ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • dt পৃষ্ঠা ৩-৩১
  • মুক্তিতে পরিচালিত ঐশিক সত্যের পথটি

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • মুক্তিতে পরিচালিত ঐশিক সত্যের পথটি
  • মুক্তিতে পরিচালিত ঐশিক সত্যের পথটি
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • প্রথম নর ও নারীর উৎস
  • প্রথম ধর্ম্মের অনুসন্ধান
  • মৃত্যু কেন? মৃত্যু কি?
  • মনুষ্য পূর্ব্ব পুরুষদের নিকট প্রকাশিত ভবিষ্যতের আশা
  • অবতারদের উৎপত্তি
  • মন্দ আত্মিক দূতদের কে সৃষ্টি করেছিল?
  • আর্য্যরা কিরূপে ভারতে আসল
  • ঈশ্বরের সাথে মানব মিলনের জন্য প্রস্ত্ততি
  • কাজেই আপনার ভবিষ্যৎ কি?
  • কুরুক্ষেত্র থেকে আরমাগিদোন—এবং আপনার সংরক্ষণ
    কুরুক্ষেত্র থেকে আরমাগিদোন
  • যখন পাপ আর থাকবে না
    ১৯৯৭ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • ঈশ্বরের ইচ্ছা যখন পৃথিবীতে পূর্ণ হয়
    ২০০৪ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
মুক্তিতে পরিচালিত ঐশিক সত্যের পথটি
dt পৃষ্ঠা ৩-৩১

মুক্তিতে পরিচালিত ঐশিক সত্যের পথটি

একটি জনপ্রিয় ধারণা হল “সব পথই ঈশ্বরে নিয়ে যায়।” অবশ্য, এতে বুঝাবে যে, মানবজাতির সব ধর্ম্মই ঈশ্বরের গ্রায্য। একই চিন্তা ভগবৎগীতাতে আছে: “হে কুন্তীপুত্র অর্জ্জুন এমনকি অন্যান্য দেবতাদের ভক্তরাও বিশ্বাসে পূজা করে, তারাও আমারই কাছে বলিদান করে, যদিও সত্যনিয়মানুসারে নয়”​—⁠৯:২৩।

২. একজন যুক্তিবাদী ভাবতে পারে, ‘আজ কতগুলি ধর্ম্মের পথ আছে? ধার্ম্মিক লোকদের সামনে কি চিরদিনই বহুপ্রকার ধর্ম বিশ্বাস ছিল? উদাহরণস্বরূপ, পৃথিবীতে যখন একটি মাত্র মনুষ্য ছিল তখন কতগুলি ধর্মের পথ ছিল?’

৩. ধর্ম্ম আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে ইতিহাসের মাধ্যমে এসেছে একথা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। আর ধর্ম এবং ইতিহাসের অঙ্গাঙ্গীহেতু যুক্তিযুক্তভাবে সুদূর অতীতের ইতিহাস পড়লে আমরা প্রথম পূর্ব্বপুরুষের নিকট পৌঁছাব এবং এটাই আবার আমাদের প্রথম ধর্ম্মীয় পথে নিয়ে যাবে। কে সেই প্রথম পুরুষ? আর কি তার ধর্ম ছিল?

প্রথম নর ও নারীর উৎস

৪. হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে প্রথম নর মনু; বাইবেল অনুসারে তার নাম আদম। (আদি ৫:১) কিন্তু প্রথম মানুষের কি সত্য, বিশ্বাসযোগ্য, এবং জ্ঞাত বিষয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ কোন ইতিহাস আছে? আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের আবিষ্কারগুলি এই প্রশ্নের উওরের আরো সমর্থন যোগায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলে যে আমাদের শরীর মৃত্তিকা থেকে প্রাপ্ত ৯০টি বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান দ্বারা গঠিত। এখন যদি কোন প্রাচীন ইতিহাস নির্দিষ্টভাবে বলে যে প্রথম মানুষ মৃত্তিকা থেকে সৃষ্ট আপনি কি তা বিশ্বাস করবেন? বাইবেল কি বলে দেখুন? আদি ২:৭ পদে লেখা আছে: “আর যিহোভা ঈশ্বর মৃত্তিকার ধূলিতে আদমকে নির্মাণ করিলেন এবং তাহার নাসিকায় ফুঁ দিয়া প্রাণবায়ু প্রবেশ করাইলেন, তাহাতে মনুষ্য সজীব প্রাণী হইল।”

৫. মনুশ্য উৎপওর আদি ইতিহাস উল্লেখযোগ্য, যেমন হিন্দু পন্ডিত এস. রাধাকৃষ্ণননের কালক্রমানুসারে যিরূশালেমের শলোমনকে খৃঃপূঃ ৯৭৫ সালে এবং ভাববাদী মোশিকে খৃঃপূঃ ২য় সহস্রের মাঝামাঝি বলে বলা হয়। (১ রাজা ৬:১ তুলনীয়) আর হিন্দুস্বামী ভারতীকৃষ্ণ “মোশির আইন” সন্বন্ধে লিখতে গিয়ে মোশিকে আদিপুস্তকের রচয়িতা বলে স্বীকার করেন, কারণ এটাই হল ‘মোশির আইন’ বা পেন্টাটিউকের প্রথম অংশ। আর নির্ভরযোগ্য কালক্রমানুসারে আদিপুস্তক রচনার সময়কাল খৃষ্টপূর্ব্ব ১৫১৩ সালে। এইরূপে আমরা বিংশ শতাব্দীর আধুনিক বিজ্ঞানিদের দ্বারা সমর্থিত প্রথম মানবের বহু প্রাচীন সৃষ্টি বিবরণী পাই। রূপকথা এবং পৌরাণিক কাহিনী মুক্ত একটি নির্ভরযোগ্য ইতিহাস।

৬. হিন্দুদের কাছে ইহা খুবই আকর্ষণীয় কারণ অধুনা হিন্দু পন্ডিতদের মতে ঋগ্বেদ আনুমানিক খৃঃপূঃ প্রথম সহস্র বৎসরের প্রথমার্ধে লিখিত। সেখানে ধরিত্রীকে মানুষের জননী বলা হয়েছে। শত শত বৎসর ধরে মানুষ ধরিত্রীর গর্ভজাত বলে স্বীকৃত, পরিশেষে তা “ধরিত্রী মাতা” বলে জনপ্রিয়। ঋগ্বেদ ১. ১৬৪. ৩৩ তুলনা।

৭. ঋগ্বেদে মনুর বংশবৃত্তান্ত সম্ভবতঃ বাইবেল থেকে উৎপত্তি। প্রাচীন হিন্দুশাস্ত্রে প্রথম পুরুষকে মনু বলা হয়েছে এবং স্ত্রী না থাকায় সে নিজেরই একটা পাঁজরের (পারসু) দ্বারা সন্তানের পিতা হয়। পরবর্তীকালে ঋগ্বেদ গীতে পারসু বা পাঁজরটিকে প্রথম মনুর কন্যা বলে বর্ণনা করা হয়েছে, যার দ্বারা তিনি “বিংশ সন্তানাদির পিতা হন।” (ঋগ্বেদ ১০. ৮৬. ২৩) ঈশ্বর কর্তৃক প্রথম মানুষের পাঁজর হতে উৎপন্ন প্রথম স্ত্রী পরে, পরম্পরাগতভাবে তার কন্যা বলে পরিচিত।

৮. একজন বিচক্ষণ ব্যক্তি এই পরম্পরাগত ধারণাকে সুদূর স্মৃতিপটে বাইবেলের আদি ২:​২১,২২ পদের প্রাচীনতম ঐতিহাসিক রেকর্ডরূপে দেখতে পাবেন: “পরে যিহোভা ঈশ্বর আদমকে ঘোর নিদ্রায় মগ্ন করিলে তিনি নিদ্রিত হইলেন; আর তিনি তাঁহার একখান পঞ্জর লইয়া মাংস দ্বারা সেই স্থান পুরাইলেন। যিহোভা ঈশ্বর আদম হইতে গৃহীত সেই পঞ্জরে এক স্ত্রী নির্ম্মাণ করিলেন ও তাঁহাকে আদমের নিকটে আনিলেন”। এটাই প্রথম স্ত্রীর বাইবেল প্রদত্ত সিদ্ধ সম্ভাব্য সৃষ্টি বিবরণী। আগ্রহজনকরূপে ডাক্টাররা প্রকাশ করেছে যে পঞ্জরটি নেওয়া হয়েছিল সেটি আবার পূরণ হতে পারে যদি পেরিঅষ্টিয়াম (হাড়ের উপরে পাতলা আবরণটি) থাকতে দেওয়া হয়। যিহোভা ঈশ্বর এই প্রণালী অনুসরণ করেছিলেন কি না তা বাইবেল বলে না। যাহোক, মানুষের স্রষ্টারূপে যিহোভা ঈশ্বর অবশ্যই পাঁজরের এই বিশিষ্ট গুণ জানতেন। তাই মনুষ্যের একটি পঞ্জর ব্যবহার করে বাইবেলের প্রথম স্ত্রীর সৃষ্টি বিবরণী যুক্তিসম্মত, এবং সম্পূর্ণ বাস্তব।

৯. স্বভাবতঃই, বাইবেলের মানবজাতির প্রথম পিতামাতার সত্য সৃষ্টি বিবরনী বংশপরম্পরায় তাদের সন্তানরা জানবে। কালে, মানুষের প্রথম পূর্ব্ব পুরুষের এই স্মৃতিগুলি মনুষ্যজাতির বিভিন্ন সমাজের কিংবদন্তীতে স্থান পায়। এইরূপে মনু এবং পারসূ সম্বন্ধীয় ঋগ্বেদের বর্ণনা বাইবেলের আদিপুস্তক হতে গৃহীত। কাজেই একজন নিষ্ঠাবান এবং বিচক্ষণ হিন্দুর পক্ষে বাইবেলের নির্ভরযোগ্য সৃষ্টি এবং স্রষ্টার বিবরণী পরীক্ষা করা শুধুমাত্র জ্ঞান আহরণের বিষয় নয়, পরন্তু, এটী তারজন্য সরাসরি, বাস্তব ব্যাপার।

প্রথম ধর্ম্মের অনুসন্ধান

১০. অন্যান্য বিষয়ের উৎপত্তি সম্বন্ধে নির্ভরযোগ্য ইতিহাস কি বলে? উদাহরণস্বরূপ, ধর্ম, মন্দতা ও মৃত্যুর উৎপত্তি সম্বন্ধে কি বলা যায়? নিজেই আবার আদি ২:​১৫-১৭পদ পড়ুন: “পরে যিহোভা ঈশ্বর আদমকে লইয়া এদনস্থ উদ্যানের কৃষিকর্ম্ম ও রক্ষার্থে তথায় রাখিলেন। আর যিহোভা ঈশ্বর আদমকে এই আজ্ঞা দিলেন: ‘তুমি এই উদ্যানের সমস্ত বৃক্ষের ফল স্বচ্ছন্দে ভোজন করিও; কিন্তু সদসদ্‌ জ্ঞানদায়ক যে বৃক্ষ, তাহার ফল ভোজন করিও না, কেননা যে দিন তাহার ফল খাইবে, সেই দিন মরিবেই মরিবে।’” যেহেতু এই আজ্ঞার প্রতি বাধ্যতাই হবে ঈশ্বর ভক্তির নিদর্শন, তাই এতেই নিবদ্ধ ছিল প্রথম মানুষের জন্য প্রকৃত ধর্মের বর্ণনা। কাজেই প্রথম ধর্ম ছিল ঈশ্বরের প্রতি বাধ্যতার পথ। এতে স্বীকার করা হয়েছে যে মানুষের নৈতিক ও আত্মিক ভালমন্দ বিচার করার ক্ষমতা সৃষ্টি কর্ত্তার আছে। এটা ছিল এতই সহজ। তখন কোন মন্দির অথবা গির্জ্জা ছিল না; কোন মূর্ত্তি, কোন আচার অনুষ্ঠান ছিল না। এই ধর্ম ছিল মানুষের দৈহিক ও মানসিক আয়ত্বের মধ্যে। সেখানে না ছিল কোন দর্শন, না কোন কাল্পনিক মতবাদ, না ছিল সাধারণ মানুষের বোধগম্য বা কর্মক্ষমতার বাইরে কোন কিছু। মানুষের প্রথম ধর্ম ছিল বাস্তব এবং ব্যবহারিক​—⁠বুদ্ধিমত্তার সাথে দৈনন্দিন প্রয়োজনাদি এবং তার বাগান বাড়ীর যত্ন নেওয়ার সাথে সাথে আপন স্রষ্টার প্রতি সরল ভক্তিপূর্ণ পথ। এটা অবশ্যই বিশ্বাস করা কঠিন নয়।

১১. ঐ বাস্তব ইতিহাস জানায় যে মানুষের প্রথম গৃহ ছিল একটি পরমদেশ পৃথিবী। আর তার প্রথম ধর্ম তাকে মৃত্যুতে নয়, জীবনে পরিচালিত করত। মানুষের প্রথম ধর্ম ছিল মন্দ বাসনা এবং পাপ হতে প্রকৃতই স্বাধীন, এমনকি “কর্ম্মের” মন্দ ফল মুক্ত, সিদ্ধ মনুষ্যদেহে অনন্ত জীবনের পথ। মৃত্যুতে বিলুপ্ত হওয়ার বিপরীতে মরদেহে অনন্ত সুখজীবন মনোয়ন ঈশ্বর মনুষ্যের সম্মুখে রেখেছিলেন। শরীরকে বাদ দিয়ে মোক্ষ বা মুক্তি লাভের কোন আভাষ মানুষের জন্য ছিল না। মানুষের প্রথম ধর্ম অনুসারে মৃত্যু মানুষের মুক্তি বা উদ্ধার পথ ছিল না। বরং এটা ছিল একটা শাস্তি। লক্ষ্য করুন, ঈশ্বর চাননি মানুষ মরে এবং তার শরির ও পার্থিব পরমদেশ হারায়। তাহলে কি ভুল হয়েছিল?

মৃত্যু কেন? মৃত্যু কি?

১২. আমাদের প্রথম পূর্ব্বপুরুষ কেন মরেছিল? কারণ সে তার স্বাধীন ইচ্ছার অপব্যবহার করেছিল। ঈশ্বর প্রেমের সাথে মানুষকে স্বাধীন ইচ্ছা দিয়েছিলেন। আদিপুস্তক ২:১৭ পদে ঈশ্বরের প্রকাশিত বাক্য তা দেখা যায়, যা আমরা (১০ এর অনুচ্ছেদে) পড়েছি। মনুষ্য সিদ্ধতা তাকে স্বাধীন ইচ্ছা দিয়েছিল। কাজেই মানুষের বেছে নেবার স্বাধীনতা ছিল। নিষিদ্ধ ফলটি খাবে কি খাবে না? মানুষকে নিজের ভবিষ্যৎ নিজেকেই বেছে নেবার জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। তা মানুষের বুদ্ধি এবং ভালবাসার ক্ষমতার সাথে মিল রেখেই করা হয়েছিল।

১৩. হ্যাঁ, মানুষের ভালবাসার ক্ষমতাই প্রমাণ করে যে তার স্বাধীন ইচ্ছা আছে। এই প্রেম যদি নিয়তি দ্বারা নির্দিষ্ট বা বাধ্যবাধকতামূলক হয়, তবে তা প্রেম নয়। এটার প্রয়োজন আছে প্রেম যেন নিজের ইচ্ছাতে হয় এবং তাই ঈশ্বরের জন্য প্রেম খাঁটি ও বিশুদ্ধ হতে হলে তা হতে হবে স্বাধীন। তাই ঈশ্বর মানুষকে দিয়েছেন স্বাধীন নৈতিক ইচ্ছা, যেন মানুষের প্রথম ধর্মের উদ্দেশ্য সম্পন্ন হয়। মানুষ তাই স্বর্গীয় পিতার প্রতি কৃতজ্ঞতাবশতঃ বুদ্ধিদীপ্ত মনোনয়ন এবং প্রেম দেখাতে পারত। ফলের দ্বারা প্রেমের পরিচয় পাওয়া যায় এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ ঈশ্বরকে ভালবাসা যায় তাঁর প্রতি বাধ্য থেকে। যেমন বাইবেল ১ যোহন ৫:৩ পদে বলে: “কেননা ঈশ্বরের প্রতি প্রেম এই, যেন আমরা তাঁহার আজ্ঞা সকল পালন করি; আর তাঁহার আজ্ঞাসকল দুর্ব্বহ নহে।”

১৪. কিন্তু আমাদের প্রথম পূর্ব্বপুরুষ স্বেচ্ছায় অবাধ্যতার পথ নিয়ে নিজেকে নিখিল সৃষ্টির ঈশ্বর হতে সরিয়ে নেয়। মানুষ এখন ঈশ্বর বিনা একাকী হয়ে পড়ল। ফলে, সে তার মনুষ্য সিদ্ধতা হারাল এবং মানুষ মৃত্যুদণ্ড পেল। উত্তরাধিকারের স্বাভাবিক আইন বলবৎ হল, প্রথম মানুষের বংশধরেরা পাপী ও ঈশ্বর হতে বিচ্যুত হল। ঈশ্বরের প্রতি প্রেমপূর্ণ বাধ্যতা​—⁠তাঁর এই প্রকাশিত ধর্মের প্রথম ও সহজ প্রয়োজনটুকু আমাদের প্রথম পূর্ব্বপুরুষ অমান্য করল। ফলে, তাঁর বংশধরেরা তাদের মহান উত্তরাধিকার হারাল। কাজেই, পাপ ও অন্যায়বোধ, ঋগ্বেদের রচয়িতাগণসহ সমগ্য মানবজাতির মধ্যে পুরুষানুক্রমে ছড়িয়ে পড়ে। তাই বৈদিক দেবতা বরুণের প্রতি গীত গাওয়া হয়: “হে বরুণ দেব স্বর্গ বাসীদের প্রতি কৃত কোন অন্যায়হেতু ও মূঢ়ের মত তোমার বিধিসকল লঙ্ঘনহেতু, আমাদের শাস্তি দিও না।”​—⁠ঋগ্বেদ ৭. ৮৯. ৫ বাইবেলে রোমীয় ৫:১২ পদ দেখুন।

১৫. পরিশেষে ঈশ্বরের কথা মত প্রথম মানুষ তার বিদ্রোহের জন্য মরল। আমাদের সকলের পূর্ব পুরুষকে মৃত্যু দণ্ডাজ্ঞা দেবার সময় ঈশ্বর নির্গত বাণী শোনা যায়: “তুমি ঘর্ম্মাক্ত মুখে আহার করিবে; যে পর্য্যন্ত তুমি মৃত্তিকায় প্রতিগমন না করিবে; তুমি ত তাহা হইতেই গৃহীত হইয়াছ; কেননা তুমি ধূলি, এবং ধূলিতে প্রতিগমন করিব” (আদি ৩:১৯) মনুষ্য মৃত্যূ সম্বন্ধে ইহাই ঈশ্বরীয় বর্ণনা। আগ্রহপূর্ণ ভাবে, পরবর্তীকালে, এই বাইবেল পদটিই মৃতদের অবস্থা সন্বন্ধে বৈদিক বর্ণনার ভিত্তি বলে মনে হয়। ঋগ্বেদ গীতের ১ পদে আছে: “হে শক্তিময় প্রভু, রাজা বরুণ, আমার প্রতি দয়া করুন, আমাকে বাঁচান, আমি এখনই মৃত্তিকার গৃহে প্রবেশ করতে চাই না।” (ঋগ্বেদ ৭. ৮৯. ১) ঋগ্বেদে এই পদটির পাদটীকাতে বলা হয়েছে “মৃত্তিকা গৃহ: কবর। অথর্ব্ব বেদ v. ৩০.১৪”। কবরে বা ধূলিতে প্রতিগমন অর্থে অবশ্যই একটি মৃত শবের “মৃত্তিকার গৃহে” ই প্রবেশ করা বুঝায়।

১৬. কাজেই মৃত্যুতে মানুষ ধূলিতে প্রতিগমন করে। মৃত্যু অন্য কোন অস্তিত্বের দ্বার নয়। মৃত্যু জীবনের বিপরীত অর্থাৎ অস্তিত্বহীনতা। মৃত্যু সংসার বা জন্ম এবং জন্মান্তর ধরে অনন্ত বন্ধনের সূচনা নয়। মৃত্যু হচ্ছে জীবনের শেষ। সত্যই, সংসার এবং সংশ্লিষ্ট জন্মান্তরবাদের শিক্ষা হিন্দুদের প্রাচীনতম শাস্ত্র ঋগ্বেদে নেই। জন্মান্তর বাদ ধারণা প্রথম উপনিষদে পাওয়া যায়। আর তা হিন্দু লেখক এস. এন. দাসগুপ্তের মতে খৃষ্টপূর্ব ৬০০ থেকে ৭০০ সালের মাঝামাঝি কোথাও লেখা হয়েছিল উহা মোশির আদিপুস্তকের ২ য় অধ্যায় লেখার ৮০০ থেকে ৯০০ বৎসর পরে হয়েছিল।

১৭. ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে মানুষের ভবিষ্যৎ কোন জীবন নির্ভর করে মৃত ব্যক্তিরা ঈশ্বরের স্মৃতিতে থাকার দরুন, আত্মা অমর বলে নয়। এই ঐশিক সত্যের সহিত মিল রেখে, একজন প্রাচীন কুলপতি যাকে ঈশ্বর বলেন, “তাহার তূল্য পৃথিবীতে কেহ নাই”, প্রকাশ করেন: “তদ্রূপ মনুষ্য শয়ন করিলে আর উঠে না, যাবৎ আকাশ লুপ্ত না হয়, সে জাগিবে না, নিদ্রা হইতে জাগরিত হইবে না। হায়, তুমি আমাকে শিওলে (পাতালে) লুকাইয়া রাখিও, গুপ্ত রাখিও, যাবৎ তোমার ক্রোধ গত না হয়, আমার জন্য সময় নিরূপণ কর, আমাকে স্মরণ কর। মনুষ্য মরিয়া কি পুনর্জীবিত হইবে? তুমি আহ্বান করিবে ও আমি উত্তর দিব। তুমি আপন হস্তকৃতের প্রতি মমতা করিবে।” (ইয়োব ১:৮;১৪:​১২-১৫, খৃঃপূঃ ১৫০০ সালের কাছাকাছি লিখিত)। মানুষকে, তার মৃত্যুর নিদ্রাতে প্রতীক্ষা করতে হবে যতক্ষণ না ঈশ্বর তাকে তাঁর নিরূপিত সময়ে স্মরণ করেন। এইরূপে মানবজাতির ভবিষ্যৎ জীবন নির্ভরশীল ঈশ্বরের অক্ষয় স্মৃতির উপরে, অমর আত্মার উপরে নয়।

মনুষ্য পূর্ব্ব পুরুষদের নিকট প্রকাশিত ভবিষ্যতের আশা

১৮. যাহোক, প্রথম মানুষ ঈশ্বরকে পরিত্যাগ করলেও, ঈশ্বর কি মানুষকে পরিত্যাগ করেছেন? মানবজাতির প্রথম ঐতিহাসিক রেকর্ড অনুসারে ঈশ্বর তাঁর বিচারকে দয়ার সাথে মিশ্রিত করেছিলেন। বিচারানুযায়ী ঈশ্বর মানবজাতিকে পাপের ফল ভোগ করতে দেন। কিন্তু দয়াতে তিনি তাদেরকে তাঁর সাথে পুনর্মিলিত হবারও সুযোগ দেন এবং পার্থিব পরমদেশে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবার আশা দেন। বাইবেলের প্রকৃত ইতিহাস বলে: “কারণ সৃষ্টি অসারতার বশীকৃত হইল, স্ব ইচ্ছায় যে হইল, তাহা নয়, বশীকর্তার নিমিত্ত; এই প্রত্যাশায় হইল যে, সৃষ্টি নিজেও ক্ষয়ের দাসত্ব হইতে মূক্ত হইয়া ঈশ্বরের সন্তানগণের প্রতাপের স্বাধীনতা পাইবে।” (রোমীয় ৮:​২০,২১) এবং এটা কি সত্য নয় যে মানব ইতিহাস এক নিস্ফলতার কাহিনী? মানব ইতিহাস প্রকৃতই বাইবেলের এই বচনের মূর্ত প্রমাণ। কিন্তু ঈশ্বর কিরূপে আশার ভিত্তি প্রদান করেন?

১৯. আমাদের আদি ইতিহাসে ফিরে গেলে, ঈশ্বর আদি ৩:১৫ পদে মানবজাতির জন্য আশা প্রকাশ করেন: “আমি তোমাতে ও নারীতে এবং তোমার বংশে ও তাহার বংশে পরস্পর শক্রতা জন্মাইব; সে তোমার মস্তক চূর্ণ করিবে এবং তুমি তাহার পাদমূল চূর্ণ করিবে।” এই প্রতিজ্ঞাত ভিওর উপর সকল মানবজাতির আশা শায়িত। এটা, বস্ত্ততই, সমগ্র মানবজাতির জন্য আমাদের মহান পূর্ব্বপুরুষের প্রতিজ্ঞা।

২০. সমগ্র মানব ইতিহাসের এই প্রথম পবিত্র ভাববানী চারটি প্রধান চরিত্রের সাথে জড়িত, যথা (১) সর্পের পিছনে, শত্রু (২) শত্রুর বীজ (৩) স্ত্রী এবং (৪) তার বংশ। এই চরিত্রগুলি যেহেতু প্রতীকরূপে বর্ণিত, বাইবেল ‘স্ত্রীর বংশকে,’ “র্নিগূঢ় তত্ত্ব” বলে সনাক্ত করেছে। (কলসীয় ১:২৬ তুলনীয়) ভাববানীতে সন্বোন্ধিত ব্যক্তিটি স্পষ্টতই ঈশ্বরের সার্বভৌমত্বের প্রথম প্রধান শত্রু এবং বিদ্রোহী এবং তার বংশ তার সমর্থক। “স্ত্রী” হল ঈশ্বরের সার্বভৌম সংগঠনের প্রতীক, যা ঈশ্বরের সার্বভৌমত্বের প্রতি স্ত্রীবৎ বাধ্যতা, বশ্যতা বজায় রাখে। (যিশাইয় ৫৪:​১,৫; গালা ৪:​২৬; প্রকাশিত ১২:১) সুতরাং স্ত্রীর বংশ ঈশ্বরের পুত্রতুল্য প্রাণীদের সার্বভৌম সংগঠন হতে, মহান বিদ্রোহকে চূর্ণ করতে, ঈশ্বরের সার্বভৌমত্বকে সম্মানিত করতে এবং ঈশ্বরের শাসনের পক্ষাবলম্বীদের মহান মুক্তি দাতারূপে আসবে। সুতরাং আপনার মহান পূর্ব্বপুরুষের এই প্রতিজ্ঞা, দুষ্ট শক্তিবর্গের সাথে ঈশ্বরের যুদ্ধ ঘোষণা এবং সর্বশেষ পরিণতি, ঐশিক সার্বভৌমত্ব এবং উত্তমের বিজয়গাথাই ভবিষ্যদ্বাণী করে।

২১. এটা উল্লেখযোগ্য ঘটনা যে বাইবেলের এই ভিত্তিমূলক প্রতিজ্ঞার স্মৃতি হিন্দুধর্মে সহস্র সহস্র বৎসর ধরে জীবিত আছে। বাইবেলে বর্ণিত “স্ত্রীর বংশে” ‘সর্পের মস্তক’ চূর্ণ হওয়ার এই ঐশিক প্রতিজ্ঞা যেহেতু মানবজাতির প্রথম মনুষ্য পিতামাতার নিকটে প্রকাশিত হয়েছিল, তাই আশা করা যেতে পারে যে এই প্রতিজ্ঞার কিছু কিছু চিহ্ন জাতিদের মধ্যে পাওয়া যাবে। এই ঘটনাটি ঠিক তাই।

২২. আজ আধুনিক হিন্দুরা দেবী ‘সান্ত্বনা-লক্ষীর’ একটি ছবিকে শ্রদ্ধা করে। মাতা পুত্রের প্রতীক, প্রাচীন “স্ত্রী” এবং “বংশের” কথা স্মরণ করায়, যখন ঢাল ও তরবারি হাতে দেবীর বিপদনাশিনী রূপকে পূর্ব্ব হতে এক শত্রুর “শত্রুতার” বিষয়েই ইঙ্গিত দেয়। হাজার হাজার বৎসর পরে এই লক্ষীর ছবির প্রাথমিক অর্থ সম্ভবতঃ অজ্ঞাত, কিন্তু নিঃসন্দেহে এটা বাইবেলে মানুষের প্রথম পার্থিব পিতামাতার কাছে দও মানবজাতির আদি আশাকেই চিত্রিত করে। আর হয়ত এটা উপলব্ধি না করে হিন্দুরা বাইবেলের প্রথম প্রতিজ্ঞা এই লক্ষীর ছবিতে বিমূর্ত্ত করছে।

২৩. বাইবেলের প্রথম প্রতিজ্ঞার সাথে হিন্দুদের এই ছবিটি তুলনা করলে এ প্রশ্ন করা উপযুক্ত হবে, ‘কোন্‌টা প্রথমে এসেছিল, হিন্দু ছবিটি অথবা বাইবেল শাস্ত্রটি? ভাববাণীটি মানুষের প্রথম পার্থিব পূর্ব্বপুরুষের প্রাথমিক জীবনে বলা হয়েছিল, তারপরে ভাববাণীটির প্রকৃত তাৎপর্য্য ঈশ্বরের নিরূপিত সময় পর্য্যন্ত পরবর্ত্তী বংশধরদের কাছে লুক্কায়িত রাখা হয়েছিল। (কল ১:২৬) অপর পক্ষে, ধর্ম্মীয় লেখা ও ছবিগুলিতে চিত্রিত ‘দেবী-মাতা-সন্তানের’ ধারণা, যুক্তিযুক্তভাবে প্রথম মানব এবং তার প্রথম ভাববাণী পাওয়ার পূর্ব্বে আসতে পারত না।

২৪. বাইবেল ভিন্ন এই হিন্দু ছবিটির অন্যান্য ব্যাখ্যা অনুমানের উপর হবে। পছন্দমত ব্যাখ্যাগুলি যুক্তিপূর্ণ মনে ধরবেনা। সুতরাং, হিন্দুদের ভবিষ্যৎ আশা চিত্রিত এই আধুনিক লক্ষীর ছবিটি কেবলমাত্র বাইবেলে সংরক্ষিত ইতিহাস হতেই এসেছে। এইরূপে আদিপুস্তক ৩:​১৫-তে “নারির বংশ” সম্বন্ধীয় বাইবেলের ভাববাণী সরল হিন্দুদের নিকটে ঈশ্বরের সার্ব্বভৌমত্বের শেষবিজয় এবং পৃথিবীসহ নিখিল সৃষ্টি হতে বিদ্রোহ ও দুষ্টতার সম্পূর্ণ বিলুপ্তির আশা প্রদান করে। আর ঈশ্বর স্বয়ং “নারীর প্রকৃত বংশকে” মুক্তিদাতারূপে নিযুক্ত করেছেন। এখনও এই প্রয়োজনীয় বিচার্য্য বিষয় কোন মানুষ সমাধানে অকৃতকার্য্য হওয়ার কারণ হল এটা ঈশ্বরীয় পথে ও তার নিরূপিত সময়ে করা প্রয়োজন।

২৫. নিখিল সৃষ্টিতে শৃঙ্খলা পুনঃস্থাপনার্থে এই ঐশিক প্রতিজ্ঞার সত্যিকারের পরিপূর্ণতা দেখতে হলে, আমাদের মানব ইতিহাসের অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়া দরকার। তখন আমরা মানবজাতির প্রথম সমাজ আমাদের সকলের মনুষ্য পূর্ব্বপুরুষের ঐতিহাসিক বৃদ্ধির সন্ধান পাই। ঈশ্বরের সৃষ্ট প্রথম দম্পতির সন্তান হল, ধীরে ধীরে মানব পরিবার বাড়তে লাগল। ঈশ্বর হতে সরে গিয়ে তাদের নোংরা মাথায় খুন, খারাপি, ব্যভিচারিতা গিজ গিজ করতে লাগল।​—⁠আদি ৫:​৩-৫; ৪:​৮,২৩।

অবতারদের উৎপত্তি

২৬. এখন একটি অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটল যা হিন্দু লোকাচারে পরোক্ষ উল্লেখ আছে। বাইবেলের সত্য ইতিহাসের বিবৃতি: “এইরূপে যখন ভূমণ্ডলে মনুষ্যদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাইতে লাগিল ও অনেক কন্যা জন্মিল, তখন ঈশ্বরের পুত্রেরা মনুষ্যদের কন্যাগণকে সুন্দরী দেখিয়া; যাহার যাহাকে ইচ্ছা, সে তাহাকে বিবাহ করিতে লাগিল। তাহাতে যিহোভা কহিলেন: ‘আমার আত্মা মনুষ্যদের মধ্যে নিত্য অধিষ্ঠান করিবেনা, তাহাদের বিপথগমনে তাহারা মাংসমাত্র। পরন্তু তাহাদের সময় একশত বিংশতি বৎসর হইবে।’

২৭. “তৎকালে পৃথিবীতে মহাবীরগণ ছিল এবং তৎপরেও ঈশ্বরের পুত্রেরা মনুষ্যদের কন্যাদের কাছে গমন করিলে তাহাদের গর্ভে সন্তান জন্মিল, তাহারাই সেকালের প্রসিদ্ধ বীর।

২৮. “আর যিহোভা দেখিলেন, পৃথিবীতে মনুষ্যের দুষ্টতা বড় এবং তার অন্তঃকরণের চিন্তার সমস্ত কল্পনা নিরন্তর কেবল মন্দ।”​—⁠আদি ৬:​১-৫।

২৯. এর অর্থ অদৃশ্য স্থানের ঈশ্বরের বুদ্ধিবিশিষ্ট আত্মিক পুত্রেরা রূপবতি কন্যাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে অস্বাভাবিক কামনাকে বৃদ্ধি পেতে দেয় এবং তাই এইসকল “স্বর্গদূতেরা আপনাদের আদিপত্য রক্ষা না করিয়া নিজ বাসস্থান ত্যাগ করিয়াছিল।” (যিহুদা ৬) ঈশ্বরের এই দূত পুত্রেরা পৃথিবীতে অবতার বা মানব দেহ ধারন করল। তারা রূপবতী মহিলাদের সাথে সহবাস করে অতি মানবীয় শক্তিধারী মিশ্রণ সন্তানের জন্ম দিল। “অবতার” এই সংস্কৃত শব্দের অর্থ “অবতরণ”, বিশেষতঃ একটি দেবের স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে নেমে আসা। এখানে, বাইবেলের প্রকৃত ঘটনাই পরে হিন্দুদের অবতার মতবাদে প্রতিফলিত হয়েছিল।

৩০. বাইবেলের এই সত্য ঘটনা হিন্দুদের “পুরান” কথাতেও আলোকপাত করে। পুরানে দেবাদিও অসুরদের বীরত্ব, প্রেমকাহিনি ও তাদের যুদ্ধ এবং অলৌকিক কাজের বর্ণনা পাওয়া যায়। তীব্র পার্থিব গন্ধ ধারণকারী এক শ্রেণীর গন্দর্ভদের বর্ণনা পুরানে পাওয়া যায়। গন্দর্ভরা বিবাহ করত আর তারা নারী প্রিয় এবং নারী আসক্ত ছিল বলে বলা হয়। তাদের প্রণয়িনীরা হল অপ্সরারা যারা হিন্দু শাস্ত্রে সম্মোহিনী নীতিভ্রষ্টা এবং জাগতিক বিষয়ে অনুভূতিহীন বলে বর্ণিত। অপ্সররাও মনমাতানো এক পার্থিব গন্ধের অধিকারী ছিল। হিন্দুশাস্ত্রে আরেকদল উপদেবতারা হল “গণরা” এবং একজন হিন্দু পণ্ডিতের মতে “গণরা” হল মিশ্রণ গড়ণ। এই বর্ণনাগুলি বাইবেলের সত্য বিবরণী ঈশ্বরের অবাধ্য আত্মিক পুত্রদের সাথে এক মিল। ঐ দূতরাও মনুষ্য কন্যাদের সাথে প্রেম করত, তারাও মহৎ চিহ্ন ও আশ্চর্য্য কাজ সম্পাদন করতে পারত এবং তাদের মহাবীর সঙ্কর পুত্ররাও ক্ষমতাসম্পন্ন কাজ করতে পারত। ঐ অবাধ্য দূত ও মহাবীরেরা পৃথিবীতে ১২০ বৎসর ছিল। যেমন বাইবেল নির্দ্দেশ করে বিবিধ বীরত্বের কাহিনী তৈয়ারী করতে তা ছিল যথেষ্ট সময়। কাজেই ঐ ঘটনাগুলি একাধিক প্রাচীন লোকদের ধর্ম্মীয় রূপকথায় বিভিন্ন আকারে পাওয়া যায়।

৩১. যাহোক, এই ঘটনাগুলি দুষ্টতার বৃদ্ধি করে যা, পরে, ঈশ্বরকে, মহাপ্লাবন অথবা জলপ্রলয় আনতে পরিচালিত করে। প্রকৃত ইতিহাসের বিবৃতি: “তৎকালে পৃথিবী ঈশ্বরের সাক্ষাতে ভ্রষ্ট, পৃথিবী দৌরাত্ম্যে পূর্ণ ছিল। আর ঈশ্বর পৃথিবীতে দৃষ্টিপাত করিলেন, আর দেখ সে ভ্রষ্ট হইয়াছে, কেননা, পৃথিবীস্ত সমুদয় প্রাণী ভ্রষ্টাচারী হইয়াছিল। তখন ঈশ্বর নোহকে কহিলেন. . .‘আর দেখ আকাশের নীচে প্রাণবায়ুবিশিষ্ট যত জীবজন্তু আছে, সকলকে বিনষ্ট করণার্থে আমি পৃথিবীর উপরে জলপ্লাবন আনিব, পৃথিবীস্থ সকলে প্রাণত্যাগ করিবে।”’​—⁠আদি ৬:​১১-১৭।

৩২. “তাহাতে ভূচর যাবতীয় প্রাণী-পক্ষী, গ্রাম্যও বন্য পশু, ভূচর সরীসৃপ সকল এবং মনুষ্য সকল মরিল।”​—⁠আদি ৭:২১।

৩৩. ঐ প্লাবন অথবা জলপ্রলয়হেতু পৃথিবী এখন পরিশুদ্ধহল। ঈশ্বর ধার্ম্মিকতা প্রেমী তার নমুনা স্থাপন করলেন এবং যেহেতু তিনি কারো কারো পরিত্রাণের ব্যবস্থা করলেন, মানবজাতি নূতন করে সুরু করল। আমাদের বর্তমান যুগ অথবা কাল শুরু হল। যাহোক, প্লাবন পূর্ব্ববর্তী ইতিহাস স্পষ্টতই প্লাবনে রক্ষাপ্রাপ্তদের স্মরণে ছিল এবং উহাই অধুনা বহুলোকের দেব দেবী এবং ধর্ম্মের বিশ্বাস ও ধারণার ভিত্তিমূল।

মন্দ আত্মিক দূতদের কে সৃষ্টি করেছিল?

৩৪. জলপ্রলয়ে ঈশ্বরহীন মনুষ্যদের জলগর্ভে ধ্বংস হবার পর, বিদ্রোহী দূতরা নিজস্ব মাংসিক শরীর পরিত্যাগ করে আত্মিক জগতে ফিরে যায়, ঈশ্বরের ধার্ম্মিক শাসনের পক্ষে পুনরায় যোগ দিতে নয়, কিন্তু ঈশ্বরের প্রধান বিপক্ষ মন্দদূতদের অধিপতিদের সাথে যোগ দিতে। এই হল প্রথম মন্দ দূত যে আদিতে প্রথম মানব মানবীকে ঈশ্বরের সার্ব্বভৌমত্মের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে প্ররোচিত করে এবং তাকেই আদিপুস্তক ৩:১৫ পদের মহান ভাববানীতে সম্বোধন করা হয়েছিল। প্রথম মন্দদূতটি প্রতারণা এবং জীবন ও মৃত্যু সম্বন্ধে ভ্রান্ত ধারণা দ্বারা মানব বিদ্রোহের সূত্রপাত করে। কিরূপে?

৩৫. আসুন আমরা পুনরায় একসাথে আদি ৩:​১-৫ পদের বর্ণনা দেখি: “যিহোভা ঈশ্বরের নির্ম্মিত ভূচর প্রাণীদের মধ্যে সর্প সর্ব্বাপেক্ষা খল ছিল। সে ঐ নারীকে কহিল, ‘ঈশ্বর কি বাস্তবিক বলিয়াছেন, তোমরা এই উদ্যানের কোন বৃক্ষের ফল খাইও না? নারী সর্পকে কহিলেন, ‘আমরা এই উদ্যানস্থ বৃক্ষ সকলের ফল খাইতে পারি; কেবল উদ্যানের মধ্যস্থানে যে বৃক্ষ আছে, তাহার ফলের বিষয়ে ঈশ্বর বলিয়াছেন, “তোমরা তাহা ভোজন করিও না, স্পর্শও করিও না, করিলে মরিবে।” তখন সর্প নারীকে কহিল: ‘কোন ক্রমে মরিবে না। কেননা ঈশ্বর জানেন, যে দিন তোমরা তাহা খাইবে, সেই দিন তোমাদের চক্ষু খুলিয়া যাইবে, তাহাতে তোমরা ঈশ্বরের সদৃশ হইয়া সদসদ্‌-জ্ঞান প্রাপ্ত হইবে।’

৩৬. ঈশ্বরের বিপক্ষে গিয়ে এই প্রথম দিয়াবল, সাপের মাধ্যমে, নিজেকে মিথ্যুক এবং মিথ্যার জনক বানাল। (যোহন ৮:৪৪) ঈশ্বরের বিরোধী হয়ে সে শয়তান হল, কারণ শয়তান অর্থ “বিরোধী” বা “বাধাদানকারী”। মানবজাতির অনন্ত জীবন ঈশ্বরের প্রতি বাধ্যতার উপর নির্ভর করে না শয়তান এটা বজায় রাখল। তাই শয়তান কৌশলে জীবন এবং মৃত্যু সম্বন্ধে কয়েকটি ভ্রান্তধারনা মানবজাতির উপরে চাপিয়ে দিল। বস্ত্ততঃ বাইবেল বলে যে শয়তান সমগ্র পৃথিবীকে বিপথে পরিচালিত করছে। (প্রকা ১২:৯) জীবনও মৃত্যু সম্বন্ধে মানবজাতির বেশীর ভাগ ধারনা আজ এই সকল ভ্রান্তধারণার উপরই ভিত্তি। অবশ্যই, সহস্র সহস্র বৎসর ধরে ঐ ধারণাগুলি জীবন, মৃত্যু এবং ধর্ম্ম সম্বন্ধে জনপ্রিয় বিশ্বাস এবং মনোভাবে গঠিত হয়েছে।

৩৭. কিন্তু আপনি প্রশ্ন করতে পারেন কিরূপে একজন সিদ্ধ দূত মন্দদূত বা দিয়াবলে পরিণত হল; একই রূপে যেমন প্রথম সিদ্ধ মনুষ্য ঈশ্বরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল। স্বাধীন ইচ্ছার অপব্যবহারের দ্বারা। কিরূপে একজন সুন্দর জীবনযাপনকারী ব্যক্তি অপরাধী হয়? তাহল চুরি করে সে নিজেকে চোর বানায়। অনুরূপ, একজন সিদ্ধ স্বাধীন নীতিবান ব্যক্তি, সে মানবীয় বা আত্মিক যাই হোক না কেন, তার স্বাধীন ইচ্ছা অপব্যবহার করে, ঈশ্বরের বিরুদ্ধে গিয়ে অধঃপতিত হতে পারে। প্লাবনের পূর্ব্ববর্তী ঐসকল সিদ্ধ ঈশ্বরের আত্মিক দূতদের বেলাতেও একইরূপ হয়েছিল। তারা তাদের আদি বাসস্থান পরিত্যাগ করতে স্বাধীন ইচ্ছা ব্যবহার করেছিল। কিন্তু এখন প্লাবন অথবা জল প্রলয় হেতু তারা তাদের আত্মিক দেহ পুনঃধারণে বাধ্য হয়েছিল যদিও তা ঈশ্বরের অনুকম্পাবর্হিভূত।

আর্য্যরা কিরূপে ভারতে আসল

৩৮. কাজেই প্লাবনের পরবর্ত্তী পরিস্কৃত পৃথিবীতে এই মন্দ দূতগুলি শয়তানের নেতৃত্বাধীনে মানবজাতিকে মন্দ প্রভাবে প্রভাবিত করা স্থির করল এবং মনূষ্য জাতিকে তাঁর শাসন অথবা সার্ব্বভৌমত্বের অধীনে আনতে ঈশ্বরের ঘোষিত উদ্দেশ্যের উন্নতিতে বাধা দিল। (আদি ৩:১৫) তাদের প্রথম সুযোগ ঘটল যখন এই যুগে সমগ্র মানব জাতি তখনও একটি ভাষা বলত। আপনি ইতিহাসটি স্বয়ং আদি ১১:​১-৯পদে পড়ুন:

৩৯. “সমস্ত পৃথিবীতে এক ভাষা ও এক রূপ কথা ছিল। পরে লোকেরা পূর্ব্বদিকে ভ্রমণ করিতে করিতে শিনিয়র দেশে এক সমস্থলী পাইয়া সে স্থানে বসতি করিল। আর পরস্পর কহিল: ‘আইস। আমরা ইষ্টক নির্ম্মাণ করিয়া অগ্নিতে দগ্ধ করি’। তাহাতে ইষ্টক তাহাদের প্রস্তর ও মেটিয়া তৈল চূন হইল। পরে তাহারা কহিল: ‘আইস। আমরা আপনাদের নিমিত্তে এক নগর ও গগনস্পর্শী এক উচ্চগৃহ নির্ম্মাণ করিয়া আপনাদের নাম বিখ্যাত করি, পাছে সমস্ত ভূমণ্ডলে ছিন্নভিন্ন হই।’

৪০. “পরে মনুষ্য সন্তানেরা যে নগর ও উচ্চগৃহ নির্ম্মাণ করিতেচিল, তাহা দেখিতে যিহোভা নামিয়া আসিলেন। আর যিহোভা কহিলেন: ‘দেখ। তাহারা সকলে এক জাতি ও এক ভাষাবাদী; এখন এই কর্ম্মে প্রবৃত্ত হইল; ইহার পরে যে কিছু করিতে সংকল্প করিবে, তাহা হইতে নিবারিত হইবে না। আইস, আমরা নীচে গিয়া, সেই স্থানে তাহাদের ভাষার ভেদ জন্মাই, যেন তাহারা একজন অন্যের ভাষা বুঝিতে না পারে।’ আর যিহোভা তথা হইতে সমস্ত ভূমন্ডলে তাহাদিগকে ছিন্নভিন্ন করিলেন এবং তাহারা নগর পত্তন হইতে নিবৃত্ত হইল। এই জন্য সেই নগরের নাম বাবিল (ভেদ) থাকিল; কেননা সেই স্থানে যিহোভা সমস্ত পৃথিবীর ভাষার ভেদ জন্মায়াছিলেন; এবং তথা হইতে যিহোভা তাহাদিগকে সমস্ত ভূমন্ডলে ছিন্নভিন্ন করিয়াছিলেন।”

৪১. সংস্কৃত; প্রাকৃত, পালি এবং দ্রাবোদ্রিয়ান ভাষাগুলিসহ ভারতীয়-ইউরোপীয় ভাষাগুলির উৎপত্তির ইহাই হল আদি ঐতিহাসিক বিবরণী। বাবিলে এই ঐশিক হস্তক্ষেপই সেই প্রাচীন বিখ্যাত ভ্রমণশীলতার কারণ যা আর্য্যদের মধ্য এশিয়ার মধ্য দিয়ে ভারত ও ইউরোপে নিয়ে গিয়েছিল। আধুনিক বিজ্ঞানও অধুনা জাতি এবং ভাষাগুলির এই সকল ঐতিহাসিক উৎপত্তি সমর্থন করে বলে মনে হয়। উদাহরণস্বরূপ, প্রাচ্যের ভাষাবিদ স্যার হেনরি রাউলিউসন লক্ষ্য করেন: “আমরা যদি শাস্ত্রীয় কোন বিবৃত্তি উপেক্ষা করে বিভিন্ন ভাষাগুলির ভিন্ন ভিন্ন পথে এগোই, তবুও শিনয়ের সমতলের পথেই সুনির্দিষ্টরূপে চলতে থাকব যেখান হতে বিভিন্ন পথের বিচ্ছিন্নতা ঘটেছে।” অকাট্যরূপে, বাইবেল এক ঐতিহাসিক প্রারম্ভ সন্বন্ধে জানায় যা আপনার জাতি ও ভাষা গঠনে পরিচালিত করে এবং এইরূপে বাইবেল আপনার নিয়ত আগ্রহ ও মনোযোগের আকর হয়ে দাঁড়ায়।

৪২. বাবিলের টাওয়ার হল মনূষ্য কর্তৃক ঈশ্বরের ইচ্ছাকে পরিত্যাগ করার আরেকটি নিদর্শন। আর ঈশ্বরের হস্তক্ষেপের ফল হল মানব পরাজয় এবং পরিশেষে পৃথিবীর প্রান্তরে বিভিন্ন ভাষাবাদীদের ভ্রমণ। কাজেই, নির্ভরযোগ্য ইতিহাসের বর্ণনা: “আর আপন বংশ ও জাতি অনুসারে ইহারা নোহের সন্তানদের গোষ্ঠী; এবং জলপ্লাবনের পরে ইহাদের হইতে উৎপন্ন নানা জাতি পৃথিবীতে বিভক্ত হইল।” (আদি ১০:৩২) মানবজাতি স্বর্গীয় সার্বভৌমত্ব হতে সরে গিয়ে নিজস্ব রাজা এবং পুরোহিতদের স্থাপন করেছে, ফলে স্ব স্ব বিশ্বাস, অভ্যাস, আচার, নির্দেশ, প্রভাব সহ বিবিধ ধর্ম্মের সৃষ্টি হয়েছে অবশ্য সেগুলি বাবিল হতে গৃহীত, ধারণাগুলির উপরই ভিত্তি। যাহোক, আমাদের প্রথম পিতামাতার মধ্যে প্রদত্ত ঈশ্বর দত্ত বিবেকই নিঃসন্দেহে একই রূপ নীতিবাচক নিয়মাবলী উৎপন্ন করতে জগতিস্থ ধর্ম্মগুলিকে প্রভাবিত করেছে, যেজন্য অনেকে বিশ্বাস করে “সব রাস্তাই ঈশ্বরে নিয়ে যায়”। বাইবেল এই সন্বন্ধে আলোকপাত করে বলে: “কেননা যে পরজাতিরা কোন ব্যবস্থা পায় নাই, তাহারা যখন স্বভাবতঃ ব্যবস্থানুযায়ী আচরণ করে; তখন কোন ব্যবস্থা না পাইলেও আপনাদের ব্যবস্থা আপনারাই হয়; যেহেতুক তাহারা ব্যবস্থার কার্য্য আপন আপন হৃদয়ে লিখিত বলিয়া দেখায়; তাহাদের সংবেদও সঙ্গে সঙ্গে সাক্ষ্য দেয় এবং তাহাদের নানা বিতর্ক পরস্পর হয় তাহাদিগকে দোষী করে, না হয় তাহাদের পক্ষ সমর্থন করে” (রোমীয় ২:​১৪,১৫) কিন্তু কেবল নীতিবাচক নিয়মাবলী থাকাতেই ‘স্বর্গীয় প্রকাশ পেয়েছে বলে প্রমান হবে না। কোন কোন ধর্মের মত একটি নিরীশ্বরবাদ আদর্শ, কমিউনিজমেরও কতকগুলি নীতিবাচক নিয়মাবলী আছে। হ্যাঁ, কেবল মাত্র একটি নীতিবাচক নিয়মাবলী ছাড়াও স্বর্গীয় প্রকাশনীর বিষয়েও অনেক কিছু আছে, যা এর পরে আলোচিত হবে।

ঈশ্বরের সাথে মানব মিলনের জন্য প্রস্ত্ততি

৪৩. যাহোক, মানবজাতি যদিও ঐশিক ইচ্ছা পরিত্যাগ করেছে, ঈশ্বর তবুও মানবজাতির অস্তিত্ব বজায় রেখেছেন। কাজেই বাইবেল আমাদের নিশ্চয়তা দেয়: “তিনি অতীত পুরুষ-পরম্পরায় সমস্ত জাতিকে আপন আপন পথে গমন করিতে দিয়াছেন, তথাপি তিনি আপনাকে সাক্ষ্যবিহীন রাখেন নাই, কেননা তিনি মঙ্গল করিতেছেন, আকাশ হইতে আপনাদিগকে বৃষ্টি এবং ফলোৎপাদক ঋতুগণ দিয়া ভক্ষ্যে ও আনন্দে আপনাদের হৃদয় পরিতৃপ্ত করিয়া আসিতেছেন।”​—⁠প্রেরিত ১৪:​১৬,১৭।

৪৪. কিন্তু মনুষ্যের স্বেচ্ছাকৃত বিপথগমণের কথা স্মরনে রেখে আমরা প্রশ্ন করি, কিরূপে তাদের ঈশ্বরের সাথে মিলন ঘটানো যেতে পারে? ঈশ্বর প্রেমের সাথে মানব পরিবার হতে একটি ক্ষুদ্র জাতিকে তার যন্ত্রস্বরূপে আলাদা করে নিলেন যার দ্বারা সমস্ত জাতিগুলি নিজেদের উপকৃত করতে পারবে। স্রষ্টা একজন প্রাচীন কুলপতি অব্রাহামের বংশধরদের বেছে নিলেন, যিনি নিজস্ব পাপপূর্ণ উত্তরাধিকার সত্ত্বেও, ঈশ্বরের প্রকাশিত ইচ্ছার প্রতি অপ্রতিহত বশ্যতা প্রদর্শন করেন। অব্রাহাম যখন এমনকি নিজস্বপুত্র ইস্‌হাককে যিহোভার ইচ্ছা যদি তাই হয় বলে বলি দিতে ইচ্ছুক ছিলেন, “যিহোভার দূত আকাশ হইতে অব্রাহামকে ডাকিয়া কহিলেন: “আমি আমারই দিব্য করিয়া কহিতেছি”, যিহোভা বলিতেছেন “যেহেতু তুমি এই কার্য্য করিলে, আমাকে আপনার অদ্বিতীয় পুত্র দিতে অসম্মত হইলে না, আমি অবশ্য তোমাকে আশীর্ব্বাদ করিব, এবং আকাশের তারাগণের ও সমুদ্রতীরস্থ বালুকার ন্যায় তোমার অতিশয় বংশবৃদ্ধি করিব; তোমার বংশ শত্রুগণের পুরদ্বার অধিকার করিবে; আর তোমার বংশে পৃথিবীর সকল জাতি আশীর্বাদ প্রাপ্ত হইবে; কারণ তুমি আমার বাক্যে অবধাণ করিয়াছ।”’​—⁠আদি ২২:​১৫-১৮।

৪৫. পরিশেষে আদি ৩:১৫ পদের ‘প্রতিজ্ঞাত মুক্তির বংশ’ অব্রাহামের বংশে উৎপন্ন হবে ও কাজেই সনাক্ত করা যাবে। যাহোক, অব্রাহামের বংশধর যিহুদীদের এজন্য নির্ব্বাচন করা হয় নাই যে তারা মানবজাতির মধ্যে উত্তম জাতি। ঈশ্বরের সাথে তাদের জাতীয় মধ্যস্থ মোশি দ্বিঃ বিবরণী ৯:৬ পদে এই বিবৃতি দেন: “অতএব জানিও যে, তোমার ঈশ্বর যিহোভা যে তোমার ধার্মিকতার জন্য অধিকারার্থে তোমাকে এই উত্তম দেশ দিবেন, তাহা নয়; কেননা তুমি শক্তগ্রীব জাতি।” (এরূপ সরল লেখাতে ঘটনাবলীর ঐতিহাসিক সত্যতা এবং পক্ষপাতশূন্যতাই প্রমাণিত হয়) কিন্তু ঐতিহাসিক যন্ত্ররূপে কেন ইহুদি জাতিকে নির্ব্বাচিত করা হল?

৪৬. কারণ তারা ছিল বিশ্বস্ত পুত্র এবং পৌত্র ইসাহাক এবং যাকোবের মাধ্যমে অব্রাহামের বংশধর। উপরন্তু, মানবজাতির পরিত্রাতাকে মনুষ্যজগতে মনুষ্যরূপে জন্মগ্রহণ করতে হবে; একজন অবতার দেব-মানবরূপে নয়; কিন্তু অব্রাহামের একজন স্বাভাবিক বংশধররূপে, একজন বিশুদ্ধ মনুষ্যরূপে। আর পূর্ব্বপুরুষদের বিশ্বস্ততার জন্য যে কোন জাতিকেই ঈশ্বর নির্ব্বাচন করুন না কেন, অন্য জাতিরা বাদ পড়েছে বলে বিরক্ত হতে পারত। যাহোক, ঈশ্বরের ধার্ম্মিকতাপূর্ণ মনোনয়নে যাদেরই বিশ্বাস আছে তারা মোটেই ঐরূপ মনে করবে না। উদাহরণ স্বরূপ এক বিরাট জনতা যখন একটি নাটক দেখতে যায়, তারা মঞ্চে অভিনয় করছে না বলে নিজেদের আলাদা মনে করে না। সেরূপে স্বর্গীয় ব্যক্তি যখন মনুষ্য জগৎকে ঈশ্বরের নীতি এবং ব্যবহার শিক্ষা দিতে মনুষ্য জাতির একটি ক্ষুদ্র অংশকে জীবন্ত নমুনাস্বরূপ হতে নির্ব্বাচন করেন তখন তিনি অবশিষ্ট মনুষ্য জাতিকে উপেক্ষা করেন নাই। ইস্রায়েলদের ইতিহাস সমুদয় মানবজাতিকে শিক্ষা দেয় ঈশ্বরের বিজ্ঞ, ধার্ম্মিক আইন সকল মান্য বা অমান্য করলে কি ঘটে। এইরূপে কেবল ইস্রায়েলদের সাথে সাময়িকভাবে ব্যবহার করার কালে ঈশ্বর পরবর্ত্তী সময়ে সমস্ত জাতিদের আশীবাদার্থে দীর্ঘকালীন এক উদ্দেশ্য কার্য্যকরী করছিলেন।​—⁠আদি ২২:১৮।

কাজেই আপনার ভবিষ্যৎ কি?

৪৭. আমরা জীবন, পাপ, মৃত্যু এবং ধর্ম্মের প্রকৃত উৎপত্তি খুঁজে পেলাম। আমরা এও দেখেছি কিরূপে বাইবেলের বিশ্বস্ত ইতিহাস আধুনিক বিজ্ঞান এবং পরম্পরাগত হিন্দু বিশ্বাসে সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। আমরা দেখেছি কিরূপে ঐশিক পথভ্রষ্ট হওয়ার পর, পাপ ও মৃত্যু হতে প্রকৃত মূক্তির মহান প্রতিজ্ঞা আসল। ইহাই একজনকে ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে বাইবেলের কথাতে বিশ্বাস জাগায়। আমরা শিখেছি যে ঈশ্বরের আদি উদ্দেশ্য ছিল মনুষ্যজাতির পার্থিব পরমদেশে মানবীয় সিদ্ধতায় বাস করা। পবিত্র শাস্ত্র সেই গৌরবময় রমনীয় দেশ এই পৃথিবীতে পুনঃস্থাপনের বিষয়ে নির্দ্দেশ করে। সত্য বাইবেল ইতিহাসের ঈশ্বর যিশাইয় ৫৫:১১ পদে বলেন: “আমার মুখনির্গত বাক্য তেমনি হইবে; তাহা নিস্ফল হইয়া আমার কাছে ফিরিয়া আসিবে না, কিন্তু আমি যাহা ইচ্ছা করি, তাহা সম্পন্ন করিবে এবং যে জন্য তাহা প্রেরণ করি, সে বিষয়ে সিদ্ধার্থ হইবে।”

৪৮. কাজেই পুনঃস্থাপিত পার্থিব পরমদেশে বাস করতে আপনার ব্যক্তিগত ভবিষ্যৎ আশা এবং আকাঙ্ক্ষা থাকতে পারে। ঈশ্বর আপনার মানবীয় পাপ এবং অসিদ্ধতা শোধিত করার ব্যবস্থা করেছেন যাতে আপনি সিদ্ধশরীরে উন্নীত হতে পারেন। বাইবেলে গীত ৩৭:২৯ পদে পড়ি: “ধার্ম্মিকেরা দেশের অধিকারী হইবে, তাহারা নিয়ত তথায় বাস করিবে।” আরও যিশা: ৩২:২৪ পদে আমরা পড়ি: “আর নগরবাসী কেহ বলিবে না: ‘আমি পীড়িত’। তন্নিবাসী প্রজাদের অপরাধের ক্ষমা হইবে।”

৪৯. কিন্তু মানুষের পক্ষে অসাধ্য এইসকল বর দিতে যিনি মনস্থ করেছেন সেই ঈশ্বর কে? আমরা এর মধ্যে জেনেছি, তাঁর নাম হল যিহোভা। ঈশ্বরের আশ্চর্য্য ব্যক্তিত্বের সাথে এই নামের অর্থের মিল আছে। যিহোভা নামের অর্থ “তিনি তাঁর উদ্দেশ্য সার্থক করেন” যার অর্থ ঈশ্বর (তাঁর উল্লিখিত প্রতিজ্ঞা এবং উদ্দেশ্যসকল) পরিপূর্ণ করেন। কেবল সত্য এবং জীবন্ত ঈশ্বরই ন্যায়তঃ ও কর্তৃত্বপূর্ণভাবে ঐরূপ নাম বহন করতে পারেন। যিহোভার সম্বন্ধে বাইবেল বলে: “তোমরা জানিও, যিহোভাই ঈশ্বর, তিনিই আমাদিগকে নির্ম্মাণ করিয়াছেন, কেননা যিহোভা মঙ্গলময়; তাঁহার দয়া অনন্তকালস্থায়ী; তাঁহার বিশ্বস্ততা পুরুষে পুরুষে স্থায়ী।”​—⁠গীত ১০০:​৩,৫।

৫০. যিহোভা দয়ালু ও মঙ্গলময় বলেই আপনি এবং আপনার পরিবারের জন্য এইরূপ গৌরবময় ভবিষ্যৎ সম্ভব করেছেন। যেমন একজন বিচক্ষণ ব্যক্তি একদা বলেছিলেন: “আমি সত্যই বুঝিলাম, ঈশ্বর মুখাপেক্ষা করেন না; কিন্তু প্রত্যেক জাতির মধ্যে যে কেহ তাঁহাকে ভয় করে, ও ধর্মাচরণ করে, সে তাঁহার গ্রাহ্য হয়।”​—⁠প্রেরিত ১০:​৩৪,৩৫।

৫১. কিন্তু কখন আপনি এই উওম প্রতিজ্ঞাগুলি উপভোগ করতে পারবেন? পৃথিবীতে পরমদেশ কিরূপে পুনঃস্থাপিত হবে? উওরের জন্য আমরা বলব যে আপনি ব্যক্তিগতভাবে পবিত্র বাইবেল পাঠ এবং পরীক্ষা করুন। আরও, দয়া করে নিকটবর্ত্তী যিহোভা সাক্ষীদের কাছে যান অথবা প্রশাকদের লিখুন। এই মূল্যবান বিষয়গুলিতে আপনাকে সম্পূর্ণরূপে পরিতৃপ্ত করতে একটি বিনামূল্যে আলোচনার বন্দোবস্ত করা হবে।

[অধ্যয়ন প্রশ্নাবলি]

১, ২. (ক) কোন্‌ জনপ্রিয় ধারণা বহু লোকের প্রিয়? (খ) কিন্তু এতে কি কি প্রশ্ন জাগে?

৩. কিরূপে আমরা প্রথম ধর্ম্মের সন্ধান পাব?

৪. মানবদেহের গঠন সংক্রান্ত বাইবেলের সৃষ্টির বিবরণীর সাথে বিজ্ঞান বিরূপে একমত?

৫, ৬. (ক) বাইবেলের সৃষ্টি বিবরণী কখন লেখা হয়েছিল? (খ) ঋগ্বেদ কিরূপে বাইবেল রেকর্ডকে প্রতিফলিত করে?

৭, ৮. (ক) প্রথম স্ত্রীর বাইবেলের সৃষ্টি বিবরণী কি সম্ভব? (খ) পরম্পরাগতভাবে ঋগ্বেদে কিরূপে বাইবেল রেকর্ডটি প্রতিফলিত হয়েছে?

৯. বাইবেলের সৃষ্টি বিবরণী কেন একজন হিন্দুর নিকট সরাসরি আগ্রহের ব্যাপার?

১০. (ক) বাইবেল মানুষের প্রথম ধর্ম সন্বন্ধে কি বলে? (খ) এটা ব্যবহারিক কেন ছিল?

১১. মানুষের প্রথম র্ধম তাকে কোথায় নিয়ে যেত?

১২, ১৩. (ক) আমাদের প্রথম পূর্ব্বপুরুষ কেন মরলেন? (খ) মানুষ কেন তার নিজের ভবিষ্যৎ বেছে নিতে পারত?

১৪. (ক) প্রথম মানুষের অবাধ্যতার ফল কি? (খ) তার বংশধরের এতে কি হল?

১৫, ১৬. (ক) মৃত্যু কি? (খ) কাজেই মৃত্যু সম্বন্ধে কোন্‌ জনপ্রিয় ধারণা সত্য নয়?

১৭. কিসের উপরে মানুষের ভবিষ্যৎ জীবন নির্ভরশীল?

১৮. ঈশ্বর কেন মানবজাতিকে সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করেন নাই?

১৯. কোন্‌ প্রতিজ্ঞাত ভিত্তির উপর সকল মানবজাতির আশা শায়িত?

২০. (ক) বাইবেলের প্রথম ভাববানীতে কোন্‌ চারজন চরিত্র জড়িত? (খ) আপনাদের মহান পূর্ব্বপুরুষের এই প্রতিজ্ঞা কিরূপে পরিপূর্ণ হবে?

২১, ২২. (ক) বাইবেলের এই প্রতিজ্ঞা কিরূপে হিন্দু পরম্পরাগত কাহিনীতে সংরক্ষিত হয়েছে? (খ) হিন্দু ছবিটি কি চিত্রিত করে

২৩, ২৪. (ক) যুক্তিযুক্তভাবে এই ছবিটির কি ব্যাখ্যা হতে পারে? (খ) আদি পুস্তক ৩:১৫ পদে মানবজাতির কি আশা নিবদ্ধ?

২৫. কিরূপে আমরা আদি ৩:১৫ পদের প্রকৃত পরিপূর্ণতা খুঁজে পেতে পারি?

২৬-৩০. (ক) বাইবেল কিরূপে হিন্দুদের অবতার মতবাদের উপর আলোকপাত করে? (খ) কেন বলা যেতে পারে যে কোন কোন হিন্দু পরম্পরাগত বিশ্বাসগুলি বাইবেলের সত্য রেকর্ডগুলিতে নিহিত?

৩১, ৩২. ঈশ্বর কেন মহাপ্লাবন আনেন?

৩৩. কিরূপে এবং কখন বর্ত্তমান যুগ শুরু হল?

৩৪. ঐ অবতারদের কি হোল?

৩৫. কিরূপে প্রথম মন্দদূত আমাদের প্রথম পূর্ব্বপুরুষদের ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যেতে প্ররোচিত করেছিল?

৩৬. শয়তান কি বজায় রাখল এবং কিরূপে সে সমগ্র পৃথিবীর বাসিন্দাদের বিপথে চালিত করছে?

৩৭. কিরূপে একটি সিদ্ধ দূত দিয়াবলে পরিণত হয়?

৩৮, ৩৯. বর্ত্তমান যুগে কখন প্রথম মন্দদূতদের মানবজাতির উপর মন্দ প্রভাব ঘটাবার সুযোগ ঘটল?

৪০. সর্ব্বশক্তিমান ঈশ্বর কিরূপে তাদের বিদ্রোহজনক পরিকল্পনা নষ্ট করে দেন?

৪১. (ক) এইরূপে বাইবেল কোন্‌ ঐতিহাসিক উৎপত্তি সম্বন্ধে প্রকাশ করে? (খ) কেন এতে বাইবেল নিয়ত আগ্রহের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়?

৪২. (ক) বাবিলে ঈশ্বরের হস্তক্ষেপের ফলে মনুষ্যদের মধ্যে কি কি বিষয় ঘটতে লাগল? (খ) কেন অনেকে বিশ্বাস করে যে ‘সব রাস্তাই ঈশ্বর নিয়ে যায়’? (গ) একটি নীতিবাচক নিয়মাবলী থাকাতেই কি ঈশ্বর হতে সরাসরি প্রকাশ পেয়েছে বলে প্রমাণ হবে?

৪৩. ঈশ্বর ইতিহাসের মধ্য দিয়া কি করে প্রমান করেছেন যে তিনি মানবজাতিকে ভুলে যান নাই?

৪৪. (ক) ঈশ্বর কিরূপে মনুষ্যজাতিকে নিজের সাথে পুর্ণমিলন করাবেন বলে উদ্দেশ্য করেছেন? (খ) ঈশ্বর কেন “প্রতিজ্ঞাত মুক্তির বংশ” উৎপন্ন করতে অব্রাহামের বংশধরদের নির্বাচন করেছিলেন?

৪৫. (ক) যিহুদীরা কেন অবশিষ্ট মানবজাতি হতে উত্তম নয়? (খ) ঐরূপ সরলতা বাইবেল সম্বন্ধে কি প্রস্তাব দেয়?

৪৬. (ক) উদাহরণ দিন কেন আমরা ঈশ্বরের নির্বাচনে বিরক্ত হব না। (খ) ইস্রায়েলের সাথে সাময়িক ব্যবহারে ঈশ্বরের কি উদ্দেশ্য ছিল?

৪৭. (ক) আমাদের গবেষণা কেন বাইবেলে বিশ্বাস জাগায়? (খ) বাইবেল আমাদের জন্য কোন্‌ ভবিষ্যতের প্রতিজ্ঞা দেয় এবং কি নিশ্চয়তাসহ?

৪৮. ধার্ম্মিকেরা কতদিন দেশের অধিকারী হবে এবং কি পরিস্থিতেতে?

৪৯. (ক) এই সকল আশ্চর্য্য বরগুলির ব্যবস্থাকারী যিনি সেই ঈশ্বর কে? (খ) যিহোভা কি ধরনের ঈশ্বর?

৫০. যিহোভা কেন মূখাপেক্ষা করেন না?

৫১. এইসকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির উপরে আরো প্রশ্নসকলের উত্তর আপনি কিরূপে পেতে পারেন?

[২৪ পৃষ্ঠার মানচিত্র]

(পুরোপুরি ফরম্যাট করা টেক্সটের জন্য এই প্রকাশনা দেখুন)

ভূমণ্ডলে ছিন্নভিন্ন হওয়ার মূলে ভাষাভেদ

বাবুল

অ্যাফ্রীকা

ভারত

[৪ পৃষ্ঠার চিত্র]

প্রথম মনুষ্য ধূলি হতে নির্ম্মিত

[৬ পৃষ্ঠার চিত্র]

প্রথম স্ত্রী একটি মনুষ্য পাঁজর হতে সৃষ্ট

[৯ পৃষ্ঠার চিত্র]

অনন্তকালীন মনুষ্যজীবন পরিশেষে মোক্ষলাভের শিক্ষাকে ব্যাহত করে

[১০ পৃষ্ঠার চিত্র]

ঈশ্বরের বাধ্য হওয়া কি না হওয়া: স্বাধীন ইচ্ছা

[১৩ পৃষ্ঠার চিত্র]

অসিদ্ধ অবস্থা

[১৪ পৃষ্ঠার চিত্র]

সর্পের মস্তক চূর্ণ করতে প্রতিজ্ঞাত বংশ

[২০ পৃষ্ঠার চিত্র]

মিশ্রণ অসুরগুলি রূপকথাতে প্রখ্যাত

[২৯ পৃষ্ঠার চিত্র]

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার