ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯২ ১২/১ পৃষ্ঠা ৯-১৫
  • সকল সত্য খ্রীষ্টানের সুসমাচার প্রচারক হওয়া উচিৎ

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • সকল সত্য খ্রীষ্টানের সুসমাচার প্রচারক হওয়া উচিৎ
  • ১৯৯২ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • অগ্রগতি ১৯১৯ সাল থেকে
  • কেন কৃতকার্য
  • অপরকে উৎকৃষ্ট বিবেচনা করা
  • অধিকার ত্যাগ করতে ইচ্ছুক
  • এখনও অনেক কিছু করতে হবে
  • “সুসমাচার-প্রচারকের কার্য্য কর”
    ২০০৪ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • যিহোবার সাক্ষীরা—সত্য সুসমাচার প্রচারক
    ১৯৯৮ আমাদের রাজ্যের পরিচর্যা
  • সমস্ত সত্য খ্রীষ্টানই সুসমাচার প্রচার করেন
    ২০০২ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • একজন সুসমাচার প্রচারক হিসেবে আপনার ভূমিকা পালন করুন
    ২০১৩ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
১৯৯২ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯২ ১২/১ পৃষ্ঠা ৯-১৫

সকল সত্য খ্রীষ্টানের সুসমাচার প্রচারক হওয়া উচিৎ

“সুসমাচার-প্রচারকের [অথবা মিশনারী, NW পাদটীকা] কার্য্য কর।”—২ তীমথিয় ৪:৫.

১. প্রথম শতাব্দীতে সুসমাচার-প্রচারকগণের দ্বারা কোন্‌ সুসমাচার প্রচারিত হয়?

বর্তমানে সুসমাচার-প্রচারক হওয়ার অর্থ কী? আপনি কী তাদের একজন? “সুসমাচার-প্রচারক” শব্দটি আসে গ্রীক শব্দ ইউ·অ্যাগ·গী·লি·স্টিস্‌ʹ থেকে, যার অর্থ হল “সুসমাচারের প্রচারক।” সা. শ. ৩৩ সালে খ্রীষ্টীয় মণ্ডলী স্থাপিত হওয়ার পর থেকে, খ্রীষ্টীয় সুসমাচার পরিত্রাণের জন্য ঈশ্বরের মাধ্যমকে আলোকপাত করে এবং ঘোষণা করে যে যীশু খ্রীষ্ট পরবর্তীকালে প্রত্যাবর্তন করবেন মানবজাতির উপর তাঁর রাজ্যশাসন আরম্ভ করতে।—মথি ২৫:৩১, ৩২; ২ তীমথিয় ৪:১; ইব্রীয় ১০:১২, ১৩.

২. (ক) কিভাবে আমাদের দিনে সুসমাচারের সারমর্ম সমৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়েছে? (খ) বর্তমানে সকল সত্য খ্রীষ্টানদের কী অবশ্যকরণীয় আছে?

২ যীশু তাঁর প্রত্যাবর্তন ও অদৃশ্য উপস্থিতি সম্বন্ধে যে চিহ্ন দিয়েছিলেন, সেটি যে পরিপূর্ণতা লাভ করে চলেছে তার প্রমাণ ১৯১৪ সাল থেকে আরও স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়। (মথি ২৪:৩-১৩, ৩৩) পুনর্বার সুসমাচারে এই অভিব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত হতে পারে “ঈশ্বরের রাজ্য সন্নিকট।” (লূক ২১:৭, ৩১; মার্ক ১:১৪, ১৫) প্রকৃতই, মথি ২৪:১৪ পদে লিখিত যীশুর ভাববাণীর মহা পরিপূর্ণতার সময় এসেছে: “আর সর্ব্ব জাতির কাছে সাক্ষ্য দিবার নিমিত্ত রাজ্যের এই সুসমাচার সমুদয় জগতে প্রচার করা যাইবে; আর তখন শেষ উপস্থিত হইবে।” তাই সুসমাচার প্রচারে এখন সংযুক্ত হল, স্থাপিত ঈশ্বরের রাজ্য এবং বাধ্য মানবজাতির জন্য সেটি শীঘ্রই যে আশীর্বাদগুলি নিয়ে আসবে তার প্রবল উদ্দীপনাপূর্ণ ঘোষণা। সকল খ্রীষ্টানেরা এই কার্য করতে ও “শিষ্য করণ” করার আদেশের অধীনে রয়েছে।—মথি ২৮:১৯, ২০; প্রকাশিত বাক্য ২২:১৭.

৩. (ক) “সুসমাচার-প্রচারক” শব্দটির অতিরিক্ত কী অর্থ আছে? (ইনসাইট্‌ অন্‌ দ্যা স্ক্রিপচারস্‌, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৭৭০, কলম ২, অনুচ্ছেদ ২ দেখুন।) (খ) এটি কী প্রশ্নসকল উত্থাপিত করে?

৩ সাধারণভাবে সুসমাচার প্রচার করা ছাড়াও, বাইবেল “সুসমাচার-প্রচারক” শব্দটি এক বিশেষ অর্থে তাদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করে, যারা তাদের নিজগৃহের ক্ষেত্র ত্যাগ করে সুসমাচার প্রচার করার জন্য, যেখানে কোনদিন সুসমাচার প্রচারিত হয়নি, সেখানে যান প্রচার করতে। প্রথম শতাব্দীতে বহু মিশনারী সুসমাচার-প্রচারকেরা ছিলেন, যেমন ফিলিপ, পৌল, বার্ণবা, সীল এবং তীমথিয়। (প্রেরিত ২১:৮; ইফিষীয় ৪:১১) কিন্তু ১৯১৪ সাল থেকে আমাদের এই বিশেষ সময়ের সম্বন্ধে কী? বর্তমানে যিহোবার লোকেরা কি স্থানীয় ও তার সাথে মিশনারী সুসমাচার-প্রচারকের কাজে নিজেদের প্রাপ্তিসাধ্য করেছে?

অগ্রগতি ১৯১৯ সাল থেকে

৪, ৫. উনিশশো চোদ্দ সালের কিছু পর থেকেই সুসমাচার প্রচার কাজের কী ভবিষ্যৎ ছিল?

৪ যখন প্রথম বিশ্ব যুদ্ধ ১৯১৮ সালে সমাপ্ত হয়ে আসে, তখন ঈশ্বরের দাসেরা ধর্মভ্রষ্টদের ও খ্রীষ্টীয়জগতের পুরোহিতবর্গ এই উভয়ের কাছ থেকে এবং তাদের রাজনৈতিক মিত্রদের কাছ থেকে ক্রমবর্দ্ধমান বিরোধীতা অভিজ্ঞতা করে। এমনকি, সুসমাচার প্রচারের প্রকৃত কাজটি ১৯১৮ সালে প্রায় স্তব্ধ হয়ে যায়, যখন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াচটাওয়ার সমিতির নেতৃত্ব গ্রহণকারী সচিবদের মিথ্যা দোষারোপ করে ২০ বছরের কারাবাস দান করা হয়। সুসমাচার প্রচার করার অবসান করতে কী ঈশ্বরের শত্রুরা সফল হয়েছিল?

৫ আশাতীতরূপে, ১৯১৯ সালের মার্চ মাসে সমিতির সচিবদের মুক্তি দেওয়া হয় এবং পরে মিথ্যা অভিযোগ থেকেও তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়, যে কারণে তারা কারাগারে গিয়েছিলেন। এই নব স্বাধীনতা পেয়ে অভিষিক্ত খ্রীষ্টীয়গণ উপলব্ধি করলেন যে ঈশ্বরের রাজ্যের সহদায়াদরূপে স্বর্গীয় পুরস্কারের জন্য তাদের একত্র হওয়ার পূর্বে এখনও প্রচুর কাজ করার রয়েছে।—রোমীয় ৮:১৭; ২ তীমথিয় ২:১২; ৪:১৮.

৬. উনিশশো উনিশ থেকে ১৯৩৯ সাল পর্য্যন্ত সুসমাচার-প্রচারের কাজ কিভাবে অগ্রগতি লাভ করে?

৬ গত ১৯১৯ সালে, মাত্র ৪,০০০ থেকেও কম ব্যক্তি সুসমাচার বিস্তারিত করার কাজে অংশ গ্রহণ করেছিল বলে রিপোর্ট করে। পরবর্তী দুই দশকে, বহু জন নিজেকে মিশনারী সুসমাচার-প্রচারকরূপে অর্পণ করেন ও তাদের অনেককে আফ্রিকা, এশিয়া এবং ইউরোপের দেশগুলিতে পাঠান হয়। রাজ্যের প্রচার ২০ বছর করার পর, ১৯৩৯ সালে, যিহোবার সাক্ষীরা ৭৩,০০০-এর উপরে বৃদ্ধি লাভ করে। বহু তাড়না থাকা সত্ত্বেও, এই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধিলাভ সাধিত হয়, ঠিক যেমন হয়েছিল খ্রীষ্টীয় মণ্ডলীর প্রারম্ভিক বর্ষগুলিতে।—প্রেরিত ৬:৭; ৮:৪, ১৪-১৭; ১১:১৯-২১.

৭. খ্রীষ্টীয় সুসমাচার প্রচারের কাজে সা. শ. ৪৭ সাল ও ১৯৩৯ সালের মধ্যে কী অনুরূপ পরিস্থিতি ছিল?

৭ যাইহোক, যিহোবার সাক্ষীদের বেশীরভাগ সেই সময় ইংরাজি-ভাষী প্রটেস্টান্ট ধর্মী দেশগুলিতে কেন্দ্রীভূত ছিল। বাস্তবিক, ৭৩,০০০ জনের মধ্যে ৭৫ শতাংশেরও বেশী রাজ্য ঘোষকেরা অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, ক্যানাডা, নিউজিল্যাণ্ড এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ছিল। সা. শ. ৪৭ সালে যেমন হয়েছিল ঠিক তেমনই, পৃথিবীর কম কাজ করা দেশগুলিতে আরও বেশী মনোযোগ দানে, এই সুসমাচার-প্রচারকদের উৎসাহিত করতে কোন কিছুর প্রয়োজন ছিল।

৮. উনিশশো বিরানব্বই সালের মধ্যে গিলিয়ড স্কুল কী সম্পাদন করে?

৮ যুদ্ধের সময়ের বাধানিষেধ ও তাড়না, যিহোবার শক্তিশালী পবিত্র আত্মাকে তাঁর দাসদের এই মহা বৃদ্ধির জন্য প্রস্তুত হতে উদ্বুদ্ধ করা থেকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। যখন ১৯৪৩ সালে ২য় বিশ্বযুদ্ধ শিখরে পৌঁছেছিল, তখনই ঈশ্বরের সংগঠন, সুসমাচার আরও বিস্তৃতরূপে প্রসারিত করার উদ্দেশ্যে ওয়াচটাওয়ার বাইবেল স্কুল অফ্‌ গিলিয়ড্‌ স্থাপনা করে। এই স্কুলটি ১৯৯২ সালের মার্চ মাসের মধ্যে ৬,৫১৭ জন মিশনারীদের ১৭১টি বিভিন্ন দেশে পাঠায়। এছাড়াও ওয়াচটাওয়ার সমিতির বিদেশের শাখাগুলিকে দেখাশোনা করার জন্য পুরুষদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। যেমন ১৯৯২ সাল অবধি ৯৭ জন শাখা কমিটি সংযোগকারীদের মধ্যে ৭৫ জন গিলিয়ডেই প্রশিক্ষিত হন।

৯. কোন্‌ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমগুলি সুসমাচার-প্রচার এবং শিষ্যকরণের কাজের উন্নতিতে ভূমিকা গ্রহণ করে?

৯ গিলিয়ড স্কুল ছাড়াও, অন্যান্য প্রশিক্ষণের কার্যক্রমগুলি যিহোবার লোকদের সুসমাচারের কার্য প্রসারিত ও উন্নত করতে সমর্থ করে। উদাহরণস্বরূপ, সারা পৃথিবীব্যাপী যিহোবার সাক্ষীদের মণ্ডলীগুলিতে ঐশিক পরিচর্য্যা বিদ্যালয় পরিচালনা করা হয়। এই ব্যবস্থাপনার সাথে সাপ্তাহিক পরিচর্য্যা সভা, হাজার হাজার রাজ্য ঘোষকদের সাধারণ্যে পরিচর্য্যায় কার্যকারী হতে শিক্ষিত করেছে। তাছাড়া, কিংডম মিনিস্ট্রি স্কুলও আছে, যেটি প্রাচীন ও পরিচারক দাসদের মূল্যবান প্রশিক্ষণ দেয় যাতে তারা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত মণ্ডলীগুলির উত্তম যত্ন নিতে পারে। পায়ওনিয়ার সার্ভিস স্কুল বহু পূর্ণ সময়ের সুসমাচার-প্রচারকদের প্রচার কাজে অধিক কার্যকারী হতে সাহায্য করেছে। ইদানিং মিনিস্টেরিয়াল ট্রেনিং স্কুল বিভিন্ন দেশে পরিচালনা করা হয়, অবিবাহিত প্রাচীন ও পরিচারক দাসদের অধুনা-কালের তীমথিয় হতে সাহায্য করতে।

১০. ঈশ্বরের সংগঠনের মাধ্যমে সমস্ত অপূর্ব প্রশিক্ষণ দানের ফলাফল কী হয়েছে? (বক্সের তথ্য যুক্ত করুন।)

১০ এই সমস্ত প্রশিক্ষণের ফলাফল কী হয়েছে? যিহোবার সাক্ষীগণ ১৯৯১ সালে ২১২টি দেশে ৪০ লক্ষের উপর সক্রিয় রাজ্য ঘোষকের শীর্ষে পৌঁছায়। কিন্তু, ১৯৩৯ সালে যে পরিস্থিতি ছিল তার অনুরূপ না হয়ে, এদের মধ্যে ৭০ শতাংশের উপরে ক্যাথলিক, অর্থডক্স, অখ্রীষ্টীয় অথবা অন্যান্য দেশের থেকে আসে, যেখানে ইংরাজি কোন প্রধান ভাষা নয়।—“বৃদ্ধি ১৯৩৯ সাল থেকে” বাক্সটি দেখুন।

কেন কৃতকার্য

১১. প্রেরিত পৌলের পরিচারকরূপে সাফল্যের জন্য কাকে তিনি স্বীকৃতি দেন?

১১ যিহোবার সাক্ষীরা এই বিস্তারকে তাদের কৃতিত্বরূপে গ্রহণ করে না। পরিবর্তে, তারা তাদের কাজকে প্রেরিত পৌলের দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখে, যা তিনি করিন্থীয়দের প্রতি পত্রে বর্ণনা করেন। “ভাল, আপল্লো কি? আর পৌল কি? তাহারা ত পরিচারকমাত্র, যাহাদের দ্বারা তোমরা বিশ্বাসী হইয়াছ; আর এক এক জনকে প্রভু যেমন দিয়াছেন। আমি রোপণ করিলাম, আপল্লো জল সেচন করিলেন, কিন্তু ঈশ্বর বৃদ্ধি দিতে থাকিলেন। অতএব রোপক কিছু নয়, সেচকও কিছু নয়, বৃদ্ধিদাতা ঈশ্বরই সার। কারণ আমরা ঈশ্বরেরই সহকার্য্যকারী; তোমরা ঈশ্বরেরই ক্ষেত্র, ঈশ্বরেরই গাঁথনি।”—১ করিন্থীয় ৩:৫-৭, ৯.

১২. (ক) কৃতকার্যমূলক খ্রীষ্টীয় সুসমাচার প্রচারে ঈশ্বরের বাক্য কী ভূমিকা গ্রহণ করে? (খ) খ্রীষ্টীয় মণ্ডলীতে মস্তকরূপে কে নিয়োজিত হয়েছেন, এবং কোন্‌ একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়ে আমরা তাঁর মস্তকের অধিকারের স্বীকৃতিদান প্রদর্শন করতে পারি?

১২ কোন সন্দেহ নেই যে, যিহোবার সাক্ষীরা যে বিস্ময়কর বৃদ্ধি লক্ষ্য করছে তা ঈশ্বরের আশীর্বাদের জন্যই। এটি হল ঈশ্বরের কাজ। এই বিষয়টি উপলব্ধি করে তারা নিয়মিত ঈশ্বরের বাক্য অধ্যয়নে নিজেদের নিয়োগ করে। সুসমাচার প্রচারের কার্যে তাদের সমস্ত শিক্ষাগুলি তারা বাইবেলকে ভিত্তি করেই দেয়। (১ করিন্থীয় ৪:৬; ২ তীমথিয় ৩:১৬) সুসমাচার প্রচার কাজে তাদের কৃতকার্যতার আর একটি চাবিকাঠি হল, ঈশ্বর যাকে মণ্ডলীর মস্তকরূপে নিয়োজিত করেছেন, সেই প্রভু যীশু খ্রীষ্টকে সম্পূর্ণ স্বীকৃতি দান। (ইফিষীয় ৫:২৩) যীশু যাদের প্রেরিতরূপে নিয়োজিত করেন তাদের সাথে সহযোগিতা করে প্রথম-শতাব্দীর খ্রীষ্টীয়রা তা প্রদর্শন করেন। যিরূশালেম মণ্ডলীর অন্যান্য প্রাচীনদের সাথে এই পুরুষগণ একত্রে, প্রথম-শতাব্দীর পরিচালক গোষ্ঠী গড়ে তোলেন। স্বর্গ থেকে প্রভু যীশু খ্রীষ্ট, বিচার্য বিষয়গুলির নিষ্পত্তি করতে এবং সুসমাচার প্রচারের কাজ পরিচালনা করতে পরিপক্ক খ্রীষ্টানদের এই দলকে ব্যবহার করেন। এই ঐশিক ব্যবস্থার সাথে পৌলের উদ্দীপনাপূর্ণ সহযোগিতার ফলে তাঁর পরিদর্শিত মণ্ডলীগুলিতে বৃদ্ধি লাভ করে। (প্রেরিত ১৬:৪, ৫; গালাতীয় ২:৯) সেইভাবে বর্তমানেও, ঈশ্বরের বাক্যকে দৃঢ়ভাবে ধরে রেখে এবং পরিচালক গোষ্ঠী থেকে আগত পরিচালনার সাথে উদ্দীপনাপূর্ণ সহযোগিতা করে, খ্রীষ্টীয় সুসমাচার-প্রচারকেরা তাদের পরিচর্য্যায় কৃতকার্য হতে সুনিশ্চিত হতে পারেন।—তীত ১:৯; ইব্রীয় ১৩:১৭.

অপরকে উৎকৃষ্ট বিবেচনা করা

১৩, ১৪. (ক) প্রেরিত পৌল কী উপদেশ দেন যেমন ফিলিপীয় ২:১-৪ পদে বিবৃত আছে? (খ) সুসমাচার প্রচার কাজে অংশ গ্রহণ করার সময় কেন এই উপদেশ স্মরণে রাখা জরুরি?

১৩ প্রেরিত পৌল সত্য অনুসন্ধানকারীদের প্রতি আন্তরিক প্রেম প্রদর্শন করেন এবং তিনি উৎকৃষ্টতা বা জাতি বৈষম্যতার মনোভাব দেখাননি। তাই তিনি তাঁর সহবিশ্বাসীদের ‘অপরকে শ্রেষ্ঠ জ্ঞান করতে’ উপদেশ দিতে পেরে ছিলেন।—ফিলিপীয় ২:১-৪.

১৪ সেইভাবে, বিভিন্ন জাতি ও পটভূমিকার লোকেদের সাথে ব্যবহার করার সময় আজকের সত্য খ্রীষ্টীয় সুসমাচার-প্রচারকেরা উৎকৃষ্টতার মনোভাব পোষণ করে না। যুক্তরাষ্ট্রের এক যিহোবার সাক্ষী, আফ্রিকাতে মিশনারীরূপে কর্মভারপ্রাপ্ত, তিনি বলেন: “আমি শুধুমাত্র জানি যে, আমরা শ্রেষ্ঠ নই। হয়ত আমাদের অনেক অর্থ আছে এবং প্রচলিত নিয়মগত শিক্ষা আছে, কিন্তু তাদের [স্থানীয় লোকদের] যে গুণাবলী আছে তা আমাদেরকে ছাপিয়ে যায়।”

১৫. বিদেশে যারা কাজ করতে কর্মভারপ্রাপ্ত হয়েছেন, তারা কিভাবে ভাবী শিষ্যদের জন্য প্রকৃত সম্মান প্রদর্শন করতে পারেন?

১৫ সত্যিই, যাদের আমরা সুসমাচার প্রদান করছি তাদের প্রকৃত সম্মান দেখিয়ে, আমরা তাদের বাইবেলের বার্তা গ্রহণ করাকে সহজ করে দেব। তা আরও সাহায্য করে যখন এক মিশনারী সুসমাচার-প্রচারক প্রদর্শন করেন যে, তিনি সেইসব লোকদের মধ্যে বসবাস করতে আনন্দিত, যাদের সাহায্য করতে তাকে কর্মভার দেওয়া হয়েছে। এক সফলকামী মিশনারী, যিনি গত ৩৮ বছর আফ্রিকাতে অতিবাহিত করেছেন, তিনি বর্ণনা করেন: “আমি হৃদয়ের গভীরে অনুভব করি যে এটাই আমার গৃহ এবং আমাকে যে মণ্ডলীতে নিয়োজিত করা হয়েছে সেখানকার সবাই আমার ভাই ও বোন। যখন আমি ছুটিতে ক্যানাডায় যাই, তখন সেখানে আমার মন বসে না। ক্যানাডাতেই, প্রায় গত সপ্তাহে হবে, আমি ফিরে আসার জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলাম। আমি সবসময় ঐ রকমই বোধ করি। আমি আমার বাইবেল ছাত্রদের ও ভাইবোনদের বলি, আবার ফিরে আসাতে আমি কত খুশী এবং তারা সেটি উপলব্ধি করে যে আমি তাদের সাথেই থাকতে চাই।”—১ থিষলনীকীয় ২:৮.

১৬, ১৭. (ক) বহু মিশনারী ও স্থানীয় সুসমাচার প্রচারকেরা তাদের পরিচর্য্যায় কার্যকারী হতে কী চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন? (খ) স্থানীয় ভাষায় কথা বলার জন্য এক মিশনারীর কী অভিজ্ঞতা হয়?

১৬ যখন তারা তাদের স্থানীয় ক্ষেত্রের বৃহত্তর অংশ বিদেশী-ভাষা দ্বারা পরিবেষ্টিত দেখে, কেউ কেউ সেই ভাষা শিখতে প্রচেষ্টা করেছেন, এবং তা প্রদর্শন করে যে তারা অপরকে তাদের থেকে শ্রেষ্ঠ জ্ঞান করেন। “আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলে”, এক মিশনারী লক্ষ্য করেন যে, “অনেক সময় আফ্রিকা ও ইউরোপ উভয় পটভূমিকার ব্যক্তিদের মধ্যে এক অবিশ্বাসের মনোভাব বিরাজ করে। কিন্তু স্থানীয় ভাষায় আমাদের কথাবার্তা বলাই এই মনোভাবকে শীঘ্র দূরীভূত করে।” যাদের আমরা সুসমাচার প্রদান করি, তাদের হৃদয় স্পর্শ করতে তাদের ভাষায় কথা বলা হল এক উত্তম সহায়ক। তা করতে কঠোর শ্রম ও বিনীত একনিষ্ঠতার প্রয়োজন। এশিয়ার একটি দেশে এক মিশনারী ব্যাখ্যা করেন: “বার বার ভুল করে, লোকের কাছে হাস্যাস্পদ হওয়া, এক পরীক্ষার বিষয় হতে পারে। হাল ছেড়ে দেওয়া খুব সহজ বলে মনে হতে পারে।” কিন্তু ঈশ্বরের ও প্রতিবাসীর প্রতি প্রেমই এই মিশনারীকে অটল থাকতে সাহায্য করেছে।—মার্ক ১২:৩০, ৩১.

১৭ বোধসাধ্য যে, যখন লোকেরা তাদের নিজেদের ভাষায়, এক বিদেশীকে সুসমাচার প্রদানের প্রচেষ্টা করতে দেখে, তখন মুগ্ধ হয়ে যায়। অনেক সময় তা আশাতীত আশীর্বাদে পরিণত হয়। অফ্রিকার লিসোথো দেশেতে এক মিশনারী অপর এক স্ত্রীলোকের সাথে সেসুটু ভাষায় কথা বলছিলেন, যিনি পর্দার দোকানে কাজ করতেন। আফ্রিকার অপর একটি দেশের এক সরকারী মন্ত্রী সেই এলাকাটা ঘুরে দেখছিলেন ও তাদের কথাবার্তা আকস্মিকভাবে শুনে ফেললেন। তিনি ভগ্নীর কাছে এসে তার আন্তরিক প্রশংসা করলেন, আর ভগ্নী সেই সরকারী মন্ত্রীর সাথেও তার ভাষায় কথা বলতে শুরু করলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন “আপনি যেহেতু সহেলি ভাষাও জানেন, তাই আপনি কেন [আমার দেশে] এসে, আমাদের লোকদের মধ্যে কাজ করেন না?” দক্ষতার সাথে মিশনারী উত্তর দিলেন: “তাহলে খুব ভালই হয়। কিন্তু আমি একজন যিহোবার সাক্ষী, আর বর্তমানে আপনার দেশে আমাদের কাজ বেআইনী।” “দয়া করে,” মন্ত্রী বললেন, “আপনি এই মনে করবেন না যে আমাদের সকলেই আপনাদের কাজের বিরোধী। আমাদের মধ্যে অনেকেই যিহোবার সাক্ষীদের পক্ষপাতী। হয়ত একদিন, আপনারা আমাদের লোকদের মধ্যে বিনা বাধায় শিক্ষা দিতে পারবেন।” কিছু সময় পরে, সেই একই দেশে যিহোবার সাক্ষীদের উপাসনায় স্বাধীনতা দান করা হয়েছে জেনে মিশনারীর খুব আনন্দ হয়।

অধিকার ত্যাগ করতে ইচ্ছুক

১৮, ১৯. (ক) কী গুরুত্বপূর্ণ উপায়ে পৌল তাঁর প্রভু, যীশু খ্রীষ্টকে অনুকরণ করতে প্রচেষ্টা করেন? (খ) যাদের আমরা সুসমাচার সম্প্রদান করি তাদের বিঘ্নের কোন কারণ এড়িয়ে চলার গুরুত্ব প্রদর্শন করতে একটি অভিজ্ঞতার (অনুচ্ছেদের অথবা নিজের একটি) বর্ণনা দিন।

১৮ যখন প্রেরিত পৌল লেখেন: “যেমন আমিও খ্রীষ্টের অনুকারী, তোমরা তেমনি আমার অনুকারী হও,” তখন তিনি অপরকে বিঘ্নিত করা থেকে এড়াবার প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গে আলোচনা করছিলেন এই বলে: “অতএব তোমরা ভোজন, কি পান, কি যাহা কিছু কর, সকলই ঈশ্বরের গৌরবার্থে কর। কি যিহূদী, কি গ্রীক, কি ঈশ্বরের মণ্ডলী, কাহারও বিঘ্ন জন্মাইও না; যেমন আমিও সকল বিষয়ে সকলের প্রীতিকর হই, আপনার হিত চেষ্টা করি না, কিন্তু অনেকের হিত চেষ্টা করি, যেন তাহারা পরিত্রাণ পায়।”—১ করিন্থীয় ১০:৩১-৩৩; ১০:৩৪.

১৯ পৌলের মতো সুসমাচার প্রচারকেরা, যাদের কাছে প্রচার করেন তাদের উপকারের জন্য স্বার্থত্যাগ করতে ইচ্ছুক হওয়াতে, অনেক আশীর্বাদ পান। উদাহরণস্বরূপ, আফ্রিকার এক দেশে, এক মিশনারী দম্পতী তাদের বিবাহ-বার্ষিকীতে স্থানীয় এক হোটেলে ডিনার খেতে যান। প্রথমে তারা খাবারের সাথে ওয়াইন নেওয়ার জন্য অর্ডার করবেন বলে মনে করেন, যেহেতু বাইবেল মদ্যজাতীয় পানীয় পরিমিত মাত্রায় গ্রহণ করাকে নিন্দা করে না। (গীতসংহিতা ১০৪:১৫) কিন্তু পরে এই দম্পতী তা গ্রহণ করবেন না বলে স্থির করলেন কারণ যদি সেটি স্থানীয় লোকদের অসন্তুষ্ট করে। “কিছু দিন পরে,” স্বামী স্মরণ করেন, “আমাদের এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় হয়, যে ঐ হোটেলের বাবুর্চি ছিল, আর আমরা তার সাথে বাইবেল অধ্যয়ন আরম্ভ করি। বেশ অনেক দিন পরে সে আমাদের বলে: ‘আপনাদের কী মনে আছে আপনারা একবার হোটেলে ডিনার খেতে আসেন? তখন আমরা সকলে, রান্নাঘরের দরজার পিছন থেকে আপনাদের লক্ষ্য করছিলাম। দেখুন, গীর্জার মিশনারীরা আমাদের বলে যে মদ্যপান অন্যায়। কিন্তু, যখন তারা হোটেলে আসে, তখন বিনা দ্বিধায় ওয়াইনের অর্ডার দেয়। তাই আমরা স্থির করেছিলাম যদি আপনারা কোন কিছু মদ্যজাতীয় পানীয়ের অর্ডার করেন, তাহলে যখন আমাদের কাছে প্রচার করতে আসবেন, আমরা আপনাদের কথা শুনব না।’” সেই বাবুর্চি ও ঐ হোটেলের কিছু কর্মী আজ বাপ্তিস্মিত সাক্ষী।

এখনও অনেক কিছু করতে হবে

২০. উদ্যমী সুসমাচার প্রচারকরূপে আমাদের সহ্য করা কেন গুরুত্বপূর্ণ, এবং কোন্‌ আনন্দপূর্ণ সুযোগ অনেকে গ্রহণ করেন?

২০ এই দুষ্ট পরিস্থিতির শেষ যতই দ্রুত আগতপ্রায়, এখনও অনেকে সুসমাচার শুনতে আগ্রহী, এবং এখনই প্রত্যেক খ্রীষ্টীয়ের সুসমাচার-প্রচারকরূপে কষ্ট সহ্য করা খুবই জরুরি। (মথি ২৪:১৩) ফিলিপ, পৌল, বার্ণবা, সীল এবং তীমথিয়র মতো বিশেষ অর্থে সুসমাচার-প্রচারক হয়ে, আপনি কী এই কাজে আপনার অংশকে বর্দ্ধিত করতে পারেন? অনেকেই অগ্রগামীদের দলে যোগদান করে ও যেখানে আরও বেশী কাজের প্রয়োজন আছে সেখানে সেবা করার জন্য নিজেদের প্রাপ্তিসাধ্য করে এই কাজের অনুরূপ কিছু করেছেন।

২১. কিরূপে যিহোবার লোকেদের জন্য “এক দ্বার খোলা রহিয়াছে, যাহা বৃহৎ ও কার্য্যসাধক”?

২১ সম্প্রতি, আফ্রিকা, এশিয়া এবং পূর্ব ইউরোপের দেশগুলিতে সুসমাচার প্রচারের জন্য বিস্তৃত ক্ষেত্র উন্মুক্ত হয়েছে, যেখানে যিহোবার সাক্ষীদের কাজ পূর্বে নিষিদ্ধ ছিল। যেমন প্রেরিত পৌলের ক্ষেত্রে হয়েছিল, তেমনই যিহোবার লোকদের “সম্মুখে এক দ্বার খোলা রহিয়াছে, তাহা বৃহৎ ও কার্য্যসাধক।” (১ করিন্থীয় ১৬:৯) উদাহরণস্বরূপ, মিশনারী সুসমাচার-প্রচারক যারা সম্প্রতি আফ্রিকা দেশের মোজাম্বিকে এসে উপস্থিত হন, সেখানে এত জন বাইবেল অধ্যয়ন করতে ইচ্ছুক যে তারা সামলাতে পারছেন না। এগারোই ফেব্রুয়ারি ১৯৯১ সালে যিহোবার সাক্ষীদের কাজ এই দেশে আইনসম্মত করা হয়েছে বলে আমরা কতই না আনন্দিত!

২২. আমাদের স্থানীয় ক্ষেত্রতে উত্তমরূপে কার্যসাধন হয়ে থাক বা না থাক, আমাদের সকলের কী করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হওয়া দরকার?

২২ যে সব দেশে আমাদের উপাসনার সব সময় স্বাধীনতা ছিল, সেখানেও আমাদের ভাইয়েরা ক্রমাগত বৃদ্ধিতে আনন্দিত হচ্ছে। হ্যাঁ, যেখানেই আমরা বসবাস করি না কেন, “প্রভুর কার্য্যে সর্ব্বদা উপচিয়া” পড়ার আছে। (১ করিন্থীয় ১৫:৫৮) যদি তাই হয়, আসুন আমরা প্রত্যেকে ‘সুসমাচার-প্রচারকের কাজ করে, আমাদের পরিচর্য্যা সম্পন্ন করতে’ অবশিষ্ট সময় বিজ্ঞতার সঙ্গে ব্যবহার করি।—২ তীমথিয় ৪:৫; ইফিষীয় ৫:১৫,১৬. (w92 9⁄1)

আপনি কী ব্যাখ্যা করতে পারেন?

▫ সুসমাচার-প্রচারকের অর্থ কী?

▫ কিভাবে সুসমাচারের সারমর্ম ১৯১৪ সালের পর থেকে সমৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়?

▫ উনিশশো উনিশ সালের পর থেকে কিভাবে সুসমাচার প্রচারের কাজের অগ্রগতি হয়?

▫ কোন্‌ মূল বিষয়গুলি সুসমাচার প্রচারে কৃতকার্য্যতায় সাহায্য করেছে?

[১২ পৃষ্ঠার বাক্স]

বৃদ্ধি ১৯৩৯ সাল থেকে

তিনটি মহাদেশের উদাহরণ বিবেচনা করুন যেখানে গিলিয়ড-প্রশিক্ষিত মিশনারীদের পাঠান হয়। গত ১৯৩৯ সালে মাত্র ৬৩৬ জন রাজ্য ঘোষক পশ্চিম আফ্রিকা থেকে রিপোর্ট করে। কিন্তু ১৯৯১ সালের মধ্যে পশ্চিম আফ্রিকার ১২টি দেশে এই সংখ্যা ২,০০,০০০-তে বৃদ্ধি পায়। দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলিতে বিস্ময়কর বৃদ্ধিতে মিশনারীরা অবদান করেছেন। তার মধ্যে একটি হল ব্রাজিল, যেখানে ১৯৩৯ সালে রাজ্য ঘোষকের সংখ্যা ১১৪ থেকে ১৯৯২ সালের এপ্রিল মাসে ৩,৩৫,০৩৯ জনে বৃদ্ধি পায়। মিশনারীরা এশিয়ার দেশগুলিতে এসে পৌঁছালেও অনুরূপ বৃদ্ধি দেখা যায়। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময়, জাপানে ক্ষুদ্রসংখ্যক যিহোবার সাক্ষীরা প্রচণ্ড তাড়না ভোগ করে, এবং তাদের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু, তারপর ১৯৪৯ সালে ১৩ জন মিশনারীরা পুনরায় কাজ সংগঠিত করার জন্য সাহায্য করতে আসেন। সেই পরিচর্য্যা বছরে দশ জনেরও কম দেশীয় প্রকাশক সমগ্র জাপানে ক্ষেত্রের পরিচর্য্যায় রিপোর্ট করে, কিন্তু ১৯৯২ সালের এপ্রিল মাসে প্রকাশকের মোট সংখ্যা ১,৬৭,৩৭০ জনে পৌঁছায়।

[১৪ পৃষ্ঠার বাক্স]

খ্রীষ্টীয় জগৎ ও ভাষার সমস্যা

কিছু খ্রীষ্টীয় জগতের মিশনারীরা আন্তরিকভাবে প্রচেষ্টা করেছে বিদেশী ভাষা শিখতে কিন্তু বেশীরভাগ আশা করে যে স্থানীয় লোকেরা যেন তাদের সাথে ইউরোপীয়ান ভাষায় কথা বলে। যেমন জেফ্রি মুরহাউস তার বই দ্যা মিশনারিস্‌-এ বর্ণনা করেন:

“সমস্যাটি ছিল এই যে শাস্ত্র অনুবাদ করার জন্য দেশীয় ভাষা রপ্ত করা ছাড়া আর কোন কিছুর জন্য সেটি করতে খুব একটা দেখা যায়নি। ব্যক্তিগতভাবে হোক অথবা তাদের নিয়োজিত সমিতি দ্বারা হোক, তুলনামূলকভাবে খুব কমই প্রচেষ্টা করা হয়েছে, এটি নিশ্চিত করতে যে একজন মিশনারী যাতে দেশীয় এক ব্যক্তির সাথে সেই দেশীয় ভাষায় স্বচ্ছন্দে কথা বলতে পারে, যার ফলে দুটি মানুষের মধ্যে এক গভীর উপলব্ধিবোধ সৃষ্টি হতে পারে। প্রত্যেক মিশনারী ভাসা-ভাসা কিছু স্থানীয় শব্দ শেখে . . . তাছাড়া, সাধারণত আলাপআলোচনা পিজিন্‌ ইংরাজি নামে পরিচিত ভাষার মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী ও বেকুব-বানানো স্বরধ্বনী পরিবর্তন করে করা হত, সম্পূর্ণ আশা করে, যে আফ্রিকা দেশীয় ব্যক্তি বিদেশী দর্শকের ভাষার সাথে খাপ খাইয়ে নেবে। সবচেয়ে খারাপ যা, জাতি হিসাবে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের এটি হল আর একটি প্রকাশ।”

লণ্ডনেতে ১৯৯২ সালে স্কুল অফ ওরিয়েন্টাল অ্যাণ্ড অ্যাফ্রিকান্‌ স্টাডিস্‌, ভাষার সমস্যার উপর একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। রিপোর্ট বলে, “আমাদের অভিমত এই, যে দেশীয় ভাষায় মিশনারীদের দক্ষতা অর্জন করার গড় মান . . . দুঃখজনকভাবে ও এমনকি বিপজ্জনকভাবে খুবই নিম্ন।”

ওয়াচটাওয়ার সোসাইটির মিশনারীরা সর্বদা স্থানীয় ভাষা শেখাকে অপরিহার্য বলে মনে করেন, যা তাদের মিশনারী ক্ষেত্রে সফলতা সম্বন্ধে ব্যাখ্যা দিতে সাহায্য করে।

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার