আমাদের কাছে ভাগ করে নেওয়ার মতো মহামূল্যবান সম্পদ রয়েছে
১ ঈশ্বরের বাক্য মহামূল্যবান বিভিন্ন আধ্যাত্মিক সম্পদে পরিপূর্ণ, যেগুলোকে আমরা খুবই মূল্যবান বলে গণ্য করে থাকি। (গীত. ১২:৬; ১১৯:১১, ১৪) একটা নির্দিষ্ট উপলক্ষ্যে, যিশু এমন দৃষ্টান্তগুলো ব্যবহার করেছিলেন যেগুলো রাজ্যের বিভিন্ন দিক সম্বন্ধে বর্ণনা করে আর তারপর তিনি তাঁর শিষ্যদেরকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: “তোমরা কি এ সকল বুঝিয়াছ?” হ্যাঁসূচক উত্তর পাওয়ার পর, যিশু তাদের বলেছিলেন: “এই জন্য স্বর্গরাজ্যের সম্বন্ধে শিক্ষিত প্রত্যেক অধ্যাপক এমন গৃহকর্ত্তার তুল্য, যে আপন ভাণ্ডার হইতে নূতন ও পুরাতন দ্রব্য বাহির করে।”—মথি ১৩:১-৫২.
২ প্রথম প্রথম অধ্যয়ন শুরু করার সময় আমরা যে-সত্যগুলো শিখেছিলাম, সেগুলোকে পুরাতন সম্পদ হিসেবে দেখা যেতে পারে। ঈশ্বরের বাক্যের গভীর বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের অগ্রগতিমূলক ব্যক্তিগত অধ্যয়নের মাধ্যমে আমরা বাইবেলের অন্যান্য সত্য খুঁজে পাই, যেগুলো আমাদের কাছে নতুন পাওয়া সম্পদ। (১ করি. ২:৭) এ ছাড়া, ‘বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান্ দাসের’ মাধ্যমে আমরা নতুন নতুন সম্পদ সম্বন্ধে বোধগম্যতা লাভ করতে পারি।—মথি ২৪:৪৫.
৩ নতুন ও পুরাতন এই আধ্যাত্মিক সম্পদগুলোকে আমরা খুবই মূল্যবান বলে মনে করি। এটা আমাদেরকে ঈশ্বরের বাক্যের শিক্ষক হিসেবে প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা লাভ করার চেষ্টা করতে এবং আমরা শিখেছি এমন মহামূল্যবান সত্যগুলো অন্যদের কাছে উদারভাবে ভাগ করে নিতে প্রণোদিত করে।
৪ যিশুর উদাহরণ থেকে শিখুন: এই বিভিন্ন সম্পদ সম্বন্ধে তিনি কেমন বোধ করেছিলেন তা দেখাতে গিয়ে, যিশু সেগুলো অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার জন্য অনেক প্রচেষ্টা করেছিলেন। এমনকি তিনি যখন ক্লান্ত ছিলেন, তখনও তাঁর ‘গোলা’ থেকে সম্পদ বের করা বন্ধ করেননি।—যোহন ৪:৬-১৪.
৫ আধ্যাত্মিকভাবে দীনহীন অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য যিশুর ভালবাসা তাঁকে ঈশ্বরের সত্য সম্বন্ধীয় জীবনদায়ক সম্পদগুকে ভাগ করে নিতে প্রণোদিত করেছিল। (গীত. ৭২:১৩) যারা আধ্যাত্মিকভাবে ক্ষুধার্ত ছিল তাদের প্রতি তিনি করুণাবিষ্ট হয়েছিলেন এবং “তাহাদিগকে অনেক বিষয় শিক্ষা দিতে” পরিচালিত হয়েছিলেন।—মার্ক ৬:৩৪.
৬ যিশুকে অনুকরণ করুন: আমাদের কাছে যে-সম্পদ রয়েছে, সেগুলোকে আমরা যখন যিশুর মতোই খুবই মূল্যবান বলে মনে করি, তখন আমরা লোকেদেরকে বাইবেল থেকে সরাসরি আধ্যাত্মিক রত্নগুলোকে দেখানোর জন্য উৎসুক হই। (হিতো. ২:১-৫) যদিও, আমরা হয়তো মাঝে মাঝে ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারি, তবুও আমরা আন্তরিক উদ্যম সহকারে শাস্ত্রীয় সত্যগুলো সম্বন্ধে কথা বলব। (মার্ক ৬:৩১-৩৪) আমাদের কাছে যে-সম্পদ রয়েছে, সেগুলোর প্রতি আমাদের উপলব্ধি আমাদেরকে পরিচর্যায় নিজেদের বিলিয়ে দিতে ও সবসময় পুরোপুরি অংশ নেওয়ার চেষ্টা করতে প্রণোদিত করবে।