পরিচালক গোষ্ঠীর কাছ থেকে একটা চিঠি
একবিংশ শতাব্দীর শুরুর বছরগুলোয় পদার্পণ করাতে আপনাদেরকে, সারা পৃথিবীর সমস্ত “ভ্রাতৃসমাজকে” লেখা এবং আপনাদের কঠোর পরিশ্রমের জন্য প্রশংসা করা এক আনন্দের বিষয়। (১ পিতর ২:১৭) প্রায় ২,০০০ বছর আগে, যীশু জিজ্ঞেস করেছিলেন: “মনুষ্যপুত্ত্র যখন আসিবেন, তখন কি পৃথিবীতে বিশ্বাস পাইবেন?” (লূক ১৮:৮) গত পরিচর্যা বছরে আপনাদের উদ্যোগের সঙ্গে করা কাজ যীশুর এই প্রশ্নের উত্তরে জোরের সঙ্গে বলে হ্যাঁ! আপনাদের মধ্যে কিছুজনকে বিশ্বাসের জন্য অবজ্ঞাত ও উপহাসের শিকার হতে হয়েছে। অনেক জায়গায়, যুদ্ধ, দুর্যোগ, রোগ-ব্যাধি অথবা ক্ষুধার্ত থাকা সত্ত্বেও আপনারা ধৈর্য দেখিয়েছেন। (লূক ২১:১০, ১১) ভাল কাজগুলোর প্রতি আপনাদের উদ্যোগের জন্য, যীশু এখনও ‘পৃথিবীতে বিশ্বাস পাইতে’ পারেন। সত্যিই এইজন্য স্বর্গে আনন্দ করা হচ্ছে!
আমরা জানি যে ধৈর্য ধরা সহজ কাজ নয়। পশ্চিম এশিয়ার একটা দেশে আমাদের ভাইদের পরীক্ষাগুলোর কথা চিন্তা করুন। সেই দেশে যিহোবার সাক্ষিদের বিরুদ্ধে হিংস্রতা এক সাধারণ ব্যাপার। সম্প্রতি, পুলিশ প্রায় ৭০০ জনের এক শান্তিপূর্ণ অধিবেশনে ঢুকে সবকিছু লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছিল। যানবাহনের গতিরোধ করায় আরও ১,৩০০ জন সেখানে যোগ দিতে পারেননি। মুখোশ পরা উচ্ছৃঙ্খল জনতা, এদের মধ্যে কিছুজন ছিল পুলিশ, অধিবেশনের জায়গায় ঢুকে পড়ে সেখানে আসা অনেক ভাইবোনকে মারধোর করেছিল এবং অধিবেশনের জন্য যে-হল ব্যবহার করার কথা ছিল সেটাতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল। আরেকবার, ধর্মীয় চরমপন্থীরা নিষ্ঠুরভাবে আমাদের ভাইদেরকে পেরেক-বিদ্ধ মুগুর দিয়ে মেরেছিল।
এইধরনের আক্রমণগুলো জঘন্য কিন্তু এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। প্রেরিত পৌল লিখতে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন: “যত লোক ভক্তিভাবে খ্রীষ্ট যীশুতে জীবন ধারণ করিতে ইচ্ছা করে, সেই সকলের প্রতি তাড়না ঘটিবে।” (২ তীম. ৩:১২) প্রথম শতাব্দীতে, খ্রীষ্টানরা মৌখিক এবং শারীরিক তাড়না সহ্য করেছিলেন আর এমনকি কিছুজনকে হত্যাও করা হয়েছিল। (প্রেরিত ৫:৪০; ১২:২; ১৬:২২-২৪; ১৯:৯) বিংশ শতাব্দীতে একই ঘটনা ঘটেছিল আর কোন সন্দেহ নেই যে, একবিংশ শতাব্দীতেও তা ঘটবে। তবুও, যিহোবা আমাদেরকে বলেন: “যে কোন অস্ত্র তোমার বিপরীতে গঠিত হয়, তাহা সার্থক হইবে না।” (যিশা. ৫৪:১৭) কী চমৎকার আশ্বাস! সত্যিই, যিহোবার কাছে আমরা এত মূল্যবান যে তাঁর ভাববাদী সখরিয়ের মাধ্যমে তিনি বলেছিলেন: “যে ব্যক্তি তোমাদিগকে স্পর্শ করে, সে তাঁহার [আমার] চক্ষুর তারা স্পর্শ করে।” (সখ. ২:৮) যিহোবার শত্রুদের আসলে জয়ী হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। সত্য উপাসনা বিজয়লাভ করবেই!
উদাহরণ হিসেবে, আগে যে-দেশের কথা বলা হয়েছে, সেখানে যিহোবার সাক্ষিরা ২০০১ সালের পরিচর্যা বছরে প্রকাশকদের দুই নতুন শীর্ষ সংখ্যার আনন্দ উপভোগ করেছেন। হ্যাঁ, কষ্ট সত্ত্বেও আমাদের ভাইয়েরা সেখানে অটল রয়েছেন, যেমন অন্যান্য জায়গায়ও রয়েছেন। সারা পৃথিবীতে গত পরিচর্যা বছরে, প্রতি সপ্তায় ৫,০৬৬ জন যিহোবার কাছে তাদের উৎসর্গীকরণের প্রতীক হিসেবে বাপ্তিস্ম নিয়েছেন। এখন এই নতুন ব্যক্তিরাও আমাদের সঙ্গে ‘পূর্ণতা লাভ করে এবং ঈশ্বরের সমস্ত ইচ্ছাতে দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে’ সংকল্পবদ্ধ।—কল. ৪:১২, NW.
এ ছাড়া সম্প্রতি গ্রিসে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর কথাও চিন্তা করুন। গ্রিক অর্থোডক্স চার্চের কাছ থেকে বছরের পর বছর প্রচণ্ড বিরোধিতা সত্ত্বেও, যিহোবার সাক্ষিরা এখন সরকারের দ্বারা এক “পরিচিত ধর্ম” হিসেবে স্বীকৃত হয়েছেন। যে-প্রমাণপত্র এই স্বীকৃতি দিয়েছিল সেটা আরও জানায় যে গ্রিস বেথেল কমপ্লেক্স হল “ঈশ্বরের উপাসনার জন্য উৎসর্গীকৃত এক পবিত্র স্থান।” এ ছাড়া আমরা আপনাদেরকে এটা জানাতে পেরে আনন্দিত যে গত পরিচর্যা বছরে, কানাডা, জাপান, জার্মানি, বুলগেরিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং রোমানিয়ার আদালতগুলো আমাদের উপাসনার পক্ষে রায় দিয়েছে। ওই দেশগুলোতে কাজের দরজা খুলে রাখার জন্য আমরা যিহোবার কাছে কতই না কৃতজ্ঞ!
এই শেষ কালে যিহোবা যেভাবে তাঁর লোকেদেরকে সাহায্য করেন সেগুলো নিয়ে যখন আমরা চিন্তা করি, তখন আমরা দেখতে পাই যে তিনি আমাদের সর্বকালের সবচেয়ে উত্তম বন্ধু। তাঁর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক থাকায় আমরা আনন্দিত হই, এটা জেনে যে তিনি আমাদেরকে ভালবাসেন, আমাদেরকে শিক্ষা দেন ও আমাদেরকে সংশোধন করেন। হ্যাঁ, আমাদের সবসময় বিশ্বাসের পরীক্ষাগুলোর মুখোমুখি হতেই হবে। কিন্তু যিহোবার ওপর আমাদের অটল বিশ্বাস আমাদেরকে বাঁচিয়ে রাখবে। যাকোব লিখেছিলেন: “হে আমার ভ্রাতৃগণ, তোমরা যখন নানাবিধ পরীক্ষায় পড়, তখন তাহা সর্ব্বতোভাবে আনন্দের বিষয় জ্ঞান করিও; জানিও, তোমাদের বিশ্বাসের পরীক্ষাসিদ্ধতা ধৈর্য্য সাধন করে।” (যাকোব ১:২, ৩) এ ছাড়া, আমাদের ধৈর্য যিহোবার প্রতি আমাদের ভালবাসাকে প্রকাশ করে আর এটা আমাদের জন্য অনেক আনন্দ নিয়ে আসে! প্রিয় ভাইয়েরা, নিশ্চিত থাকুন যে যিহোবা আমাদের প্রত্যেককে সাহায্য করবেন। আমরা যদি বিশ্বস্ত থাকি, তাহলে তিনি অবশ্যই আমাদেরকে নতুন জগতে প্রবেশ করতে সাহায্য করবেন। তিনি চান আমরা যেন সফল হই।
তাই, ভাই ও বোনেরা, যুবক ও বৃদ্ধ আপনাদেরকে আমরা সামনে যে অপূর্ব আশীর্বাদগুলো রয়েছে সেগুলোর আকাঙ্ক্ষায় থাকতে উৎসাহ দিই। আমাদের মনোভাব যেন প্রেরিত পৌলের মতো হয়, যিনি লিখেছিলেন: “আমার মীমাংসা এই, আমাদের প্রতি যে প্রতাপ প্রকাশিত হইবে, তাহার সঙ্গে এই বর্ত্তমান কালের দুঃখভোগ তুলনার যোগ্য নয়।” (রোমীয় ৮:১৮) যে-কোন ধরনের দুর্দশার মুখোমুখি হওয়ার সময় যিহোবার ওপর নির্ভর করুন। ধৈর্য ধরুন এবং হাল ছেড়ে দেবেন না। আপনি কখনোই এর জন্য আপশোস করবেন না। ঈশ্বরের বাক্য আমাদেরকে আশ্বাস দেয়: “ধার্ম্মিক ব্যক্তি আপন বিশ্বাস দ্বারা বাঁচিবে।”—হবক্. ২:৪.
আপনাদের ভাইয়েরা,
যিহোবার সাক্ষিদের পরিচালক গোষ্ঠী