‘কেমন উত্তর দিতে হয়, তাহা জানুন’
অনুকূল নয় এমন এক পরিস্থিতিতে প্রচার করার প্রতিদ্বন্দ্বিতা সম্বন্ধে প্রেরিত পৌল ভালমতো জানতেন। সা.কা. প্রায় ৫৬ সালে যিরূশালেমে তিনি যে-পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন, সেটা বিবেচনা করুন। (প্রেরিত ২১:২৭, ২৮, ৩০, ৩৯, ৪০) এই ধরনের পরিস্থিতিতে, তিনি তার কথাগুলো সতর্কতার সঙ্গে বেছে নেওয়ার গুরুত্বকে উপলব্ধি করেছিলেন, যাতে তিনি প্রতিকূল ধারণা কাটিয়ে উঠতে পারেন এবং সুসমাচারের প্রতি আসা বিরোধিতাকে কমানোর প্রচেষ্টা করতে পারেন। (প্রেরিত ২২:১, ২) এই ক্ষেত্রে, যারা শুনছিল তারা শেষপর্যন্ত তাদের মনোভাবকে পালটায়নি কিন্তু তা সত্ত্বেও, পৌলের কথাগুলো তাদের একটু থেমে শোনার জন্য পরিচালিত করেছিল। (প্রেরিত ২২:২২) এই ধরনের চাক্ষুষ অভিজ্ঞতা লাভ করে পৌল কলসীর মণ্ডলীকে, মণ্ডলীর বাইরে থাকা লোকেদের সঙ্গে বিজ্ঞতা সহকারে চলতে, সদয়ভাবে কথা বলতে এবং তাদের কাছে যারা প্রশ্ন তোলে, সেই লোকেদের ‘কেমন উত্তর দিতে হয়, তাহা জানিতে’ উৎসাহ দিয়েছিলেন। (কল. ৪:৫, ৬) পরিচর্যা করার সময় আমাদের তা-ই করার দরকার আছে।
প্রচার ও শিক্ষাদানের কাজে শান্ত ও শান্তিপূর্ণভাবে যাওয়ার ব্যাপারে আমাদের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, আমরা এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারি, যেখানে আমাদের কাজ সম্বন্ধে আমাদের কাছে প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা হয়। এমনকি আমাদেরকে হয়তো অবৈধ ‘আলোচনাগুলো’-র মধ্যে জড়িত হওয়ার বিষয়ে দোষারোপ করা হতে পারে। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিস্থিতিকে সফলতার সঙ্গে মোকাবিলা করার জন্য আগে থেকে চিন্তা করার প্রয়োজন আছে। একজন গৃহকর্তার ক্ষেত্রে হোক অথবা কয়েক জন লোকের প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে হোক, শান্ত থেকে এই আশ্বাস লাভ করুন যে, যিহোবা তাঁর পবিত্র আত্মার মাধ্যমে আপনার সঙ্গে থাকবেন। (মথি ১০:১৯, ২০) মনে রাখবেন, আপনি যে-কথাগুলো বেছে নেন সেগুলো গুরুত্বপূর্ণ। এমন কথাগুলো বলার চেষ্টা করা এড়িয়ে চলুন, যেগুলোকে ভুল বোঝা হতে পারে অথবা যেগুলো অন্যদের মনে এক নেতিবাচক অর্থ দিতে পারে। সম্ভবত, আপনি বলতে পারেন যে আপনি ঈশ্বরের বাক্য থেকে সুসমাচার “প্রচার” করছেন না কিন্তু “বন্টন” করছেন আর আপনি অন্যদের কাছে আমাদের সাহিত্যাদি “অর্পণ” করছেন না কিন্তু পড়ার জন্য “আমন্ত্রণ” জানাচ্ছেন। অবশ্য, আমরা খ্রিস্ট যিশুকে অনুকরণ করার বিষয়ে আমাদের কার্যভারের জন্য লজ্জিত নই কিন্তু আমরা কৌশলী হতে পারি।
