যিহোবার সাক্ষিরা কি ভ্যাকসিন নেয় না?
যিহোবার সাক্ষিরা ভ্যাকসিন নেওয়ার বিরুদ্ধে নয়। আমরা মনে করি, ভ্যাকসিন নেওয়া ঠিক হবে কি না, এটা প্রত্যেক খ্রিস্টানের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। অনেক যিহোবার সাক্ষি ভ্যাকসিন নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আমরা উন্নত মানের চিকিৎসাপদ্ধতি পেতে চাই। বর্তমানে, এমন অনেক চিকিৎসাপদ্ধতি বের হয়েছে, যেগুলো গুরুতর রোগের দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাকে কমিয়ে দিয়েছে আর এরজন্য আমরা কৃতজ্ঞ। বিশেষ করে, সংকটের সময়ে আমরা অভিজ্ঞ স্বাস্থ্য কর্মীদের কঠোর পরিশ্রমের জন্য খুবই কৃতজ্ঞ।
যিহোবার সাক্ষিরা স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রের নির্দেশনা মেনে চলে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, যখন কোভিড-১৯ অতিমারি শুরু হয়েছিল, তখন যিহোবার সাক্ষিরা ক্রমাগত প্রচুর ভাষায় তাদের ওয়েবসাইটে বিভিন্ন প্রবন্ধ বের করেছিল, যাতে লোকেরা স্থানীয় নির্দেশনা মেনে চলে। এর অন্তর্ভুক্ত হল, একে অপরের মাঝে দূরত্ব বজায় রাখা, জনসমক্ষে মেলামেশা করার সময়ে নির্দেশনা মেনে চলা, রোগের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে অন্যদের থেকে নিজেদের আলাদা রাখা, বার বার হাত ধোয়া, মাস্ক পরা আর সরকার যে-সমস্ত নিয়ম দেয়, সেগুলো মেনে চলা।—রোমীয় ১৩:১, ২.
বছরের পর বছর ধরে যিহোবার সাক্ষিদের প্রকাশনায় নীচে দেওয়া নীতিগুলো উপর জোর দেওয়া হয়েছে:
চিকিৎসার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত একজন ব্যক্তি নিজেই নেন।—গালাতীয় ৬:৫.
“[এই প্রকাশনা] আমাদের কোনোরকম চিকিৎসাগত পরামর্শ দেয় না। যেমন, কোনো নির্দিষ্ট ধরনের ওষুধ খেতে বলে না অথবা থেরাপি নিতে বলে না। এই বইয়ের উদ্দেশ্য হল, শুধুমাত্র তথ্য তুলে ধরা, যাতে পাঠক মূল বিষয়টা ভালো মতো বুঝতে পারে এবং ব্যক্তিগতভাবে নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে।”—সচেতন থাক!, ৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৭, ইংরেজি।
“প্রত্যেক খ্রীষ্টানকে খোলাখুলিভাবে এই বিষয়ে নিজেকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে [যে, তিনি নিজে ভ্যাকসিন নেবেন কি না এবং তার ছেলে-মেয়েও ভ্যাকসিন নেবে কি না]।”—প্রহরীদুর্গ, ১ অক্টোবর, ১৯৯৪.
আমরা চিকিৎসা গ্রহণ করি কারণ আমরা জীবনকে খুব মূল্যবান হিসেবে দেখি।—প্রেরিত ১৭:২৮.
“যিহোবার সাক্ষিরা বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা গ্রহণ করে থাকে। আমাদের সচেতন থাক! পত্রিকা, যেটি কয়েকটা ভাষায় প্রকাশিত হয়, সেটিতে প্রায়ই স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়ে বিভিন্ন প্রবন্ধ থাকে। আর যদিও আমরা নির্দিষ্ট কোনো একটা চিকিৎসা সম্বন্ধে সুপারিশ করি না কিন্তু স্বাস্থ্যকর্মীদের সাহায্য ও সহযোগিতার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।”—প্রহরীদুর্গ, ১৫ নভেম্বর, ২০০৮.
“যিহোবার সাক্ষিরা বিভিন্ন চিকিৎসাপদ্ধতি গ্রহণ করে এবং ওষুধ খায় কারণ তারা সুস্থসবল থাকতে চায় এবং দীর্ঘসময় ধরে বেঁচে থাকতে চায়। প্রথম শতাব্দীতে লূক একজন ডাক্তার ছিলেন আর আজও যিহোবার সাক্ষিদের মধ্যে কিছু জন ডাক্তার। … যিহোবার সাক্ষিরা এই স্বাস্থ্য কর্মীদের কঠোর পরিশ্রমের জন্য খুবই কৃতজ্ঞ। এ ছাড়া, তারা এই বিষয়টার জন্যও অনেক কৃতজ্ঞ যে, এই কর্মীরা ওষুধ দিয়ে লোকদের দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে।”—প্রহরীদুর্গ, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১১, ইংরেজি।