ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯২ ৬/১ পৃষ্ঠা ১৫-১৯
  • পুত্রকে শ্রদ্ধা করুন, যিনি যিহোবার প্রধান প্রতিনিধি

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • পুত্রকে শ্রদ্ধা করুন, যিনি যিহোবার প্রধান প্রতিনিধি
  • ১৯৯২ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • অন্য পথে কেউ কেউ যীশুকে অশ্রদ্ধা করে
  • পুত্রকে শ্রদ্ধা করার কারণ
  • তিনি আমাদের জন্য যা করেছেন
  • আমরা কি করে পুত্রকে শ্রদ্ধা করতে পারি
  • যিহোবাকে শ্রদ্ধা করা–কেন ও কি ভাবে?
    ১৯৯২ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • সকল প্রকার ব্যক্তিদের সমাদর কর
    ১৯৯২ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • অন্যদের সম্মান দেখান
    ১৯৯৯ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • যাদের সমাদর করা উচিত, তাদের সমাদর করুন
    প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে (অধ্যয়ন)—২০১৭
আরও দেখুন
১৯৯২ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯২ ৬/১ পৃষ্ঠা ১৫-১৯

পুত্রকে শ্রদ্ধা করুন, যিনি যিহোবার প্রধান প্রতিনিধি

“পুত্রকে যে সমাদর করে না সে পিতাকে সমাদর করেনা যিনি তাহাকে পাঠাইয়াছেন।”—যোহন ৫:২৩.

১. খ্রীষ্টীয় জগতের ত্রিত্বের বিশ্বাস কি করে যীশুকে অশ্রদ্ধা করে?

আজ অনেকে খ্রীষ্টীয় জগতে দাবি করে যে তারা যীশু খ্রীষ্টকে শ্রদ্ধা করে, কিন্তু ঠিক তার বিপরীত কাজ করে থাকে। কি করে? অনেকে, দাবি করে থাকে যে যীশু হচ্ছেন সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, এবং ঈশ্বর, যিনি সব কিছুর সৃষ্টিকর্ত্তা, তিনি পৃথিবীতে এসে মনুষ্যরূপে জীবনধারণ করেন ও মারা যান। এই দাবি স্পষ্টভাবে প্রকাশিত ত্রিত্বের মতবাদ, যা হল খ্রীষ্টজগতের মৌলিক শিক্ষা। কিন্তু ত্রিত্ব যদি মিথ্যা হয়, যদি যীশু, বাস্তবেই, ঈশ্বরের থেকে ছোট হন এবং ঈশ্বরের অধীন হন, তাহলে তার যে সম্পর্ক ঈশ্বরের সাথে তাকে ভুলভাবে বর্ণনা করা কি যীশুকে অসুখী করবে না? প্রকৃতপক্ষে, এইরূপ ভুল বর্ণনাকে তিনি তার প্রতি ও তিনি যা কিছু শিক্ষা দিয়েছেন তার প্রতি অশ্রদ্ধা মনে করবেন।

২. শাস্ত্র কি করে দেখায় যে যীশু ঈশ্বরের থেকে ছোট এবং তাঁর অধীনে?

২ সত্য হল যে, যীশু কখন ঈশ্বর বলে দাবি করেননি, কিন্তু তিনি বার বার নিজেকে “ঈশ্বরের পুত্র” বলে আখ্যা দিয়েছেন। যারা তার শত্রু তারাও তা মেনে নেয়। (যোহন ১০:৩৬; ১৯:৭) যীশু সর্বদা সচেতন ছিলেন তার পিতাকে মহিমান্বিত করতে এবং নিজেকে তাঁর অধীন রাখতে, যেমন তিনি স্বীকার করেন: “পুত্র আপনা হইতে কিছুই করিতে পারেন না, কেবল পিতাকে যাহা করিতে দেখেন, তাহাই করেন, কেননা তিনি যাহা যাহা করেন, পুত্রও সেই সকল তদ্রুপ করেন। আমি আপনা হইতে কিছুই করিতে পারি না . . . কেননা আমি আপনার ইচ্ছা পূর্ণ করিতে চেষ্টা করি না, কিন্তু আমার প্রেরণকর্ত্তার ইচ্ছা পূর্ণ করিতে চেষ্টা করি।” আবার, তিনি বলেন: “আমি তাঁহার নিকট হইতে আসিয়াছি, আর তিনিই আমাকে প্রেরণ করিয়াছেন।” তিনি এও বলেন: “আমি ঈশ্বর হইতে বাহির হইয়া আসিয়াছি।” (যোহন ৫:১৯, ৩০; ৭:২৮, ২৯; ৮:৪২) যীশু কখনও ইঙ্গিত করেননি যে তিনি ঈশ্বর, অথবা তিনি তাঁর সমকক্ষ। তাই এমন শিক্ষা দেওয়া যীশুকে অশ্রদ্ধা করে।

অন্য পথে কেউ কেউ যীশুকে অশ্রদ্ধা করে

৩. (ক) যীশুর সম্বন্ধে কি অস্বীকার করে কেউ কেউ তাকে অশ্রদ্ধা করে? (খ) যীশু তার অতিমানবিয় অস্তিত্ব সম্বন্ধে কি সাক্ষ্য দেন?

৩ খ্রীষ্টীয় জগতে আজ, আশ্চর্য্যজনক ভাবে কেউ কেউ আছে, যারা যীশুকে অশ্রদ্ধা করে ইহা অস্বীকার করে যে তার মানব অস্তিত্বের পূর্বে এক অস্তিত্ব ছিল। যাহাহোক, কেবলমাত্র আমরা যদি বাস্তবে উপলব্ধি করি যে যীশু স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে এসেছিলেন তাহলে আমরা তাকে সঠিক শ্রদ্ধা দেখাতে শুরু করব। যীশু নিজে বার বার বলেছেন যে তার একটি অতিমানবিয় অস্তিত্ব ছিল। “আর স্বর্গে কেহ উঠে নাই,” তিনি বলেন, “কেবল যিনি স্বর্গ হইতে নামিয়াছেন, সেই মনুষ্যপুত্র।” পরে তিনি বর্ণনা করেন: “আমি সেই জীবন্ত খাদ্য, যাহা স্বর্গ হইতে নামিয়া আসিয়াছে . . . তবে মনুষ্যপুত্র পূর্বে যেখানে ছিলেন, সেখানে তোমরা তাহাকে উঠিতে দেখিলে কি বলিবে?” এবং আবার বলেন: “তোমরা অধঃস্থানের; আমি ঊর্দ্ধস্থানের। . . . সত্য, সত্য, আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, অব্রাহামের জন্মের পূর্বাবধি আমি আছি।” (যোহন ৩:১৩; ৬:৫১, ৬২; ৮:২৩, ৫৮) যীশু তাকে যে রাত্রে বিশ্বাসঘাতকতাপূর্বক ধরিয়ে দেওয়া হয় প্রার্থনায় তার স্বর্গীয় পিতার কাছে তার অতিমানবিয় অস্তিত্বের সম্বন্ধে মনোযোগ আকর্ষণ করেন।—যোহন ১৭:৫.

৪. (ক) আরও কি অতিরিক্ত পথে অনেকে যীশুকে অশ্রদ্ধা করে? (খ) কি প্রমাণ যথেষ্ট হওয়া উচিত এই বিষয় স্থাপন করার জন্য যে যীশু সত্যই বেঁচে ছিলেন, এবং কেন?

৪ অনেকে আবার খ্রীষ্টীয় জগতে সেই চরমতায় পৌঁছায় যে তারা অস্বীকার করে যে যীশু একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তি ছিলেন, যে তিনি কখন একজন মনুষ্যরূপে বেঁচে ছিলেন। যদি সত্যই তিনি বেঁচে ছিলেন না, তাহলে কি করে এবং কেন তাকে আমাদের শ্রদ্ধা করা দরকার তা আলোচনা করে কোন লাভ নেই। তবুও যে প্রচুর প্রত্যক্ষসাক্ষীদের সাক্ষ্য পাওয়া যায় যা শাস্ত্রে রক্ষিত হয়েছে তাহাই কোন সন্দেহের উর্দ্ধে প্রমাণস্বরূপ যে যীশু বাস্তবে পৃথিবীতে বেঁচে ছিলেন। (যোহন ২১:২৫) বিশেষ করে ইহা সত্য কারণ পূর্বের খ্রীষ্টানগণ প্রায়ই তাদের জীবন ও স্বাধীনতা বিপন্ন করে যীশুর বিষয় শিক্ষা দেন। (প্রেরিত ১২:১-৪; প্রকাশিত বাক্য ১:৯) যাহাহোক, তার শিষ্যরা যা কিছু লিপিবদ্ধ করেছেন তা ব্যতিরেকে, যীশুর অস্তিত্ব কি প্রমাণ করা যেতে পারে?

৫, ৬. শাস্ত্র ব্যতিরেকে, ঐতিহাসিক প্রমাণ, যীশু খ্রীষ্টের বাস্তব অস্তিত্ব সম্বন্ধে কি দেখায়?

৫ দ্যা নিউ এন্‌সাইক্লোপীডিয়া ব্রিটানিকা (১৯৮৭) বলে: “প্রাচীণকালের স্বাধীন তথ্য প্রমাণ করে যে খ্রীষ্টতত্ত্বের বিপক্ষকারীরাও যীশুর ঐতিহাসিক বাস্তবিকতাকে সন্দেহ করেনি।” কতগুলি এই স্বাধীন তথ্য কি? যিহৃদী পণ্ডিত যোশেফ ক্লশনারের কথা অনুসারে, প্রাচীণ টালমুডিক লেখার সাক্ষ্যপ্রমাণ রয়েছে। (Jesus of Nazareth, Page 20; জিজাস অফ নাজেরৎ, পৃষ্ঠা ২০) প্রথম-শতাব্দীর যিহৃদী ঐতিহাসক যোষেফাসের সাক্ষ্যও আছে। উদাহরণস্বরূপ, তিনি যাকোবকে পাথর মারা সম্বন্ধে বর্ণনা করেন, তাকে সনাক্ত করেন “যীশুর ভাই যাকে খ্রীষ্ট বলা হয়।”—Jewish Antiquities, XX, [xi, 1].

৬ এর সাথে যোগ করা যায়, আরও রোমীয় ঐতিহাসকদের সাক্ষ্য প্রমাণ, বিশেষ করে অধিক সম্মানিত টেসিটাস। তিনি দ্বিতীয় শতাব্দীর প্রথমের দিকে লেখেন “একটি শ্রেণী যাদের ঘৃণা করা হয় জঘন্য বলে, তাদের জনগণ খ্রীষ্টান বলে। খ্রীষ্টাস [খ্রীষ্ট], যার থেকে এই নাম [খ্রীষ্টান] উৎপত্তি হয়, সে তিবরিয়ের রাজ্যত্বকালে মৃত্যুদণ্ড সহ্য করে আমাদের একজন প্রাদেশিক দেওয়ানের হাতে।” (The annals, XV, XLIV, দ্যা অ্যানালস) ইহা লক্ষ্য করা যে যীশু একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তি ছিলেন তার প্রমান অদম্য, ১৮ শতাব্দীর ফরাশী দর্শনশাস্ত্রগত নীতিবাদী, জঁ-জাক্‌ রুসো, সাক্ষ্য দেন: “সক্রেটিসের ইতিহাস যা কেউ সন্দেহ করে বলে মনে হয় না, তাও যীশু খ্রীষ্টের মত এত ভাল করে প্রমাণযুক্ত নয়।”

পুত্রকে শ্রদ্ধা করার কারণ

৭. (ক) শাস্ত্রের কোন সাক্ষ্য আমাদের বাধ্য করে যীশু খ্রীষ্টকে শ্রদ্ধা করতে? (খ) যিহোবা আর কি ভাবে তাঁর পুত্রকে আরও অধিকতর শ্রদ্ধা করেছেন?

৭ এবার আমরা যীশুকে শ্রদ্ধা করার ব্যাপারে আসি। তার অনুগামীদের যে তাকে শ্রদ্ধা করতে হবে তা আমরা লক্ষ্য করতে পারি যোহন ৫:২২, ২৩-শে তার কথার দ্বারা: “কারণ পিতা কাহারও বিচার করেন না, কিন্তু সমস্ত বিচার-ভার পুত্রকে দিয়াছেন, যেন সকলে যেমন পিতাকে সমাদর করে, তেমনি পুত্রকে সমাদর করে। পুত্রকে যে সমাদর করে না, সে পিতাকে সমাদর করে না, যিনি তাঁহাকে পাঠাইয়াছেন।” তার পুনরুত্থানের পর থেকে, যিহোবা খ্রীষ্টকে আরও অধিক মাত্রায় সম্মানিত করেছেন, ‘কারণ তিনি মৃত্যু সহ্য করেছেন সেই কারণে ঈশ্বর তাকে পরাক্রম ও কর্তৃত্বসমূহে অভিষিক্ত করেছেন।’ (ইব্রীয় ২:৯; ১ পিতর ৩:২২) মূলতঃ, আমাদের যীশুকে শ্রদ্ধা করার উভয় কারণ রয়েছে তিনি কে এবং তিনি যা করেছেন তার জন্য।

৮. যীশু খ্রীষ্ট সম্বন্ধে কোন অনুপম তথ্যগুলি আমাদের শ্রদ্ধার যোগ্য?

