আপনি কি ঈশ্বরের অনুকম্পার অনুকারী হবেন?
“অতএব প্রিয় বৎসদের ন্যায় তোমরা ঈশ্বরের অনুকারী হও।”—ইফিষীয় ৫:১.
১. কেন অন্যদের অনুকরণ করা আমাদের সকলের চিন্তার বিষয় হওয়া উচিত?
ভালর জন্য বা মন্দের জন্য, অধিকাংশ লোকে অন্যদের অনুকরণ করে থাকে। যাদের সাথে আমরা থাকি, ও যাদের আমরা অনুকরণ করি, আমাদের উপর তা পরিমিত রূপে প্রভাব ফেলতে পারে। হিতোপদেশ ১৩:২০ পদের অনুপ্রাণিত লেখক সাবধান করেন: “জ্ঞানীদের সহচর হও, জ্ঞানী হইবে; কিন্তু যে হীনবুদ্ধিদের বন্ধু সে ভগ্ন হইবে।” ভালর জন্যই, তাই, ঈশ্বরের বাক্য বলে: “যাহা মন্দ, তাহার অনুকারী হইও না, কিন্তু যাহা উত্তম, তাহার অনুকারী হও।”—৩ যোহন ১১.
২. কাকে আমাদের অনুকরণ করা উচিত ও কি ভাবে?
২ আমাদের কাছে অপূর্ব উদাহরণ আছে বাইবেলের পুরুষ ও নারীদের যাদের আমরা অনুকরণ করতে পারি। (২ করিন্থীয় ৪:১৬; ১১:১; ফিলিপীয় ৩:১৭) কিন্তু, সর্বোত্তম ব্যক্তি যাকে আমরা অনুকরণ করতে পারি তিনি ঈশ্বর। ইফিষীয় ৪:৩১-৫:২, যে অভ্যাস ও বৈশিষ্টগুলি আমাদের এড়িয়ে চলা দরকার তাহা বর্ণনা করার পর, প্রেরিত পৌল আমাদের অনুরোধ করেন “করুণচিত্ত হও, পরস্পর ক্ষমা কর।” ইহাই পরিচালিত করে সেই প্রধান উপদেশ দিতে: “অতএব প্রিয় বৎসদের ন্যায় তোমরা ঈশ্বরের অনুকারী হও, আর প্রেমে চল।”
৩, ৪. ঈশ্বর তাঁর সম্বন্ধে কি বিশ্লেষন দিয়েছেন, কেন আমাদের এই বিষয় মনোযোগ দেওয়া উচিত যে তিনি ন্যায়ের ঈশ্বর?
৩ ঈশ্বরের সেই গুণাবলী ও পথ কি যাহা আমাদের অনুকরণ করা উচিৎ? তাঁর ব্যক্তিত্ত্বের ও কাজের অনেক দিক আছে, যেমন আমরা দেখতে পাই যেভাবে তিনি নিজেকে মোশীর কাছে বর্ণনা করেন তার দ্বারা: “যিহোবা, স্নেহশীল ও কৃপাময় ঈশ্বর, ক্রোধে ধীর এবং দয়াতে ও সত্যে মহান; সহস্র সহস্র [পুরুষ] পর্য্যন্ত দয়ারক্ষক, অপরাধের, অধর্ম্মের ও পাপের ক্ষমাকারী; তথাপি তিনি অবশ্য [পাপের] দণ্ড দেন; পুত্র পৌত্রদের উপরে, তৃতীয় ও চতুর্থ পুরুষ পর্য্যন্ত, তিনি পিতৃগণের অপরাধের প্রতিফল বর্ত্তান।”—যাত্রাপুস্তক ৩৪:৬, ৭. (NW)
৪ যেহেতু যিহোবা “ধার্ম্মিকতার ও ন্যায়ের প্রেমীক,” আমাদের তাঁর ব্যত্ত্বিতের এই দিকটি অবশ্যই জানতে হবে এবং তাহা অনুকরণ করতে হবে। (গীতসংহিতা ৩৩:৫; ৩৭:২৮) তিনি সৃষ্টিকর্ত্তা, এবং মনুষ্যদের জন্য তিনি সর্বমহান বিচারকর্ত্তা ও আইনদাতা, তাই তিনি সকলের প্রতি ন্যায়বিচার করেন। (যিশাইয় ৩৩:২২) ইহা পরিষ্কার রূপে দেখা যায় যেভাবো তিনি চান ন্যায়বিচার হোক ও কিভাবে তা করা হয় তার লোক ইস্রায়েলদের মধ্যে এবং পরে খ্রীষ্টীয় মণ্ডলীর মধ্যে।
ঐশিক ন্যায়বিচার সম্পাদিত হয়
৫, ৬. ঈশ্বর ইস্রায়েলিয়দের সাথে যে ব্যবহার করেন তাতে কি করে ন্যায়বিচার প্রদর্শিত হয়?
৫ যখন তাঁর জাতি ইস্রায়েলকে মনোনীত করেন, ঈশ্বর তাদের জিজ্ঞাসা করেন ‘যে তারা কঠোরভাবে তার কথা ও নিয়ম পালন করবে কিনা।’ সিনয় পর্বত্তের পদতলে একত্র হওয়ার পর, তারা উত্তর দেয়: “যিহোবা যাহা কিছু বলিয়াছেন, আমরা সমস্তই করিব।” (যাত্রাপুস্তক ১৯:৩-৮, NW) কি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগ্রহণ! দূতেদের দ্বারা, ঈশ্বর ইস্রায়েলিয়দের প্রায় ৬০০ আইন দেন, যেগুলি তারা, তাঁর কাছে উৎসর্গীকৃত ব্যক্তিরূপে পালন করার দায়িত্বে ছিল। যদি কেউ এইরূপ না করত তাহলে কি হত? ঈশ্বরের আইনে একজন দক্ষ ব্যক্তি বর্ণনা করেন: “কেননা দূতগণ দ্বারা কথিত বাক্য যদি দৃঢ় হইল, এবং লোকে কোন প্রকারে তাহা লঙ্ঘন করিলে কিম্বা তাহার অবাধ্য হইলে যদি ন্যায়সিদ্ধ প্রতিফল দত্ত হইল।”—ইব্রীয় ২:২.
৬ হাঁ, যে ইস্রায়েলিয় আজ্ঞা পালন করত না তাকে “ন্যায়সিদ্ধ প্রতিফল দত্ত হইত,” মানুষের অভাবযুক্ত ন্যায় নয়, কিন্তু আমাদের সৃষ্টিকর্ত্তার কাছ থেকে ন্যায়বিচার। ঈশ্বর আইন ভঙ্গ করার জন্য অনেক ধরনের শাস্তি বিধান করেন। সব থেকে গুরুতর দণ্ড ছিল, ‘উচ্ছিন্ন হওয়া’ অথবা মৃত্যু দণ্ড। গুরুতর আইন ভঙ্গ করার ক্ষেত্রে এইগুলি প্রয়োগ হত যেমন, মূর্তিপূজা, চরিত্রহীনতা, অজাচার, পাশবিকতা, পুঙ্গামি, বাচ্চাদের উৎসর্গ করা, হত্যা, ও রক্তের অপব্যবহার। (লেবীয়পুস্তক ১৭:১৪; ১৮:৬-১৭, ২১-২৯) আরও, যদি কেউ স্বেচ্ছায়, পরিবর্তন না করে ঐশিক নিয়ম লঙ্ঘন করত তবে সে “উচ্ছিন্ন” হতে পারত। (গণনাপুস্তক ৪:১৫, ১৮; ১৫:৩০, ৩১) যখন এই ঐশিক ন্যায়বিচার প্রয়োগ করা হত, তার প্রতিক্রিয়া তার বংশধরেরা নিশ্চয় অনুভব করত।
৭. পূরাকালে ঈশ্বরের লোকদের মধ্যে যে ন্যায়বিচার সম্পাদিত হয় তার কিছু ফল কি হয়?
৭ এইরূপ দণ্ড ঐশ্বরিক আইন ভঙ্গ করা কত গুরুতর তা প্রদর্শন করত। উদাহরণস্বরূপ, যদি পুত্র মাতাল হত ও পেটুক হত, তাকে অভিজ্ঞ বিচারকর্ত্তাদের কাছে নিয়ে আসতে হত। আর তারা যদি দেখত সে স্বেচ্ছায়, অনুতাপহীন আইনভঙ্গকারী, তবে যে ন্যায়বিচার করা হবে তাতে পিতামাতাদেরও অংশ নিতে হত। (দ্বিতীয় বিবরণ ২১:১৮-২১) আমরা যারা পিতামাতা হয়ত উপলব্ধি করতে পারি যে এইরূপ করা সহজ ছিল না। তবুও ঈশ্বর জানতেন যে এইরূপ করা প্রয়োজন ছিল যেন দুষ্টতা তাঁর সত্য উপাসকদের মধ্যে ব্যপ্ত না হয়। (যিহিষ্কেল ৩৩:১৭-১৯) ইহা তাঁর মাধ্যমে ব্যবস্থা ছিল যার সম্বন্ধে বলা যায়: “কেননা তাঁহার সমস্ত পথ ন্যায্য; তিনি বিশ্বাস্য ঈশ্বর, তাঁহাতে অন্যায় নাই; তিনিই ধর্ম্মময় ও সরল।”—দ্বিতীয় বিবরণ ৩২:৪.
৮. কি করে ঈশ্বর খ্রীষ্টীয় মণ্ডলীর সাথে তার আচরণে ন্যায়বিচার দেখান?
৮ অনেক শতাব্দী পরে ঈশ্বর ইস্রায়েল জাতিকে বাদ দিয়ে খ্রীষ্টীয় মণ্ডলীকে মনোনীত করেন। কিন্তু যিহোবা পরিবর্ত্তিত হননি। তিনি তাঁর ন্যায়বিচারে দায়বদ্ধ ছিলেন এবং তাঁকে বর্ণনা করা হয়েছে “গ্রাসকারী অগ্নিস্বরূপ।” (ইব্রীয় ১২:২৯; লূক ১৮:৭, ৮) তাই তিনি মণ্ডলীর মধ্যে ব্যবস্থা রাখেন ঐশ্বরিক ভয় প্রবেশ করানোর এবং তা হল যারা দোষী তাদের বহিস্কার করে। উৎসর্গীকৃত খ্রীষ্টানরা যারা অনুতাপহীন দোষী হবে তাদের সমাজচ্যুত করার মাধ্যমে।
৯. সমাজচ্যুত করা কি, আর তাহা কি সম্পাদন করে?
৯ সমাজচ্যুত করার মধ্যে কি কি জড়িত আছে? আমরা এক নমুনাকারী শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি যে ভাবে প্রথম শতাব্দীতে একটি সমস্যা সমাধান করা হয় তা পরীক্ষা করে। করিন্থে একজন খ্রীষ্টান ব্যক্তি তার পিতার স্ত্রীর সাথে অনৈতিকতায় জড়িয়ে পড়ে এবং পরিবর্তনের কোন লক্ষন দেখায় না, তাই পৌল পরিচালনা দেন যে তাকে যেন মণ্ডলী থেকে বহিস্কার করা হয়। ইহা করার প্রয়োজন ছিল যাতে ঈশ্বরের লোকদের যে শুদ্ধতা তা বজায় রাখা যায়, কারণ, “অল্প তাড়ী সমস্ত তালকে তাড়ীময় করে।” তাকে বহিস্কার করার মাধ্যমে তার মন্দ কাজের মাধ্যমে ঈশ্বর ও তার লোকদের উপর নিন্দা নিয়ে আসা থেকে রক্ষা করবে। এই কঠোরতা হয়ত তাকে তার বিবেক ফিরিয়ে দেবে এবং তার মধ্যে ও মণ্ডলীর মধ্যে ঈশ্বরিয় ভয় নিয়ে আসবে।—১ করিন্থীয় ৫:১-১৩; তুলনা করুন দ্বিতীয় বিবরণ ১৭:২, ১২, ১৩.
১০. যখন কাউকে সমাজচ্যুত করা হয় তখন ঈশ্বরের লোকেরা তার প্রতি কিরূপ সাড়া দেবে?
১০ ঐশিক আজ্ঞা হচ্ছে যে যদি কোন দুষ্ট ব্যক্তিকে বহিস্কার করা হয়, তবে খ্রীষ্টানরা “[তাহার] সংসর্গে থাকিতে নাই, এমন ব্যক্তির সহিত আহার করিতেও নাই।”a তাকে মেলামেশা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, এবং তাদের সাথেও কোন সামাজিক মেলামেশা করবে না, যারা বিশ্বস্ত ও যারা ঈশ্বরের আইন সম্মান করে এবং সেই পথে চলতে চায়। অনেকে হয়ত আমাদের পরিবারের সদস্য নয় কিন্তু আত্মিয়। এই আত্মিয়দের হয়ত এই ঐশিক পরিচালনা পালন করা কঠিন বোধ হতে পারে, যেমন ইব্রীয় পিতামাতাদের জন্য সহজ ছিলনা তাদের দুষ্ট পুত্রের হত্যায় অংশ নেওয়া মোশীর আইনের অধীনে। তবুও, ঈশ্বরের আজ্ঞা পরিস্কার; তাই আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি যে সমাজচ্যুত করা ন্যায়সঙ্গত।—১ করিন্থীয় ৫:১, ৬-৮, ১১; তীত ৩:১০, ১১; ২ যোহন ৯-১১; দেখুন দ্যা ওয়াচটাওয়ার, সেপ্টেমবর ১৫, ১৯৮১, পৃষ্ঠা ২৬-৩১; এপ্রিল ১৫, ১৯৮৮, পৃষ্টা ২৮-৩১.
১১. ঈশ্বরের ব্যক্তিত্ত্বের বিভিন্ন দিক কি করে প্রকাশ পায় সমাজচ্যুত করার দ্বারা?
১১ মনে রাখবেন, যে, আমাদের ঈশ্বর কেবল ন্যায়বিচারক নন, তিনি “দয়াতে মহান্, এবং অধর্ম্মের ও অপরাধের ক্ষমাকারী।” (গণনাপুস্তক ১৪:১৮) তার বাক্য পরিষ্কার করে যে একজন সমাজচ্যুত ব্যক্তি হয়ত মন পরিবর্তন করতে পারে, এবং ঐশিক ক্ষমা প্রার্থী হতে পারে। তখন কি হবে? অভিজ্ঞ প্রাচীণরা তার সাথে দেখা করবে ও প্রার্থনাপূর্বক পরীক্ষা করবে যে যা তাকে সমাজচ্যুত করতে পরিচালিত করেছিল তার থেকে সে পরিবর্তন করেছে তার প্রমাণ আছে কিনা। (তুলনা করুন প্রেরিত ২৬:২০) যদি সে এইরূপ করে থাকে, তবে তাকে মণ্ডলীতে ফিরিয়ে নেওয়া যেতে পারে, যেমন ২ করিন্থীয় ২:৬-১১ দেখায় করিন্থের সেই ব্যক্তির সাথে হয়ে থাকে। তথাপি, অনেক সমাজচ্যুত ব্যক্তিরা ঈশ্বরের সংগঠন থেকে বৎসরের পর বৎসর দূরে থেকেছেন, তাই কিছু কি করা যেতে পারে তাদের সাহায্য করতে যাতে তারা আবার ফিরে আসার পথ দেখতে পায়?
ন্যায়বিচার অনুকম্পার সাথে সামঞ্জস্য রেখে
১২, ১৩. কেন আমাদের ঈশ্বরকে অনুকরণ করা কেবল তার ন্যায়বিচার প্রতিফলন করা নয়?
১২ এখন পর্য্যন্ত আমরা যা আলোচনা করেছি তাহা কেবল ঈশ্বরের একটি গুণাবলী সম্বন্ধে, যেমন বর্ণনা করা আছে যাত্রাপুস্তক ৩৪:৬, ৭-এ। এই পদগুলি, কেবল ঈশ্বরের ন্যায়বিচার থেকে আরও কিছু বর্ণনা করে, এবং যারা তাকে অনুকরণ করতে চায় তারা কেবল ন্যায়বিচারের প্রয়োগ করার উপরে জোর দেয় না। আপনি যদি শলোমন যে মন্দির তৈয়ারি করেছিলেন তার একটি নমুনা তৈয়ারী করতে চান, তবে কি কেবল একটি থাম অধ্যয়ন করতেন? (১ রাজাবলি ৭:১৫-২২) না, কারণ তা আপনাকে সেই মন্দির ও তার কাজ সম্বন্ধে এক সামঞ্জস্যপূর্ণ ছবি দিত না। ঠিক সেইভাবে, যদি আমরা সত্যই ঈশ্বরকে অনুকরণ করতে চাই, তবে আমাদের তার অন্য পথ ও গুণাবলিগুলি অনুকরণ করতে হবে, যেমন তিনি “স্নেহশীল ও কৃপাময় ঈশ্বর, ক্রোধে ধীর এবং দয়াতে মহান্; সহস্র সহস্র পুরুষ পর্য্যন্ত দয়ারক্ষক, অপরাধের, অধর্ম্মের ও পাপের ক্ষমাকারী।”
১৩ অনুকম্পা ও ক্ষমা ঈশ্বরের প্রধাণ গুণাবলি, যেমন আমরা দেখি তিনি ইস্রায়েলের সাথে ব্যবহার করেন। ন্যায়বান ঈশ্বর তাদের পুণঃ পুণঃ পাপের জন্য শাস্তি থেকে রেহাই দেননি, কিন্তু তিনি প্রচুর অনুকম্পা ও ক্ষমা দেখান। “তিনি জানাইলেন মোশিকে আপনার পথ, ইস্রায়েল-সন্তানগণকে আপনার কার্য্য সকল। যিহোবা স্নেহশীল ও কৃপাময়, ক্রোধে ধীর ও দয়াতে মহান্। তিনি নিত্য অনুযোগ করিবেন না, চিরকাল ক্রোধ রাখিবেন না।” (গীতসংহিতা ১০৩:৭-৯; NW, ১০৬:৪৩-৪৬) হাঁ; তার অতীত-সস্পর্কীয় সহস্র বৎরের ব্যবহার দেখায় এই কথাগুলি সত্য।—গীতসংহিতা ৮৬:১৫; ১৪৫:৮, ৯; মীখা ৭:১৮, ১৯.
১৪. কি করে যীশু দেখান যে তিনি ঈশ্বরের অনুকম্পার অনুকরণ করছিলেন?
১৪ যেহেতু যীশু খ্রীষ্ট হলেন “ইনি তাঁহার প্রতাপের প্রভা ও তত্ত্বের মুদ্রাঙ্ক,” তাই আমরা তার কাছ থেকে একই ক্ষমা ও অনুকম্পা আশা করতে পারি। (ইব্রীয় ১:৩) তিনি তাই করেন, যেমন অন্যদের প্রতি তার কাজ প্রদর্শন করে। (মথি ২০:৩০-৩৪) তিনি অনুকম্পার উপরে জোর দেন যেমন তার কথাগুলি দেখায় যা আমরা পড়ি লূক ১৫ অধ্যায়। সেখানে তিনটি দৃষ্টান্ত প্রমাণ করে যে যীশু যিহোবাকে অনুকরণ করেন, আর তাহা আমাদের জন্য উত্তম শিক্ষা রাখে।
যাহা হারিয়ে গিয়েছিল তার জন্য উদ্বেগ
১৫, ১৬. কি পরিচালিত করে যীশুকে লূক ১৫ অধ্যায়ের দৃষ্টান্ত দিতে?
১৫ এই দৃষ্টান্তগুলি পাপীদের প্রতি ঈশ্বরের যে অনুকম্পা যুক্ত আগ্রহ আছে তাহা প্রমাণ করে, এবং তা আমাদের জন্য এক সুসামঞ্জস্যপূর্ণ ছবি রাখে যা আমরা অনুকরণ করতে পারি। এই দৃষ্টান্তগুলির দৃশ্যপট চিন্তা করুন: “আর করগ্রাহী ও পাপীরা সকলে তাঁহার [যীশুর] বাক্য শুনিবার জন্য তাঁহার নিকটে আসিতেছিল। তাহাতে ফরিশীরা ও অধ্যাপকেরা বচসা করিয়া বলিতে লাগিল: ‘এই ব্যক্তি পাপীদিগকে গ্রহণ করে ও তাহাদের সহিত আহার ব্যবহার করে।’”—লূক ১৫:১, ২.
১৬ যে ব্যক্তিরা সেখানে জড়িত ছিল তারা সকলে যিহুদী। ফরিশীরা ও অধ্যাপকেরা গর্ব করে দাবী করত যে তারা মোশীর নিয়ম যথাযথ রূপে পালন করত, তাদের জন্য ইহা যেন এক আইনসঙ্গত ধার্ম্মিকতা ছিল। ঈশ্বর, কিন্তু ঐরূপ আত্ম-ঘোষিত ধার্ম্মিকতার সাথে একমত ছিলেন না। (লূক ১৬:১৫) যে করগ্রাহীদের কথা বলা হয়েছে তারা যিহুদী কিন্তু রোমীয়দের জন্য কর গ্রহণ করতেন। যেহেতু কেউ কেউ সহ যিহুদীর কাছ থেকে অতিরিক্ত কর আদায় করতেন, করগ্রাহীদের ঘৃণ্য এক দল হিসাবে দেখা হত। (লূক ১৯:২, ৮) তাদের “পাপীদের” দলভুক্ত করা হত, যার মধ্যে যুক্ত ছিল চরিত্রহীন ব্যক্তিরা, এমন কি বেশ্যারা। (লূক ৫:২৭-৩২; মথি ২১:৩২) কিন্তু যীশু সেই অভিযোগকারী ধর্ম্মিয় গুরুদের জিজ্ঞাসা করেন:
১৭. লূক ১৫ অধ্যায়ে যীশুর প্রথম দৃষ্টান্ত কি?
১৭ “তোমাদের মধ্যে কোন্ ব্যক্তি—যাহার একশত মেষ আছে, ও সেই সকলের মধ্যে একটি হারাইয়া যায়—নিরানব্বইটা প্রান্তরে ছাড়িয়া যায় না, আর যে পর্য্যন্ত সেই হারাণটী না পায়, সে পর্য্যন্ত তাহার অন্বেষণ করিতে যায় না? আর তাহা পাইলে সে আনন্দপূর্বক কাঁধে তুলিয়া লয়। পরে ঘরে আসিয়া বন্ধু বান্ধব ও প্রতিবাসীদিগকে ডাকিয়া বলে, ‘আমার সঙ্গে আনন্দ কর কারণ আমার যে মেষটি হারাইয়া গিয়াছিল তাহা পাইয়াছি।’ আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, তদ্রুপ একজন পাপী মন ফিরাইলে স্বর্গে আনন্দ হইবে; যাহাদের মন ফিরান অনাবশ্যক, এমন নিরানব্বই জন ধার্ম্মিকের বিষয় তত আনন্দ হইবে না।” ধর্ম্মিয় নেতারা সেই কাল্পনিক দৃশ্য বুঝতে পারে, কারণ মেষপালক ও মেষপাল ছিল সাধারণ দৃশ্য। তার চিন্তা হেতু সেই মেষপালক ৯৯টি মেষকে ঘাস খাবার জন্য পরিচিত পরিবেশে রেখে, যে হারিয়ে গিয়েছিল তার খোঁজে যায়। তার খোঁজ করে যতক্ষন না তাকে খুঁজে পায়, তার পরে খুব যত্নের সাথে সে সেই মেষকে পালের কাছে ফেরৎ নিয়ে যায়।—লূক ১৫:৪-৭.
১৮. যেমন দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে, লূক ১৫ অধ্যায়ের দ্বিতীয় দৃষ্টান্তে আনন্দের কারণ কি?
১৮ যীশু তার দ্বিতীয় দৃষ্টান্তটি যোগ দেন: “অথবা কোন্ স্ত্রীলোক, যাহার দশটী সিকি আছে, সে যদি একটি হারাইয়া ফেলে, তবে প্রদীপ জ্বালাইয়া ঘর ঝাঁটি দিয়া যে পর্য্যন্ত তাহা না পায়, ভাল করিয়া খুঁজিয়া দেখে না? আর পাইলে পর সে বন্ধু বান্ধব ও প্রতিবাসিনীজণকে ডাকিয়া বলে, ‘আমার সঙ্গে আনন্দ কর, কারণ আমি যে সিকিটী হারাইয়া ফেলিয়াছিলাম, তাহা পাইয়াছি।’ তদ্রুপ, আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, এক জন পাপী মন ফিরাইলে ঈশ্বরের দূতগণের সাক্ষাতে আনন্দ হয়।” (লূক ১৫:৮-১০) এক সিকি তখন এক শ্রমিকের একদিনের আয় ছিল। যে স্ত্রীলোকটি সম্বন্ধে বলা হচ্ছে এই সিকি হয়ত তার কুলক্রমাগত সম্পত্তি, অথবা তার গহনার কোন অঙ্গ ছিল। যখন তা হারিয়ে যায়, সে অনেক চেষ্টা করে তা খুঁজে বার করার জন্য, এবং তারপর সে ও তার স্ত্রীলোক বন্ধুরা তাতে খুব আনন্দ করে। ঈশ্বর সম্বন্ধে ইহা আমাদের কি বলে?
স্বর্গীয় আনন্দ—কিসের উপর?
১৯, ২০. যীশু লূক ১৫ অধ্যায়ে যে প্রথম দুইটি দৃষ্টান্ত দেন তাহা বিশেষ করে কিসের বিষয়, এবং কি মুখ্য বিষয়ের উপর তা অলোকপাত করে?
১৯ এই দুইটি দৃষ্টান্ত যীশুকে যে টিটকারি দেওয়া হচ্ছিল তার প্রতিক্রিয়া ছিল, যিনি কিছু মাস পূর্বে নিজেকে “উত্তম মেষপালক” রূপে সনাক্ত করেন যিনি তার মেষদের জন্য আপন প্রাণ দেবেন। (যোহন ১০:১১-১৫) যাহাহোক, এই দৃষ্টান্ত কেবল যীশু সম্বন্ধে ছিল না। যে শিক্ষা নেওয়ার সেই ফরিশী ও অধ্যাপকদের প্রয়োজন ছিল তা নিবদ্ধ ছিল ঈশ্বরের মনোভাব ও তার পথের উপরে। সেইকারণে, যীশু বলেন যে একজন পাপী মন পরিবর্তন করলে স্বর্গে আনন্দ হয়। সেই ধর্ম্মিয় ব্যক্তিরা দাবী করে যে তারা যিহোবাকে সেবা করে, কিন্তু তারা তার অনুকরণ করে না। যীশুর যে অনুকম্পার মনোভাব, অন্যদিকে, পিতার যে ইচ্ছা তা প্রদর্শন করে।—লূক ১৮:১০-১৪; যোহন ৮:২৮, ২৯; ১২:৪৭-৫০; ১৪:৭-১১.
২০ একশতর মধ্যে যদি একজনকে খুঁজে পাওয়া আনন্দের কারণ হয়, তবে দশটির মধ্যে একটি সিকি আরও আনন্দের। আজও, আমরা সেই স্ত্রীলোকদের একটি সিকি খুঁজে পাওয়ার যে আনন্দ তা দেখতে পাই! এখানেও, যে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে তার কেন্দ্রস্থল স্বর্গ, সেখানে “ঈশ্বরের দূতেরা” আনন্দ করে যিহোবার সাথে “একজন পাপী মন ফিরাইলে।” এই শেষ কথাটি লক্ষ্য করুন “মন ফিরাইলে।” এই দৃষ্টান্তগুলি আসলে সেই পাপীদের সম্বন্ধে যারা মন ফিরায়। উভয় ক্ষেত্রে লক্ষ্য করেছেন যে তাদের মন ফিরানোর জন্য যে আনন্দ হচ্ছে তার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
২১. যীশু লূক ১৫ অধ্যায়ে যে দৃষ্টান্ত দেন তার থেকে আমরা কি শিখতে পারি?
২১ সেই ভ্রান্ত ধর্ম্মিয় নেতারা যারা আইনের বাহ্যিক বিষয় নিয়ে আত্মতুষ্ট ছিল তারা উপেক্ষা করে যায় যে ঈশ্বর “স্নেহশীল ও কৃপাময় . . . অপরাধের ও অধর্ম্মের ও পাপের ক্ষমাকারী।” (যাত্রাপুস্তক ৩৪:৬, ৭) যদি তারা ঈশ্বরের ব্যক্তিত্ত্বের এই দিকটি অনুকরণ করত তারা উপলব্ধি করতে পারত যীশুর অনুকম্পা পরিবর্ত্তিত পাপীদের প্রতি। আমাদের সম্বন্ধে কি? আমরা কি এই শিক্ষা গ্রহণ করছি ও হৃদয়ে নিচ্ছি? যীশুর যে তৃতীয় দৃষ্টান্ত তাহা লক্ষ্য করুন।
মন পরিবর্তন ও অনুকম্পা কার্য্যে প্রয়োগ
২২. সংক্ষেপে, লূক ১৫ অধ্যায়ে যীশু তার তৃতীয় দৃষ্টান্ত স্বরূপ কি দেন?
২২ এই দৃষ্টান্তটিকে প্রায়ই অপব্যায়ী পুত্রের দৃষ্টান্ত বলা হয়। তবু, যখন আপনি তাহা পড়বেন আপনি হয়ত লক্ষ্য করতে পারেন কেন কেউ কেউ এই দৃষ্টান্তকে পিতার প্রেমের দৃষ্টান্ত বলে থাকেন। ইহা পরিবারের এক কনিষ্ঠ পুত্রের কথা বর্ণনা করে, যে তার পিতার কাছ থেকে তার সম্পত্তির অংশ পায়। (তুলনা করুন দ্বিতীয় বিবরণ ২১:১৭) এই পুত্র দূর দেশে পাড়ি দেয়, যেখানে সে সব কিছু লাম্পট্যে ব্যায় করে, তাকে শুকরদের চরাবার কাজ গ্রহণ করতে হয়, আর এমন অবস্থায় আসে যে ক্ষুদায় তাকে শুকরদের খাদ্যই খেতে হয়। শেষে সে তার জ্ঞানে ফিরে আসে এবং ঠিক করে যে ঘরে ফিরে যাবে, যদি কেবলমাত্র তার পিতার কাছে একজন শ্রমিকের মত কাজ করতে পারে। সে যেই বাড়ীর কাছাকাছি পৌঁছায়, পিতা যথার্থ দৃষ্টিকোন নেন তাকে স্বাগত জানাবার, তার জন্য ভোজও প্রস্তুত করেন। বড় ভাই, যে ঘরে ছিল ও কাজ করছিল, সে এই অনুকম্পার বিরোধীতা করে। কিন্তু পিতা বলেন যে তাদের আনন্দ করা উচিৎ কারণ যে পুত্রটি মরে গিয়েছিল সে এখন আবার জীবিত হল।—লূক ১৫:১১-৩২.
২৩. অপব্যয়ী পুত্রের যে দৃষ্টান্ত তার থেকে আমরা কি শিখতে পারি?
২৩ কিছু অধ্যাপক ও ফরিশীরা হয়ত মনে করে যে তাদেরকে এই বড় ছেলের সাথে তুলনা করা হয়েছে, অন্যদিকে যারা পাপী তারা সেই কনিষ্ঠ পুত্রের মত। কিন্তু তারা কি, সেই, দৃষ্টান্তের যে প্রধাণ বিষয় তা ধরতে পেরেছিল, এবং আমরা কি পেরেছি? ইহা আমাদের অনুকম্পাযুক্ত পিতার এক অপূর্ব বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে, তাহা হল যে তিনি ক্ষমা করতে প্রস্তুত এই ভিত্তিতে যে একজন হৃদয় থেকে পরিবর্ত্তিত হয় ও ফিরে আসে। যারা শুনছিল তাদের ইহা পরিচালিত করা উচিত ছিল আনন্দ করতে যে পাপী ব্যক্তিরা পরিবর্তন করে মুক্তি পাচ্ছে। ঈশ্বর বিষয়টি এইভাবে দেখেন এবং এইভাবে কাজ করেন, যারা তাকে অনুকরণ করছে তাদেরও সেইরূপ করা দরকার।—যিশাইয় ১:১৬, ১৭; ৫৫:৬, ৭.
২৪, ২৫. ঈশ্বরের কোন পথগুলি আমরা অনকরণ করার চেষ্টা করব?
২৪ ইহা পরিষ্কার, যে ন্যায় যিহোবার সব পথকে পরিচালনা করে, তাই যারা যিহোবাকে অনুকরণ করে ও তার ন্যায়ের পথে গমন করে। তবু, আমাদের ঈশ্বর কঠোর বা দূরুহ ন্যায়বিচার দ্বারা পরিচালিত নয়। তাঁর অনুকম্পা ও প্রেম মহৎ। তিনি তাহা দেখান ক্ষমা করে তাদের, যাদের সত্যই মন পরিবর্তন হয়েছে। তাই, ইহা, সঠিক যে পৌল আমাদের ঈশ্বরকে অনুকরণ করে ক্ষমাকারী হতে বলেছেন: “পরস্পর ক্ষমা কর, যেমন ঈশ্বরও খ্রীষ্টে তোমাদিগকে ক্ষমা করিয়াছেন। অতএব প্রিয় বৎসদের ন্যায় তোমরা ঈশ্বরের অনুকারী হও আর প্রেমে চল।”—ইফিষীয় ৪:৩২-৫:২.
২৫ সত্য খ্রীষ্টানরা অনেক সময় যাবৎ যিহোবার এই ন্যায় অনুকম্পা ও ক্ষমা করার যে অভিপ্রায় তা অনুকরণ করার চেষ্টা করেছে। আমরা যত তাঁকে জানতে পারি তত তাঁকে এই ব্যাপারে অনুকরণ করার ইচ্ছা আমাদের মধ্যে জাগা উচিত। কি করে, আমরা এই বিষয় তার প্রতি প্রয়োগ করতে পারি যে হয়ত পাপের পথে চলার জন্য কঠোর শাস্তি পেয়েছে? আসুন দেখি। (w91 4/15)
[পাদটীকাগুলো]
a “সমাজচ্যুত করা পরিষ্কার করে বলতে তাদের মেলামেশা করতে না দেওয়া যারা স্বেচ্ছায় এমন কিছু করে যখন সেই দল তাকে তাদের ভাল সদস্যদের সাথে মেলামেশা করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে। . . . সমাজচ্যুত হওয়া খ্রীষ্টীয় শতাব্দীতে বোঝায় যে একটি ধর্ম্মিয় দল একজনকে প্রভুর ভোজ, মণ্ডলীগত উপাসনা, ও যে কোন সামাজিক মেলামেশা থেকে বাদ দিয়েছে তার দোষের জন্য।”—দ্যা ইন্টারন্যাশানাল স্ট্যানর্ডারড বাইবেল এনসাইক্লোপিডিয়া।
আপনি কি শিখেছেন?
◻ যিহোবার যে ন্যায়বিচার তা কি ভাবে প্রদর্শিত হয় ইস্রায়েলদের মণ্ডলীতে এবং খ্রীষ্টীয় মণ্ডলীতে?
◻ ঈশ্বরের যে অনুকম্পার গুণ কেন আমাদের অনুকরণ করা দরকার, ন্যায়বিচারের সাথে?
◻ কি পরিচালিত করে লূক ১৫ অধ্যায়ের দৃষ্টান্তগুলি দিতে, সেগুলি আমাদের কি শিক্ষা দেয়?
[Pictures on page 12]
ইর-রাহার সমতল ভূমি সিনয় পর্বতের সম্মুখে। (বাঁদিকের পশ্চাৎভাগে)
[সজন্যে]
Pictorial Archive (Near Eastern History) Est.
[১১ পৃষ্ঠার চিত্র সৌজন্যে]
Garo Nalbandian
[১৪ পৃষ্ঠার চিত্র সৌজন্যে]
Garo Nalbandian