ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯২ ৭/১ পৃষ্ঠা ১৩-১৮
  • ঈশ্বরের নতুন জগত স্বাধীনতাকে আহ্বান করা

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • ঈশ্বরের নতুন জগত স্বাধীনতাকে আহ্বান করা
  • ১৯৯২ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • তাঁর লোকদের মুক্ত করা
  • ঈশ্বরের নতুন জগতে সত্য স্বাধীনতা
  • জীবনের জন্য বিশ্বব্যাপী এক শিক্ষা
  • এখনি বিরাট স্বাধীনতা
  • অন্যদের মিথ্যা বিশ্বাস থেকে মুক্ত করা
  • যিহোবার খোঁজ করুন
  • ঈশ্বরের রাজ্য যে কাজগুলো করবে
    ২০০০ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • অপূর্ব নতুন জগত যা ঈশ্বর তৈরি করবেন
    ঈশ্বর কি প্রতই আমাদের জন্য চিন্তা করেন?
  • এক স্বাধীন কিন্তু উত্তরদায়ী লোকসমূহ
    ১৯৯২ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • মনুষ্যের “নতুন জগত ব্যবস্থা” কি নিকটে?
    ১৯৯২ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
আরও দেখুন
১৯৯২ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯২ ৭/১ পৃষ্ঠা ১৩-১৮

ঈশ্বরের নতুন জগত স্বাধীনতাকে আহ্বান করা

“[ঈশ্বর] তাহাদের সমস্ত নেত্রজল মুছাইয়া দিবেন; এবং মৃতু আর হইবে না, শোক বা আর্ত্তনাদ বা ব্যাথাও আর হইবে না।”—প্রকাশিত বাক্য ২১:৪.

১, ২. কেবলমাত্র কে প্রকৃত স্বাধীনতা আনতে পারে, এবং বাইবেল থেকে তাঁর সম্বন্ধে আমরা কি শিখি?

ভাববাদী যিরমিয় যা বলেছিলেন তার সত্যতা ইতিহাস প্রমাণ করেছে: “মনুষ্যের পথ তাহার বশে নয়, মনুষ্য চলিতে চলিতে আপন পাদবিক্ষেপ স্থির করিতে পারে না।” কেবল কে মনুষ্যের পথ সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারে? যিরমিয় বলে চলেন: “হে যিহোবা, আমাকে শাসন কর।” (যিরমিয় ১০:২৩, ২৪; NW) হ্যাঁ, কেবল যিহোবাই প্রকৃত স্বাধীনতা নিয়ে আসতে পারেন সেই সমস্যাগুলি থেকে যা মানব পরিবারকে আক্রান্ত করে চলেছে।

২ বাইবেলে অনেক উদাহরণ আছে যিহোবার ক্ষমতা সম্বন্ধে যার দ্বারা তিনি স্বাধীনতা নিয়ে আসেন তাদের জন্য যারা তাঁকে সেবা করে। “কারণ পূর্ব্বকালে যাহা যাহা লিখিত হইয়াছিল, সে সকল আমাদের শিক্ষার নিমিত্তে লিখিত হইয়াছিল, যেন শাস্ত্রমূলক ধৈর্য্য ও সান্ত্বনা দ্বারা আমরা প্রত্যাশা প্রাপ্ত হই।” (রোমীয় ১৫:৪) মিথ্যা উপাসনার বিরুদ্ধে যিহোবার যে বিচারাজ্ঞাসকলও লিপিবদ্ধ করা হয়, আর এইসকল “আমাদেরই চেতনার জন্য লিখিত হইল; আমাদের, যাহাদের উপরে যুগকলাপের অন্ত আসিয়া পড়িয়াছে।”—১ করিন্থীয় ১০:১১.

তাঁর লোকদের মুক্ত করা

৩. যিহোবার যে ক্ষমতা আছে তাঁর লোকদের মুক্ত করার মিসরে তা তিনি কি ভাবে দেখান?