আপনি কীভাবে উত্তর দিতে পারেন, যদি কেউ আপনার কাছে এই আপত্তি তোলেন যে, “আপনারা প্রচার/ধর্মান্তরিত করার কাজে জড়িত আছেন।” আপনি হয়তো এভাবে উত্তর দিতে পারেন: “আমি আপনাকে এই আশ্বাস দিতে পারি যে, আমরা কাউকে ধর্ম পরিবর্তন করতে বলি না এবং নিশ্চিতভাবে, আমরা কোনো ধরনের সুযোগসুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দিই না।” সম্ভবত আপনি ব্যাখ্যা দিতে পারেন যে, আপনি তাদের মতোই একজন কর্মী/গৃহকর্ত্রী/ছাত্র বা ছাত্রী। সম্ভবত আপনি বলতে পারেন: “আমি আপনাদেরই একজন প্রতিবেশী এবং শুধুমাত্র কিছু সান্ত্বনাদায়ক ও উৎসাহজনক তথ্য আপনাদের কাছে বন্টন করতে চাই। তারা শুনতে চায় কি না, তা প্রত্যেকে বাছাই করতে পারে।” অথবা হয়তো এইরকম কিছু বলতে পারেন: “আমি যে-সংবাদ বন্টন করছি, সেটাকে রেডিও/টেলিভিশনে দেওয়া কোনো ঘোষণার সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। কিছু কিছু লোক মনোযোগের সঙ্গে শোনে আবার কেউ কেউ শোনে না। সেটা তাদের সিদ্ধান্ত। কিন্তু, সেই ঘোষণাটি যদি জীবন-মৃত্যুর এক বিষয় হয়, তাহলে কী? তখন কি আপনি শুনতে চাইবেন না? আমি আপনার কাছে শান্তিপূর্ণ এক নতুন জগৎ সম্বন্ধে এক বার্তা বন্টন করার জন্য এসেছি, যেখানে সব ধরনের লোক একসঙ্গে বাস করবে। কিন্তু, আপনি যদি শুনতে আগ্রহী না হন, তাহলে আমি চলে যাব।”
আপনার সম্বন্ধে হয়তো এই কথা বলে আপত্তি জানানো হতে পারে: “আপনি চান যে, আমরা যেন আমাদের মূর্তিগুলো ফেলে দিই ও আমাদের দেবতাদের পূজা করা বন্ধ করে দিই!” প্রথম শতাব্দীর খ্রিস্টানরা একই ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিল। (প্রেরিত ১৯:২৩-৪১) সম্ভবত, আপনি এভাবে উত্তর দিতে পারেন: “যিহোবার সাক্ষিরা অন্যদের বিচার করে না অথবা তাদেরকে বলে না যে, কীভাবে উপাসনা করতে হবে। এটা হচ্ছে প্রত্যেকের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, এমন কিছু যা তার ও তার সৃষ্টিকর্তার মধ্যে এক বিষয়। আমি আসলে ঈশ্বরের বাক্য থেকে কিছু বিষয় বন্টন করছি, যেটা ব্যক্তি বিশেষ ও পরিবারগুলোর জন্য উপকারজনক হতে পারে। শোনার জন্য কেউই বাধ্য নয় এবং আপনি যখনই চান এই আলোচনা থামিয়ে দিতে পারেন।” এভাবে, আমাদের দায়িত্বের ব্যাপারে আপোশ না করে আমরা ভালভাবে বাছাই করা কথাগুলো দিয়ে এক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিকে শান্ত করতে পারি।
পরিচর্যায় অংশগ্রহণ করার বিষয়ে কেউ কেউ আমাদের উদ্দেশ্যকে মাঝেমধ্যে ভুল বুঝতে পারে আর হয়তো আমরা বিরোধিতার মুখোমুখি হতে পারি, তবুও আমরা আনন্দিত থাকতে পারি, যিহোবার সমর্থন পাওয়ার ব্যাপারে আস্থা রাখতে পারি। (২ করি. ২:১৫-১৭) আমরা যেধরনের বিরোধিতার মুখোমুখিই হই না কেন, কোনোকিছুকেই যেন আমাদের আনন্দ কেড়ে নিতে না দিই। (নহি. ৮:১০) আমাদের কীভাবে উত্তর দিতে হবে, সেই সম্বন্ধে আগে থেকে চিন্তা করার সময় শান্তি স্থাপন করা এবং আমাদের কথাবার্তায় সদয় হওয়া যেন আমাদের লক্ষ্য হয়!