বিজ্ঞতার সাথে আপনার খ্রীষ্টীয় স্বাধীনতা ব্যবহার করুন
“স্বাধীন লোকদের ন্যায় হও, এবং তোমাদের স্বাধীনতা ধরিয়া রেখে . . . ঈশ্বরের দাস হও।”—১ পিতর ২:১৬, NW.
১. কি স্বাধীনতা আদম হারায়, আর কি স্বাধীনতায় যিহোবা মানবজাতিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবেন?
যখন আমাদের প্রথম পিতামাতা এদন উদ্যানে পাপ করে, তারা তাদের সন্তানদের জন্য এক অপূর্ব উত্তরাধিকারসূত্র হারায়—পাপ ও অবিশুদ্ধতা থেকে স্বাধীনতা। ফলস্বরূপ, আমরা সকলে মৃত্যু ও অবিশুদ্ধতার দাস হয়ে জন্ম গ্রহণ করি। আনন্দের সাথে, যদিও, যিহোবা উদ্দেশ্য স্থাপন করেন বিশ্বস্ত মানবকে আবার সেই অপূর্ব স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিতে। আজ, সঠিক হৃদয়ধারী ব্যক্তিরা অধীর আগ্রহে “ঈশ্বরের পুত্রগণের প্রকাশপ্রাপ্তির অপেক্ষা,” করে যার ফলস্বরূপ তারা “ক্ষয়ের দাসত্ব হইতে মুক্ত হইয়া ঈশ্বরের সন্তানগণের প্রতাপের স্বাধীনতা পাইবে।”—রোমীয় ৮:১৯-২১.
‘প্রচার করার জন্য মনোনীত’
২, ৩. (ক) “ঈশ্বরের সন্তানগন” কারা? (খ) কি উত্তম সম্বন্ধ তারা উপভোগ করে, আর তা কি দায়িত্ব নিয়ে আসে?
২ এই “ঈশ্বরের সন্তানগণ” কারা? এরা হলেন যীশুর আত্মায়-অভিষিক্ত ভ্রাতারা যারা তাঁর সাথে তাঁর রাজ্যে শাসক হবেন। এদের প্রথম আবির্ভাব হয় সাধারণ শতাব্দীর প্রথম শতাব্দীতে। যীশু যে স্বাধীনতা দানকারী সত্য শেখান তা গ্রহণ করে, এবং পঞ্চাশত্তমীর দিনে ৩৩ সা.শ., তারা সেই অপূর্ব সুযোগ গ্রহণ করেন যে সম্বন্ধে পিতর বলেন যখন তিনি তাদের লেখেন: “তোমরা ‘মনোনীত বংশ, রাজকীয় যাজকবর্গ, পবিত্র জাতি, [ঈশ্বরের] নিজস্ব প্রজাবৃন্দ।’”—১ পিতর ২:৯ক; (NW) যোহন ৮:৩২.
৩ ঈশ্বরের নিজস্ব প্রজাবৃন্দ হওয়া—কি অপূর্ব এক আশির্বাদ! আর আজ বর্তমান-দিনের ঈশ্বরের মনোনীত সন্তানদের অবশিষ্টাংশরা ঈশ্বরের সাথে একই আশির্বাদ যুক্ত সম্বন্ধ উপভোগ করে। কিন্তু এইরূপ উচ্চ সুযোগের সাথে আসে দায়িত্ব। পিতর এইরূপ একটি দায়িত্বের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করান যখন তিনি বলেন: “‘যেন তাহারই গুণকীর্ত্তণ কর’ যিনি তোমাদিগকে অন্ধকার হইতে আপনার আশ্চর্য্য জ্যোতির মধ্যে আহ্বান করিয়াছেন।”—১ পিতর ২:৯খ.
৪. মনোনীত খ্রীষ্টানরা তাদের খ্রীষ্টীয় স্বাধীনতার সাথে যে দায়িত্ব আসে তা কিভাবে পূর্ণ করেছে?
৪ মনোনীত খ্রীষ্টানরা কি তাদের এই দায়িত্ব ঈশ্বরের গুণকীর্তণ প্রচার কারার দায়িত্ব তা পূর্ণ করেছে? হ্যাঁ। ভাববাণীমূলক ভাবে মনোনীতদের সম্বন্ধে বলার সময় ১৯১৯ সাল থেকে, যিশাইয় বলেন: “প্রভু যিহোবার আত্মা আমাতে আধিষ্ঠান করেন, কেননা নম্রগণের কাছে সুসমাচার প্রচার করিতে যিহোবা আমাকে অভিষেক করিয়াছেন; তিনি আমাকে প্রেরণ করিয়াছেন, যেন আমি ভগ্নান্তঃকরণ লোকদের ক্ষত বাঁধিয়া দিই; যেন বন্দি লোকদের কাছে মুক্তি, ও কারাবদ্ধ লোকদের কাছে কারামোচন প্রচার করি; যেন যিহোবার প্রসন্নতার বৎসর ও আমাদের ঈশ্বরের প্রতিশোধের দিন ঘোষণা করি।” (যিশাইয় ৬১:১, ২) আজ, মনোনীত অবশিষ্টাংশরা, যীশুর উদাহরণ অনুকরণ করে, যাদের প্রতি এই শাস্ত্রীয় বচন বিশেষ করে প্রযোজ্য, এবং উৎসাহের সাথে অন্যদের কাছে স্বাধীনতার এই সুসমাচার প্রচার করে।—মথি ৪:২৩-২৫; লূক ৪:১৪-২১.
৫, ৬. (ক) মনোনীত খ্রীষ্টানদের উদ্যোগপূর্ণ প্রচারের ফল কি হয়েছে? (খ) যারা বিরাট জনতার তারা কি সুযোগ দায়িত্ব সকল উপভোগ করে?
৫ তাদের উৎসাহপূর্ণ প্রচারের ফলস্বরূপ, এই শেষের দিনে বিরাট জনতার অপরমেষদের আজ বিশ্বব্যাপী দেখা যাচ্ছে। তারা জতিগণের মধ্যে থেকে বেরিয়ে এসে যিহোবাকে উপাসনা করার জন্য মনোনীতদের সাথে যোগ দিয়েছে, আর সত্য এদেরও স্বাধীন করেছে। (সখরিয় ৮:২৩; যোহন ১০:১৬) অব্রাহামের মত তাদের ধার্ম্মিক ঘোষণা করা হয়েছে তাদের বিশ্বাসের জন্য এবং তারা যিহোবার সাথে এক নিকট সম্বন্ধে এসেছে। আর রাহবের মত ধার্ম্মিক গণিত হওয়ার দরুণ তা তাদের রক্ষার যোগ্য করে—তাদের ক্ষেত্রে, আরমাগেদনে রক্ষা পাওয়া। (যাকোব ২:২৩-২৫; প্রকাশিত বাক্য ১৬:১৪, ১৬) কিন্তু এইরূপ উচ্চ সুযোগ তাদের উপরে দায়িত্ব আনে অন্যদের ঈশ্বরের মহিমা সম্বন্ধে বলার জন্য। সেই কারণে যোহন দেখেন তাদের জনসাধারণে যিহোবাকে প্রসংশা করতে, “তাহারা উচ্চ রবে চীৎকার করিয়া কহিতেছে: ‘পরিত্রাণ আমাদের ঈশ্বরের, যিনি সিংহাসনে বসিয়া আছেন, এবং মেষাশাবকের দান।’”—প্রকাশিত বাক্য ৭:৯, ১০, ১৪.
৬ গত বৎসর বিরাট জনতা, যাদের সংখ্যা এখন প্রায় চল্লিশ লক্ষের উর্দ্ধে, ক্ষুদ্র মনোনীত অবশিষ্টাংশ খ্রীষ্টানদের সাথে একসাথে প্রায় এক শতকোটি ঘন্টা ব্যয় করে যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করার কাজে। ইহা তাদের আত্মিক স্বাধীনতা ব্যবহার করার সব থেকে ভাল পথ ছিল।
“রাজাকে সমাদর কর”
৭, ৮. খ্রীষ্টীয় স্বাধীনতা জাগতিক কর্তৃপক্ষের প্রতি কি দায়িত্ব নিয়ে আসে, এবং এই ক্ষেত্রে, কি ভুল চিন্তাধারা আমাদের এড়িয়ে চলতে হবে?
৭ আমাদের খ্রীষ্টীয় স্বাধীনতা অন্য দায়িত্ব সকল নিয়ে আসে। পিতর কিছু বিষয় দৃষ্টি আরোপ করান যখন তিনি বলেন: “সকলকে সমাদর কর, ভ্রাতৃসমাজকে প্রেম কর, ঈশ্বরকে ভয় কর, রাজাকে সমাদর কর।” (১ পিতর ২:১৭) “রাজাকে সমাদর কর” এই উক্তি দ্বারা কি ইঙ্গিত করা হয়েছে?
৮ “রাজাকে” ইঙ্গিত করে জাগতিক শাসনকর্তাদের। আজ, জগতে কতৃত্বের বিরুদ্ধে এক অশ্রদ্ধার আত্মা গড়ে উঠেছে, আর ইহা সহজে খ্রীষ্টানদের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। একজন খ্রীষ্টান হয়ত চিন্তা করতে পারেন যে কেন তার “রাজাকে” সমাদর করার দরকার যেহেতু “সমস্ত জগৎ সেই পাপত্মার মধ্যে শুইয়া রহিয়াছে।” (১ যোহন ৫:১৯) এই কথাগুলির পরিপ্রেক্ষিতে, সে হয়ত যে আইনগুলি পালন করা কঠিন তা অমান্য করতে পারে এবং সেই কর না দিতে পারে যদি না দিলে চলে যায়। কিন্তু তা যীশু যে আজ্ঞা দিয়েছেন তার বিপরীত হবে “আর কৈসরের যাহা কৈসরকে দেও।” ইহা, কার্য্যতরূপে, ‘তার স্বাধীনতাকে দুষ্টতার আবরণ করা হবে।’—মথি ২২:২১; ১পিতর ২:১৬.
৯. কোন দুটি কি ভাল কারণ আছে যে কেন আমরা জাগতিক কর্তৃপক্ষের বাধ্য হব?
৯ খ্রীষ্টানদের দায়িত্ব হচ্ছে তারা যেন কর্তৃপক্ষকে সম্মান করে ও তার বাধ্য থাকে—এমন কি তা যদি আপেক্ষিক ভাবেও হয়। (প্রেরিত ৫:২৯) কেন? ১ পিতর ২:১৪, ১৫ পদে, পিতর তিনটি কারণ দেন যে কেন দেশাধ্যক্ষদের বশীভূত হওয়া দরকার “তাঁহারা দুরাচারদের প্রতিফল দিবার নিমিত্ত ও সদাচারদের প্রশংসার নিমিত্ত তাঁহার দ্বারা প্রেরিত।” যে দণ্ড তারা দিতে পারে তার ভয়ই কর্তৃপক্ষকে মান্য করে চলার জন্য যথেষ্ট। একজন যিহোবার সাক্ষীর জন্য ইহা কি লজ্জার কারণ হবে যদি তাকে জরিমানা দিতে হয় অথবা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় এই কারণে যে সে আক্রমণ করেছে, চুরি করেছে, অথবা অন্য কোন অপরাধে জড়িত আছে বলে! চিন্তা করুন কেহ কেহ এই বিষয় প্রচার করে কত আনন্দই না পাবে! অন্যদিকে যখন আমরা নাগরিক আইনের প্রতি বাধ্যতার খ্যাতি গড়ে তুলি, তখন আমরা পক্ষপাতহীন শাসকদের নিকট থেকে প্রশংসা পাই। আমরা হয়ত সুসমাচার প্রচার কাজের জন্য আরও স্বাধীনতা পাব। আরও, ‘সদাচরণ করে আমরা নির্ব্বোধ মনুষ্যদের অজ্ঞানতাকে নিরুত্তর করি।’ (১ পিতর ২:১৫খ) এটা হল দ্বিতীয় কারণ কেন আমারা কর্তৃপক্ষকে মেনে চলব।—রোমীয় ১৩:৩.
১০. জাগতিক কর্তৃপক্ষের বাধ্য হওয়ার সব থেকে জোরাল কারণ কি?
১০ কিন্তু এর থেকেও জোরাল কারণ আছে। কর্তৃপক্ষ সকল বিরাজ করছে যিহোবা অনুমতি দিয়েছেন বলে। যেমন পিতর বলেন, রাজনৈতিক শাসকরা যিহোবার “দ্বারা প্রেরিত” এবং ইহা “ঈশ্বরের ইচ্ছা” যে খ্রীষ্টানেরা তাহার বাধ্য হয়। (১ পিতর ২:১৫ক) একই ভাবে, প্রেরিত পৌল বলেন: “কারণ যে কর্ত্তৃপক্ষ সকল আছেন ঈশ্বর তাহাদের আপেক্ষিক স্থানে নিযুক্ত করেছেন।” সেইকারণে, আমাদের বাইবেল দ্বারা শিক্ষিত বিবেক আমাদের পরিচালিত করে কর্তৃপক্ষের বাধ্য হতে। যদি আমরা নিজেদের তার অধীনে রাখতে অস্মত হই, তাহলে আমরা “ঈশ্বরের ব্যবস্থার বিপক্ষে দাঁড়িয়েছি।” (রোমীয় ১৩:১, ২, ৫; NW) আমাদের মধ্যে কে স্বেছায় ঈশ্বরের ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে চাইবে? ইহা খ্রীষ্টীয় স্বাধীনতার কি অপব্যবহার না বোঝাবে!
‘ভ্রাতৃসমাজকে প্রম কর’
১১, ১২. (ক) আমাদের খ্রীষ্টীয় স্বাধীনতার সাথে আমাদের খ্রীষ্টীয় সহবিশ্বাসীদের প্রতি কি দায়িত্ব আসে? (খ) কারা বিশেষ করে আমাদের প্রেমময় চিন্তা পাওয়ার যোগ্য, এবং কেন?
১১ পিতর এও বলেন যে খ্রীষ্টানদের “সমস্ত ভ্রাতৃসমাজের জন্য প্রেম রাখা প্রয়োজন।” (১ পিতর ২:১৭, NW) ইহা আরও একটি দায়িত্ব যা আসে খ্রীষ্টীয় স্বাধীনতার সাথে। আমরা বেশীরভাগ সকলে মণ্ডলীর সদস্য। হ্যাঁ, আমরা সকলে আন্তর্জাতিক সঙ্ঘের, অথবা সংঘঠনের, ভ্রাতা। এর প্রতি আমাদের প্রেম প্রদর্শন করা হবে আমাদের স্বাধীনতার বিজ্ঞ ব্যবহার।—যোহন ১৫:১২, ১৩.
১২ প্রেরিত পৌল এক বিশেষ খ্রীষ্টানের দলকে আলাদা করেন যারা বিশেষ করে আমাদের প্রেমের যোগ্য। তিনি বলেন: “তোমরা তোমাদের নেতাদিগের আজ্ঞাগ্রাহী ও বশীভূত হও, কারণ নিকাশ দিতে হইবে বলিয়া তাঁহারা তোমাদের প্রাণের নিমিত্ত প্রহরি-কার্য্য করিতেছেন; যেন তাঁহারা আনন্দপূর্ব্বক সেই কার্য্য করেন, আর্ত্তস্বরপূর্ব্বক না করেন; কেননা ইহা তোমাদের পক্ষে মঙ্গলজনক নয়।” (ইব্রীয় ১৩:১৭) মণ্ডলীতে প্রাচীনরা নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন। সত্য, যে এই ব্যক্তিরা সিদ্ধ নয়। যাহাহোক, কিন্তু তাদের মনোনীত করা হয়েছে গর্ভানিং বডির তত্ত্বাবধানে। তারা নেতৃত্ব দেন তাদের উদাহরণের মাধ্যমে এবং সহানুভূতিপূর্ণ বিবেচনা দেখিয়ে, এবং তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যাতে তারা আমাদের প্রাণের উপর দৃষ্টি রাখেন। কি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব! (ইব্রীয় ১৩:১৭) আনন্দের বিষয়, বেশীরভাগ মণ্ডলীতে উত্তম, সহযোগিতাপূর্ণ আত্মা আছে, এবং তাদের সাথে কাজ করতে প্রাচীনদের আনন্দ হয়। ইহা আরও কঠিন হয় যখন ব্যক্তিগতভাবে কেউ সহযোগিতা করতে সম্মত হয় না। প্রাচীন তবুও তার কাজ করে যান, কিন্তু পৌল বলেন যে, তিনি তা “আর্ত্তস্বরপূর্ব্বক” করেন। অবশ্যই আমরা চাই না যে প্রাচীনরা তাদের কাজ আর্ত্তস্বরপূর্ব্বক করুক! আমরা চাই যে তারা যেন তাদের কাজে আনন্দ পায় যাতে তারা আমাদের গড়ে তুলতে পারে।
১৩. কতগুলি কি উপায়ে আমরা প্রাচীনদের সাথে সহযোগিতা করতে পারি?
১৩ কতগুলি কি পথে আমরা প্রাচীনদের সাথে সহযোগিতা করতে পারি? একটি হল কিংডম হল পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারে সাহায্য করে। আরও একটি উপায় হল যারা অসুস্থ ও শারীরিক দিক দিয়ে অপারক তাদের সাহায্য করায় সহযোগিতা করে। আরও, আমরা আত্মিক দিক দিয়ে সবল থাকতে পারি যেন তাদের উপর ভারস্বরূপ না হই। একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সহযোগিতার হল যেন আমরা মণ্ডলীর আত্মিক ও নৈতিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখি, আমাদের নিজেদের আচারব্যবহারের দ্বারা এবং সেই গুরুতর পাপগুলি রির্পোট করার দ্বারা যা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়।
১৪. প্রাচীনরা যে শাসন করে থাকেন তার সাথে আমরা কি ভাবে সহযোগিতা করতে পারি?
১৪ কখনও, কখনও, যাতে মণ্ডলীকে পরিষ্কার রাখা যায়, প্রাচীনদের হয়ত একজন অপরিবর্ত্তিত পাপীকে সমাজচ্যুত করতে হতে পারে। (১ করিন্থীয় ৫:১-৫) ইহা মণ্ডলীকে রক্ষা করে। তা হয়ত দোষিকেও সাহায্য করতে পারে। প্রায়ই, এইরূপ শাসন একজন পাপীকে চেতনায় ফিরিয়ে আনে। কিন্তু, কি হয়, যদি যাকে সমাজচ্যুত করা হয়েছে সে একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু অথবা একজন আত্মিয় হন? ধরুন যদি সেই ব্যক্তি আমাদের পিতা কি মাতা অথবা পুত্র বা কন্যা হয়। তাহলে প্রাচীনরা যে পদক্ষেপ নিয়েছেন আমরা কি তার সম্মান করব? সত্য, যে তা হয়ত কঠিন হতে পারে। কিন্তু তা আত্মিক স্বাধীনতার কি অপব্যবহার না বোঝাবে প্রাচীনদের সেই নির্নয়কে প্রশ্ন করা এবং আত্মিকভাবে সেই ব্যক্তির সাথে মেলামেশা করা যে মণ্ডলীকে কলুষিত করার প্রভাব প্রমানিত হয়েছে! (২ যোহন ১০, ১১) সম্মিলিত ভাবে যিহোবার লোকদের এই বিষয় প্রশংসা করা যেতে পারে কারণ যেভাবে তারা এই বিষয়গুলিতে সহযোগিতা করে তার জন্য। এর ফলস্বরপ, যিহোবার সংগঠন এই কলূষিত জগতে বিশুদ্ধ থাকে।—যাকোব ১:২৭.
১৫. একজন ব্যক্তি যদি গুরুতর পাপ করে তবে তার সঙ্গে সঙ্গে কি করা উচিত?
১৫ কিন্তু আমরা যদি কোন গুরুতর পাপ করে ফেলি তাহলে কী? রাজা দায়ূদ তাদের বিষয় বর্ণনা করেন যাদের যিহোবা অনুগ্রহ করেন যখন তিনি বলেন: “কে যিহোবার পর্ব্বতে উঠিবে? কে তাঁহার পবিত্র স্থানে দন্ডায়মান হইবে? যাহার অঞ্জলি নির্দ্দোষ ও অন্তঃকরণ বিমল, যে অলীকতার দিকে প্রাণ উত্তোলন করে নাই, ছলভাবে শপথ করে নাই।” (গীতসংহিতা ২৪:৩, ৪, NW) যদি কোন কারণের জন্য আমাদের আর ‘অঞ্জলি নির্দ্দোষ ও অন্তঃকরণ বিমল,’ না থাকে তাহলে আমাদের তাড়াতাড়ি এই বিষয় কাজ করতে হবে। কারণ আমাদের অনন্তজীবন বিপন্ন।
১৬, ১৭. কেন যে ব্যক্তি গুরুতর পাপ করেছে সে নিজে নিজে তা সমাধান করার চেষ্টা করবে না?
১৬ অনেকে হয়ত গুরুতর পাপ গোপন রাখার ফাঁদে পড়েছে, হয়ত এই ভেবে: ‘আমি যিহোবার কাছে তা স্বীকার করেছি এবং পশ্চাতাপ করেছি। তাই আবার প্রাচীনদের এর ভেতর জড়াব কেন?’ দোষীব্যক্তি হয়ত এই বিষয় লজ্জা বোধ করতে পারে বা ভয় পেতে পারে যে প্রাচীনরা কি করবেন। তার কিন্তু এই বিষয় স্মরণে রাখা দরকার যে যদিও যিহোবা একাই কেবল আমাদের পাপ থেকে ধৌত করতে পারেন, তিনি বিশেষ করে মণ্ডলীকে বিশুদ্ধ রাখার দায়িত্ব প্রাচীনদের দিয়েছেন। (গীতসংহিতা ৫১:২) তারা আরোগ্য লাভের জন্য আছেন, যাতে “পবিত্রগণকে পরিপক্ক” করা যেতে পারে। (ইফিষীয় ৪:১২) যখন আমাদের আত্মিক সাহায্যের প্রয়োজন তখন তাদের কাছে না যাওয়া হল যখন আমরা দৈহিকভাবে অসুস্থ তখন ডাক্তারের কাছে না যাওয়ার সমতুল্য।
১৭ অনেকে যারা নিজেরা ব্যাপারটি সমাধান করার চেষ্টা করেছেন লক্ষ্য করেন, যে অনেক মাস ও বৎসর পরও তা তাদের বিবেককে দারুনভাবে কষ্ট দেয়। আরও খারাপ, যারা গুরুতর পাপ গোপন করেন তারা পাপে দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার আবার পতিত হন। যখন বিষয়টি শেষে প্রাচীনদের দৃষ্টিগোচর হয়, তা হয় পুর্নবার একই পাপ করার ঘটনা। তাই কত ভাল যাকোবের উপদেশ মান্য করা! তিনি লেখেন: “তোমাদের মধ্যে কেহ কি রোগগ্রস্ত? সে মণ্ডলীর প্রাচীনবর্গকে আহ্বান করুক; এবং তাহারা প্রভুর নামে তাহাকে তৈলাভিষিক্ত করিয়া তাহার উপরে প্রার্থনা করুন।” (যাকোব ৫:১৪) আরোগ্য হবার সময় থাকতে থাকতে প্রাচীনদের নিকটে যান। যদি আমরা বেশী সময় অপেক্ষা করি, তাহলে হয়ত আমরা পাপের পথে শক্তগ্রীব হয়ে পড়ব।—উপদেশক ৩:৩; যিশাইয় ৩২:১, ২.
দৃষ্টিগোচরতা এবং পুনঃসৃষ্টি
১৮, ১৯. কেন একজন পাদ্রী যিহোবার সাক্ষীদের সম্বন্ধে সন্তোষজনক মন্তব্য করেন?
১৮ পাঁচ বৎসর আগে এক গির্জ্জার পত্রিকায়, একজন ক্যাথলিক পাদ্রী খুব উষ্ণভাবে যিহোবার সাক্ষীদের সম্বন্ধে মন্তব্য করেন।a তিনি বলেন: “ব্যক্তিগতভাবে, আমি যিহোবার সাক্ষীদের ভালবাসি; আর আমি তা অবাধে স্বীকার করি। . . . যাদের আমি জানি তারা সকলে নিখুঁত স্বভাবধারী, মৃদুভাষী . . . [এবং] দারুন বিশ্বাস উৎপাদনের ক্ষমতাসম্পন্ন। কখন আমরা বুঝব যে সত্যের প্রয়োজন হল এক গ্রহনযোগ্য উপস্থাপনার? যে যারা এই সত্য ঘোষণা করছে তাদের অর্দ্ধমনা, অপরিচ্ছন্ন, অবিন্যস্ত, এলোমেলো হলে চলবে না?
১৯ এই কথাগুলি অনুযায়ী, অন্য বিষয়গুলির মধ্যে, সেই পাদ্রী প্রভাবিত হন, যেভাবে সাক্ষীরা বেশভূষা পরিধান করে এবং নিজেদের উপস্থাপনা করে তার মাধ্যমে। অবশ্যই, যাদের সাথে তার সাক্ষাত হয় তারা “বিশ্বস্ত বুদ্ধিমান দাসের দ্বারা” বিগত বৎসরগুলিতে পরামর্শ পেয়ে আসছেন। (মথি ২৪:৪৫) বাইবেল আমাদের বলে যে নারীদের বেশভূষা যেন ‘সলজ্জ ও পরিপাটী হয়।’ (১ তীমথিয় ২:৯) এই অধঃপতিত সময়ে, এই উপদেশ পুরুষদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ইহা কি স্বাভাবিক নয় যে ঈশ্বরের রাজ্যের প্রচারকেরা নিজেদের বাইরের লোকদের কাছে পরিপাটীভাবে পেশ করবে?
২০. কেন একজন খ্রীষ্টানকে তার বেশভূষা সম্বন্ধে সব সময় সচেতন থাকতে হবে?
২০ অনেকে হয়ত স্বীকার করেন যে সভায় এবং ক্ষেত্রের প্রচারে, তাদের সর্তক হতে হবে যে তারা কিভাবে বেশভূষা পরে, কিন্তু তারা হয়ত মনে করতে পারে যে অন্য সময় বাইবেলের নীতি প্রযোজ্য নয়। আমরা কি, যদিও, কখন ঈশ্বরের রাজ্যের প্রতিনিধি হওয়া থেকে বিরত থাকতে পারি? সত্য, যে পরিবেশের পরিবর্তন হয়। যদি আমরা কিংডম হল তৈয়ারির কাজে সাহায্য করছি, তখন আমাদের বেশভূষা নিশ্চয় যখন আমরা একই সেই হলে সভায় যাই তার থেকে আলাদা হবে। যখন আমরা অবসর সময় থাকি, তখন আমাদের বেশভূষাও আরও আলগা হবে। কিন্তু যখনই অন্যরা আমাদের দেখুক, আমাদের বেশভূষা যেন সলজ্জ ও পরিপাটী হয়।
২১, ২২. কি ভাবে আমাদের ক্ষতিকারক চিত্তবিনোদন থেকে রক্ষা করা হয়েছে, এবং এই বিষয় যে পরামর্শ দেওয়া হয় তা আমরা কিরূপে দেখব?
২১ আরও একটি ক্ষেত্র যা অনেক দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে তা হল আমোদ প্রমোদ। মানুষেরা—বিশেষ করে যারা অল্প বয়স্ক—তাদের আমোদ প্রমোদের প্রয়োজন। পরিবারের চিত্তবিনোদনের জন্য সময় ঠিক করা কোন পাপ অথবা সময়ের অপব্যবহার নয়। এমনকি যীশুও তার শিষ্যদের আমন্ত্রন করেন “তোমরা কিছু কাল বিশ্রাম কর।” (মার্ক ৬:৩১) কিন্তু সতর্ক থাকুন যেন চিত্তবিনোদন আত্মিক দূষণের দরজা না খুলে দেয়। আমরা এমন জগতে বাস করি যেখানে চিত্তবিনোদন তুলে ধরে যৌন অনৈতিকতা, লজ্জাকর হিংস্রতা, আতঙ্ক, এবং প্রেততত্বকে। (২ তীমথিয় ৩:৩; প্রকাশিত বাক্য ২২:১৫) বিশ্বস্ত এবং বুদ্ধিমান দাস এই বিষয়গুলি সম্বন্ধে সচেতন এবং আমাদের নিয়ত তার বিরুদ্ধে সাবধান করে যাচ্ছে। আপনি কি মনে করেন যে এই নিয়ত স্মরণ করিয়ে দেওয়া আপনার স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ? অথবা আপনি কৃতজ্ঞ যে যিহোবার সংগঠন আপনার সম্বন্ধে যথেষ্ট যত্ন নেয় আর আপনার দৃষ্টি নিয়ত তার প্রতি আকর্ষণ করেছে?—গীতসংহিতা ১৯:৭; ১১৯:৯৫.
২২ কখন ভুলে যাবেন না যে যদিও আমাদের স্বাধীনতা যিহোবার নিকট থেকে আসে, আমারা কি ভাবে তা ব্যবহার করি তার দায়িত্ব আমাদের। আমরা যদি ভাল উপদেশকে অবজ্ঞা করি এবং ভুল নির্নয় গ্রহণ করি, আমরা অন্য কাউকে তার জন্য দোষ দিতে পারি না। প্রেরিত পৌল বলেন: “আমাদের প্রত্যক জনকে ঈশ্বরের কাছে আপন আপন নিকাশ দিতে হইবে।”—রোমীয় ১৪:১২; ইব্রীয় ৪:১৩.
ঈশ্বরের সন্তানগণের স্বাধীনতার অপেক্ষায় থাকুন
২৩. (ক) স্বাধীনতার সাথে যুক্ত কি আশীর্বাদ আমরা এখন উপভোগ করি? (খ) কি আশীর্বাদের জন্য আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি?
২৩ আমরা সত্যই আশীর্বাদ যুক্ত লোক। আমরা মিথ্যা ধর্ম্ম ও রীতিনীতি থেকে মুক্ত। মুক্তির মূল্যরূপ বলিদানকে ধন্যবাদ, আমরা এখন যিহোবার নিকটে পরিষ্কৃত বিবেকে অভিগমন করতে পারি, আত্মিকভাবে পাপ ও মৃত্যুর দাসত্ব থেকে মুক্ত থেকে। আর শীঘ্রই আসবে “ঈশ্বরের পুত্রগণের প্রকাশপ্রাপ্তি।” আরমাগেদনে, যীশুর ভাইরা তাদের আত্মিক গৌরবে প্রকাশিত হবেন মনুষ্যদের কাছে যিহোবার শত্রুদের ধ্বংসকারী হিসাবে। (রোমীয় ৮:১৯; ২ থিষলনীকীয় ১:৬-৮; প্রকাশিত বাক্য ২:২৬, ২৭) তারপর, ঈশ্বরের এই পুত্রেরা আশীর্বাদের মাধ্যমরূপে প্রকাশিত হবে যা ঈশ্বরের সিংহাসন থেকে মানবজাতির জন্য প্রবাহিত হবে। (প্রকাশিত বাক্য ২২:১-৫) অবশেষে, এই ঈশ্বরের পুত্রদের প্রকাশপ্রাপ্তির ফলস্বরূপ আশীর্বাদ আসবে বিশ্বস্ত মানবজাতির জন্য যার সাথে থাকবে ঈশ্বরের সন্তানগণের প্রতাপের স্বধীনতা। আপনি কি সেই দিনের অপেক্ষা করেন? তাহলে আপনার খ্রীষ্টীয় স্বাধীনতাকে বিজ্ঞতার সাথে ব্যবহার করুন। এখন ঈশ্বরের দাসত্ব করুন, এবং আপনি সেই অপূর্ব স্বাধীনতা অনন্তকালের জন্য ভোগ করবেন! (w92 6/1)
[পাদটীকাগুলো]
a সেই পাদ্রী পরে তার প্রসংশা ফিরিয়ে নেন, সম্ভবত চাপের জন্য।
পুনরালোচনার বাক্স
▫ কি করে মনোনীত এবং অপর মেষরা যিহোবাকে গৌরব দিয়েছে?
▫ খ্রীষ্টানদের কেন জাগতিক কর্তৃপক্ষকে সম্মান দেওয়া দরকার?
▫ কি কি উপায়ে একজন খ্রীষ্টান প্রাচীনদের সাথে সহযোগিতা করতে পারে?
▫ বেশভূষার ক্ষেত্রে কেন যিহোবার সাক্ষীরা জগতের অনেকের থেকে আলাদা?
▫ যখন চিত্তবিনোদোনের বিষয় আসে তখন আমাদের কি এড়িয়ে চলা দরকার?
[Pictures on page 10]
প্রাচীনরা বিশেষ করে আমাদের প্রেম ও সহযোগিতার যোগ্য
[Pictures on page 11]
একজন খ্রীষ্টানের বেশভূষা পরিপাটি, সলজ্জ, এবং উপলক্ষের জন্য সঠিক হওয়া প্রয়োজন