৩ ঈশ্বরের ক্ষমতার একটি উদাহরণ মিথ্যা উপাসনার বিরুদ্ধে বিচারাজ্ঞা নিয়ে আসার ও তাদের মুক্ত করার যারা তাঁকে ভালবাসে, ঘটে যখন তাঁর লোকেরা প্রাচীনকালে মিসরে দাসত্বে ছিল। যাত্রাপুস্তক ২:২৩-২৫ বলে: “দাস্যকর্ম্ম জন্য তাহাদের আর্ত্তনাদ ঈশ্বরের নিকটে উঠিল। আর ঈশ্বর তাহাদের আর্ত্তস্বর শুনিলেন।” মিসরীয়দের মিথ্যা দেবতাদের উপর তাঁর এক বিস্ময়কর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন করে, সেই জাতির উপর সর্বশক্তিমান ঈশ্বর দশটি মহামারী নিয়ে আসেন। প্রত্যেক মহামারীর পরিকল্পনা ছিল যেন মিসরীয় ঈশ্বরদের অবমাননা করা, যা প্রদর্শন করে যে তারা সব মিথ্যা এবং সেই মিসরীয়রা যারা তার পূজা করত তাদের রক্ষা করতে অক্ষম। এইভাবে ঈশ্বর তাঁর লোকদের মুক্ত করেন এবং ফরৌণ ও তার সৈন্যবাহিনীকে ধ্বংস করেন লোহিত সমুদ্রে।—যাত্রাপুস্তক, ৭ থেকে ১৪ অধ্যায়।

৪. ঈশ্বর কনানীয়দের বিপক্ষে যে বিচারাজ্ঞা নিয়ে আসেন তা কেন কোন অবিচার ছিল না?

৪ যখন ঈশ্বর ইস্রায়েলীয়দের কনানে নিয়ে আসেন, সেখানকার পিশাচ-উপাসনাকারী অধিবাসীদের ধ্বংস করেন আর সেই দেশকে নিয়ে ঈশ্বরের লোকদের দেন। বিশ্বের সার্ব্বভৌম কর্ত্তা হিসাবে যিহোবার অধিকার রয়েছে তাঁর বিচারাজ্ঞা হীনমূল্য ধর্ম্মগুলির বিরুদ্ধে কার্যকর করার। (আদিপুস্তক ১৫:১৬) আর কনানীয় ধর্ম্ম সম্বন্ধে, হেলিস বাইবেল হ্যাণ্ডবুক বলে: “কনানীয় দেবতাদের উপাসনায় . . . যুক্ত ছিল অধিক অসংযত উচ্ছৃঙ্খল উৎসব; তাদের মন্দিরগুলি অনৈতিকতার কেন্দ্র ছিল . . . ধর্ম্মীয় অনুষ্ঠানের অংশ হিসাবে, চরিত্রহীনতায় লিপ্ত হয়ে তাদের দেবতাদের সাক্ষাতে কনানীয়রা উপাসনা করত; আর তারপর, তাদের প্রথমজাত সন্তানদের হত্যা করত, উৎসর্গ হিসাবে এই একই দেবতাদের কাছে। এইরূপ মনে হয় যে, বৃহৎ আকারে, কনান দেশ সদম এবং ঘমোরার রূপ ধারন করে জাতিয় পর্য্যায়।” তিনি যোগ করেন: “এইরূপ এক জঘন্য নোংরা এবং বর্বর সভ্যতার কি আরও অধিক অস্তিত্বে থাকার অধিকার আছে? . . . যে প্রত্নতত্ত্ববিদরা কনানের ধ্বংসস্তূপ খনন করেন তারা চিন্তা করেন যে কেন ঈশ্বর তাদের যে সময় ধ্বংস করেন তার আগে করেননি।”

৫. ঈশ্বর তার লোকদের প্রাচীনকালে যেভাবে মুক্ত করেন কেন তা আমাদের জন্য এক নমুনাস্বরূপ?

৫ মিথ্যা উপাসনার বিরুদ্ধে ঈশ্বরের কাজ করার এই বিবরণ, তাঁর চুক্তিবদ্ধ লোকদের মুক্ত করা, এবং তাদের জন্য এক প্রতিজ্ঞাত দেশ দেওয়া আমাদের জন্য এক নমুনাস্বরূপ সেই বিষয়ের যা আসতে চলেছে। ইহা সেই নিকট ভবিষ্যতের দিকে ইঙ্গিত করে যখন ঈশ্বর এই জগতের মিথ্যা ধর্ম্ম ও তার সমর্থকদের ধ্বংস করবেন এবং তাঁর নব্য-দিনের সেবকদের ধার্ম্মিকতার নতুন জগতে নিয়ে যাবেন।—প্রকাশিত বাক্য ৭:৯, ১০, ১৩, ১৪; ২ পিতর ৩:১০-১৩.

ঈশ্বরের নতুন জগতে সত্য স্বাধীনতা

৬. ঈশ্বর তাঁর নতুন জগতে কতগুলি কি অপূর্ব স্বাধীনতা প্রদান করবেন?

৬ নতুন জগতে, ঈশ্বর তাঁর লোকদের আশীর্বাদ করবেন স্বাধীনতার সমস্ত অপূর্ব ভিন্ন দিকগুলির মাধ্যমে যা তিনি মানব পরিবারের জন্য উদ্দেশ্য করেছেন। রাজনৈতিক, আর্থিক, এবং মিথ্যা ধর্ম্মীয় যে উপাদানগুলি আছে এই সব অত্যাচার থেকে আসবে স্বাধীনতা। পাপ ও মৃত্যু থেকেও স্বাধীনতা থাকবে, আর লোকের কাছে থাকবে পৃথিবীতে অনন্তকাল বেঁচে থাকার সম্ভাবনা। “ধার্ম্মিকেরা দেশের অধিকারী হইবে, তাহারা নিয়ত তথায় বাস করিবে।”—গীতসংহিতা ৩৭:২৯; মথি ৫:৫.

৭, ৮. নতুন জগতে সিদ্ধ স্বাস্থ্য ফিরে পাওয়া সম্বন্ধে কি অভিজ্ঞতা করা হবে?

৭ সেই নতুন জগত পরিস্থিতি আসার কিছু পরেই, সেখানকার অধিবাসীদের আশ্চর্য্যজনক ভাবে সিদ্ধ সাস্থ্যের পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে। ইয়োব ৩৩:২৫ বলে: “তাহার মাংস বালকের অপেক্ষা সতেজ হইবে, সে যৌবনকাল ফিরিয়া পাইবে।” যিশাইয় ৩৫:৫, ৬ প্রতিজ্ঞা করে: “তৎকালে অন্ধদের চক্ষু খোলা যাইবে, আর বধিরদের কর্ণ মুক্ত হইবে। তৎকালে খঞ্জ হরিণের ন্যায় লম্ফ দিবে, ও গোঙ্গাদের জিহ্বা আনন্দগান করিবে।”

৮ আপনারা যারা দৈহিক অসুস্থ্যতায় ভুগছেন হয়ত বার্ধক্যের জন্য অথবা খারাপ স্বাস্থ্যের জন্য, চিন্তা করুন নতুন জগতে প্রত্যেকদিন সকালে যখন উঠবেন নিজেকে স্বাস্থ্যবান এবং কর্মশক্তি সম্পন্ন পাবেন। আপনার ত্বকে যে ভাঁজ পড়েছে তা মসৃণ, এবং স্বাস্থ্যকর ত্বকে পরিণত হবে—আপনার আর ত্বকে ব্যবহারের জন্য স্কিন্‌ লোশানের প্রয়োজন হবে না। আপনার চোখ যার দৃষ্টিশক্তি হয়ত কমে গেছে অথবা অন্ধ হয়েছে তাকে আবার পূর্ণ দৃষ্টিশক্তিতে পুনঃস্থাপন করা হবে—চশমার আর দরকার হবে না। শ্রবণ শক্তিকে পূর্ণমাত্রায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে—তাই বধিরদের জন্য বৈদ্যুতিক ধ্বনি প্রসারক যন্ত্রকে ফেলে দিন। পঙ্গু হয়ে গিয়েছিল যে প্রতঙ্গগুলি তা আবার সবল ও পূর্ণ হয়েছে—তাই ছড়িসকল, খঞ্জের যষ্ঠি, এবং হুইলচেয়ার, সব সরিয়ে ফেলা হোক। রোগব্যাধি আর নেই—সব ঔষধপত্র ফেলে দিন। সেইকারণে, যিশাইয় ৩৩:২৪ ভবিষ্যদ্বাণী করে: “নগরবাসী কেহ বলিবে না: ‘আমি পীড়িত।’” তিনি এও বলেন: “তাহারা আমোদে ও আনন্দ প্রাপ্ত হইবে, এবং খেদ ও আর্ত্তস্বর দূরে পলায়ন করিবে।”—যিশাইয় ৩৫:১০.

৯. কি করে যুদ্ধকে সর্বকালের জন্য শেষ করে দেওয়া হবে?

৯ আর কাউকে যুদ্ধের জন্য উৎসর্গ করা হবে না। “[ঈশ্বর] পৃথিবীর প্রান্ত পর্য্যন্ত যুদ্ধ নিবৃত্ত করেন; তিনি ধনু ভগ্ন করেন, বড়শা খণ্ড খণ্ড করেন, তিনি রথ সকল আগুনে পোড়াইয়া দেন।” (গীতসংহিতা ৪৬:৯) যীশু খ্রীষ্ট যাকে যিশাইয় ৯:৬ পদ ডাকে, “শান্তিরাজ” বলে ঈশ্বরের রাজ্যের শাসক আর কখন কোন যুদ্ধের অস্ত্র অনুমোদন করবেন না। আর ৭ পদ যোগ করে: “তার রাজোচিত রাজত্বের এবং শান্তির কোন অন্ত হইবে না।” (NW).

১০, ১১. সমস্ত পৃথিবীর জন্য সম্পূর্ণ শান্তি কি বোঝাবে?

১০ যুদ্ধের অস্ত্রসকল থেকে মুক্ত থাকা, মানবজাতি এবং এই পৃথিবীর জন্য কি আশীর্বাদ না বুঝাবে! কেন, বর্ত্তমান সময়, যে অস্ত্র সকল বিগত যুদ্ধগুলিতে ব্যবহার করা হয়েছিল তা এখনও ব্যক্তিদের ধ্বংস করছে। ফ্রান্সে, ১৯৪৫ সাল থেকে প্রায় ৬০০-র অধিক বোমা-বিন্যাস করার বিশেষজ্ঞ মারা যান সেই সব বিস্ফোরক সরাতে গিয়ে যা আগের যুদ্ধ থেকে রয়ে গিয়েছে। সেখানকার বোমা-বিন্যাস সংস্থার প্রধান বলেন: “আমরা ১৮৭০-এ যে ফ্রেঙ্কো-প্রুসিয়ান্‌ যুদ্ধ হয়েছিল সেই সময় থেকে রাখা তাজা কামানের গোলা এখন পাই। সেই সব হ্রদ আছে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকে যেগুলি বিষজনিত ক্ষুদ্র বোমাবিশেষে পরিপূর্ণ। কখন কখন একজন কৃষক তার ট্র্যাক্‌টর্‌ কোন অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মাইনের উপর দিয়ে চালায় যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে রাখা আছে আর তা ফেটে সে মারা যায়। এই জিনিষগুলি সব জায়গায় আছে।” দুই বৎসর আগে নিউ ইয়র্ক টাইমস্‌ মন্তব্য করে: “দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ থেকে যে ৪৫ বৎসর অতিবাহিত হয়েছে, [বোমা-বিন্যাস ইউনিটগুলি] কেবল [ফরাশী] মাটি থেকে ১.৬ কোটি কামানের গোলা সরিয়েছে, ৪৯০,০০০ বোমা এবং ৬০০,০০০ জলের তলায় পাতা মাইন উদ্ধার করেছে . . . আরও লক্ষ লক্ষ একর বেড়া দিয়ে রাখা আছে, যা দারুন ভাবে অস্ত্রে পরিপূর্ণ আর তার চারিধারে পোস্টার লাগানো আছে যা সাবধান করে: ‘হাত দেবেন না। ইহা হত্যা করে!’”

১১ নতুন জগত এর থেকে কত আলাদাই না হবে! সকলের জন্য থাকবে থাকার ঘর, প্রচুর খাদ্য, এবং সমস্ত পৃথিবীকে এক পরমদেশে রূপান্তরিত করার পুরস্কারদায়ক, ও শান্তিপূর্ণ কাজ। (গীতসংহিতা ৭২:১৬; যিশাইয় ২৫:৬; ৬৫:১৭-২৫) আর কখন মানুষ অথবা এই পৃথিবীকে লক্ষ লক্ষ বিস্ফোরক দিয়ে দাগিয়া আক্রমণ করতে দেওয়া হবে না। এমনই এক নতুন জগতের কথা যীশুর মনে ছিল যখন তিনি সেই ব্যক্তিকে বলেন যে তার প্রতি বিশ্বাস দেখায়: “তুমি আমার সহিত পরমদেশে থাকিবে।”—লূক ২৩:৪৩; NW.

জীবনের জন্য বিশ্বব্যাপী এক শিক্ষা

১২, ১৩. যীশু ও যিশাইয় বিশ্বব্যাপী কি শিক্ষার কাজ আমাদের দিন সম্বন্ধে ভবিষ্যত্বাণী করে রেখেছিলেন?

১২ যখন একজন ব্যক্তি ঈশ্বরের নতুন জগত সম্বন্ধে শেখেন, তিনি এও শেখেন যে যিহোবা বিশ্বব্যাপী এক সংগঠন সংগঠিত করেছেন সত্য উপাসনার জন্য। যাহা হবে নতুন জগতের একটি মূল অংশ, এবং এখন ঈশ্বর তাহা ব্যবহার করছেন অন্যদের তাঁর উদ্দেশ্য সম্বন্ধে শিক্ষা দেবার কাজে। খ্রীষ্টীয় সংগঠন আজ বিশ্বব্যাপী এমন শিক্ষার কাজ সাধন করছে যার প্রকৃতি ও আকার এমন যা আগে কখন দেখা যায় নি। যীশু ভবিষ্যত্বাণী করেছিলেন এইরূপ হবে। তিনি বলেন: “আর সর্ব্ব জাতির কাছে সাক্ষ্য দিবার নিমিত্ত রাজ্যের এই সুসমাচার সমুদয় জগতে প্রচার করা যাইবে; আর তখন শেষ উপস্থিত হইবে।”—মথি ২৪:১৪; আরও দেখুন মথি ৬:৯, ১০.

১৩ যিশাইয় বিশ্বব্যাপী শিক্ষার এই কাজ সম্বন্ধেও বলেন: “শেষকালে এইরূপ ঘটিবে [আমাদের সময়] যিহোবার গৃহের পর্ব্বত পর্ব্বতগণের মস্তকরূপে [তাঁর বিজয়ী সত্য উপাসনা] স্থাপিত হইবে, . . . এবং সমস্ত জাতি তাহার দিকে স্রোতের ন্যায় প্রবাহিত হইবে। আর অনেক দেশের লোক যাইবে বলিবে: ‘চল আমরা যিহোবার পর্ব্বতে গিয়া উঠি . . . তিনি আমাদিগকে আপন পথের বিষয় শিক্ষা দিবেন, আর আমরা তাঁহার মার্গে গমন করিব।’”—যিশাইয় ২:২, ৩; NW.

১৪. আমরা কি করে ঈশ্বরের লোকদের আজ সনাক্ত করতে পারি?

১৪ সেইকারণে, বিশ্বব্যাপী যে সাক্ষ্যের কাজ হচ্ছে ঈশ্বরের রাজ্য সম্বন্ধে তাহা দৃঢ় প্রমাণ দেয় যে আমরা এই দুষ্ট জগত ব্যবস্থার শেষে আছি এবং প্রকৃত স্বাধীনতা সন্নিকট। যে ব্যক্তিরা ঈশ্বরের নতুন জগতের সংবাদ নিয়ে লোকেদের কাছে যাচ্ছেন তাদের প্রেরিত ১৫:১৪ পদে এইভাবে বর্ণনা করা হয়েছে “[ঈশ্বরের] নামের জন্য লোক” (NW)। কারা আজ যিহোবার নাম বহন করে এবং যিহোবা ও তার রাজ্য সম্বন্ধে বিশ্বব্যাপী সাক্ষ্য দেয়? বিংশ শতাব্দীর যে ঐতিহাসিক রেকর্ড তা উত্তর দেয়: কেবল যিহোবার সাক্ষীরা। বিশ্বব্যাপী প্রায় ৬৬,০০০ মণ্ডলীতে আজ তাদের সংখ্যা চল্লিশ লক্ষের অধিক।—যিশাইয় ৪৩:১০-১২; প্রেরিত ২:২১.

১৫. রাজনৈতিক ব্যাপারে, আমরা ঈশ্বরের সত্য সেবকদের কি ভাবে চিহ্নিত করতে পারি?

১৫ আরও একটি প্রমাণ যে যিহোবার সাক্ষীরা রাজ্যের-প্রচার সম্বন্ধে যে ভাববাণী করা ছিল তা পূর্ণ করছে তা চিহ্নিত করা আছে যিশাইয় ২:৪ পদে: “আর তাহারা আপন আপন খড়্গ ভাঙ্গিয়া লাঙ্গলের ফাল গড়িবে, ও তাহারা আপন বড়শা ভাঙ্গিয়া কাস্তা গড়িবে; এক জাতি অন্য জাতির বিপরীতে আর খড়্গ তুলিবে না, তাহারা আর যুদ্ধ শিখিবে না।” সেইজন্য যারা বিশ্বব্যাপী ঈশ্বরের রাজত্বের প্রচার কাজে অংশ নিচ্ছে তাদের উচিত ‘যুদ্ধ আর না শেখা।’ যীশু বলেন যে “তাহারা জগতের নয়।” (যোহন ১৭:১৬) এর অর্থ হচ্ছে তারা যেন জগতের রাজনৈতিক বিষয়ে নিরপেক্ষ থাকে, যুদ্ধে রত জাতিগুলির বিতর্কে কোন পক্ষ না নেয়। কারা এই জগতের কোন অংশ নয় এবং যুদ্ধ আর শেখে না? আবার বিংশ শতাব্দীর ঐতিহাসিক রেকর্ড সাক্ষ্য দেয়: কেবল যিহোবার সাক্ষীরা।

১৬. ঈশ্বরের বিশ্বব্যাপী শিক্ষার কাজ কত ব্যাপকভাবে হবে?

১৬ বিশ্বব্যাপী যিহোবার সাক্ষীদের যে শিক্ষামূলক কাজ তা অব্যাহত থাকবে ঈশ্বর এই বর্ত্তমান দুষ্ট জগত শেষ করে দেবার পরও। যিশাইয় ৫৪:১৩ পদ বলে: “আর তোমার সন্তানেরা সকলে যিহোবার কাছে শিক্ষা পাইবে।” (NW) এই শিক্ষার কাজ এত সর্বত্রব্যাপী হবে যে যিশাইয় ১১:৯ পদ ভাববাণী করে: “কারণ সমুদ্র যেমন জলে আচ্ছন্ন, তেমনি পৃথিবী যিহোবা বিষয়ক জ্ঞানে পরিপূর্ণ হইবে।” ক্রমাগত শিক্ষা কেবল যারা মন্দ জগতের শেষ থেকে বেঁচে যাবে এবং যে বাচ্চারা সেই নতুন জগতে জন্ম নেবে তাদের জন্য প্রয়োজন হবে তা নয় কিন্তু যে লক্ষ লক্ষ ব্যক্তিরা পুনরুত্থানে উঠে আসবে তাদের সকলের জন্য প্রয়োজন। পরিণামস্বরূপ, প্রত্যেক ব্যক্তি যারা এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকবে তাদের শিক্ষা দেওয়া হবে কি ভাবে তারা তাদের স্বাধীন ইচ্ছাকে ঈশ্বরের আইনের গণ্ডির মধ্যে ব্যবহার করতে পারে। ফল? “মৃদুশীলেরা দেশের অধিকারী হইবে, এবং শান্তির বাহুল্যে আমোদ করিবে।”—গীতসংহিতা ৩৭:১১.

এখনি বিরাট স্বাধীনতা

১৭. মোশি ঈশ্বরের প্রাচীনকালের লোকদের কি করতে বলেন?

১৭ যখন প্রাচীনকালের ইস্রায়েলীয়রা প্রতিজ্ঞাত দেশে প্রবেশ করার মুখে ছিল, মোশি তাদের সাথে কথা বলেন ও তাদের বলেন: “দেখ, আমার ঈশ্বর যিহোবা আমাকে যেরূপ আজ্ঞা করিয়াছিলেন, আমি তোমাদিগকে সেইরূপ বিধি ও শাসন শিক্ষা দিয়াছি; যেন, তোমরা যে দেশ অধিকার করিতে যাইতেছ, সেই দেশে তদনুসারে ব্যবহার কর। অতএব তোমরা সে সমস্ত মান্য করিও, ও পালন করিও; কেননা জাতি সকলের সমক্ষে তাহাই তোমাদের জ্ঞান ও বুদ্ধিস্বরূপ হইবে। এই সকল বিধি শুনিয়া তাহারা বলিবে, ‘সত্যই এই মহাজাতি জ্ঞানবান ও বুদ্ধিমান লোক।’ কেননা কোন্‌ বড় জাতির এমন নিকটবর্ত্তী ঈশ্বর আছেন, যেমন আমাদের ঈশ্বর যিহোবা?”—দ্বিতীয় বিবরণ ৪:৫-৭; NW.

১৮. যারা ঈশ্বরকে সেবা করেন তাদের জন্য এখন কি মহা স্বাধীনতা সকল আসে?

১৮ আজ যে লক্ষ লক্ষ ব্যক্তিরা যিহোবাকে উপাসনা করেন তারাও প্রতিজ্ঞাত দেশের প্রবেশস্থলে রয়েছেন—নতুন জগত। যেহেতু তারা ঈশ্বরের আইন পালন করেন, তাদের নিকটে তিনি আছেন এবং তারা অন্য সব লোকদের থেকে আলাদা। এখনই ঈশ্বর তাদের মিথ্যা ধর্ম্মীয় চিন্তাধারা, বর্ণবৈষম্যমূলক আচরণ, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার, জাতিয়তাবাদ, যুদ্ধ, এবং যৌনগত সক্রামক রোগ যা পৃথিবীব্যাপী বৃদ্ধি পাচ্ছে এই সব থেকে রক্ষা করেছেন। আরও, তিনি তাদের প্রেমে বিশ্বব্যাপী ভ্রাতৃত্বের এক অটুট বন্ধনে বদ্ধ করেছেন। (যোহন ১৩:৩৫) তারা ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে কোন চিন্তায় নেই কিন্তু “তারা চিত্তের সুখে আনন্দ করে।” (যিশাইয় ৬৫:১৪) ঈশ্বরকে এখন তাদের শাসনকর্ত্তা রূপে মেনে তারা কি স্বাধীনতাই না উপভোগ করে!—প্রেরিত ৫:২৯, ৩২; ২ করিন্থীয় ৪:৭; ১ যোহন ৫:৩.

অন্যদের মিথ্যা বিশ্বাস থেকে মুক্ত করা

১৯, ২০. কি করে ব্যক্তিরা মৃতদের অবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছে বাইবেলের শিক্ষার মাধ্যমে?

১৯ অনেকে যাদের নিকট যিহোবার সাক্ষীরা প্রচার করে তারাও এই স্বাধীনতা খুঁজে পাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, যে দেশগুলিতে পিতৃপুরুষদের উপাসনা করা হয়, যিহোবার সাক্ষীরা অন্যদের জানাচ্ছেন যে মৃতেরা কোথাও জীবিত নেই এবং তারা জীবিতদের কোন ক্ষতি করতে পারে না। সাক্ষীরা উপদেশক ৯:৫ পদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে, যেখানে বলে “কারণ জীবিত লোকেরা জানে যে, তাহারা মরিবে; কিন্তু মৃতেরা কিছুই জানে না।” তারা গীতসংহিতা ১৪৬:৪ এর প্রতিও ইঙ্গিত করে যেখানে বলে যে যখন কোন ব্যক্তি মারা যায় “সে নিজ মৃত্তিকায় প্রতিগমন করে; সেই দিন তাহার সঙ্কল্প সকল নষ্ট হয়।” সেইজন্য বাইবেল দেখায় যে কোন ভূত অথবা অমর আত্মা নেই যা সুস্থ্য করতে পারে বা জীবিতদের এসে ভয় দেখাতে পারে। সেই কারণে একজনের পরিশ্রমের পয়সাকে ভূতড়িয়া অথবা গুনিদের কাছে তাদের সেবা পাবার জন্য খরচ করার কোন দরকার নেই।

২০ বাইবেলের এইরূপ সঠিক জ্ঞান লোকদের নরকাগ্নি ও পুরগাতরির মিথ্যা শিক্ষা থেকে মুক্ত করে। যখন লোকেরা বাইবেল সত্য শেখে যে মৃত ব্যক্তিরা অচেতন, যেমন নাকি গভীর ঘুমন্ত অবস্থায়, তারা আর তাদের প্রিয় মৃত জনদের বিষয় চিন্তা করে না। অপর পক্ষে, তারা সেই অপূর্ব সময়ের দিকে তাকিয়ে আছে প্রেরিত পৌল যে সম্বন্ধে কথা বলেন যখন তিনি বলেন: “ধার্ম্মিক অধার্ম্মিক উভয় প্রকার লোকের পুনরুত্থান হইবে।”—প্রেরিত ২৪:১৫.

২১. যারা পুনরুত্থান পাবে তার মধ্যে কোন সন্দেহ নেই কারা অন্তর্ভুক্ত থাকবে, এবং তাদের প্রতিক্রিয়া সম্ভবত কি হবে?

২১ পুনরুত্থানে মৃতেরা পৃথিবীতে জীবনে ফিরে আসবে অনন্তকালের জন্য জন্মগত আদমের যে পাপ তার থেকে মুক্ত হয়ে। কোন সন্দেহ নেই যে সেই পুনরুত্থানপ্রাপ্তদের মধ্যে সেই বাচ্চারাও থাকবে যাদের কনানীয় দেবতাদের কাছে, যেমন মোলকের কাছে উৎসর্গ করা হয়েছে, যে যুবকদের অ্যাজ্‌টেক দেবতার কাছে উৎসর্গ করা হয়েছে, এবং আরও লক্ষ লক্ষ যাদের যুদ্ধের দেবতার জন্য উৎসর্গ করা হয়েছে। অতীতে যারা এইরূপ মিথ্যা বিশ্বাসের শিকার হয়েছেন তারা কত আশ্চর্য্য ও আনন্দিতই না হবেন! সেই পুনরুত্থান প্রাপ্ত ব্যক্তিরা আনন্দের সাথে ঘোষনা করতে পারবেন: “হে মৃত্যু, তোমার মহামারী সকল কোথায়? হে পাতাল, তোমার সংহার কোথায়?”—হোশেয় ১৩:১৪.

যিহোবার খোঁজ করুন

২২. যদি আমরা ঈশ্বরের নতুন পরিস্থিতিতে থাকতে চাই, আমাদের কি স্মরণে রাখা দরকার?

২২ আপনি কি ঈশ্বরের নতুন ধার্ম্মিক পরিস্থিতিতে বাস করতে চান, যেখানে প্রকৃত স্বাধীনতা বিরাজ করবে? যদি চান, তাহলে আপনার হৃদয়ে এই কথাগুলি গ্রহণ করুন যা ২ বংশাবলি ১৫:২ পদে লেখা আছে: “তোমরা যতদিন যিহোবার সঙ্গে থাক, ততদিন তিনিও তোমাদের সঙ্গে আছেন, আর যদি তোমরা তাঁর অন্বেষণ কর, তবে তিনি তোমাদিগকে তাঁহার উদ্দেশ্য পাইতে দিবেন; কিন্তু যদি তাঁহাকে ত্যাগ কর, তবে তিনি তোমাকে ত্যাগ করিবেন।” (NW) আর স্মরণে রাখুন যে আপনার আন্তরিক প্রচেষ্টা ঈশ্বরের বিষয় শেখার এবং তাঁকে সুখী করার তা অলক্ষিত যাবে না। ইব্রীয় ১১:৬ বলে যে ঈশ্বর “যাহারা তাঁহার অন্বেষণ করে, তিনি তাহাদের পুরস্কারদাতা।” আর রোমীয় ১০:১১ বলে: “যে কেহ তাঁহার উপরে বিশ্বাস করে সে লজ্জিত হইবে না।”

২৩. ঈশ্বরের স্বাধীনতার নতুন জগতকে আমরা কেন আহ্বান করব?

২৩ আসন্ন ঈশ্বরের প্রকৃত স্বাধীনতার নতুন জগত প্রতীয়মান। সেখানে “সৃষ্টি নিজেও ক্ষয়ের দাসত্ব হইতে মুক্ত হইয়া ঈশ্বরের সন্তানগণের প্রতাপের স্বাধীনতা পাইবে।” আর “[ঈশ্বর] তাহাদের সমস্ত নেত্রজল মুছাইয়া দিবেন এবং মৃত্যু আর হইবে না; শোক বা আর্ত্তনাদ বা ব্যথাও আর হইবে না।” (রোমীয় ৮:২১; প্রকাশিত বাক্য ২১:৪) তখন যিহোবার সকল সেবকেরা মাথা তুলে আনন্দের সাথে ঈশ্বরের নতুন জগতের স্বাধীনতাকে আহ্বান করবে এই বলে চিৎকার করে, ‘ধন্যবাদ যিহোবা, অবশেষে প্রকৃত স্বাধীনতার জন্য!’ (w92 4/1)

আপনি কি ভাবে উত্তর দেবেন?

▫ যিহোবার ক্ষমতা তার লোকদের মুক্ত করার তা কি করে তিনি প্রদর্শন করেন?

▫ ঈশ্বরের নতুন জগতে কি অপূর্ব স্বাধীনতাগুলি থাকবে?

▫ কি করে যিহোবা লোকদের জীবনের জন্য শিক্ষিত করছেন?

▫ কতগুলি কি স্বাধীনতা ঈশ্বরের লোকেরা এখনই উপভোগ করে যিহোবাকে সেবা করার মাধ্যমে?

[Pictures on page 14]

যিহোবা তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব মিসরীয় মিথ্যা দেবতাদের উপরে প্রদর্শন করেন, তাঁর উপাসকদের মুক্ত করে

[Pictures on page 16, 17]

আজ, ঈশ্বরের লোকদের সনাক্ত করা যায় তারা বিশ্বব্যাপী যে প্রচার কাজ এবং তাঁর নাম বহন করছে তার দ্বারা

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার