‘নির্ভয়ে ঈশ্বরের বাক্য কহ’
১ স্কুলে বা কর্মক্ষেত্রে আপনার বিশ্বাস সম্বন্ধে কথা বলার কোনো সুযোগ পেলে, আপনি কি তা বলতে মাঝেমধ্যে ইতস্তত বোধ করেন? আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশী অথবা যাদের আপনি চেনেন না, সেই লোকেদের কাছে রীতিবহির্ভূতভাবে সাক্ষ্যদান করা কি আপনার কাছে কঠিন বলে মনে হয়? কী আমাদের সবাইকে ‘নির্ভয়ে ঈশ্বরের বাক্য কহিবার’ জন্য উপযুক্ত সুযোগগুলোর সদ্ব্যবহার করতে সাহায্য করবে?—ফিলি. ১:১৪.
২ ইতস্তত বোধ করবেন না: একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু বা আত্মীয়, যার সম্বন্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে, তার পক্ষসমর্থন করতে কি আপনি ইতস্তত বোধ করবেন? শত শত বছর ধরে আমাদের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু, যিহোবাকে অত্যন্ত ভুলভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আমাদের মহান ঈশ্বরের পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়ার এক অদ্বিতীয় সুযোগ আমাদের রয়েছে! (যিশা. ৪৩:১০-১২) যিহোবার প্রতি গভীর ভালবাসা আমাদেরকে আত্মসচেতনতার অনুভূতি বা ভয়ের সঙ্গে মোকাবিলা করতে সাহায্য করতে পারে এবং আমাদেরকে সাহসের সঙ্গে সত্য সম্বন্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে ইতস্তত বোধ না করে কথা বলতে পরিচালিত করতে পারে।—প্রেরিত ৪:২৬, ২৯, ৩১.
৩ মনে রাখবেন যে, আমাদের বার্তা হচ্ছে সুসমাচার। যারা এর প্রতি মনোযোগ দেয় তাদের জন্য এটি স্থায়ী উপকারগুলো নিয়ে আসবে। আমাদের নিজেদের বা আমাদের বিরোধীদের প্রতি মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করার পরিবর্তে, প্রচার কাজের গুরুত্বের প্রতি মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করা আমাদেরকে সাহসের সঙ্গে প্রচার করতে সাহায্য করবে।
৪ অন্যদের উদাহরণগুলো: আমরা অন্যদের বিশ্বস্ত জীবনধারা থেকে শক্তি লাভ করতে পারি, যারা নির্ভয়ে ঈশ্বরের বাক্য বলেছে। উদাহরণস্বরূপ, হনোক সাহসের সঙ্গে ভক্তিহীন পাপীদের বিরুদ্ধে যিহোবার বিচার ঘোষণা করেছিলেন। (যিহূদা ১৪, ১৫) নোহ উদাসীন লোকেদের কাছে বিশ্বস্তভাবে প্রচার করেছিলেন। (মথি ২৪:৩৭-৩৯) প্রথম শতাব্দীর খ্রিস্টানরা, যারা “অশিক্ষিত সামান্য” ব্যক্তি ছিল, তারা ঘোর বিরোধিতা সত্ত্বেও প্রচার করে চলেছিল। (প্রেরিত ৪:১৩, ১৮-২০) প্রহরীদুর্গ ও সচেতন থাক! পত্রিকাগুলোতে প্রায়ই আধুনিক দিনের সেই ব্যক্তিদের জীবনকাহিনি থাকে, যারা যিহোবার ওপর বিশ্বাস রাখার দ্বারা লোকভয় কাটিয়ে উঠতে এবং উদ্যোগী সুসমাচার প্রচারক হতে পেরেছে।
৫ কঠিন পরিস্থিতিগুলোর মুখোমুখি হয়েছে, প্রাচীনকালের এমন বিশ্বস্ত দাসদের জীবনধারা বিবেচনা করার দ্বারা আমরা সাহস লাভ করতে পারি। (১ রাজা. ১৯:২, ৩; মার্ক ১৪:৬৬-৭১) তারা ‘আমাদের ঈশ্বরে সাহসী হইয়াছিল’ এবং নির্ভয়ে কথা বলেছিল। আমরাও তা করতে পারি!—১ থিষল. ২:২.