৮ যীশু খ্রীষ্ট শ্রদ্ধা পাওয়ার অধিকারী কারণ তিনি, লোগস, অথবা বাক্য হিসাবে, যিহোবার তুলনাহীন মুখপাত্র। শাস্ত্র থেকে ইহা প্রতীয়মান যে “বাক্য” উপাধি যীশুর প্রতি প্রযোজ্য তিনি পৃথিবীতে আসার পূর্বে এবং স্বর্গে ফেরৎ যাবার পরও। (যোহন ১:১; প্রকাশিত বাক্য ১৯:১৩) প্রকাশিত বাক্য ৩:১৪-পদে তিনি নিজের সম্বন্ধে বলেন “যিনি ঈশ্বরের সৃষ্টির আদি।” তিনি কেবল যে “সমুদয় সৃষ্টির প্রথমজাত” কিন্তু একজন “একজাত পুত্র” হওয়ার দরুন তিনি হচ্ছেন একমাত্র জন যাকে যিহোবা ঈশ্বর নিজে সরাসরি সৃষ্টি করেছেন। (কলসীয় ১:১৫; যোহন ৩:১৬) আরও, “সকলই তাহার দ্বারা হইয়াছিল, যাহা হইয়াছে, তাহার কিছুই তাহা ব্যতিরেকে হয় নাই।” (যোহন ১:৩) সেইকারণে, যখন আমরা পড়ি আদিপুস্তক ১:২৬ পদে যে ঈশ্বর বলেন, “আমরা আমাদের প্রতিমূর্ত্তিতে, আমাদের সাদৃশ্যে মনুষ্য নির্ম্মাণ করি,” সেই “আমরা”-র মধ্যে লোগস বা বাক্য অন্তর্ভুক্ত। অবশ্যই, যীশু যে তার অতিমানবিয় অস্তিত্বে অপূর্ব সুযোগ পেয়েছিলেন যিহোবা ঈশ্বরের সাথে সৃষ্টিতে অংশ নেবার তাহাই তাকে বিরাট শ্রদ্ধার যোগ্য করে।

৯. কেন আমরা এই উপসংহারে আসি যে সেই প্রধান দূত মীখায়েল হল যীশু, এবং মোশির দেহ সম্বন্ধে মীখায়েল কি ভাবে যিহোবাকে শ্রদ্ধা দেখান?

৯ যীশু খ্রীষ্ট আরও শ্রদ্ধা পাওয়ার যোগ্য কারণ তিনি যিহোবার প্রধান দূত, অথবা বিশিষ্টতম দূত। কিসের উপর ভিত্তি করে আমরা এই উপসংহারে পৌঁছাই? কারণ, শব্দাগ্রে যে কথাটি লাগান হয়েছে “আরচ” তার অর্থ হচ্ছে “প্রধান” অথবা “মুখ্য” যা ইঙ্গিত করে যে কেবল একজন প্রধান দূত আছেন। ঈশ্বরের বাক্য তার সম্বন্ধে বলতে গিয়ে পুনরুত্থিত প্রভু যীশু খ্রীষ্ট সম্বন্ধে উল্লেখ করে। আমরা পড়ি: “কারণ প্রভু স্বয়ং আনন্দধ্বনি সহ, প্রধান দূতের রব সহ, এবং ঈশ্বরের তূরীবাদ্য সহ স্বর্গ হইতে নামিয়া আসিবেন, আর যাহারা খ্রীষ্টে মরিয়াছে, তাহারা প্রথমে উঠিবে।” (১ থিষলনীকীয় ৪:১৬) এই প্রধান দূতের একটি নাম আছে, যেমন আমরা পড়ি যিহৃদা ৯: “কিন্তু প্রধান স্বর্গদূত মীখায়েল যখন মোশীর দেহের বিষয়ে দিয়াবলের সহিত বাদানুবাদ করিলেন, তখন নিন্দাযুক্ত নিষ্পত্তি করিতে সাহস করিলেন না, কিন্তু কহিলেন, ‘প্রভু তোমাকে ভর্ৎসনা করুন।’” যিহোবার অগ্রে গিয়ে দিয়াবলের উপর বিচারাজ্ঞা না এনে, যীশু তার স্বর্গীয় পিতাকে শ্রদ্ধা করলেন।

১০. (ক) মীখায়েল ঈশ্বরের রাজ্যের পক্ষে যুদ্ধ করা সম্বন্ধে কি করে নেতৃত্ব দেন? (খ) ইস্রায়েল জাতির ক্ষেত্রে মীখায়েল কি ভূমিকা পালন করেন?

১০ এই প্রধান দূত মীখায়েল ঈশ্বরের রাজ্যের পক্ষে যুদ্ধ করেন, সর্বাগ্রে পরিচালনা দেন স্বর্গকে শয়তান ও তার পৈশাচিক দল থেকে পরিষ্কার করার জন্য। (প্রকাশিত বাক্য ১২:৭-১০) আর ভাববাদী দানিয়েল বলেন যে ‘সে ঈশ্বরের লোকদের পক্ষে দাঁড়ায়।’ (দানিয়েল ১২:১) সেইকারণে, এমন প্রত্যক্ষ হয় যে, মীখায়েল হচ্ছে “সত্য ঈশ্বরের স্বর্গদূত যে ইস্রায়েলের শিবিরের অগ্রে অগ্রে যাইতেছিল” আর তাকেই আবার ঈশ্বর ব্যবহার করেন তার লোকদের প্রতিজ্ঞাত দেশে নিয়ে আসার জন্য। “তাহা হইতে সাবধান থাকিও, এবং তাহার রবে অবধান করিও,“ ঈশ্বর আজ্ঞা দেন। “তাহার বিরুদ্ধাচরণ করিও না, . . . কারণ তাহার অন্তরে আমার নাম আছে।” (যাত্রাপুস্তক ১৪:১৯; ২৩:২০, ২১; NW) কোন সন্দেহ নেই যে যিহোবার প্রধান দূত অনেক আগ্রহ নেন ঈশ্বরের নামের প্রতিনিধিস্বরূপ লোকদের প্রতি। উপযুক্তভাবে তিনি আর একটি দূতকে সাহায্য করতে আসেন যাকে পাঠানো হয়েছিল ভাববাদী দানিয়েলকে সান্ত্বনা দেবার জন্য, এবং যাকে এক শক্তিশালী মন্দ আত্মা বিপক্ষতা করে। (দানিয়েল ১০:১৩) সেইজন্য এই উপসংহারে পৌঁছানো সঠিক হবে যে সন্‌হেরীবের ১৮৫,০০০ সৈন্য হত হয় যে দূতের দ্বারা সে প্রধান দূত মীখায়েল ছাড়া আর কেউ নয়।—যিশাইয় ৩৭:৩৬.

১১. পৃথিবীতে কি ধরনের জীবন যাপন করার জন্য যীশু আমাদের শ্রদ্ধার যোগ্য?

১১ যীশু খ্রীষ্ট আমাদের শ্রদ্ধা পাওয়ার যোগ্য কেবল এই জন্য নয় কারণ তিনি পদের অধিকারী কিন্তু তিনি আমাদের শ্রদ্ধার ভাজন কারণ তিনি আমাদের জন্য যা করেছেন সেই জন্য। উদাহরণস্বরূপ, তিনি হলেন একমাত্র ব্যক্তি যিনি সিদ্ধ জীবন যাপন করেন। আদম ও হবাকে সিদ্ধরূপে সৃষ্টি করা হয়, কিন্তু তাদের সেই সিদ্ধ অবস্থা খুব অল্প-স্থায়ী হয়। যাহাহোক, যীশু খ্রীষ্ট তিনি ‘সাধু, বিমল, পাপিগণ থেকে পৃথিক্‌কৃত’ থাকেন যদিও দিয়াবল তার উপর সকল ধরনের প্রলোভন অথবা তাড়না নিয়ে আসার সকল চেষ্টা করে। এই সব সত্বেও “তিনি পাপ করেন নাই, তাহার মুখে কোন ছলও পাওয়া যায় নাই।” সেইকারণে তিনি তার ধর্ম্মীয় বিপক্ষকারীদের চ্যালেঞ্জ করেন: “তোমাদের মধ্যে কে আমাকে পাপী বলিয়া প্রমাণ করিতে পারে?” তাদের মধ্যে একজন তা করতে পারে না! (ইব্রীয় ৭:২৬; ১ পিতর ২:২২; যোহন ৮:৪৬) যেহেতু তিনি নিষ্পাপ বিশ্বস্ততা রাখেন, যীশু তার স্বর্গীয় পিতাকে যথার্থরূপে বিশ্বের ন্যায়সম্মত সার্বভৌম কর্ত্তা হিসাবে দেখান এবং প্রমাণ করেন যে শয়তান হল একজন আদি এবং লজ্জাকর মিথ্যাবাদী।—হিতোপদেশ ২৭:১১.

১২. (ক) যীশু কি ধরনের ব্যক্তি ছিলেন, তিনি কি করেন এবং কি ভাবে অন্যদের জন্য কষ্ট সহ্য করেন? (খ) আপনি কেন বলবেন যে যীশু যা করেছেন এবং যে কারণে কষ্ট সহ্য করেছেন তার জন্য তিনি আমাদের শ্রদ্ধার যোগ্য?

১২ যীশু খ্রীষ্ট আমাদের শ্রদ্ধার যোগ্য, কেবল এই জন্য নয় যে তিনি সিদ্ধ, নিষ্পাপ জীবন যাপন করেন কিন্তু এইজন্যও যে তিনি ভাল ব্যক্তি ছিলেন, যিনি ছিলেন নিঃস্বার্থপর, আত্মোৎসর্গকারী এক ব্যক্তি। (তুলনা করুন রোমীয় ৫:৭) লোকেদের আত্মিক ও দৈহিক চাহিদাগুলির সেবা করার জন্য তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। তার পিতার গৃহের জন্য তিনি কি উদ্দীপনাই না দেখান, এবং তার শিষ্যদের সাথে তার ব্যবহারে তিনি কি ধৈর্য না প্রদর্শন করেন! কি যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যাবার জন্যই না তিনি ইচ্ছুক ছিলেন তার পিতার ইচ্ছা পালন করার জন্য! তিনি গেৎশিমানীর বাগানে যে কঠোর পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যান, সেই সম্বন্ধে বাইবেল বলে: “দুঃখে মগ্ন হইয়া আরও একাগ্র ভাবে প্রার্থনা করিলেন; আর তাহার ঘর্ম্ম যেন রক্তের ঘনীভূত বড় বড় ফোঁটা হইয়া ভূমিতে পড়িতে লাগিল।” হ্যাঁ, তিনি “প্রবল আর্ত্তনাদ ও অশ্রুপাত সহকারে তাঁহারই নিকটে প্রার্থনা ও বিনতি উৎসর্গ করিয়াছিলেন।” (লূক ২২:৪৪; ইব্রীয় ৫:৭) কি নিখুঁত ভাবে ভাববাদী যিশাইয় তার এই কঠোর পরীক্ষার কথা বলে রেখেছিলেন যিশাইয় ৫৩:৩-৭ পদে!

১৩. তার স্বর্গীয় পিতাকে শ্রদ্ধা করার ক্ষেত্রে যীশু কি উত্তম উদাহরণ স্থাপন করেছেন?

১৩ যীশু আমাদের শ্রদ্ধা পাওয়ার যোগ্য কারণ তিনি যে সুন্দর উদাহরণ স্থাপন করেছেন তার পিতাকে শ্রদ্ধা করার ব্যাপারে। তিনি বলতে পেরেছিলেন: “আমি আপন পিতাকে সমাদর করি।” (যোহন ৮:৪৯) সকল সময় তার কথা ও কাজের দ্বারা তিনি যিহোবা ঈশ্বরের প্রতি শ্রদ্ধা নিয়ে আসেন। সেইকারণে যখন তিনি একজন ব্যক্তিকে আরোগ্য করেন, বাইবেলের বর্ণনা আমাদের বলে, এই নয় যে লোকেরা যীশুর গৌরব করে, কিন্তু তারা “ঈশ্বরের গৌরব করিতে লাগিল।” (মার্ক ২:১২) সেইজন্য, তার পার্থিব পরিচর্য্যার শেষে, যীশু উপযুক্ত কারণে বলতে পেরেছিলেন প্রার্থনায় তার স্বর্গীয় পিতাকে: “তুমি আমাকে যে কার্য্য করিতে দিয়াছ, তাহা সমাপ্ত করিয়া আমি পৃথিবীতে তোমাকে মহিমান্বিত করিয়াছি।”—যোহন ১৭:৪.

তিনি আমাদের জন্য যা করেছেন

১৪. যীশুর মৃত্যু আমাদের জন্য কি সাধন করেছে যা তাকে আমাদের শ্রদ্ধার যোগ্য করে?

১৪ আর কত অধিক ভাবেই না তিনি আমাদের শ্রদ্ধা পাওয়ার যোগ্য যে সকল বিষয় তিনি আমাদের জন্য সাধন করেছেন তার জন্য! তিনি আমাদের পাপের জন্য মৃত্যু বরণ করেন যাতে আবার যিহোবা ঈশ্বরের সাথে আমাদের পুনরায় মিলন ঘটে। যীশু নিজের সম্বন্ধে বলেন: “যেমন মনুষ্যপুত্র পরিচর্য্যা পাইতে আইসেন নাই, কিন্তু পরিচর্য্যা করিতে, এবং অনেকের পরিবর্ত্তে আপন প্রাণ মুক্তির মূল্যরূপে দিতে আসিয়াছেন।” (মথি ২০:২৮) সেইকারণে তার মৃত্যু সেই সব সম্ভব করেছে যা সেই রাজ্য আমাদের মনুষ্যদের জন্য সাধন করবে: ১৪৪,০০০ হাজারের জন্য যারা তার সেই বধূশ্রেণী সংগঠন করে স্বর্গে জীবন এবং পরমদেশরূপ পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ ব্যক্তিদের জন্য জীবন যারা পরীক্ষায় তাদের বিশ্বাস ও বাধ্যতা প্রমাণ করেছে।—গীতসংহিতা ৩৭:২৯; প্রকাশিত বাক্য ১৪:১-৩; ২১:৩, ৪.

১৫. যীশু তার পিতার ব্যক্তিত্ব যে আমাদের কাছে প্রকাশ করেছেন তার একটি উদাহরণ কি?

১৫ যীশু খ্রীষ্ট আমাদের শ্রদ্ধা পাওয়ার যোগ্য এই কারণেও যে, মহান্‌ শিক্ষক হিসাবে, তিনি তার পিতার উদ্দেশ্য ও ব্যক্তিত্ব আমাদের কাছে সিদ্ধতায় ব্যক্ত করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, তার পার্বত্য উপদেশে, তিনি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তার পিতার উদারতার প্রতি যে তিনি সূর্যের আলো এবং বৃষ্টি ভাল মন্দ সকলের প্রতি সমানভাবে দিয়ে থাকেন এবং তারপর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন: “তোমাদের স্বর্গীয় পিতা যেমন সিদ্ধ, তোমরাও তেমনি সিদ্ধ হও।”—মথি ৫:৪৪-৪৮.

১৬. প্রেরিত পৌল যীশুর শ্রদ্ধা-ভাজন পথকে সংক্ষিপ্তসার করে কিভাবে বলেন?

১৬ প্রেরিত পৌল যীশুর শ্রদ্ধা-ভাজন পথের উত্তম সংক্ষিপ্তসার করেন যখন তিনি লেখেন: “যদিও [তিনি] ঈশ্বরের স্বরূপবিশিষ্ট অবস্থায় বিরাজ করিতে ছিলেন তবুও তিনি ঈশ্বরের সহিত সমান থাকা ধরিয়া লইবার বিষয় জ্ঞান করিলেন না। না, কিন্তু আপনাকে শূন্য করিলেন, দাসের রূপ ধারণ করিলেন, মনুষ্যদের সাদৃশ্যে জন্মিলেন। আকারে প্রকারে মনুষ্যবৎ হইয়া আপনাকে অবনত করিলেন; মৃত্যু পর্য্যন্ত, এমন কি শাস্তিদণ্ডে মৃত্যু পর্য্যন্ত আজ্ঞাবহ রহিলেন।”—ফিলিপীয় ২:৫-৮; NW.

আমরা কি করে পুত্রকে শ্রদ্ধা করতে পারি

১৭, ১৮. বিভিন্ন কি পথে আমরা যীশু খ্রীষ্টের প্রতি শ্রদ্ধা আনতে পারি?

১৭ যেহেতু কোন সন্দেহ নেই যে যীশু খ্রীষ্ট আমাদের শ্রদ্ধার যোগ্য, আমরা যে প্রশ্নে আসি তা হল: আমরা কি করে পুত্রকে শ্রদ্ধা করতে পারি? আমরা তা করি তার মুক্তির মূল্যরূপী প্রায়শ্চিত্তে বিশ্বাস দেখিয়ে, এবং আমরা তা প্রদর্শন করি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে যা হল অনুতাপ, পরিবর্ত্তন, উৎসর্গ, এবং বাপ্তিস্ম। প্রার্থনায় যীশুর নামে যিহোবার কাছে গিয়ে, আমরা যীশুকে শ্রদ্ধা দেখাই। আমরা তাকে আরও শ্রদ্ধা দেখাই যখন তার কথায় আমরা মনোযোগ দিই: “কেহ যদি আমার পশ্চাৎ আসিতে ইচ্ছা করে, তবে সে আপনাকে অস্বীকার করুক, আপন শাস্তিদণ্ড তুলিয়া লউক, এবং অবিরাম আমার পশ্চাৎগামী হউক।” (মথি ১৬:২৪; NW) আমরা যীশু খ্রীষ্টকে শ্রদ্ধা করি যখন আমরা তার আদেশের প্রতি মনোযোগ দিই যে তাহার রাজ্য ও ধার্ম্মিকতার চেষ্টা কর, এবং আমরা তাকে শ্রদ্ধা তখনও করি যখন তার আদেশে মনোযোগ দিয়ে শিষ্যকরণের কাজে অংশ নিই। আবার, আমরা যীশুকে শ্রদ্ধা করি যখন আমরা ভ্রাতৃপ্রেম দেখাই যা তিনি বলেন তার সকল সত্য অনুগামীকে সনাক্ত করবে।—মথি ৬:৩৩; ২৮:১৯, ২০; যোহন ১৩:৩৪, ৩৫.

১৮ অধিকন্তু, আমরা পুত্রকে শ্রদ্ধা করি তার নাম আমাদের উপর গ্রহণ করে, আর তারপর সেই নাম অনুযায়ী উত্তম আচরণ করে। (প্রেরিত ১১:২৬; ১ পিতর ২:১১, ১২) প্রেরিত পৌল বলেন যে আমরা যেন যীশুর পদাঙ্ক খুব কাছ থেকে অনুসরণ করি। (১ পিতর ২:২১) এই ভাবে আমাদের সকল পথে তার আচরণ অনুসরণ করে, আমরা তাকে শ্রদ্ধা করি। আর অবশ্যই, যখন আমরা খ্রীষ্টের বাৎসরিক মৃত্যু বার্ষিকী উদ্‌যাপন করি, তখন আমরা তাকে বিশেষ শ্রদ্ধা দিই।—১ করিন্থীয় ১১:২৩-২৬.

১৯, ২০. (ক) যে অনুগামীরা তাকে শ্রদ্ধা করে যীশু তাদের জন্য কি পুরস্কার রেখেছেন, এখন এবং ভবিষ্যতে? (খ) পুত্রের সাথে সম্বন্ধে আমরা কি নিশ্চয়তা রাখতে পারি?

১৯ সেই পথ অনুসরণ করার জন্য যা তাকে শ্রদ্ধা করে যীশু তার শিষ্যদের কি পুরস্কার দিয়ে থাকেন? তিনি বলেন: “আমি তোমাদিগকে সত্য কহিতেছি, এমন কেহ নাই, যে আমার নিমিত্ত ও সুসমাচারের নিমিত্ত বাটী কি ভ্রাতৃগণ কি ভগিনী কি মাতা কি পিতা কি সন্তানসন্ততি কি ক্ষেত্র ত্যাগ করিয়াছে, কিন্তু এখন ইহকালে তাহার শতগুণ না পাইবে; সে বাটী, ভ্রাতা, ভগনী, মাতা, সন্তান ও ক্ষেত্র, তাড়নার সহিত এই সকল পাইবে, এবং আগামী যুগে অনন্ত জীবন পাইবে।”—মার্ক ১০:২৯, ৩০.

২০ এর অর্থ হল যে আমরা যদি যীশুর জন্য ত্যাগস্বীকার করি, তিনি দেখবেন যাতে আমরা পুরস্কার পাই। যীশু আমাদের নিশ্চয়তা দেন: “যে কেহ মনুষ্যদের সাক্ষাতে আমাকে স্বীকার করে, আমিও আপন স্বর্গস্থ পিতার সাক্ষাতে তাহাকে স্বীকার করিব।” (মথি ১০:৩২) ঠিক যেমন তার স্বর্গীয় পিতা তাদের শ্রদ্ধা করেন যারা তাঁকে শ্রদ্ধা করে, আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি যে যিহোবার একজাত পুত্র তার পিতাকে এই ব্যাপারে অনুকরণ করবেন, যেমন পুত্র অন্য ব্যাপারেও করে থাকেন। (w91 2/1)

আপনি কি ভাবে উত্তর দেবেন?

▫ খ্রীষ্টীয় জগতে কি করে অনেকে পুত্রকে অশ্রদ্ধা করে?

▫ যীশু তার অতিমানবিয় অস্তিত্ব সম্বন্ধে কি সাক্ষ্য দেন?

▫ যীশুকে শ্রদ্ধা করার আমাদের কিছু কারণ কি?

▫ কতগুলি কি পথে আমরা যীশুকে শ্রদ্ধা করতে পারি?

▫ যীশু খ্রীষ্টকে শ্রদ্ধা করার দ্বারা কি উপকার আসে?

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার