি যখন মারা যায়, আমরা সেই ব্যক্তিকে হারাতে দুঃখিত হই। ঠিক একই সাথে, যদি সেই পুরুষ অথবা স্ত্রী অপর মেষের অংশ হয়, আমরা আনন্দিত যে আমাদের সহবিশ্বাসী শেষ পর্যন্ত বিশ্বস্ততা রক্ষা করেছে এবং এখন সে বিশ্রাম নিচ্ছে, ঈশ্বরের নতুন জগতে তার ভবিষ্যৎ নিশ্চিত।—১ থিষলনীকীয় ৪:১৩.

৬ হ্যাঁ, পুনরুত্থানের আশা হল আমাদের বিশ্বাসের এক মুখ্য দিক। তাহলে, কেন পুনরুত্থানের উপর আমাদের বিশ্বাস এত দৃঢ় এবং কে এই আশার অংশীদার?

৭. পুনরুত্থান কী এবং এর নিশ্চয়তা প্রদানে কয়েকটি শাস্ত্রপদ কী?

৭ “পুনরুত্থান” কথাটির গ্রীক শব্দ আনাসটাসিস্‌, যার আক্ষরিক অর্থ হল “উঠে দাঁড়ানো।” মূলত এটি সাধারণ অর্থে মৃত্যু থেকে উঠে আসা ইঙ্গিত করে। আগ্রহের বিষয় হল, ইব্রীয় শাস্ত্রে মূল শব্দ “পুনরুত্থান” এর কোন উল্লেখ নেই, কিন্তু পুনরুত্থানের আশা পরিষ্কারভাবে সেখানে দেওয়া আছে। উদাহরণস্বরূপ, আমরা এটা দেখি, দুঃখভোগের মধ্যে যখন ইয়োব এই কথাগুলি বলেন: “হায়, তুমি আমাকে পাতালে লুকাইয়া রাখিও, . . . আমার জন্য সময় নিরূপণ কর, আমাকে স্মরণ কর।” (ইয়োব ১৪:১৩) ঠিক একইভাবে হোশেয় ১৩:১৪ পদে আমরা পড়ি: “পাতালের হস্ত হইতে আমি তাহাদিগকে উদ্ধার করিব, মৃত্যু হইতে আমি তাহাদিগকে মুক্ত করিব। হে মৃত্যু, তোমার মহামারী সকল কোথায়? হে পাতাল, তোমার সংহার কোথায়?” ১ করিন্থীয় ১৫:৫৫ পদে, পৌল এই একই কথাগুলি উদ্ধৃতি করেন এবং দেখান যে ভবিষ্যদ্বাণী করা এই মৃত্যুর উপর জয় পুনরুত্থানের দ্বারা সিদ্ধ হয়। (অবশ্যই, এই শাস্ত্রপদগুলিতে পৌল স্বর্গীয় পুনরুত্থানের কথা বলছিলেন।)

বিশ্বাসীগণ “ধার্ম্মিক গণিত হয়”

৮, ৯. (ক) ধার্মিকদের পুনরুত্থানে কিভাবে অসিদ্ধ মানবজাতি অংশগ্রহণ করতে পারে? (খ) মৃত্যু দ্বারা শেষ হয়ে যাবে না এমন জীবনের যে আশা তার ভিত্তি কী?

৮ ফীলিক্সের কাছে তার বক্তব্যে যা পঞ্চম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, পৌল বলেছিলেন যে ধার্মিক ও অধার্মিক উভয়ের পুনরুত্থান হবে। এই ধার্মিক ব্যক্তিরা কারা যারা পুনরুত্থিত হবে? অবশ্যই, কোন মানুষ প্রকৃতিগতভাবে ধার্মিক নয়। জন্ম থেকে আমরা সকলেই পাপী এবং আমাদের সমগ্র জীবনকাল ধরে আমরা পাপ করে থাকি—যা আমাদের দুইবার মৃত্যুবরণের যোগ্য করে তোলে। (রোমীয় ৫:১২; ৬:২৩) কিন্তু, বাইবেলে আমরা “ধার্ম্মিক গণিত হয়” উক্তিটি পাই। (রোমীয় ৩:২৮) এটি ইঙ্গিত দেয়, মানুষ যদিও অসিদ্ধ কিন্তু যিহোবার দ্বারা তাদের পাপ ক্ষমা হয়।

৯ এই অভিব্যক্তিটি অভিষিক্ত খ্রীষ্টান যাদের স্বর্গীয় আশা আছে তাদের প্রতি বিশেষভাবে ব্যবহার করা হয়। রোমীয় ৫:১, পদে প্রেরিত পৌল বলেন: “অতএব বিশ্বাসহেতু ধার্ম্মিক গণিত হওয়াতে আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্ট দ্বারা আমরা ঈশ্বরের উদ্দেশে সন্ধি লাভ করিয়াছি।” সমস্ত অভিষিক্ত ব্যক্তিদের ধার্মিক গণিত করা হয় তাদের বিশ্বাস হেতু। বিশ্বাস কার উপর? পৌল যা অনেকক্ষণ ধরে বিবরণ দেন রোমীয়ের বইতে তা হল যীশু খ্রীষ্টের প্রতি বিশ্বাস। (রোমীয় ১০:৪, ৯, ১০) যীশু সিদ্ধ মানুষ হিসাবে মৃত্যু বরণ করেন ও তার পরে তাঁকে মৃত্যু থেকে পুনরুত্থিত করা হয় এবং আমাদের পক্ষে তাঁর মানব জীবনের মূল্য প্রদান করতে স্বর্গারোহণ করেন। (ইব্রীয় ৭:২৬, ২৭; ৯:১১, ১২) যখন যিহোবা সেই বলি গ্রহণ করেন, তখন যীশু আসলে মানবজাতিকে পাপ ও মৃত্যুর দাসত্ব থেকে ক্রয় করেন। এই ব্যবস্থার প্রতি যারা বিশ্বাস প্রদর্শন করে তারা এর থেকে প্রচুররূপে উপকার লাভ করে। (১ করিন্থীয় ১৫:৪৫) এর ভিত্তিতে বিশ্বস্ত পুরুষ এবং নারীরা এমন জীবনের আশা রাখতে পারে যা নিষ্ঠুর শত্রু, মৃত্যু দ্বারা কখনও শেষ হবে না।—যোহন ৩:১৬.

১০, ১১. (ক) বিশ্বস্ত অভিষিক্ত খ্রীষ্টানদের জন্য কোন্‌ পুনরুত্থান প্রতীক্ষা করছে? (খ) প্রাক্‌-খ্রীষ্টীয় উপাসকেরা কী ধরনের পুনরুত্থান আশা করেছিল?

১০ যীশুর মুক্তির মূল্যরূপ বলিদানের ফলস্বরূপ বিশ্বস্ত অভিষিক্ত ব্যক্তিরা ধার্মিক গণিত হয়েছে, পুনরুত্থিত হয়ে যীশুর মত অমর আত্মিক প্রাণী হওয়ার নিশ্চিত আশা রয়েছে। (প্রকাশিত বাক্য ২:১০) তাদের পুনরুত্থান প্রকাশিত বাক্য ২০:৬ পদে লেখা আছে, যা বলে: “যে কেহ এই প্রথম পুনরুত্থানের অংশী হয়, সে ধন্য ও পবিত্র; তাহাদের উপরে দ্বিতীয় মৃত্যুর কোন কর্ত্তৃত্ব নাই; কিন্তু তাহারা ঈশ্বরের ও খ্রীষ্টের যাজক হইবে, এবং সেই সহস্র বছর তাঁহার সঙ্গে রাজত্ব করিবে।” এটি হল স্বর্গীয় পুনরুত্থান। তবুও, লক্ষ্য করুন যে বাইবেল এটিকে “প্রথম পুনরুত্থান” বলে, যা ইঙ্গিত করে যে এর পরেও আর কিছু আছে।

১১ ইব্রীয় ১১ অধ্যায় পৌল প্রাক্‌-খ্রীষ্টীয় দাসেদের দীর্ঘ ধারার বিষয় বলে যারা যিহোবা ঈশ্বরের উপর দৃঢ় বিশ্বাস প্রদর্শন করেছিলেন। এরাও পুনরুত্থানের উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছিলেন। সেই অধ্যায়ের ৩৫ পদে পৌল অলৌকিক পুনরুত্থানগুলি যা ইস্রায়েলের ইতিহাসে ঘটেছিল, সেই সম্বন্ধে বলেন: “নারীগণ আপন আপন মৃতলোককে পুনরুত্থান দ্বারা পুনঃপ্রাপ্ত হইলেন; অন্যেরা প্রহার দ্বারা নিহত হইলেন, মুক্তি গ্রহণ করেন নাই, যেন শ্রেষ্ঠ পুনরুত্থানের ভাগী হইতে পারেন।” উদাহরণস্বরূপ, এলিয় ও ইলীশায়ের ক্ষেত্রে যা ঘটেছিল তার থেকে এই প্রাচীন বিশ্বস্ত সাক্ষীবৃন্দেরা আরও উত্তম পুনরুত্থানের আশা রাখতে পারতেন। (১ রাজাবলি ১৭:১৭-২২; ২ রাজাবলি ৪:৩২-৩৭; ১৩:২০, ২১) তাদের আশা ছিল এমন একটি জগতে পুনরুত্থিত হওয়া যেখানে ঈশ্বরের দাসেদের তাদের বিশ্বাসের জন্য নির্যাতন করা হবে না, এমন জগৎ যেখানে স্ত্রীরা মৃত্যুতে তাদের প্রিয়জনদের হারাবে না। হ্যাঁ, তারা মৃত্যু থেকে উঠে আসার আশা রেখেছিলেন সেই একই নতুন জগতে যার জন্য আমরা আশা করে আছি। (যিশাইয় ৬৫:১৭-২৫) যিহোবা তাদের থেকে আমাদের কাছে নতুন জগৎ সম্বন্ধে আরও বেশি কিছু প্রকাশ করেছেন। তবুও, তারা জানতেন যে তা আসতে চলেছে এবং সেখানে তারা থাকতে চেয়েছিলেন।

পার্থিব পুনরুত্থান

১২. প্রাক্‌-খ্রীষ্টীয় বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের কি ধার্মিক বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। ব্যাখ্যা করুন।

১২ তাহলে আমরা এই প্রাক্‌-খ্রীষ্টীয় পুরুষ ও নারীদের নতুন জগতে পুনরুত্থান হওয়াকে কি ধার্মিকদের পুনরুত্থান হিসাবে মনে করতে পারি? প্রামাণিকরূপে হ্যাঁ, কারণ বাইবেল এদের ধার্মিক বলে গণিত করে। উদাহরণস্বরূপ, শিষ্য যাকোব প্রাচীনকালের এক পুরুষ এবং নারীর বিষয়ে উল্লেখ করেন যাদের ধার্মিক বলে গণিত করা হয়েছিল। সেই পুরুষটি ছিলেন আব্রাহাম, যিনি ইব্রীয় জাতির পূর্বপুরুষ ছিলেন। তার সম্বন্ধে আমরা পড়ি: “অব্রাহাম ঈশ্বরে বিশ্বাস করিলেন, এবং তাহা তাঁহার পক্ষে ধার্ম্মিকতা বলিয়া গণিত হইল,” এবং তাকে “ঈশ্বরের বন্ধু” বলা হয়। সেই স্ত্রীটি ছিল রাহব, একজন ন-ইস্রায়েলীয় যে যিহোবার উপর বিশ্বাস স্থাপন করে। সে “ধার্ম্মিক গণিত” হয় এবং ইব্রীয় জাতির অংশ হয়। (যকোব ২:২৩-২৫) তাই, প্রাচীনকালের পুরুষ আর স্ত্রীরা যারা যিহোবা ও তাঁর প্রতিজ্ঞার উপর দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করেছেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত বিশ্বস্ত থেকেছেন তারা তাদের বিশ্বাস হেতু যিহোবার দ্বারা ধার্মিক গণিত হয়েছেন এবং তারা নিঃসন্দেহে ‘ধার্ম্মিক লোকের পুনরুত্থানে’ অংশীদার হবেন।

১৩, ১৪. (ক) আমরা কিভাবে জানি যে খ্রীষ্টানেরা যাদের পার্থিব আশা আছে তাদের ধার্মিক গণিত করা যেতে পারে? (খ) তাদের জন্য এর অর্থ কী রাখে?

১৩ কিন্তু আজকের দিনে সেই মেষতুল্য ব্যক্তিদের যারা পার্থিব আশা নিয়ে যিহোবার কাজে নিজেদের উৎসর্গ করে এবং যারা এই শেষ সময়ে বিশ্বস্ত থেকে মারা যায় তাদের সম্বন্ধে কী বলা যেতে পারে? তারা কি ধার্মিকদের পুনরুত্থানের অংশ হবে? আপাতদৃষ্টিতে হ্যাঁ। প্রেরিত যোহন এই বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের বিস্তর লোকের এক দর্শন দেখেছিলেন। লক্ষ্য করুন কিভাবে তিনি তাদের বর্ণনা করেছেন: “আমি দৃষ্টি করিলাম, আর দেখ, প্রত্যেক জাতির ও বংশের ও প্রজাবৃন্দের ও ভাষার বিস্তর লোক, তাহা গণনা করিতে কেহ সমর্থ ছিল না; তাহারা সিংহাসনের সম্মুখে ও মেষশাবকের সম্মুখে দাঁড়াইয়া আছে; তাহার শুক্লবস্ত্র পরিহিত, ও তাহাদের হস্তে খর্জ্জুর পত্র এবং তাহারা উচ্চ রবে চীৎকার করিয়া কহিতেছে, ‘পরিত্রাণ আমাদের ঈশ্বরের, যিনি সিংহাসনে বসিয়া আছেন, এবং মেষশাবকের দান।’”—প্রকাশিত বাক্য ৭:৯, ১০.

১৪ লক্ষ্য করুন যে এই নম্র ব্যক্তিরা তাদের পরিত্রাণ সম্বন্ধে পূর্ণভাবে নিশ্চিত এবং তারা এটি যিহোবা ও ‘মেষশাবক’ যীশু খ্রীষ্টের প্রতি আরোপ করে। এছাড়াও, তারা যিহোবা এবং মেষশাবকের সামনে শুক্ল বস্ত্র পরে দাঁড়িয়ে আছে। কেন শুক্ল বর্ণ? এক স্বর্গীয় প্রাণী যোহনকে বলেন: “ইহারা . . . মেষশাবকের রক্তে আপন আপন বস্ত্র ধৌত করিয়াছে, ও শুক্লবর্ণ করিয়াছে।” (প্রকাশিত বাক্য ৭:১৪) বাইবেলে শুক্ল বর্ণ হল পবিত্রতা, ধার্মিকতার প্রতীক। (গীতসংহিতা ৫১:৭; দানিয়েল ১২:১০; প্রকাশিত বাক্য ১৯:৮) বস্তুতপক্ষে বিস্তর লোক শুক্ল বস্ত্র পরিহিত তার অর্থ হল যে যিহোবা তাদের ধার্মিক গণিত করেন। কিভাবে এটা সম্ভব? কারণ তারা ঠিক যেন, মেষশাবকের রক্তে নিজেদের বস্ত্র ধৌত করেছে। যীশু খ্রীষ্টের পাতিত রক্তে বিশ্বাস প্রদর্শন করেছে এবং সেইজন্য তারা ঈশ্বরের বন্ধু হিসাবে ধার্মিক গণিত হয়েছে এই আশা রেখে যে তারা মহাক্লেশ অতিক্রম করবে। এইজন্য, যে কোন উৎসর্গীকৃত বিশ্বস্ত খ্রীষ্টান যে এখন ‘বিস্তর লোকের’ অংশ ও যে মহাক্লেশের পূর্বে মারা যাবে সে নিশ্চিত থাকতে পারে যে সে ধার্মিকদের পার্থিব পুনরুত্থানের অংশ হবে।

১৫. যেহেতু ধার্মিক ও অধার্মিক উভয়ের পুনরুত্থান হবে, তাহলে ধার্মিকদের পুনরুত্থানের সুবিধা কী?

১৫ সেই পুনরুত্থান প্রকাশিত বাক্য ২০ অধ্যায় ১৩ পদে এই কথাগুলির দ্বারা বর্ণিত হয়েছে: “সমুদ্র আপনার মধ্যবর্ত্তী মৃতগণকে সমর্পণ করিল, এবং মৃত্যু ও পাতাল আপনাদের মধ্যবর্ত্তী মৃতগণকে সমর্পণ করিল, এবং তাহারা প্রত্যেকে আপন আপন কার্য্যানুসারে বিচারিত হইল।” তাই, যিহোবার মহান হাজার-বৎসর বিচার দিনের সময়ে, যারা ঈশ্বরের স্মৃতিতে আছে তারা পুনরুত্থিত হবে—ধার্মিক ও অধার্মিক উভয়েই লোকের। (প্রেরিত ১৭:৩১) কিন্তু, ধার্মিকদের জন্য তা কতই না উত্তম হবে! তারা ইতিমধ্যেই পূর্ণ বিশ্বস্ত জীবনযাপন করেছে। ইতিমধ্যেই যিহোবার সাথে তাদের নিবিড় সম্পর্ক আছে এবং তারা দৃঢ় নিশ্চিত যে তাঁর প্রতিজ্ঞাগুলি পূর্ণ হবে। খ্রীষ্টীয় শতাব্দীর পূর্বে ধার্মিক সাক্ষীবৃন্দেরা যারা মৃত্যু থেকে আবার জাগবে তারা জানতে ইচ্ছুক হবে যিহোবার প্রতিজ্ঞাত বীজ সম্পর্কে প্রতিজ্ঞাগুলি কিভাবে পূর্ণ হয়েছে। (১ পিতর ১:১০-১২) আমাদের দিনে যাদের যিহোবা ধার্মিক গণিত করেন সেই অপর মেষ তারা কবর থেকে উঠে আসবে আগ্রহের সাথে পরমদেশ পৃথিবীকে দেখতে যা তারা এই বিধি ব্যবস্থাতে থাকাকালীন সুসমাচারে ঘোষণা করেছিল। কতই না আনন্দপূর্ণ সময় এটি হবে!

১৬. যারা আমাদের দিনে মারা যায় তাদের বিচার দিনে পুনরুত্থানের বিষয় আমরা কী বলতে পারি?

১৬ হাজার-বছর বিচার দিনে, শয়তানের ব্যবস্থার শেষ দিনে যারা বিশ্বস্তভাবে মারা গেছে তারা কখন পুনরুত্থিত হবে? বাইবেল এই বিষয় জানায় না। কিন্তু, এই চিন্তা কি যুক্তিপূর্ণ হবে না যে, যারা ধার্মিক গণিত ও আমাদের দিনে মারা গেছে তাদের আগে পুনরুত্থান হবে, আর ফলে তারা আরমাগিদোন থেকে রক্ষাপ্রাপ্ত বিস্তর লোকেদের সাথে পূর্ব বংশধরদের স্বাগত জানানোর কাজে অংশগ্রহণ করবে? হ্যাঁ, অবশ্যই!

একটি আশা যা সান্ত্বনা দেয়

১৭, ১৮. (ক) পুনরুত্থানের আশা কী সান্ত্বনা প্রদান করে? (খ) যিহোবার বিষয় আমরা কী ঘোষণা করতে প্ররোচিত হই?

১৭ পুনরুত্থানের আশা আজকের দিনের সকল খ্রীষ্টানদের শক্তি এবং সান্ত্বনা প্রদান করে থাকে। যদি আমরা বিশ্বস্ত থাকি, তাহলে কোন ঘটনা এবং কোন শত্রু আমাদের এই পুরস্কার কেড়ে নিতে পারবে না! উদাহরণস্বরূপ, ১৯৯২ সালের জন্য যিহোবার সাক্ষীবৃন্দের বর্ষ পুস্তক, পৃষ্ঠা ১৭৭-এ ইথিওপিয়ার সাহসী খ্রীষ্টানদের ছবি রয়েছে যারা বিশ্বাসকে আপোশ না করে মৃত্যু বরণ করেছে। শিরোনামে এই লেখা আছে: “যাদের মুখমণ্ডল আমরা পুনরুত্থানে দেখব বলে আশা করছি।” এইধরনের ব্যক্তিদের ও এদের মত অগণিত অন্যান্যেরা যারা মৃত্যু পর্যন্ত বিশ্বস্ততা রক্ষা করেছে তাদের জানা কত বড়ই না সুযোগ হবে!

১৮ আমাদের প্রিয়জন ও বন্ধুবান্ধবেরা যারা বয়স অথবা রুগ্ন বলে মহাক্লেশ পার করতে পারিনি তাদের বিষয় কী? পুনরুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে, যদি তারা বিশ্বস্ত থাকে তাদেরও আনন্দপূর্ণ ভবিষ্যৎ আছে। আর আমরাও যদি সাহসের সাথে যীশুর মুক্তির মূল্যরূপ বলিদানে বিশ্বাস প্রদর্শন করি তাহলে আমাদের জন্য এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে। কেন? কারণ, পৌলের মত আমরা আশা রাখি “ধার্ম্মিক অধার্ম্মিক উভয় প্রকার লোকের পুনরুত্থান হইবে।” এই আশার জন্য আমরা পূর্ণ হৃদয়ে যিহোবাকে ধন্যবাদ দিই। নিশ্চয়ই, গীতরচকের কথাগুলি পুনরাবৃত্তি করতে এটি আমাদের প্ররোচিত করে: “প্রচার কর জাতিগণের মধ্যে তাঁহার গৌরব, সমস্ত লোক-সমাজে তাঁহার আশ্চর্য্য কর্ম্ম সকল।”—গীতসংহিতা ৯৬:৩, ৪.

আপনি কি ব্যাখ্যা করতে পারেন?

◻ পার্থিব পুনরুত্থানের উপর কোন্‌ শাস্ত্রপদগুলি আমাদের আশাকে দৃঢ় করে?

◻ কিসের ভিত্তিতে খ্রীষ্টানেরা এখন ধার্মিক গণিত হচ্ছে?

◻ কিভাবে পুনরুত্থানের আশা আমাদের সাহস এবং দৃঢ়তা প্রদান করে?

[৯ পৃষ্ঠার চিত্র]

পৌলের মত, অভিষিক্ত খ্রীষ্টানেরা স্বর্গীয় পুনরুত্থানে আশা রাখে

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার