শুনুন ও শিখুন
১. কেন জেলা সম্মেলনে শোনার ও শেখার জন্য হয়তো বাড়তি প্রচেষ্টার দরকার হতে পারে?
১ শীঘ্র ২০১৩ সালের জেলা সম্মেলনগুলো শুরু হবে। বিশ্বব্যাপী ক্ষেত্রের বর্তমান প্রয়োজনগুলো তুলে ধরে এমন এক কার্যক্রম প্রস্তুত করার জন্য অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। আপনি কি সম্মেলনের তিন দিনই উপস্থিত থাকার জন্য ব্যবস্থাদি করেছেন? বড়ো সম্মলনগুলোতে বিক্ষিপ্ত হওয়ার অনেক কারণ থাকে, তাই কার্যক্রমে মনোযোগ দেওয়ার জন্য বাড়তি প্রচেষ্টার দরকার হতে পারে। যেহেতু মণ্ডলীর সভাগুলোর চেয়ে অধিবেশনগুলো দীর্ঘ সময় ধরে হয়, তাই অবশ্যই মনোযোগ ধরে রাখতে হবে। এ ছাড়া, যাত্রা করা এবং অন্যান্য বিষয়ও কিছুটা ক্লান্তির কারণ হতে পারে। কোন বিষয়টা আমাদেরকে সজাগ থাকতে সাহায্য করবে, যাতে আমরা শুনতে ও শিখতে পারি?—দ্বিতীয়. ৩১:১২.
২. কীভাবে আমরা সম্মেলনের কার্যক্রমের জন্য আমাদের হৃদয় প্রস্তুত করতে পারি?
২ সম্মেলন শুরুর আগে: আমাদের অফিসিয়াল ওয়েব সাইট www.jw.org-এ সম্মেলনের বিষয়সূচি, যার অন্তর্ভুক্ত হল সমস্ত বক্তৃতার শিরোনাম আর সেইসঙ্গে প্রত্যেকটা বক্তৃতার একটা অথবা দুটো মুখ্য শাস্ত্রপদ, সেগুলো রাখা আছে। আমাদের যদি ইন্টারনেট ব্যবহার করার সুযোগ থাকে, তাহলে এই তথ্য আগে থেকে দেখা আমাদেরকে যা উপস্থাপন করা হবে, সেটার জন্য আমাদের হৃদয় সুস্থির বা প্রস্তুত করতে সাহায্য করবে। (ইষ্রা ৭:১০) আপনার পারিবারিক উপাসনার সন্ধ্যায় আপনি কি সম্মেলনের বিষয়সূচি নিয়ে আলোচনা করতে পারেন, যাতে আপনার পরিবারের সকলে সম্মেলনের জন্য সাগ্রহে অপেক্ষা করতে পারে?
৩. কোন বিষয়টা আমাদের মনোযোগ দিয়ে শুনতে সাহায্য করবে?
৩ কার্যক্রম চলাকালীন: যদি সম্ভব হয়, তাহলে অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই দরকার মতো টয়লেট ব্যবহার করে নিন। কার্যক্রম চলাকালীন আপনার সেলফোন বন্ধ করে রাখুন, যাতে আপনি ফোনকল অথবা ম্যাসেজের দ্বারা অথবা অন্যদের ম্যাসেজ করার জন্য প্রলোভিত হওয়ার দ্বারা বিক্ষিপ্ত না হন। আপনাকে যদি ফোন খোলা রাখতেই হয়, তাহলে সেটাকে এমন অবস্থায় সেট করুন, যাতে কার্যক্রমের সময় কেউ ফোন করলে তা অন্যদের বিক্ষিপ্ত না করে। কার্যক্রম চলাকালীন আপনি যদি একটা ইলেকট্রনিক ট্যাবলেট ব্যবহার করেন, তাহলে এমনভাবে তা করুন, যাতে সেটা অন্যদের বিক্ষিপ্ত না করে। কার্যক্রম চলাকালীন খাওয়া-দাওয়া অথবা পান করা এড়িয়ে চলুন। (উপ. ৩:১) বক্তার প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখুন। যখন কোনো শাস্ত্রপদ পড়া হয়, তখন আপনার বাইবেল থেকে সেটা মিলিয়ে দেখুন। সংক্ষিপ্ত নোট নিন।
৪. কীভাবে বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের শোনার ও শেখার জন্য সাহায্য করতে পারে?
৪ আমরা চাই আমাদের সন্তানরাও যেন শোনে এবং শেখে। হিতোপদেশ ২৯:১৫ পদ বলে: “অশাসিত বালক মাতার লজ্জাজনক।” তাই, পরিবারগুলোর একসঙ্গে বসা ভালো হবে, যাতে বাবা-মায়েরা এই বিষয়টা নিশ্চিত করতে পারে যে, তাদের সন্তানেরা কথা বলা, ম্যাসেজ করা অথবা এদিক-ওদিক ঘোরাফেরা না করে বরং কার্যক্রমের প্রতি মনোযোগ দিচ্ছে। যা-কিছু আলোচনা হচ্ছে, সেগুলো বোঝার ক্ষেত্রে তারা খুব ছোটো হলেও, সজাগ ও শান্তভাবে বসে থাকার জন্য সন্তানদের প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে।
৫. কেন কার্যক্রমের বিষয় নিয়ে পুনরালোচনা করা উপকারজনক আর কীভাবে আমরা হয়তো তা করতে পারি?
৫ প্রতিটা দিন কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর: অনেক রাত পর্যন্ত বাইরে থাকবেন না। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার জন্য সকাল-সকাল ঘুমাতে যান। আপনি যা শুনেছেন, তা পুনরালোচনা করা আপনাকে অনেক দিন ধরে সেটাকে মনে রাখতে সাহায্য করবে। তাই, প্রতিটা সন্ধ্যায় পরিবারগতভাবে কার্যক্রমের বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য কয়েক মিনিট সময় করে নেওয়া উপকারজনক হবে। আপনি যদি বন্ধুদের সাথে রেস্টুরেন্টে যান, তাহলে সঙ্গে করে আপনার নোটটা নিন না কেন আর বিশেষ করে আপনার ভালো লেগেছে এমন একটা অথবা দুটো বিষয় আলোচনা করুন না কেন? সম্মেলন থেকে ঘরে ফিরে এসে আপনি হয়তো পরিবারগতভাবে কীভাবে তথ্যগুলোকে কাজে লাগাতে পারেন, সেই বিষয়ে আলোচনা করার জন্য আপনার পারিবারিক উপাসনার সন্ধ্যায় কিছুটা সময় ব্যয় করতে পারেন। এ ছাড়া, আপনি প্রকাশ করা নতুন প্রকাশনাগুলোর কোনো একটা থেকে কিছুটা অংশ পুনরালোচনা করার জন্য প্রত্যেক সপ্তাহে সময় আলাদা করতে রাখতে পারেন।
৬. সম্মেলনে শুধুমাত্র উপস্থিত থাকাই কি যথেষ্ট? ব্যাখ্যা করুন।
৬ যতক্ষণ পর্যন্ত না খাবার খাওয়া ও তা পরিপাক হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো ভোজের খুব একটা অর্থ থাকে না। আধ্যাত্মিক ভোজের বিষয়েও আমরা একই কথা বলতে পারি, যা জেলা সম্মেলনে পরিবেশন করা হবে। প্রতিটা অধিবেশনে উপস্থিত থাকার, মনোযোগ দিয়ে কার্যক্রম শোনার এবং যা শিখি, তা কাজে লাগানোর দ্বারা আমরা যেন পুরোপুরিভাবে উপকার লাভ করি।