আমাদের যে-বিষয়টাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে
১. কীভাবে যিশু দেখিয়েছিলেন যে, পরিচর্যা তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
১ যিশু পরিচর্যাকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। তিনি কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন, যত লোকেদের কাছে সম্ভব প্রচার করার জন্য প্যালেস্টাইন জুড়ে শত শত কিলোমিটার পথ হেঁটে বেড়িয়েছিলেন। তিনি তাঁর জীবনকে সাদাসিধে রেখেছিলেন যাতে পরিচর্যার প্রতি বেশি সময় ও মনোযোগ প্রদান করতে পারেন। (মথি ৮:২০) অসুস্থ ব্যক্তিদের সুস্থ করার জন্য যখন জনতা তাঁকে আটকে রাখার চেষ্টা করেছিল, তখন তিনি বলেছিলেন: “অন্য অন্য নগরেও আমাকে ঈশ্বরের রাজ্যের সুসমাচার প্রচার করিতে হইবে; কেননা সেই জন্যই আমি প্রেরিত হইয়াছি।”—লূক ৪:৪৩.
২. কেন যিশুর কাছে পরিচর্যা এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
২ কেন যিশুর কাছে পরিচর্যা এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল? তাঁর প্রধান চিন্তার বিষয় ছিল যিহোবার নামের পবিত্রীকরণ। (মথি ৬:৯) তিনি তাঁর স্বর্গীয় পিতাকে ভালোবাসতেন আর তাই তিনি তাঁর ইচ্ছা সম্পাদন করতে ও তাঁর প্রতিটা আজ্ঞা পালন করতে আকাঙ্ক্ষী ছিলেন। (যোহন ১৪:৩১) অধিকন্তু, তিনি অকৃত্রিমভাবে লোকেদের যত্ন নিয়েছিলেন ও তাদের সাহায্য করতে চেয়েছিলেন।—মথি ৯:৩৬, ৩৭.
৩. কীভাবে আমরা দেখাতে পারি যে, পরিচর্যা হল আমাদের প্রধান চিন্তার বিষয়?
৩ যিশুকে অনুকরণ করুন: যিশুর মতো পরিচর্যাকে আমাদের প্রধান চিন্তার বিষয় করা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হতে পারে, কারণ জগৎ আমাদের কাছ থেকে অনেকটা সময় দাবি করে এবং বিভিন্ন বিক্ষেপ নিয়ে আসে। (মথি ২৪:৩৭-৩৯; লূক ২১:৩৪) তাই আমাদের অবশ্যই, নিয়মিতভাবে প্রচার কাজের জন্য প্রস্তুত হওয়ার ও এতে অংশগ্রহণ করার জন্য সময় নির্ধারণ করার দ্বারা শ্রেয় বা বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সম্বন্ধে নিশ্চিত হতে হবে। (ফিলি. ১:১০, পাদটীকা) আমরা এক সাদাসিধে জীবনধারা বজায় রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করি এবং পূর্ণমাত্রায় জগৎকে ভোগ করা এড়িয়ে চলি।—১ করি. ৭:৩১.
৪. কেন এখনই সঠিক অগ্রাধিকারের বিষয়টা বজায় রাখা অপরিহার্য?
৪ যখন সময় সীমিত থাকে, তখন একজন বিজ্ঞ ব্যক্তি প্রথমে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটা করেন। উদাহরণস্বরূপ, তিনি যদি জানতে পারেন যে, এক প্রচণ্ড ঝড় এগিয়ে আসছে, তাহলে তিনি তার পরিবারের সুরক্ষার জন্য ব্যবস্থাদি করতে এবং তার প্রতিবেশীদের সতর্ক করতে তার সময় ও শক্তিকে ব্যবহার করবেন। কম গুরুত্বপূর্ণ কাজকর্ম পরে করবেন। আরমাগিদোনের ঝড় আসার সময় সংকুচিত। (সফ. ১:১৪-১৬; ১ করি. ৭:২৯) আমাদের নিজেদেরকে এবং যারা আমাদের কথা শোনে তাদেরকে রক্ষা করার জন্য আমাদেরকে অবশ্যই আমাদের নিজেদের এবং আমাদের শিক্ষার প্রতি সাবধান হতে হবে বা অবিরত মনোযোগ প্রদান করতে হবে, তা সে মণ্ডলীতে বা মণ্ডলীর বাইরে যেখানেই হোক না কেন। (১ তীম. ৪:১৬) হ্যাঁ, পরিচর্যাকে আমাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয় করার ওপরই আমাদের রক্ষা পাওয়া নির্ভর করে!