এক বিশৃঙ্খল জগতে অপরাধ
অপরাধ একটি আধুনিক বিস্ময়কর নিদর্শন নয়। প্রথম খুন করা হয় বহু হাজার বছর আগে যখন কইন তার ভ্রাতা হেবলকে হত্যা করে। ধর্ষন ও সমকামীতার উল্লেখ প্রাচীণ ইব্রীয় শাস্ত্রে আছে। (আদিপুস্তক ৩:৮; ১৯:৪, ৫; ৩৪:১-৪) আমাদের সাধারণ শতাব্দীর প্রথম শতাব্দীতেও ছিনতাই প্রচলিত ছিল, যেমন শমরীয় লোকটির দৃষ্টান্ত দেখায়। (লূক ১০:২৯-৩৭) কিন্তু আজ কিছু পার্থক্য আছে।
বিশ্বের বহু প্রধান শহরে, তা নিউ ইয়র্ক, লণ্ডন, কলকাতা, অথবা বোগোটাই হোক, লোকেরা মনে করে যে অপরাধ আরও বিস্তৃত আকারে ও আরও মারাত্মক ভাবে ঘটছে। ইণ্ডিয়া টুডে-র একটি রিপোর্ট যার শিরোনাম “অরাজকতার ধর্ম” জানায়: “যে অসোয়াস্তিকর আবহাওয়া সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং দেশের পল্কা নৈতিক ও সামাজিক গঠন ছিড়ে ফেলার ভয় দেখাচ্ছে তা হল অপরাধের বৃদ্ধি, বিরোধী অব্যবস্থা, ও যথেচ্ছাচারীতাকে একটি ধর্মের পদে উত্থাপিত করা।” অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইতে এমনকি পুলিশও কখনও কখনও আইনের বাধা ছাড়িয়ে অপরাধের পদ্ধতি ব্যবহার করতে প্রলোভিত হয়েছে। ভারতবর্ষ থেকে পূর্বের রিপোর্টটি আরও জানায়: “পুলিশের হেফাযতে মৃত্যু এখনও উল্লেখযোগ্য বিষয়।” আর অন্যান্য দেশেও ইহা সত্য।
অপরাধের শিকার না হওয়ার সম্ভাবনা ক্রমশ কমে আসছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে একটি রিপোর্ট জানায় যে “১৯৮৮ সালে প্রত্যেক চারটির মধ্যে একটি আমেরিকান পরিবার দৌরাত্ম অথবা চুরির অপরাধের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে।” এছাড়াও, লোকে এখন আরও অল্পবয়সে অপরাধমূলক কাজ করছে। ল্যাটিন-আমেরিকান পত্রিকা ভিশা’ন জানায় যে “দশ জনের মধ্যে নয় জন সিকারিও [অর্থের বিনিময় যারা খুন করে] কিশোরমাত্র। [তারা] বয়সের দিক দিয়ে ‘কিশোর’ ও আইনত সুরক্ষিত।” এই ক্ষেত্রেও, কিশোরদের দ্বারা দৌরাত্মপূর্ণ অপরাধ সারা বিশ্বে দেখা যায়।
প্রায় ২,০০০ বছর আগে বাইবেল ভবিষ্যদ্বাণী করে: “কিন্তু ইহা জানিও, শেষ কালে বিষম সময় উপস্থিত হইবে। কেননা মনুষ্যেরা আত্মপ্রিয়, অর্থপ্রিয়, . . . অসাধু, স্নেহরহিত, . . . অজিতেন্দ্রিয়, প্রচণ্ড, সদ্বিদ্বেষী, বিশ্বাসঘাতক, দুঃসাহসী, গর্ব্বান্ধ, . . . দুষ্ট লোকেরা ও বঞ্চকেরা, পরের ভ্রান্তি জন্মাইয়া ও আপনারা ভ্রান্ত হইয়া, উত্তর উত্তর কুপথে অগ্রসর হইবে।”—২ তীমথিয় ৩:১-৪, ১৩.
বহু প্রমাণ আছে যে ১৯১৪ সাল থেকে আমরা সেই শেষ কালের বিষম সময় বাস করছি। এই জগৎ, দুটি বিশ্বযুদ্ধ ও অন্যান্য প্রধাণ সংঘর্ষ সহ্য করে, বহু দিক দিয়ে অদম্য, বিশৃঙ্খল হয়ে উঠেছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। অনেক শহরে, অপরাধীরা রাজত্ব চালাচ্ছে, আইনমান্যকারী অধিকাংশ নাগরিকদের জীবনে পরিবর্তন ঘটাচ্ছে। একজন বিখ্যাত মার্কিন অধিষদ্ সদস্য বলেন: “এখন এতগুলি বিষয় সম্বন্ধে চিন্তা করতে হয়, যে সম্বন্ধে আগে আমরা কখনও ভয় করিনি। অনেকসময় আমরা এত ভীত হই যে আমরা বন্দী হয়ে পড়ি, আর যাদের কয়েদ করে রাখা উচিৎ তারা অবাধে ঘুরে বেড়ায়।”
ফলত, লোকে আজ এমন সব সাবধানতা অবলম্বন করছে যা ২০ অথবা ৩০ বছর আগে প্রয়োজন ছিল না। দরজায় দুটি বা তিনটি তালা লাগানো হয় যেগুলি স্টীলের দ্বারা মজবুত করা। অনেক জায়গায় লোকে যথেষ্ট টাকা সঙ্গে রাখে যাতে আক্রমণকারী সন্তুষ্ট হয় ও চোরদের হাতে কিছু না তুলে দেওয়ার জন্য আহত হওয়া এড়ানো যায়। সূর্যাস্থের পর অনেক রাস্তা জনশূন্য হয়ে যায়, থাকে শুধুমাত্র যারা অজ্ঞাত, অকারণে সাহসিকতা দেখায় ও যারা পরিস্থিতিবশত সেখানে থাকতে বাধ্য হয়—শহুরে অরণ্যে যে লুণ্ঠনকারীরা ঘুরে বেড়ায় তাদের জন্য সহজসাধ্য শিকার।
এই বিশৃঙ্খল, অরাজকতার জগতে অপরাধের শিকার হওয়া এড়াবার জন্য আমরা কি করতে পারি? কিভাবে আমরা মোকাবিলা করতে পারি? (w91 5/1)