ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯২ ১০/১ পৃষ্ঠা ১৪-১৯
  • প্রাচীনেরা, ধার্মিকতায় বিচার করুন

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • প্রাচীনেরা, ধার্মিকতায় বিচার করুন
  • ১৯৯২ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • খ্রীষ্ট—আদর্শস্বরূপ বিচারক
  • পার্থিব বিচারকর্তারা
  • যে বিচারকর্তারা যারা ‘সভয়ে নিজেদের পরিচালনা করেন’
  • পূর্ণ-সময়ের পালকগণ
  • হিতসাধনকারী পালক এবং বিচারক হয়ে সেবা করা
  • শুনানির সময় সঠিক মনোভাব
  • বিচারসংক্রান্ত শুনানির উদ্দেশ্য
  • “সমস্ত পৃথিবীর বিচারকর্ত্তা” যিহোবা যিনি নিরপেক্ষ
    ১৯৯২ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • পাপ করেছে এমন ব্যক্তিদের প্রতি প্রাচীনেরা কীভাবে প্রেম ও করুণা দেখাতে পারে?
    প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য সম্বন্ধে ঘোষণা করে (অধ্যয়ন)—২০২৪
  • “তোমাদের মধ্যে ঈশ্বরের যে পাল আছে, তাহা পালন কর”
    ২০১১ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • যিহোবার মেষেদের কোমল যত্নের প্রয়োজন
    ১৯৯৬ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
আরও দেখুন
১৯৯২ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯২ ১০/১ পৃষ্ঠা ১৪-১৯

প্রাচীনেরা, ধার্মিকতায় বিচার করুন

“তোমরা যখন ভ্রাতাদের কথা শুন, তখন বাদী ও ভ্রাতার মধ্যে ন্যায্য বিচার করিও।”—দ্বিতীয় বিবরণ ১:১৬, NW.

১. বিচারের ব্যাপারে, কর্তৃত্ব অর্পণ কিভাবে হয়েছে, আর মনুষ্য বিচারকদের প্রতি ইহা কী ইঙ্গিত করে?

সর্বোচ্চ বিচারকর্তা হিসাবে, যিহোবা বিচারসংক্রান্ত অধিকার তাঁর পুত্রকে দিয়েছেন। (যোহন ৫:২৭) অপরপক্ষে, খ্রীষ্টীয় মণ্ডলীর মস্তক হিসাবে, খ্রীষ্ট বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান দাসশ্রেণী এবং তাদের গভর্নিং বডিকে ব্যবহার করেন প্রাচীনদের মনোনীত করার জন্য, যাদের এক এক সময় বিচারক হিসাবে কাজ করতে হয়। (মথি ২৪:৪৫-৪৭; ১ করিন্থীয় ৫:১২, ১৩; তীত ১:৫, ৯) প্রতিনিধি বিচারকরূপে, তারা দায়বদ্ধ যত্নের সাথে তাদের স্বর্গীয় বিচারকর্তা, যিহোবা ও যীশু খ্রীষ্টের উদাহরণ অনুকরণ করতে।

খ্রীষ্ট—আদর্শস্বরূপ বিচারক

২, ৩. (ক) মশীহ সম্বন্ধে কোন্‌ ভবিষ্যদ্বাণী বিচারক হিসাবে খ্রীষ্টের গুণাবলী প্রকাশ করে? (খ) কোন্‌ বিষয়গুলি বিশেষ ভাবে লক্ষণীয়?

২ বিচারকর্তারূপে খ্রীষ্ট সম্বন্ধে, ভাববাণীমূলক ভাবে এইরূপ লেখা ছিল: “আর যিহোবার আত্মা—প্রজ্ঞার ও বিবেচনার আত্মা, মন্ত্রণার ও পরাক্রমের আত্মা, জ্ঞানের ও যিহোবার ভয়ের আত্মা তাঁহাতে অধিষ্ঠান করিবেন; আর তিনি যিহোবার ভয়ে আমোদিত হইবেন। তিনি চক্ষুর দৃষ্টি অনুসারে বিচার করিবেন না, কর্ণের শ্রবণানুসারে নিষ্পত্তি করিবেন না; কিন্তু ধর্ম্মশীলতায় দীনহীনদের বিচার করিবেন, সরলতায় পৃথিবীস্থ নম্রদের জন্য নিষ্পত্তি করিবেন।”—যিশাইয় ১১:২-৪.

৩ লক্ষ্য করুন এই ভাববাণীতে কী গুণাবলীগুলি খ্রীষ্টকে সাহায্য করে যাতে “ন্যায়ে জগতসংসারের বিচার করিবেন।” (প্রেরিত ১৭:৩১) তিনি যিহোবার আত্মার সাথে মিল রেখে, ঐশিক প্রজ্ঞায়, বিবেচনায়, মন্ত্রণায়, এবং জ্ঞানে বিচার করেন। এও লক্ষ্য করুন, যে তিনি যিহোবার ভয়ে বিচার করেন। সেইজন্য, “খ্রীষ্টের বিচারাসন” চিত্রিত করে, “ঈশ্বরের বিচারাসন”কে। (২ করিন্থীয় ৫:১০; রোমীয় ১৪:১০) তিনি বিষয়গুলিকে সেইভাবে বিচার করতে যত্ন নেন যেভাবে ঈশ্বর সেইগুলিকে বিচার করেন। (যোহন ৮:১৬) তিনি কেবলমাত্র বাহ্যিক অবস্থা অথবা শোনা কথায় বিচার করেন না। তিনি বিচার করেন সাধুতায় নম্র ও বিনত লোকদের পক্ষে। কী অপূর্ব এক বিচারকর্তা! কী উত্তম উদাহরণ অসিদ্ধ মানুষদের জন্য যাদের আজ ডাকা হয় বিচার নিষ্পত্তি করার জন্য!

পার্থিব বিচারকর্তারা

৪. (ক) খ্রীষ্টের হাজার বৎসর রাজত্বকালে ১,৪৪,০০০-এর কাজগুলির একটি কাজ কী হবে? (খ) কোন্‌ ভাববাণী দেখায় যে কিছু অভিষিক্ত খ্রীষ্টানেরা বিচারকরূপে নিযুক্ত হবেন পৃথিবীতে থাকাকালীন?

৪ শাস্ত্র দেখায় যে তুলনামূলক ভাবে এক ক্ষুদ্র সংখ্যক অভিষিক্ত, যাদের শুরু হয় ১২ জন প্রেরিতদের নিয়ে, তারা যীশু খ্রীষ্টের সাথে সহশাসক হবে তাঁর হাজার বৎসরের রাজত্বকালে। (লূক ২২:২৮-৩০; ১ করিন্থীয় ৬:২; প্রকাশিত বাক্য ২০:৪) ১৯১৮-১৯ সালে আত্মিক ইস্রায়েলের অভিষিক্ত সভ্যগণের এক অবশিষ্টাংশ নিজেরা পুনঃস্থাপিত ও বিচারিত হন। (মালাখি ৩:২-৪) আত্মিক ইস্রায়েলের এই পুনঃস্থাপন সম্বন্ধে, ভবিষ্যদ্‌বাণী ছিল: “আর পূর্বে যেমন ছিল, তেমনি পুনর্ব্বার তোমাকে বিচারকর্ত্তৃগণ দিব; প্রথমে যেমন ছিল, তেমনি মন্ত্রিগণ দিব।” (যিশাইয় ১:২৬) এইভাবে, মাংসিক ইস্রায়েলের “প্রথমে যেমন ছিল,” যিহোবা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত অবশিষ্টাংশদের তদ্রূপ ধার্মিক বিচারকর্তা এবং মন্ত্রণাকারী দিয়েছেন।

৫. (ক) কাদের “বিচারকর্ত্তা করা হয়” আত্মিক ইস্রায়েলের পুনস্থাপনের পর, এবং প্রকাশিত বাক্যের পুস্তকে কিভাবে তাদের চিত্রিত করা হয়েছে? (খ) অভিষিক্ত অধ্যক্ষগণকে তাদের বিচারসংক্রান্ত কাজে কারা সাহায্য করছে, এবং কিভাবে এদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে যাতে তারা আরও ভাল বিচারকর্তা হন?

৫ আরম্ভে, যে ‘বিজ্ঞ পুরুষদের’ যাদের “বিচারকর্ত্তা করা হয়” তারা সকলে ছিলেন অভিষিক্ত বয়স্ক ব্যক্তি, অথবা প্রাচীনেরা। (১ করিন্থীয় ৬:৪, ৫, NW) বিশ্বস্ত, শ্রদ্ধেয় অভিষিক্ত অধ্যক্ষগণকে প্রকাশিত বাক্যের বইয়ে চিত্রিত করা হয়েছে সেইভাবে যাদের যীশু তাঁর ডান হাতে ধরে রেখেছেন, যার অর্থ, তারা তাঁর অধীনে ও পরিচালনায় রয়েছেন। (প্রকাশিত বাক্য ১:১৬, ২০; ২:১) ১৯৩৫ সাল থেকে অভিষিক্তগণ বিশ্বস্ত সমর্থন পেয়ে চলেছে এক ক্রমবর্ধমান “বিরাট জনতার” যাদের আশা তারা “মহাক্লেশ” থেকে রক্ষা পাবে এবং এক পরমদেশরূপ পৃথিবীতে অনন্তকাল বেঁচে থাকবে। (প্রকাশিত বাক্য ৭:৯, ১০, ১৪-১৭) “মেষশাবকের বিবাহ” যত সন্নিকট হচ্ছে, এদের আরও বেশী সংখ্যায় নিযুক্ত করা হচ্ছে অভিষিক্ত গভর্নিং বডি দ্বারা, যাতে তারা প্রাচীন এবং বিচারকর্তা হিসাবে বিশ্বব্যাপী যিহোবার সাক্ষীদের ৬৬,০০০-এরও বেশী মণ্ডলীগুলিতে পরিচর্য্যা করতে পারেন।a (প্রকাশিত বাক্য ১৯:৭-৯) বিশেষ স্কুলের মাধ্যমে, তাদের শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে যাতে তারা “নতুন পৃথিবী”র সমাজে দায়িত্বসকল দেখাশোনা করতে পারেন। (২ পিতর ৩:১৩) ১৯৯১ সালের শেষে, বহু দেশে যে কিংডম মিনিস্ট্রি স্কুল করা হয়, তাতে জোর দেওয়া হয় যাতে বিচার সংক্রান্ত কেসগুলিকে যেন সঠিকভাবে পরিচালনা করা হয়। প্রাচীনেরা যারা বিচারক হিসাবে কাজ করেন তারা যিহোবা ও খ্রীষ্ট যীশুকে অনুকরণ করতে বাধ্য, যাদের বিচার সত্য ও ধর্মময়।—যোহন ৫:৩০; ৮:১৬; প্রকাশিত বাক্য ১৯:১, ২.

যে বিচারকর্তারা যারা ‘সভয়ে নিজেদের পরিচালনা করেন’

৬. যে প্রাচীনগণ বিচারসংক্রান্ত কমিটিতে কাজ করেন তাদের কেন ‘নিজেদের সভয়ে পরিচালনা’ করা প্রয়োজন?

৬ যদি খ্রীষ্ট নিজে বিচার করেন যিহোবার ভয়ে এবং তাঁর আত্মার মাধ্যমে, তাহলে অসিদ্ধ প্রাচীনদের আরও কত এইরূপ করা উচিত! যখন কোন বিচার সংক্রান্ত কমিটিতে কাজ করার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাদের উচিত তারা যেন নিজেদের ‘সভয়ে পরিচালনা করেন’, “যিনি মুখাপেক্ষা করেন না তাঁহাকে পিতা বলিয়া ডাকেন” যাতে তিনি তাদের ধার্মিকতায় বিচার করতে সাহায্য করেন। (১ পিতর ১:১৭, NW) তাদের স্মরণে রাখা উচিত যে তারা মানুষের জীবন নিয়ে কাজ করছেন, যাদের “প্রাণের” জন্য, তাদের “নিকাশ দিতে হইবে।” (ইব্রীয় ১৩:১৭) এর সাথে মিল রেখে, অবশ্যই তাদের যিহোবার কাছে নিকাশ দিতে হবে যদি তারা বিচার সংক্রান্ত এমন কোন ভুল করে যা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব। ইব্রীয় ১৩:১৭ পদের মন্তব্যে, জে. এইচ. এ. এব্রার্ড লেখেন: “যে প্রাণগুলিকে পালকের তত্ত্বাবধানে দেওয়া হয়েছে সেইগুলিকে দেখা তার কর্তব্য, এবং . . . তাকে তাদের সকলের সম্বন্ধে কৈফিয়ৎ দিতে হবে, তাদের জন্যও যারা তার ভুলে হারিয়ে গেছে। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কথা। বাক্যের প্রতিটি পরিচারক বিবেচনা করুক যে সে স্বচ্ছায় এই ভয়ঙ্কর দায়িত্বপূর্ণ কার্য্যালয়ের ভার গ্রহণ করেছে।”—তুলনা করুন যোহন ১৭:১২; যাকোব ৩:১.

৭. (ক) বর্তমান-যুগের বিচারকদের কী মনে রাখা উচিত, এবং তাদের লক্ষ্য কী হবে? (খ) কী শিক্ষা প্রাচীনদের নেওয়া উচিত মথি ১৮:১৮-২০ পদ থেকে?

৭ যে প্রাচীন বিচারসংক্রান্ত ক্ষমতায় কাজ করছেন তাকে স্মরণে রাখতে হবে যে প্রতিটি কেসের প্রকৃত বিচারক যিহোবা ও খ্রীষ্ট যীশু। স্মরণ করুন ইস্রায়েল বিচারকদের কী বলা হয়েছিল: “কেননা তোমরা মনুষ্যদের জন্য নয়, কিন্তু যিহোবার জন্য বিচার করিবে, এবং বিচার ব্যাপারে তিনি তোমাদের সহকারী। অতএব যিহোবার ভয় তোমাদিগেতে অধিষ্ঠিত হউক। . . . ইহা করিও, তাহা হইলে তোমরা দোষী হইবে না।” (২ বংশাবলি ১৯:৬-১০, NW) সশ্রদ্ধ ভয়ে, প্রাচীনরা যারা কোন কেসের বিচার করছেন তারা তাদের যথাশক্তি করবেন যাতে নিশ্চিত হন যে যিহোবা সত্যই ‘বিচারের ব্যাপারে তাদের সঙ্গে আছেন।’ তারা যে নিষ্পত্তি দেন তা যেন সঠিকভাবে প্রতিফলিত করে যে যিহোবা ও খ্রীষ্ট বিষয়টিকে এইভাবেই দেখতেন। তারা রূপকভাবে পৃথিবীতে যা কিছু ‘বদ্ধ’ করে (দোষী করে) অথবা ‘মুক্ত’ করে (নির্দোষ বলে) তা যেন স্বর্গে ইতিমধ্যেই বদ্ধ বা মুক্ত হয়ে গেছে—ঈশ্বরের অনুপ্রাণিত বাক্যের মাধ্যমে যা প্রকাশিত হয়েছে সেই অনুযায়ী। যদি তারা যীশুর নামে যিহোবার নিকটে প্রার্থনা করে, যীশু “তাদের মধ্যে” থাকবেন সাহায্য করার জন্য। (মথি ১৮:১৮-২০, NW; ফুটনোট; দ্যা ওয়াচটাওয়ার, ফেব্রুয়ারী ১৫, ১৯৮৮, পৃষ্ঠা ৯) বিচারসংক্রান্ত শুনানির সময় পরিবেশ যেন প্রদর্শন করে যে খ্রীষ্ট সত্যই তাদের মধ্যে আছেন।

পূর্ণ-সময়ের পালকগণ

৮. পালের প্রতি প্রাচীনদের প্রধান দায়িত্ব কী, যা যিহোবা এবং যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে প্রদর্শিত হয়েছে? (যিশাইয় ৪০:১০, ১১; যোহন ১০:১১, ২৭-২৯)

৮ প্রাচীনরা পূর্ণ-সময়ের বিচারকর্তা নন। তারা হলেন পূর্ণ সময়ের পালক। তাঁরা হলেন আরোগ্যদানকারী, শাস্তি প্রদানকারী নন। (যাকোব ৫:১৩-১৬) গ্রীক ভাষায় যে শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে (এ·পিʹস্কো·পস) তার অর্থ রক্ষা করার জন্য যত্ন নেওয়া। থিওলোজিক্যাল ডিক্সনারী অফ দ্যা নিউ টেস্টামেন্ট বলে: “অভাবপুরনার্থক পালক [১ পিতর ২:২৫ পদে], এই আখ্যা [এ·পিʹস্কো·পস] ইঙ্গিত করে যে পালকের কাজ হল লক্ষ্য রাখা ও রক্ষা করা।” হ্যাঁ, তাদের প্রাথমিক দায়িত্ব হচ্ছে পালের রক্ষণাবেক্ষণ করা, তাদের পালের মধ্যে রেখে।

৯, ১০. (ক) পৌল কিভাবে প্রাচীনদের প্রথম দায়িত্ব সম্বন্ধে জোর দেন, তাই কী প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা যেতে পারে? (খ) পৌল প্রেরিত ২০:২৯ পদে যে কথাগুলি বলেন তা কী ইঙ্গিত করে, ও তাই কিভাবে প্রাচীনেরা বিচারসংক্রান্ত কেসের সংখ্যাকে কম করতে পারেন?

৯ ইফিষীয় মণ্ডলীর প্রাচীনদের সাথে কথা বলতে গিয়ে, প্রেরিত পৌল সেইখানে জোর দেন যেখানে প্রয়োজন: “তোমরা আপনাদের বিষয় সাবধান, এবং পবিত্র আত্মা তোমাদিগকে অধ্যক্ষ করিয়া যাহার মধ্যে নিযুক্ত করিয়াছেন, সেই সমস্ত পালের বিষয়ে সাবধান হও, ঈশ্বরের সেই মণ্ডলীকে পালন কর, যাহাকে তিনি নিজ রক্ত দ্বারা ক্রয় করিয়াছেন।” (প্রেরিত ২০:২৮) পৌল এখানে জোর দিচ্ছেন পালন করার বিষয়, শাস্তির বিষয় নয়। কিছু প্রাচীনরা হয়ত পরবর্তী এই প্রশ্নের উপর চিন্তা করলে ভাল করবেন: ‘আমরা কি অনেক সময় বাঁচাতে পারি যা ব্যয় হয় বিচারসংক্রান্ত কেস মীমাংসা করতে যদি আমরা আরও বেশী সময় ও প্রচেষ্টা ব্যয় করতাম পালকের কাজে?’

১০ সত্য, যে পৌল সতর্ক করেন “দুরন্ত কেন্দুয়া”দের বিপক্ষে। কিন্তু তিনি কী তাদের ভর্ৎসনা করেননি কারণ তারা ‘পালের প্রতি মমতা করে না বলে’? (প্রেরিত ২০:২৯) আর যদিও তিনি ইঙ্গিত করেন বিশ্বস্ত অধ্যক্ষরা যেন এই “কেন্দুয়াদের” বাহির করে দেন, তাঁর কথাগুলি কী এও দেখায় না যে তাদের পালের অন্য সদস্যদের প্রতি “মমতা” দেখাতে হবে? যখন কোন মেষ আত্মিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ঈশ্বরকে সেবা করা বন্ধ করে দেয়, তখন সেই পুরুষ বা নারীর কি প্রয়োজন—ভর্ৎসনা অথবা আরোগ্যদান, শাস্তি অথবা পালন? (যাকোব ৫:১৪, ১৫) সেইজন্য, প্রাচীনদের নিয়মিতভাবে পালকের কাজ করার জন্য সময়ের তালিকা করতে হবে। যার আনন্দদায়ক ফল হবে পাপে জড়িয়ে পড়েছে এরূপ খ্রীষ্টীয়গণের সময়সাপেক্ষ বিচার সংক্রান্ত কেসগুলিতে কম সময় ব্যয়। অবশ্যই, প্রাচীনদের প্রথম কর্তব্য হল উপশম ও সতেজতার উৎসস্থল হওয়া, যার দ্বারা যিহোবার লোকদের মধ্যে তাঁরা শান্তি, স্থিরতা, এবং নিরাপত্তা বর্ধিত করেন।—যিশাইয় ৩২:১, ২.

হিতসাধনকারী পালক এবং বিচারক হয়ে সেবা করা

১১. কেন যে প্রাচীনেরা বিচারসংক্রান্ত কমিটিতে কাজ করেন তাদের পক্ষপাতশূন্যতা এবং “যে প্রজ্ঞা উপর হইতে আইসে” তার প্রয়োজন?

১১ কোন খ্রীষ্টান ভুল পদক্ষেপ নেওয়ার পূর্বেই আরও প্রখর প্রতিপালনের কাজ যিহোবার লোকেদের মধ্যে বিচারসংক্রান্ত কেসগুলির সংখ্যা বহুলাংশে কমিয়ে দিতে পারে। (তুলনা করুন গালাতীয় ৬:১.) কিন্তু মনুষ্যদের পাপ ও অসিদ্ধতাবশতঃ, খ্রীষ্টীয় অধ্যক্ষদের হয়ত সময় সময় ভুল পদক্ষেপের কেসগুলি বিচার করতে হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে কী নীতি তাদের পরিচালনা করবে? মোশির সময় অথবা পূর্বকালীন খ্রীষ্টানদের সময় থেকে তার পরিবর্তন হয়নি। মোশি ইস্রায়েল বিচারকর্তাদের যা বলেছিলেন তা আজও বৈধ: “তোমাদের ভ্রাতাদের কথা শুনিয়া বাদীর ও তাহার ভ্রাতার ধার্ম্মিকতায় বিচার করিও। . . . তোমরা বিচারে কাহারও মুখাপেক্ষা করিবে না।” (দ্বিতীয় বিবরণ ১:১৬, ১৭, NW) “যে প্রজ্ঞা উপর হইতে আইসে” তার এক গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য পক্ষপাতশুন্যতা এবং এই প্রজ্ঞা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সেই প্রাচীনদের ক্ষেত্রে যারা বিচারসংক্রান্ত কমিটিতে সেবা করেন। (যাকোব ৩:১৭, NW; হিতোপদেশ ২৪:২৩) এরূপ প্রজ্ঞা তাদের সাহায্য করবে দুর্বলতা ও দুষ্টতার মধ্যে পার্থক্য বুঝতে।

১২. কী অর্থে বিচারকদের কেবল ধার্মিক নয় কিন্তু ভাল ব্যক্তিও হতে হবে?

১২ প্রাচীনদের অবশ্যই “ধার্ম্মিকতায় বিচার” করতে হবে যিহোবার ন্যায় ও অন্যায়ের মানগুলির সাথে মিল রেখে। (গীতসংহিতা ১৯:৯) এই বিষয় যে পার্থক্য পৌল দেখান রোমীয় ৫:৭, ৮ পদে সেই অনুসারে, তারা চেষ্টা করবেন ধার্মিক ব্যক্তি হওয়ার, একই সাথে ভাল ব্যক্তি হওয়ারও চেষ্টা করবেন। “ধার্মিকতা” প্রবন্ধে এই পদগুলির উপর মন্তব্য করতে গিয়ে ইনসাইট অন দ্যা স্ক্রিপচারস গ্রন্থটি বলে: “যে গ্রীক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে তা দেখায় যে ব্যক্তি ধার্মিকতার জন্য উল্লেখযোগ্য, অথবা বিশিষ্ট, সে পরোপকারেচ্ছু (সব সময় অন্যের ভাল করতে ও উপকার নিয়ে আসতে সচেষ্ট) এবং পরহিতকারী (সক্রিয়ভাবে সেই ধার্মিকতা প্রকাশ করে)। সে কেবল ন্যায়বিচার কী দাবী করে সেই বিষয় চিন্তিত নয় কিন্তু তারও উর্দ্ধে যায়, তাকে পরিচালনা করে অন্যের জন্য উন্নতিকামী চিন্তা এবং অন্যদের সাহায্য ও উপকার করার ইচ্ছা।” (ভলিউম ২, পৃষ্ঠা ৮০৯) প্রাচীনরা যারা শুধু ধার্মিক নন কিন্তু উত্তমও, তারা দোষীদের সাথে দয়া এবং বিবেচনার সাথে ব্যবহার করবেন। (রোমীয় ২:৪) তারা দয়া ও করুণা দেখাতে চাইবেন। তারা সবকিছু করবেন যা তারা করতে পারেন সেই দোষী ব্যক্তিকে দেখাবার জন্য যে তার অনুতাপ করার প্রয়োজন আছে, যদিও হয়ত প্রথমে মনে হতে পারে যে সে তাদের প্রচেষ্টায় সাড়া দিচ্ছে না।

শুনানির সময় সঠিক মনোভাব

১৩. (ক) যখন একজন প্রাচীন বিচারকর্তা হিসাবে কাজ করেন, কী হওয়া তিনি পরিত্যাগ করেন না? (খ) পৌলের দেওয়া কী উপদেশ বিচারসংক্রান্ত শুনানিতেও প্রযোজ্য হয়?

১৩ কোন পরিস্থিতিতে যখন বিচারসংক্রান্ত শুনানির প্রয়োজন হয়, অধ্যক্ষদের ভুলে গেলে চলবে না যে তারা তখনও পালক, “উত্তম মেষপালক”-এর অধীনে যিহোবার মেষদের সাথে ব্যবহার করছেন। (যোহন ১০:১১) যে উপদেশ পৌল দেন মেষদের নিত্য সাহায্য দেওয়ার জন্য যারা সমস্যার মধ্যে আছে একই ভাবে প্রযোজ্য বিচারসংক্রান্ত শুনানির সময়েও। তিনি লেখেন: “ভ্রাতৃগণ, যদি কেহ কোন অপরাধে ধরাও পড়ে, তবে আত্মিক যে তোমরা, তোমরা সেই প্রকার ব্যক্তিকে মৃদুতার আত্মায় সুস্থ কর, আপনাকে দেখ, পাছে তুমিও পরীক্ষাতে পড়। তোমরা পরস্পর এক জন অন্যের ভার বহন কর; এইরূপে খ্রীষ্টের ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে পালন কর।”—গালাতীয় ৬:১, ২.b

১৪. অধ্যক্ষগণ বিচারসংক্রান্ত শুনানিকে কিভাবে দেখবেন, এবং যারা দোষী তাদের প্রতি তাদের মনোভাব কিরূপ থাকবে?

১৪ এইরূপ চিন্তা না করে যে তারা ঊর্ধ্বতন বিচারক যারা একত্রিত হয়েছেন শাস্তি দেওয়ার জন্য, যে প্রাচীনরা বিচারসংক্রান্ত কমিটিতে কাজ করছেন তাদের এই শুনানিকে প্রতিপালন কাজের আরও একটি অঙ্গ হিসাবে দেখা দরকার। যিহোবার একটি মেষ সমস্যায় পড়েছে। তারা কী করতে পারেন সেই পুরুষ অথবা নারীকে সাহায্য করার জন্য? এই মেষ যে পাল থেকে বিচ্যুত হয়েছে তাকে সাহায্য করার ব্যাপারে কী খুব দেরি হয়ে গেছে? আমরা আশা করব, না। প্রাচীনরা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রাখবেন করুণা দেখাবার ব্যাপারে যেখানে তা উপযুক্ত। এর অর্থ এই নয় যে তারা যিহোবার মানকে অবনত করবেন যেখানে গুরুতর কোন পাপ করা হয়েছে। কিন্তু তীব্রতা হ্রাস করার কোন পরিস্থিতি সম্বন্ধে সচেতন থাকা হয়ত তাদের সাহায্য করতে পারে করুণা দেখাতে যেখানে তা সম্ভব। (গীতসংহিতা ১০৩:৮-১০; ১৩০:৩) দুঃখের সাথে বলতে হয়, কোন কোন দোষী ব্যক্তিরা তাদের মনোভাবে এত অনমনীয় যে প্রাচীনরা বাধ্য হন দৃঢ়তা দেখাতে, যদিও কখনও রূঢ়তা নয়।—১ করিন্থীয় ৫:১৩.

বিচারসংক্রান্ত শুনানির উদ্দেশ্য

১৫. যখন ব্যক্তিদের মধ্যে গুরুতর কোন সমস্যা দেখা দেয়, তখন প্রথমে কী নির্ধারণ করতে হবে?

১৫ যখন ব্যক্তিদের মধ্যে গুরুতর সমস্যা দেখা দেয়, বিজ্ঞ প্রাচীনরা আগে দেখবেন যে যারা ব্যাপারটিতে জড়িত তারা নিজেরা মথি ৫:২৩, ২৪ অথবা মথি ১৮:১৫ পদ অনুযায়ী একান্তে তা সমাধান করার চেষ্টা করেছেন কিনা। যদি তা বিফল হয়ে থাকে, তাহলে এক কিম্বা দুইজন প্রাচীনের উপদেশই যথেষ্ট হবে। বিচারসংক্রান্ত পদক্ষেপ তখনই নিতে হবে যদি গুরুতর কোন পাপ হয়ে থাকে যা হয়ত সমাজচ্যুত হওয়াতে পরিচালিত করতে পারে। (মথি ১৮:১৭; ১ করিন্থীয় ৫:১১) বিচারসংক্রান্ত কমিটি তৈরি করার জন্য যথার্থ শাস্ত্রীয় ভিত্তি থাকা দরকার। (দেখুন দ্যা ওয়াচটাওয়ার, সেপ্টেম্বর ১৫, ১৯৮৯, পৃষ্ঠা ১৮) যখন একঢি কমিটি তৈরি করা হয়, তখন যারা এই বিষয় সবচেয়ে দক্ষ সেই প্রাচীনদের মনোনীত করা উচিত।

১৬. প্রাচীনেরা বিচারসংক্রান্ত শুনানির মাধ্যমে কী সাধন করতে চান?

১৬ প্রাচীনরা বিচারসংক্রান্ত শুনানির দ্বারা কী অভীষ্ট সাধন করতে চান? প্রথমে, সত্য না জানা থাকলে ধার্মিকতায় বিচার করা অসম্ভব। যেমন ইস্রায়েলে, গুরুতর বিষয়গুলিকে ‘অনুসন্ধান’ করার অবশ্য প্রয়োজন ছিল। (দ্বিতীয় বিবরণ ১৩:১৪; ১৭:৪) সেইকারণে শুনানির একটি কারণ হল কেসের প্রকৃত তথ্যগুলি জানা। আর তা করা যেতে পারে এবং করতে হবে প্রেমের সাথে। (১ করিন্থীয় ১৩:৪, ৬, ৭) একবার যখন ঘটনাগুলি জানা হয়ে যাবে, তখন প্রাচীনরা যা কিছু প্রয়োজনীয় তা করবেন যাতে মণ্ডলীকে রক্ষা করা যায় এবং তার মধ্যে যিহোবার উচ্চ মান ও তাঁর আত্মার অবাধ প্রবাহ বজায় থাকে। (১ করিন্থীয় ৫:৭, ৮) যাইহোক, শুনানির একটি উদ্দেশ্য হল, এক বিপদগ্রস্থ পাপীকে, যদি কোনভাবে সম্ভব হয়, রক্ষা করা।—তুলনা করুন লূক ১৫:৮-১০.

১৭. (ক) একজন অভিযুক্ত ব্যক্তির সাথে শুনানির সময় কিরূপ ব্যবহার করতে হবে, এবং তার উদ্দেশ্য কী হবে? (খ) এর জন্য বিচারসংক্রান্ত কমিটির সভ্যদের নিকট কী চাহিদা হবে?

১৭ একজন দোষী ব্যক্তিকে যেন ঈশ্বরের মেষ ছাড়া আর অন্য কোনভাবে দেখা না হয়। সেই পুরুষ অথবা নারীর সাথে কোমল ব্যবহার করতে হবে। যদি পাপ (অথবা পাপসকল) করা হয়ে থাকে, ধার্মিক বিচারকর্তাদের লক্ষ্য হবে সেই পাপীকে সাহায্য করা ও তার চিন্তাধারাকে ঠিক করা, যাতে সে তার ভুল পথ বুঝতে পারে, অনুতপ্ত হয়, আর এইভাবে তাকে যেন “দিয়াবলের ফাঁদ হইতে” ছিনিয়ে আনা যেতে পারে। এর জন্য প্রয়োজন হবে “শিক্ষাদানে নিপুণতা,” এবং “সহনশীলতায় শিক্ষা দেওয়া।” (২ তীমথিয় ২:২৪-২৬; ৪:২, NW) তখন যদি পাপী মেনে নেয় যে সে পাপ করেছে, এবং সত্যই হৃদয়ে ব্যথিত হয়, ও যিহোবার কাছে ক্ষমা চায় তাহলে? (তুলনা করুন প্রেরিত ২:৩৭) যদি কমিটি নিশ্চিত হয় যে আন্তরিকভাবে সে সাহায্য চায়, সাধারণত তাহলে সমাজচ্যুত করার কোন প্রয়োজন নেই।—দেখুন দ্যা ওয়াচটাওয়ার, ১লা জানুয়ারি, ১৯৮৩, পৃষ্ঠা ৩১, অনুচ্ছেদ ১.

১৮. (ক) কখন বিচারসংক্রান্ত কমিটির কোন দোষী ব্যক্তিকে সমাজচ্যুত করতে দৃঢ়তা দেখান প্রয়োজন? (খ) কোন্‌ হৃদয়বিদারী পরিস্থিতি দৃষ্টিতে রেখে প্রাচীনেরা বিপথগামী মেষের জন্যে প্রাণপণ চেষ্টা করবেন?

১৮ অন্যদিকে, যখন বিচারসংক্রান্ত কমিটি সম্মুখীন হয় এমন এক কেসের যা পরিষ্কারভাবে প্রদর্শন করে অনুতাপহীন ধর্মভ্রষ্টতার, স্বেচ্ছায় যিহোবার আইনের বিপক্ষতার, বা দুষ্টতার, তখন তাদের দায়িত্ব হল মণ্ডলীর অন্য সভ্যদের রক্ষা করা সেই অনুতাপহীন দোষীকে সমাজচ্যুত করার দ্বারা। যদি স্পষ্ট হয় যে তার ঈশ্বরীয় বেদনার অভাব আছে, বিচারসংক্রান্ত কমিটি দায়বদ্ধ নয় বার বার সেই অনুতাপহীন দোষীর সাথে দেখা করার অথবা তাকে দিয়ে এমন কথা বলানোর, যা তাকে জোর করবে অনুতাপ করতেc। সাম্প্রতিক বৎসরগুলিতে বিশ্বব্যাপী সমাজচ্যুতদের সংখ্যা সমগ্র প্রকাশকের শতকরা প্রায় ১ ভাগ। তার অর্থ যে প্রত্যেক একশজন মেষের পালের মধ্যে, একজনকে হারান হয়—অন্তত সাময়িকভাবে। যখন আমরা চিন্তা করি যে প্রচেষ্টা ও সময় লাগে একজন ব্যক্তিকে পালভুক্ত করতে, তখন ইহা জানা কী হৃদয়বিদারী হয় যে সহস্র সহস্রকে আমরা প্রত্যেক বৎসর ‘পুনরায় শয়তানের হাতে সমর্পণ’ করছি?—১ করিন্থীয় ৫:৫.

১৯. যে প্রাচীনেরা বিচারসংক্রান্ত কমিটিতে কাজ করেন তাদের কখনও কী ভুলে যাওয়া উচিত নয়, সেইজন্য তাদের লক্ষ্য কী হবে?

১৯ প্রাচীনরা যারা বিচারসংক্রান্ত কেস শুরু করতে যাচ্ছেন তাদের স্মরণে রাখা উচিত যে মণ্ডলীতে পাপজনক যে বেশীরভাগ ঘটনা দেখা দেয় তার সাথে দুর্বলতা জড়িত থাকে, দুষ্টতা নয়। তারা যেন কখনও যীশুর দেওয়া হারানো মেষের যে উদাহরণ তা ভুলে না যান, যা তিনি এই কথার দ্বারা শেষ করেন: “আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, তদ্রূপ এক জন পাপী মন ফিরাইলে স্বর্গে আনন্দ হইবে; যাহাদের মন ফিরান অনাবশ্যক, এমন নিরানব্বই জন ধার্ম্মিকের বিষয়ে তত আনন্দ হইবে না।” (লূক ১৫:৭) সত্যই, “যিহোবা . . . কতকগুলি লোক যে বিনষ্ট হয়, এমন বাসনা তাঁহার নাই, বরং সকলে যেন মন পরিবর্ত্তন পর্য্যন্ত পঁহুছিতে পায় এই তাঁহার বাসনা।” (২ পিতর ৩:৯, NW) যিহোবার সাহায্যের মাধ্যমে, সমস্ত বিশ্বব্যাপী বিচারসংক্রান্ত কমিটিগুলি যেন তাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করে দোষীদের সাহায্য করতে যাতে স্বর্গে আনন্দ হয়, তারা যেন দোষীদের বুঝতে সাহায্য করে তাদের অনুতাপ করার প্রয়োজন আছে এবং যেন তারা তাদের পদক্ষেপকে নতুনভাবে আবার সঙ্কীর্ণ দ্বারে ফিরিয়ে আনতে পারে যা অনন্তজীবনে নিয়ে যায়।—মথি ৭:১৩, ১৪. (w92 7/1)

[পাদটীকাগুলো]

a অপর মেষদের মধ্যে প্রাচীনদের স্থান সম্বন্ধে যারা খ্রীষ্টের ডান হাতে আছেন, দেখুন রেভেলেশন—ইটস্‌ গ্র্যাণ্ড ক্লাইম্যাক্স অ্যাট্‌ হ্যাণ্ড! বই, যা প্রকাশিত হয়েছে ওয়াচটাওয়ার বাইবেল অ্যাণ্ড ট্র্যাক্ট সোসাইটি অফ নিউ ইয়র্ক, আই এন সি., পৃষ্ঠা ১৩৬, ফুটনোট।

b দেখুন দ্যা ওয়াচটাওয়ার, সেপ্টেম্বর ১৫, ১৯৮৯, পৃষ্ঠা ১৯.

c দেখুন দ্যা ওয়াচটাওয়ার, ১লা সেপ্টেম্বর, ১৯৮১, পৃষ্ঠা ২৬ অনুচ্ছেদ ২৪

পুনরালোচনার প্রশ্ন

▫ মহান্‌ পালক এবং উত্তম পালকের উদাহরণ অনুকরণ করে, প্রাচীনদের প্রধান আগ্রহ কী হবে?

▫ কী করে প্রাচীনরা চেষ্টা করতে পারেন যাতে বিচারসংক্রান্ত কেসের সংখ্যা হ্রাস করা যায়?

▫ কী অর্থে বিচারকদের কেবল ধার্মিক নয় কিন্তু ভাল ব্যক্তিও হতে হবে?

▫ শুনানির সময় একজন দোষীকে কিরূপে দেখা উচিত, এবং তার উদ্দেশ্য কী হবে?

▫ কেন সমাজচ্যুত করা হল শেষ অবলম্বন?

[Pictures on page 16]

যখন সঠিক প্রতিপালনের কাজ করা হয়, তখন অনেক বিচারসংক্রান্ত কেস এড়ানো যায়

[Pictures on page 18]

বিচারসংক্রান্ত শুনানির সময়েও, প্রাচীনরা চেষ্টা করবেন দোষীকে মৃদুতার আত্মায় চেতনায় ফিরিয়ে আনতে

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার