আপনি কি জগতের আত্মাকে প্রতিরোধ করছেন?
“আমরা জগতের আত্মাকে পাই নাই, বরং ঈশ্বর হইতে নির্গত আত্মাকে পাইয়াছি।”—১ করিন্থীয় ২:১২.
১, ২. বিষাক্ত গ্যাস সংক্রান্ত কোন্ দুঃখজনক ঘটনা ভারতের ভূপালে ঘটেছিল, কিন্তু আরও বেশি মারাত্মক কোন্ “গ্যাস” সারা পৃথিবীর লোকেরা গ্রহণ করছে?
উনিশশো চুরাশি সালের ডিসেম্বর মাসের এক ঠাণ্ডার রাত্রে, ভারতের ভূপাল শহরে সাংঘাতিক কিছু ঘটেছিল। সেই শহরে একটি রাসায়নিক কারখানা আছে, আর ডিসেম্বরের সেই রাতে, গ্যাস রাখবার ট্যাঙ্কের একটি স্টপার বিকল হয়ে পড়ে। হঠাৎ, প্রচুর পরিমাণে মিথাইল আইসো-সায়ানেট্ বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। বাতাসের মাধ্যমে এই মারাত্মক গ্যাস সমস্ত বাড়ি ও তার মধ্যে ঘুমন্ত পরিবারের উপর দিয়ে বয়ে যায়। হাজার হাজার লোক মারা যায়, আরও অনেকে বিকলাঙ্গ হয়ে পড়ে। শ্রমশিল্প জগতে, তখন পর্যন্ত এটিই ছিল সবচেয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা।
২ ভূপালের ঘটনা শুনে লোকে দুঃখপ্রকাশ করেছিল। কিন্তু, সেই গ্যাস মারাত্মক হলেও, প্রতিদিন সারা জগতের লোকেরা আত্মিক অর্থে যে “গ্যাস” গ্রহণ করেছে, তার তুলনায় সেই গ্যাস অনেক কম লোকের মৃত্যু ঘটিয়েছিল। বাইবেল তাকে বলে “জগতের আত্মা।” এটি সেই মারাত্মক আবহাওয়া, প্রেরিত পৌল যার সঙ্গে ঈশ্বরের আত্মার পার্থক্য দেখিয়ে, বলেছিলেন: “কিন্তু আমরা জগতের আত্মাকে পাই নাই, বরং ঈশ্বর হইতে নির্গত আত্মাকে পাইয়াছি, যেন ঈশ্বর অনুগ্রহপূর্ববক আমাদিগকে যাহা যাহা দান করিয়াছেন, তাহা জানিতে পারি।”—১ করিন্থীয় ২:১২.
৩. “জগতের আত্মা” কী?
৩ আসলে এই “জগতের আত্মা” কী? দ্যা নিউ থেয়ার্স গ্রীক ইংলিশ লেক্সিকন অফ দ্যা নিউ টেস্টা- মেন্ট অনুযায়ী, “আত্মা” (গ্রীক, নিউ’মা) শব্দটির সাধারণ অর্থ হল “যে প্রবণতা অথবা মনোভাব কোন ব্যক্তির হৃদয় পূর্ণ করে এবং তাকে নিয়ন্ত্রণ করে।” একজন ব্যক্তির ভাল অথবা মন্দ আত্মা বা প্রবণতা থাকতে পারে। (গীতসংহিতা ৫১:১০; ২ তীমথিয় ৪:২২) একটি দলেরও আত্মা অথবা প্রবল প্রবণতা থাকতে পারে। প্রেরিত পৌল তার বন্ধু ফিলীমনকে লিখেছিলেন: “প্রভু যীশু খ্রীষ্টের অনুগ্রহ তোমাদের আত্মার সহবর্ত্তী হউক।” (ফিলীমন ২৫) একইভাবে—কিন্তু আরও বৃহত্তর অর্থে—জগতের সাধারণত একটি প্রবল প্রবণতা রয়েছে, আর এটিকেই পৌল “জগতের আত্মা বলেছেন। ভিন্সেন্ট কর্তৃক লিখিত নূতন নিয়মের শব্দ বিশ্লেষণ (ইংরাজি) অনুয়ায়ী, “এই শব্দসমষ্টির অর্থ, যে মন্দ নীতির দ্বারা অনুতাপহীন জগৎ পরিচালিত হয়।” এটি হল পাপপ্রবণতা যা এই জগতের চিন্তাধারায় দেখা যায় এবং যা লোকেদের কাজকর্মকে প্রভাবিত করে।
৪. জগতের আত্মা উৎস কে, আর মানুষের উপরে এই আত্মার কী প্রতিক্রিয়া হয়?
৪ এই আত্মা বিষাক্ত। কেন? কারণ তা “এ জগতের অধিপতি,” শয়তানের কাছ থেকে নির্গত হয়। বাস্তবিকই, তাকে বলা হয়েছে “বাতাসের কর্ত্তৃত্বাধিপতি, . . . যে আত্মা এখন অবাধ্যতার সন্তানদের মধ্যে কাজ করছে।” (যোহন ১২:৩১; ইফিষীয় ২:২, NW) এই “বাতাস” অথবা “যে আত্মা এখন অবাধ্যতার সন্তানগণের মধ্যে কার্য্য করিতেছে” তা এড়িয়ে চলা সহজ নয়। মানবসমাজে সর্বত্র তা দেখা যায়। আমরা যদি নিঃশ্বাসের সঙ্গে তা গ্রহণ করি, তাহলে তাদের মনোভাব, তাদের উদ্দেশ্য গ্রহণ করতে আরম্ভ করব। জগতের আত্মা ‘মাংসের বশে জীবন যাপন’ করতে উৎসাহ দেয়, অর্থাৎ, আমাদের পাপপ্রবণ অসিদ্ধতার বশে। এটি মারাত্মক, কারণ “যদি মাংসের বশে জীবন যাপন কর, তবে তোমরা নিশ্চয় মরিবে।”—রোমীয় ৮:১৩.
এই জগতের আত্মাকে এড়িয়ে চলা
৫. ভূপালের দুর্ঘটনার সময়ে একজন সাক্ষী কিভাবে বুদ্ধিপূর্বক কাজ করেছিল?
৫ ভূপালের দুর্ঘটনার সময়ে, সাইরেন এবং বিষাক্ত গ্যাসের তীব্র গন্ধে একজন যিহোবার সাক্ষীর ঘুম ভেঙে যায়। সঙ্গে সঙ্গে সে তার পরিবারকে জাগিয়ে তোলে এবং রাস্তার বেরিয়ে পড়ে। এক মুহূর্তে থেমে বাতাস কোন্ দিকে বইছে তা দেখে নিয়ে, সে বিভ্রান্ত জনতার মধ্যে দিয়ে চলতে শুরু করে এবং শহরের বাইরে একটি পাহাড়ের উপরে তার পরিবারকে নিয়ে আসে। সেখানে, কাছেই একটি জলাশয় থেকে আসা তাজা, পরিষ্কার বাতাস তারা গ্রহণ করতে সমর্থ হয়।
৬. জগতের আত্মা থেকে রক্ষা পেতে হলে, আমরা কোথায় যেতে পারি?
৬ এই জগতের বিষাক্ত “বাতাস” থেকে বাঁচবার জন্য, আমরা কি কোন উঁচু জায়গায় যেতে পারি? বাইবেল বলে যে আমরা তা পারি। আমাদের দিন সম্বন্ধে ভাববাদী যিশাইয় লিখেছিলেন: “শেষকালে এইরূপ ঘটিবে; সদাপ্রভুর গৃহের পর্ব্বত পর্ব্বতগণের মস্তকরূপে স্থাপিত হইবে, উপপর্ব্বতগণ হইতে উচ্চীকৃত হইবে; এবং সমস্ত জাতি তাহার দিকে স্রোতের ন্যায় প্রবাহিত হইবে। আর অনেক দেশের লোক যাইবে, বলিবে, চল, আমরা সদাপ্রভুর পর্ব্বতে, যাকোবের ঈশ্বরের গৃহে গিয়া উঠি; তিনি আমাদিগকে আপন পথের বিষয়ে শিক্ষা দিবেন, আর আমরা তাঁহার মার্গে গমন করিব; কারণ সিয়োন হইতে ব্যবস্থা ও যিরূশালেম হইতে সদাপ্রভুর বাক্য নির্গত হইবে।” (যিশাইয় ২:২, ৩) পবিত্র উপাসনার সেই উচ্চ স্থান, ‘সদাপ্রভুর গৃহের উচ্চীকৃত পর্ব্বত’ হল এই গ্রহে একমাত্র স্থান যা জগতের শ্বাসরুদ্ধকারী, বিষাক্ত আত্মা থেকে মুক্ত। সেখানেই বিশ্বস্ত খ্রীষ্টানদের মাঝে প্রচুর পরিমাণে যিহোবার আত্মা প্রবাহিত হয়।
৭. জগতের আত্মা থেকে অনেকে কিভাবে রক্ষা পেয়েছে?
৭ আগে যারা এই জগতের আত্মা গ্রহণ করতেন, তাদের মধ্যে অনেকে, ভূপালের সেই সাক্ষীটির মত, মুক্তি পেয়েছে। “অবাধ্যতার সন্তানগণ,” যারা এই জগতের বাতাস, বা আত্মা গ্রহণ করে, তাদের কথা বলার পরে, প্রেরিত পৌল বলেছেন: “সেই লোকদের মধ্যে আমরাও সকলে পূর্ব্বে আপন আপন মাংসের অভিলাষ অনুসারে আচরণ করিতাম, মাংসের ও মনের বিবিধ ইচ্ছা পূর্ণ করিতাম, এবং অন্য সকলের ন্যায় স্বভাবতঃ ক্রোধের সন্তান ছিলাম। কিন্তু ঈশ্বর, দয়াধনে ধনবান্ বলিয়া, আপনার যে মহাপ্রেমে আমাদিগকে প্রেম করিলেন, তৎপ্রযুক্ত আমাদিগকে, এমন কি, অপরাধে মৃত আমাদিগকে, খ্রীষ্টের সহিত জীবিত করিলেন।” (ইফিষীয় ২:৩-৫) যারা এই বিধিব্যবস্থার বিষাক্ত বাতাস ছাড়া আর কিছু গ্রহণ করে না, তারা আধ্যাত্মিক অর্থে মৃত। কিন্তু, যিহোবাকে ধন্যবাদ, লক্ষ লক্ষ লোকেরা আজ আধ্যাত্মিক উচ্চভূমিতে পালিয়ে আসছে এবং সেই মারাত্মক অবস্থা থেকে রক্ষা পাচ্ছে।
“জগতের আত্মার” প্রকাশ
৮, ৯. কী দেখায় যে আমাদের সর্বক্ষণ জগতের আত্মার বিরুদ্ধে সাবধান থাকতে হবে? (খ) শয়তানের আত্মা কিভাবে আমাদের কলুষিত করতে পারে?
৮ শয়তানের মারাত্মক বাতাস এখনও আমাদের চারিপাশে ছড়িয়ে রয়েছে। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, আমরা যেন কখনও পাহাড়ের নিচের দিকে না যাই, জগতে ফিরে না যাই, হয়ত যাতে আধ্যাত্মিকভাবে শ্বাসরুদ্ধ না হই। এর জন্য ক্রমাগত সতর্কতা প্রয়োজন। (লূক ২১:৩৬; ১ করিন্থীয় ১৬:১৩) উদাহরণস্বরূপ, এই বিষয়টি বিবেচনা করুন। নৈতিক মান সম্বন্ধে যিহোবার দৃষ্টিভঙ্গির সাথে সমস্ত খ্রীষ্টানেরা পরিচিত এবং তারা কখনোই মনে করবে না যে পারদার্য, ব্যভিচার এবং সমকামিতার মত অশুচি কাজ গ্রহণযোগ্য হতে পারে। তবুও, প্রতি বছর প্রায় ৪০,০০০ ব্যক্তিকে যিহোবার সংগঠন থেকে সমাজচ্যুত করা হয়। কেন? অনেক ক্ষেত্রে এই একই অশুচি কাজগুলির জন্য। তা কিভাবে হতে পারে?
৯ কারণ আমরা সকলে অসিদ্ধ। আমাদের হৃদয় দুর্বল, আর যে ভুল ইচ্ছাগুলি আমাদের হৃদয় জেগে ওঠে, সেগুলির বিরুদ্ধে আমাদের ক্রমাগত লড়াই করতে হবে। (উপদেশক ৭:২০; যিরমিয় ১৭:৯) অবশ্য, সেই ভুল ইচ্ছাগুলিকে জগতের আত্মাই ইন্ধন যোগায়। জগতে অনেকে অনৈতিকতাকে খারাপ ভাবে না, আর সবকিছুই চলতে পারে, এই মনোভাব হল শয়তানের বিধিব্যবস্থার অংশ। আমরা যদি এই মনোভাবের সঙ্গে পরিচিত হই, তাহলে আমরাও যে জগতের মতই চিন্তা করতে শুরু করব, তার প্রবল সম্ভাবনা আছে। শীঘ্রই, এই ধরনের অশুচি চিন্তা- ধারা আমাদের মনে ভুল ইচ্ছা জাগিয়ে তুলবে যার পরিণতি হবে গুরুতর পাপ। (যাকোব ১:১৪, ১৫) যিহোবার পবিত্র উপাসনার উঁচু পর্বত থেকে আমরা শয়তানের জগতের দূষিত নিম্নভূমিতে এসে পড়ব। যারা সেখানে স্বেচ্ছাকৃতভাবে থাকবে, তারা অনন্ত জীবন পাবে না।—ইফিষীয় ৫:৩-৫, ৭.
১০. শয়তানের বাতাসের একটি প্রকাশ কী এবং খ্রীষ্টানদের কেন তা এড়িয়ে চলা উচিত?
১০ জগতের আত্মার প্রমাণ আমরা চারিপাশে দেখতে পাই। উদাহরণস্বরূপ, অনেকে হাল্কাভাবে ও কৌতুকের ছলে জীবনকে দেখে। নীতিভ্রষ্ট বা অকৃতকার্য রাজনীতিবিদ অথবা অনৈতিক, লোভী ধর্মীয় নেতাদের দ্বারা বিভ্রান্ত হয়ে, তারা এমনকি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্বন্ধেও অসম্মানজনক কথাবার্তা বলে। খ্রীষ্টানেরা এই অভ্যাসকে এড়িয়ে চলে। আমাদের মধ্যে যথাযোগ্য কৌতুকবোধ থাকলেও, মণ্ডলীর মধ্যে অসম্মানজনক, কৌতুকাস্পদ মনোভাব না আনতে চেষ্টা করি। একজন খ্রীষ্টানের কথার্বাতায় যিহোবার প্রতি ভয় এবং হৃদয়ের বিশুদ্ধতা প্রকাশ পায়। (যাকোব ৩:১০, ১১; তুলনা করুন হিতোপদেশ ৬:১৪) আমরা অল্প অথবা বেশি বয়স্ক, যাই হই না কেন, আমাদের বাক্য ‘সর্ব্বদা অনুগ্রহ সহযুক্ত হউক, লবণে আস্বাদযুক্ত হউক, কাহাকে কেমন উত্তর দিতে হয়, তাহা যেন [আমরা] জানিতে পারি।’—কলসীয় ৪:৬.
১১. (ক) জগতের আত্মার দ্বিতীয় বিষয়টি কী? (খ) যারা এই বিষয়টি প্রকাশ করে, খ্রীষ্টানেরা তাদের থেকে পৃথক কেন?
১১ এই জগতের আত্মার প্রকাশ হিসাবে আরেকটি সাধারণ প্রবণতা হল বিদ্বেষ। বর্ণ, সংস্কৃতি, জাতিগত, এমনকি ব্যক্তিগত পার্থক্যের উপরে ভিত্তি করে জগৎ আজ বিদ্বেষে পরিপূর্ণ। যেখানে ঈশ্বরের আত্মা কাজ করে, সেখানে পরিস্থিতি কতই না বেশি ভাল! প্রেরিত পৌল লিখেছিলেন: “মন্দের পরিশোধে কাহারও মন্দ করিও না; সকল মনুষ্যের দৃষ্টিতে যাহা উত্তম, ভাবিয়া চিন্তিয়া তাহাই কর। যদি সাধ্য হয়, তোমাদের যত দূর হাত থাকে, মনুষ্যমাত্রের সহিত শান্তিতে থাক। হে প্রিয়েরা, তোমরা আপনারা প্রতিশোধ লইও না, বরং ক্রোধের জন্য স্থান ছাড়িয়া দেও, কারণ লেখা আছে, “প্রতিশোধ লওয়া আমারই কর্ম্ম, আমিই প্রতিফল দিব, ইহা প্রভু বলেন।” বরং “তোমার শত্রু যদি ক্ষুধিত হয়, তাহাকে ভোজন করাও; যদি সে পিপাসিত হয়, তাহাকে পান করাও; কেননা তাহা করিলে তুমি তাহার মস্তকে জ্বলন্ত অঙ্গারের রাশি করিয়া রাখিবে।” তুমি মন্দের দ্বারা পরাজিত হইও না, কিন্তু উত্তমের দ্বারা মন্দকে পরাজয় কর।”—রোমীয় ১২:১৭-২১.
১২. খ্রীষ্টানেরা কেন বস্তুবাদিতা এড়িয়ে চলেন?
১২ এই জগতের আত্মা বস্তুবাদিতাকেও উৎসাহ দেয়। ব্যবসা-জগতের উৎসাহ পেয়ে, অনেকে সবচেয়ে আধুনিক যন্ত্র, সবচেয়ে আধুনিক সাজপোশাক, সবচেয়ে আধুনিক গাড়ির জন্য পাগল হয়ে ওঠে। তারা “চক্ষুর অভিলাষ” এর দাস হয়ে পড়ে। (১ যোহন ২:১৬) অধিকাংশ লোক সাফল্যের পরিমাপ করে তাদের বাড়ি আয়তন অথবা ব্যাঙ্কে রাখা টাকার পরিমাণ অনুযায়ী। যে সকল খ্রীষ্টানেরা, যিহোবার পবিত্র উপাসনার উচ্চীকৃত পর্বতের পরিষ্কার, আধ্যাত্মিক বাতাস গ্রহণ করে, তারা এই প্রবণতাকে প্রতিরোধ করে। তারা জানে যে বদ্ধপরিকর হয়ে বস্তুবাদিতার পিছনে ছুটলে সর্বনাশ হতে পারে। (১ তীমথিয় ৬:৯, ১০) যীশু তাঁর শিষ্যদের মনে করিয়ে দিয়েছিলেন: “উপচিয়া পড়িলেও মনুষ্যের সম্পত্তিতে তাহার জীবন হয় না।”—লূক ১২:১৫.
১৩. জগতের আত্মার আর কী কী প্রকাশ আছে?
১৩ এই জগতের অস্বাস্থ্যকর “আকাশের” অন্যান্য প্রকাশও আছে। একটি হল বিদ্রোহের মনোভাব। (২ তীমথিয় ৩:১-৩) আপনি কি লক্ষ্য করেছেন যে বহু লোক এখন আর কর্তৃপক্ষদের সাথে সহযোগিতা করে না? আপনার কর্মক্ষেত্রে আপনি কি দেখেছেন যে কেউ আসলে নজর না রাখলে কাজ না করার মনোভাব কত ব্যাপক? আপনি কতজনকে জানেন যারা আইনভঙ্গ করেছে—হয়ত আয়কর ফাঁকি দিয়েছে অথবা কর্মস্থলে চুরি করেছে? তুমি যদি এখনও স্কুলে যাও, তাহলে সর্বাধিক প্রচেষ্টা করা থেকে তোমাকে কি কখনও বিরত করার চেষ্টা করা হয়েছে, কারণ তোমার সহপাঠীরা পড়াশোনায় ভাল হওয়াকে অবজ্ঞার চোখে দেখে? এই সবগুলি হল জগতের আত্মার প্রকাশ, যা খ্রীষ্টানদের অবশ্যই প্রতিরোধ করতে হবে।
কিভাবে এই জগতের আত্মাকে প্রতিরোধ করা যায়
১৪. যারা খ্রীষ্টান নয়, তাদের থেকে খ্রীষ্টানেরা কিভাবে পৃথক?
১৪ কিন্তু জগতের মধ্যে থেকেও আমরা কিভাবে জগতের আত্মাকে প্রতিরোধ করতে পারি? আমাদের মনে রাখতে হবে যে শারীরিকভাবে আমরা যেখানেই থাকি না কেন, আধ্যাত্মিকরূপে আমরা জগতের কোন অংশ নই। (যোহন ১৭:১৫, ১৬) আমাদের লক্ষ্য এই জগতের লক্ষ্য নয়। বিষয়বস্তুর প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিও পৃথক। আমরা আধ্যাত্মিক ব্যক্তি, আমাদের কথাবার্তা এবং চিন্তাধারা “মানুষিক শিক্ষানুরূপ বাক্য দ্বারা” পরিচালিত।—১ করিন্থীয় ২:১৩.
১৫. আমরা কিভাবে জগতের আত্মাকে প্রতিরোধ করতে পারি?
১৫ একজন ব্যক্তি যদি দেখে যে সে বিষাক্ত গ্যাসে ভরা একটি এলাকায় এসে পড়েছে, তাহলে সে কী করতে পারে? হয় সে বিশুদ্ধ বাতাস-সরবরাহকারী একটি গ্যাস-মুখোস পরতে পারে অথবা সেই জায়গা থেকে সরে যেতে পারে। শয়তানের বাতাস এড়িয়ে চলার ক্ষেত্রে, এই দুটি পদ্ধতিই জড়িত আছে। যতদূর সম্ভব, যে বিষয়গুলির দ্বারা আমাদের চিন্তাধারা জগতের আত্মার দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে, তা থেকে আমরা দূরে থাকি। সেইজন্য আমরা অসৎ সঙ্গ এড়িয়ে চলি এবং যে আমোদপ্রমোদের মাধ্যমে মারামারি, অনৈতিকতা, প্রেতচর্চা, বিদ্রোহ অথবা অন্য যে কোন মাংসের কাজকে তুলে ধরা হয়, আমরা তাতে অংশ নিই না। (গালাতীয় ৫:১৯-২১) অবশ্য, আমরা যেহেতু জগতে বাস করি, এইগুলির সংস্পর্শে আসা আমরা যদি পরিষ্কার বাতাসের একটি আধ্যাত্মিক স্নিগ্ধ বাতাস সরবরাহকারীর সংযোগে আসি, তাহলে বিজ্ঞতার কাজ হবে। নিয়মিত সভায় উপস্থিতি, ব্যক্তিগত অধ্যয়ন, খ্রীষ্টীয় কাজ এবং মেলামেশা ও প্রার্থনার দ্বারা আমাদের আধ্যাত্মিক শ্বাসযন্ত্র আমরা ভর্তি করে নিই। এইভাবে শয়তানের বাতাস যদি আমাদের শ্বাসযন্ত্রে ঢুকে পড়েও, ঈশ্বরের আত্মা তার প্রতিরোধ করতে আমাদের শক্তি দেয়।—গীতসংহিতা ১৭:১-৩; হিতোপদেশ ৯:৯; ১৩:২০; ১৯:২০; ২২:১৭.
১৬. ঈশ্বরের আত্মা আমাদের মধ্যে থাকার প্রমাণ আমরা কিভাবে দিই?
১৬ ঈশ্বরের আত্মা একজন খ্রীষ্টানকে জগতের থেকে পৃথক হিসাবে লক্ষণীয় করে তোলে। (রোমীয় ১২:১, ২) পৌল বলেছিলেন: “আত্মার ফল প্রেম, আনন্দ, শান্তি, দীর্ঘসহিষ্ণুতা, মাধুর্য্য, মঙ্গলভাব, বিশ্বস্ততা, মৃদুতা, ইন্দ্রিয়দমন; এই প্রকার গুণের বিরুদ্ধ ব্যবস্থা নাই।” (গালাতীয় ৫:২২, ২৩) ঈশ্বরের আত্মা একজন খ্রীষ্টানকে আরও গভীর বোধশক্তি দেয়। পৌল বলেছিলেন: ঈশ্বরের বিষয়গুলি কেহ জানে না, কেবল ঈশ্বরের আত্মা জানেন।” (১ করিন্থীয় ২:১১) সাধারণভাবে, “ঈশ্বরের বিষয়গুলির” অন্তর্ভুক্ত সেই সত্যগুলি যা হল মুক্তির মূল্যরূপ বলিদান, যীশু খ্রীষ্টের অধীনে ঈশ্বরের রাজ্য, অনন্ত জীবনের আশা এবং এই মন্দ জগতের আগত ধ্বংস। ঈশ্বরের আত্মার সাহায্যে, এই বিষয়গুলিকে সত্য হিসাবে খ্রীষ্টানেরা শেখে ও গ্রহণ করে এবং এইজন্য জীবন সম্বন্ধে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি জগতের লোকেদের থেকে ভিন্ন হয়। এখনই যিহোবার পরিচর্যা করার আনন্দ পেয়ে তারা সন্তুষ্ট এবং অনন্তকাল ধরে তাঁর পরিচর্যা করার আশা তাদের সামনে আছে।
১৭. জগতের আত্মাকে প্রতিরোধ করতে কে সর্বোত্তম উদাহরণ স্থাপন করেছিলেন এবং কিভাবে?
১৭ যারা জগতের আত্মাকে প্রতিরোধ করে, যীশু হলেন তাদের জন্য সর্বোত্তম অনুকরণযোগ্য আদর্শ। যীশুর বাপ্তিস্মের পরেই, তিনটি প্রলোভন উপস্থিত করে শয়তান তাকে যিহোবার পরিচর্যা করা থেকে সরিয়ে নিয়ে যেতে চেষ্টা করেছিল। (মথি ৪:১-১১) শেষ প্রলোভনটি ছিল যে একবার মাত্র শয়তানকে উপাসনা করলে, যীশু সমস্ত জগতের শাসনভার পেতে পারতেন। যীশু মনে করতে পারতেন: ‘আমি একবার উপাসনা করব, আর তারপর জগতের শাসনভার পেয়ে গেলে আমি অনুতপ্ত হয়ে যিহোবার উপাসনায় ফিরে যাব। নাসরতের একজন সূত্রধর হিসাবে আমি মানবজাতির যতটা উপকার করতে পারব, বিশ্বের শাসক হিসাবে তার চাইতে অনেক বেশি উপকার করার সুযোগ আমি পাব।’ যীশু এইভাবে চিন্তা করেননি। যিহোবা তাঁকে জগতের শাসনভার না দেওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে তিনি ইচ্ছুক ছিলেন। (গীতসংহিতা ২:৮) সেই ক্ষেত্রে এবং তাঁর জীবনের অন্য সমস্ত ক্ষেত্রে, তিনি শয়তানের বাতাসের বিষাক্ত প্রভাবকে প্রতিরোধ করেছিলেন। এইভাবে, তিনি আধ্যাত্মিকরূপে দূষিত এই জগতকে জয় করেছিলেন।—যোহন ১৬:৩৩.
১৮. আমরা জগতের আত্মাকে প্রতিরোধ করলে, ঈশ্বর কিভাবে প্রশংসা পেয়ে থাকেন?
১৮ প্রেরিত পিতর বলেছিলেন যে আমাদের উচিত যীশুর পদচিহ্ন অবিকল অনুসরণ করা। (১ পিতর ২:২১) তাঁর চাইতে ভাল আদর্শ কি আমরা পেতে পারি? এই শেষকালে, জগতের আত্মার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে, মানবজাতি ক্রমশ আরও বেশি অধঃপতিত হচ্ছে। এই ধরণের জগতের মধ্যেই যিহোবার উপাসনার উচ্চীকৃত স্থান যে বিশুদ্ধ এবং পরিষ্কৃত রয়েছে, তা কত অপূর্ব বিষয়! (মীখা ৪:১, ২) লক্ষ লক্ষ লোক যে ঈশ্বরের উপাসনাস্থলের দিকে ছুটে আসছে, এই জগতের প্রভাবশালী আত্মার প্রতিরোধ করছে এবং যিহোবাকে সম্মান ও প্রশংসা দিচ্ছে, তার মাধ্যমে ঈশ্বরের আত্মার শক্তি অবশ্যই প্রকাশ পাচ্ছে! (১ পিতর ২:১১, ১২) যিহোবার অভিষিক্ত রাজা যতক্ষণ না এই মন্দ জগতকে ধ্বংস করছেন এবং শয়তান দিয়াবল ও তার মন্দ আত্মাদের অগাধলোকে বদ্ধ করছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা সকলে যেন সেই উচ্চীকৃত স্থানে থাকতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হই। (প্রকাশিত বাক্য ১৯–২০:৩) তারপরে, জগতের আত্মার আর অস্তিত্ব থাকবে না কী অপূর্ব আশীর্বাদের সময়ই না তা হবে!
আপনি কি ব্যাখ্যা করতে পারেন?
▫ জগতের আত্মা কী?
▫ এই জগতের আত্মা লোকেদের উপরে কী প্রভাব ফেলে?
▫ জগতের আত্মা কী কী উপায়ে প্রকাশ পায় এবং আমরা কিভাবে তা এড়িয়ে চলতে পারি?
▫ কিভাবে আমরা দেখাব যে ঈশ্বরের আত্মা আমাদের মধ্যে আছে?
▫ যারা জগতের আত্মাকে প্রতিরোধ করে, তারা কী আশীর্বাদ পায়?
[১৬, ১৭ পৃষ্ঠার চিত্র]
জগতের আত্মা শয়তানের কাছ থেকে এসেছে
জগতের আত্মা এড়িয়ে চলার জন্য, যিহোবার উচ্চীকৃত উপাসনাস্থলে আশ্রয় নিন