ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • g৯৭ ১০/৮ পৃষ্ঠা ১৬-১৭
  • নিউ জীল্যাণ্ড এর ক্ষুদ্র জ্যোতি-বাহকগণ

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • নিউ জীল্যাণ্ড এর ক্ষুদ্র জ্যোতি-বাহকগণ
  • ১৯৯৭ সচেতন থাক!
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • উইটোমো গুহা
  • মনোমুগ্ধকর প্রভাকীট
  • “ছোট্ট ট্রেন” যেটা অন্ধকারে জ্বল জ্বল করে
    ২০০৭ সচেতন থাক!
  • ঈশ্বরের দেওয়া আলো অন্ধকার দূর করে!
    ২০০২ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • জ্যোতি বাহকগণ—কী উদ্দেশ্যে?
    ১৯৯৩ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
১৯৯৭ সচেতন থাক!
g৯৭ ১০/৮ পৃষ্ঠা ১৬-১৭

নিউ জীল্যাণ্ড এর ক্ষুদ্র জ্যোতি-বাহকগণ

নিউ জীল্যাণ্ডের সচেতন থাক! সংবাদদাতা কর্তৃক

রাতটি ছিল ঘোর অন্ধকার—চন্দ্রালোকহীন এবং পরিষ্কার। ক্যাম্পের বাতিগুলি যখন নিভে যায়, আমাদের মনে হল যেন উজ্জ্বল তারকাদের এক মহাবিশ্বে রয়েছি। একটি সংকীর্ণ গিরিখাতের তলদেশে এক উষ্ণ জলাশয়ের দিকে, ঢালু পথে আমরা আমাদের যাত্রা শুরু করি। বাষ্পীভূত জলের দুই পাশেই গাছপালা বৃদ্ধি পাচ্ছিল। আমরা জলে নিমজ্জিত হই এবং দীর্ঘ এক দিনের যাত্রার পর আরাম বোধ করি। তলদেশ থেকে প্রকৃতিগতভাবে উষ্ণ জলের বুদ্‌বুদ্‌সহ মটর ক্যাম্পের এই জলাশয়টি, আমাদের রাত্রিকালীন বাসস্থান ছিল।

আমি দেখলাম যেন একটি নক্ষত্র আকাশের এপার থেকে ওপারে দ্রুতভাবে ছুটে গেল। আমি আমার স্ত্রীকে তা বলার জন্য ঘুরে দাঁড়ালাম এবং যখন তা করি আমি হোঁচট খাই এবং জোরে পড়ার শব্দ হয়। আমি বিস্ময়ে দেখি, কয়েকটি নক্ষত্র হঠাৎ নিভে যায়—অদৃশ্য হয়ে যায়! আর বিস্মিত হয়ে আমি যখন কথা বলে উঠি, সম্পূর্ণ নক্ষত্রপুঞ্জ অদৃশ্য হয়ে গেল। আমার মনে হল যেন, মহাবিশ্বে একটি গহ্বর করে ফেললাম!

কী ঘটেছিল যখন আমি তা বোঝার চেষ্টা করি, তখন একে একে নক্ষত্রগুলি পুনরায় দৃশ্যমান হতে থাকে এবং এখন আমি দেখি একটি নক্ষত্রপুঞ্জ মূল নক্ষত্র দল থেকে আমার অনেক নিকটবর্তী। প্রকৃতপক্ষে, কয়েকটি এত নিকটে যে স্পর্শ করা যেত। আমরা প্রথমবারের মত নিউ জীল্যাণ্ডের প্রভাকীটের দেখা পেলাম। সেগুলি আমাদের উপরে অদৃশ্য সবুজাভ প্রাচীরে ঝুলেছিল এবং তাদের ক্ষীণ আলো নক্ষত্রবহুল পটভূমিতে মিশে যায়।

নিউ জীল্যাণ্ডের প্রভাকীট কোন পোকা নয়, কিন্তু একটি পতঙ্গ। এটি বিশ্বের অন্যান্য স্থানের প্রভাকীট এবং জোনাকি পোকা থেকে আলাদা। এর আরাকনোকাম্পা লুমিনোসা নামটি হয়ত আপনাকে ধারণা দিতে পারে যে এটি লুমিনাস গোত্রের মাকড়সার মত। কিন্তু তা আদৌ সত্য নয়।

আমাদের সাক্ষাতের অল্প সময় পরই আমরা নিউ জীল্যাণ্ডের উত্তর দ্বীপের উইটোমো গুহায়, আবার প্রভাকীটদের দেখতে পাই। প্রভাকীটদের গুহায় যাত্রার বর্ণনা আমাকে দিতে দিন, যেখানে এই ক্ষুদ্র প্রাণীদের দেখার জন্য আমরা একটি নৌকায় করে গিয়েছিলাম।

উইটোমো গুহা

প্রভাকীটের গুহা একটি বিস্ময়, স্টালাক্‌টাইট ও স্টালাগ্‌মাইট গঠনের চমৎকার কারুকার্য দেখানোর জন্য সুন্দরভাবে আলোকিত, যা হাজার হাজার বছর পূর্বে গঠিত হয়েছে। আমরা যখন প্রত্যেকটি এলাকার নিকটবর্তী হই, আমাদের পথ-প্রদর্শক আলো জ্বালিয়ে দেয় এবং আকর্ষণীয় গঠন ও সুড়ঙ্গ, মাটির নিচে এক অপ্রত্যাশিত এবং অপরিচিত বিস্ময়ের জগৎ দেখে আমরা বিস্মিত হয়ে যাই। আমাদের পদচিহ্ন ভৌতিকভাবে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল, যখন আমরা সিঁড়ির একেবারে উঁচুতে মিলিত হই যা অন্ধকারে নেমে গেছে। আমাদের চোখ যখন অন্ধকারে অভ্যস্ত হয়ে যায়, আমরা মিট্‌মিট্‌ করে জলন্ত সবুজাভ ক্ষুদ্র আলো দেখতে পাই। প্রভাকীটগুলি!

আমরা জেটিতে এসে পৌঁছাই এবং একটি নৌকায় উঠি। জেটি থেকে সরে এসে আমরা অন্ধকারের মধ্যে পাড়ি দিই। তারপর, যখন আমরা একটি বাঁকে আসি, আমি একমাত্র যা বর্ণনা করতে পারি তা হল, সম্পূর্ণ ছায়াপথের একটি সঙ্কুচিত রূপ আমাদের ঠিক উপরে দৃশ্যমান হয়—গুহার ছাদটি সম্পূর্ণভাবে প্রভাকীটদের দ্বারা পরিপূর্ণ ছিল। লেখক জর্জ বার্নার্ড শ’ এই স্থানকে বলেছিলেন “পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য।”

মনোমুগ্ধকর প্রভাকীট

যখন ভ্রমণ শেষ হয়ে যায়, প্রভাকীটের প্রতি আমাদের বিস্ময়, এটি সম্বন্ধে আরও জানতে আমাদের উৎসাহিত করে। আর আমরা যা জেনেছিলাম তা, যা দেখেছিলাম তার মতই মনোমুগ্ধকর ছিল। পশ্চাদ্ভাগের জলন্ত আলো সহ একটি শূককীট হিসাবে জীবন শুরু করে নিউ জীল্যাণ্ডের প্রভাকীট, তার মুখের পৃথক লালাগ্রন্থিগুলি থেকে মিউকাস ও রেশমের ঝুলানো দোলনা গঠন করে এবং একে একটি গুহার ছাদের নিচের পিঠে সংযুক্ত করে। প্রকৃতপক্ষে, ঝুলানো দোলনাটি হল একটি পথ যেখানে শূককীট সামনে এবং পিছনের দিকে চলাফেরা করতে পারে।

বেঁচে থাকার জন্য প্রভাকীটদের খাদ্য প্রয়োজন, তাই ছয় থেকে নয় মাসের জন্য এরা মাছ ধরে। কিন্তু এর মাছগুলি হল বাতাসে, যদিও এইগুলি জলের মাধ্যমে আসে। প্রয়োজনীয় জলপ্রবাহ ক্ষুদ্র পতঙ্গ, মশা, স্টোন মাছি এবং মে-মাছি সরবরাহ করে, যেগুলি আলোর দ্বারা আকর্ষিত হয়। এইগুলিকে ধরার জন্য প্রভাকীট এর ঝুলানো দোলনা থেকে পুঞ্জীভূত (কখনও কখনও ৭০টি) রেশমের মত জাল বিস্তার করে। প্রতিটি জাল হল মিউকাসের আঠাল কণা যা লম্বাভাবে নিচের দিকে বিন্যস্ত, ফলে নিচের দিকে ঝুলন্ত জালগুলি ক্ষুদ্র মুক্তার মালার মত দেখায়।

প্রভাকীটের সবচেয়ে মনোমুগ্ধকর অংশ হল এর আলো, যার সাহায্যে এটি জাল আলোকিত করে। নিউ জীল্যাণ্ডের প্রভাকীট হল এমন এক শ্রেণীর পতঙ্গ যার ঔজ্জ্বল্য স্নায়ুতন্ত্রের সাথে যুক্ত নয়। তথাপি, এটি ইচ্ছামত আলো নিভাতে পারে। আলোর অঙ্গটি এর পিছনে রেচন নলগুলিতে স্থাপিত এবং শূককীটের শ্বাসতন্ত্রের একটি অংশ, যা আলো নিচের দিকে প্রেরণের মাধ্যমে একটি প্রতিফলক হিসাবে কাজ করে। এটি অক্সিজেন অথবা অন্যান্য যে রাসায়নিক পদার্থগুলি আলো জ্বালাতে প্রয়োজন সেইগুলি প্রতিরোধ করার মাধ্যমে এর আলো নিভায়।

কিন্তু, প্রভাকীটের পথের শেষপ্রান্তের আলো একটি শিকারি পতঙ্গের জন্য আশাপ্রদ চিহ্ন নয়। এটি মৃতবৎ পর্দার দিকে উড়ে যায়, কারও কারও মতানুসারে, যেখানে রাসায়নিক পদার্থ ক্রমশ এটিকে নিষ্ক্রিয় করে। অস্থির শিকারের স্পন্দন অনুভব করে, শূককীটটি অনিশ্চিতভাবে ঝুলানো দোলনার বাইরে ঝুলে থাকে এবং এর দেহকে সংকোচনের মাধ্যমে জালটিকে সবলে মুখের দিকে টানে।

ছয় থেকে নয় মাস মাছ ধরা এবং খাদ্য গ্রহণের পর, শূককীট মূককীটে পরিণত হয় এবং পূর্ণাঙ্গ পতঙ্গ হিসাবে জীবন উপভোগ করে। পতঙ্গটি পূর্ণাঙ্গ জীবন সত্যই উপভোগ করে কি না এ বিষয়ে সংশয় আছে। এটি কেবলমাত্র দুই অথবা তিন দিনের জন্য বেঁচে থাকবে, কারণ পূর্ণাঙ্গ পতঙ্গের কোন মুখ নেই আর তাই খেতে পারে না। এর অবশিষ্ট সময় বংশ বৃদ্ধির জন্য নিয়োজিত। যে মুহূর্তে স্ত্রী পতঙ্গেরা রেশমগুটির ভিতর থেকে বের হয়, পূর্ণাঙ্গ পুরুষ পতঙ্গেরা তাদের গর্ভবতী করে। স্ত্রী পতঙ্গ একটি একটি করে তার ডিম ছাড়ার জন্য হয়ত একটি সম্পূর্ণ দিন নিতে পারে, যার পরেই সে মারা যায়। একটি জ্বলজ্বলে ছায়াপথ যা মানুষকে অত্যন্ত আনন্দ দেয়, তা প্রদান করার পর, নিউ জীল্যাণ্ডের জ্যোতিবাহকদের ১০ থেকে ১১ মাসের জীবনচক্রের সমাপ্তি ঘটে।

[১৬ পৃষ্ঠার চিত্র]

পৃষ্ঠা ১৬-১৭-এ চিত্রগুলি: Waitomo Caves Museum Society Inc.

[১৭ পৃষ্ঠার চিত্র]

অপর পৃষ্ঠায়: প্রভাকীটের গুহায় প্রবেশ করা

[১৭ পৃষ্ঠার চিত্র]

উপরে: প্রভাকীটের দ্বারা দেখান আলোসহ গুহার ছাদ

[১৭ পৃষ্ঠার চিত্র]

ডান দিকে: প্রভাকীটের মাছের জাল

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার