আপনি কি জানতেন?
প্রথম শতাব্দীতে মন্দিরে যে-পশুপাখি বলি হিসেবে উৎসর্গ করা হত, সেই পশুপাখির রক্তের কী হত?
প্রাচীনকালে ইজরায়েলে যাজকেরা প্রতি বছর মন্দিরের বেদির উপর লক্ষ লক্ষ পশুপাখি বলি দিত। প্রথম শতাব্দীর যিহুদি ইতিহাসবিদ জোসিফাস বলেছিলেন যে, নিস্তারপর্বের দিনে ২,৫০,০০০-এরও বেশি মেষশাবকের বলি দেওয়া হত। আর স্বাভাবিকভাবেই, প্রচুর পরিমাণে রক্ত ঢেলে দেওয়া হত। (লেবীয়. ১:১০, ১১; গণনা. ২৮:১৬, ১৯) তাহলে সেই রক্ত কোথায় যেত?
প্রত্নতত্ত্ববিদেরা যখন হেরোদের তৈরি করা মন্দিরের চারপাশে খনন কাজ করেছিল, তখন তারা অনেকগুলো নালা পেয়েছিল, যেগুলো একে অপরের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এই নালাগুলো ৭০ সালে মন্দির ধ্বংসের আগে পর্যন্ত ব্যবহার করা হচ্ছিল। তাই, স্বাভাবিকভাবে বেদির উপর যে-রক্ত ঢেলে দেওয়া হত, তা এই নালাগুলো দিয়ে মন্দিরের বাইরে বেরিয়ে যেত।
এই নিষ্কাশন ব্যবস্থা সম্পর্কে দুটো বিষয়ের উপর মনোযোগ দিন:
বেদির নীচে ছিদ্র: বেদির জন্য যে-নিষ্কাশন ব্যবস্থা ছিল, সেটার বিষয়ে মিশনাতেa ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এতে লেখা আছে, “বেদির দক্ষিণ-পশ্চিম দিকের কোণে দুটো ছিদ্র ছিল। . . . বেদির পশ্চিম ও দক্ষিণ দিকে যে-রক্ত ঢেলে দেওয়া হত এবং বেদি পরিষ্কার করার জন্য যে-জল ব্যবহার করা হত, তা এই ছিদ্র দিয়ে কিদ্রোণ উপত্যকায় চলে যেত।”
প্রত্নতত্ত্ববিদেরা খনন করার পর যে-প্রমাণ পেয়েছে, সেটার কারণে তারাও মনে করে যে, প্রাচীন কালে বেদির কাছে ছিদ্র থাকত। যিহুদিদের ইতিহাসের উপর লেখা একটা বইয়েও বলা হয়েছে যে, মন্দির কাছে “অনেকগুলো নিষ্কাশন ব্যবস্থার” প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। সেখানে লেখা আছে, “সম্ভবত এই নালাগুলোর মাধ্যমে মন্দিরে ব্যবহার করা জল ও বলির জন্য উৎসর্গ করা পশুপাখির রক্ত বের হয়ে যেত।”
প্রচুর পরিমাণে জলের ব্যবস্থা: বেদি এবং রক্ত বের হয়ে যাওয়ার নালা পরিষ্কার রাখার জন্য যাজকদের প্রচুর পরিমাণে জলের প্রয়োজন হত। এই প্রয়োজনীয় কাজের জন্য তারা ক্রমাগত জেরুসালেম নগর থেকে পরিষ্কার জল পেত। কীভাবে? সেখানে খাল ছিল এবং এমন অনেক উপায় ছিল, যেগুলোর মাধ্যমে জল বয়ে মন্দিরে আসত। শুধু তা-ই নয়, অনেক কুয়ো এবং পুকুরও ছিল, যেখান থেকে জল নেওয়া হত। প্রত্নতত্ত্ববিদ জোসেফ প্যাট্রিক বলেছেন, “এই মন্দিরে জল পৌঁছানো, মন্দিরকে পরিষ্কার রাখা এবং জল নিষ্কাশনের যে-সুব্যবস্থা ছিল, সেটা সেই সময়কার অন্য কোনো মন্দিরে ছিল না।”
a তৃতীয় শতাব্দীর শুরুতে লেখা এই বইতে যিহুদিদের মৌখিক আইন লেখা রয়েছে।