যেভাবে উদ্যোগ বজায় রাখা যায়
১ আপল্লো যে-উদ্যোগ নিয়ে তার পরিচর্যা সম্পন্ন করেছিলেন, তা হয়তো আমাদেরকে বর্তমান দিনের সেই সহখ্রিস্টানদের কথা মনে করিয়ে দেয়, যারা বিশেষভাবে প্রচার কাজে উদ্যোগী। (প্রেরিত ১৮:২৪-২৮) তবে, আমাদের সকলকেই পরামর্শ দেওয়া হয়: “যত্নে শিথিল হইও না, আত্মায় উত্তপ্ত হও।” (রোমীয় ১২:১১) খ্রিস্টীয় পরিচর্যার জন্য উদ্যোগ অর্জন করতে এবং তা বজায় রাখতে কী আমাদের সাহায্য করতে পারে?
২ জ্ঞানের দ্বারা উদ্দীপিত: যিশু তাঁর দুজন শিষ্যকে দেখা দেওয়ার এবং ‘সমুদয় শাস্ত্রে তাঁহার নিজের বিষয়ে যে সকল কথা আছে, তাহা তাঁহাদিগকে বুঝাইয়া দেওয়ার’ পর, তারা বলেছিল: “পথের মধ্যে যখন তিনি আমাদের সহিত কথা বলিতেছিলেন, . . . তখন আমাদের অন্তরে আমাদের চিত্ত কি উত্তপ্ত হইয়া উঠিতেছিল না?” (লূক ২৪:২৭, ৩২) একইভাবে, আমরা যখন ঈশ্বরের বাক্য সম্বন্ধে আরও বেশি বোধগম্যতা লাভ করি, তখন আমাদের হৃদয়ও কি উত্তেজনায় উত্তপ্ত হয় না? হ্যাঁ, বিশ্বাস জ্ঞানের দ্বারা উদ্দীপিত হয়। রোমীয় ১০:১৭ পদ ব্যাখ্যা করে: “বিশ্বাস শ্রবণ হইতে . . . হয়।” যিহোবার প্রতিজ্ঞাগুলোর ওপর আস্থা রাখার দ্বারা যখন আমাদের হৃদয় পূর্ণ হয়, তখন আমরা যেসমস্ত বিষয় শিখেছি সেই সম্বন্ধে না বলে থাকতে পারি না।—গীত. ১৪৫:৭; প্রেরিত ৪:২০.
৩ আমরা শুধুমাত্র সেই জ্ঞানের ওপর নির্ভর করে থাকতে পারি না, যা আমরা ঈশ্বরের প্রতি আমাদের ভালবাসাকে দৃঢ় রাখার এবং তাঁর পরিচর্যার প্রতি আমাদের উদ্যোগকে উজ্জ্বলভাবে উত্তপ্ত রাখার জন্য পূর্বের অধ্যয়নের মাধ্যমে অর্জন করেছি। আমাদের অবশ্যই সত্য সম্বন্ধে নিজেদের বোধগম্যতাকে বাড়াতে এবং যিহোবার প্রতি আমাদের ভালবাসাকে আরও গভীর করতে হবে। তা না হলে, তাঁর প্রতি আমাদের পরিচর্যা ধীরে ধীরে গতানুগতিক হয়ে উঠতে পারে। (প্রকা. ২:৪) ঈশ্বরের বাক্য আমাদেরকে ‘ঈশ্বরের তত্ত্বজ্ঞানে বর্দ্ধিষ্ণু হইতে’ জোরালো পরামর্শ দেয়।—কল. ১:৯, ১০.
৪ আমাদের অধ্যয়নের অভ্যাস: তাই, আমাদের নিজ নিজ অধ্যয়নের অভ্যাস পরীক্ষা করা উচিত। উদাহরণস্বরূপ, আমরা হয়তো কোনো প্রহরীদুর্গ পত্রিকার অধ্যয়ন প্রবন্ধের উত্তরগুলোতে দাগ দিতে এবং সঠিক মন্তব্যগুলো করতে পারি। কিন্তু, আমরা কি উল্লেখিত শাস্ত্রপদগুলো খুলে দেখি এবং আমাদের জীবনে বিষয়বস্তুটি কীভাবে কাজে লাগাতে পারি, সেই বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করি? সাপ্তাহিক বাইবেল পাঠ করার সময় আমরা কি আমাদের পরিস্থিতি অনুযায়ী অতিরিক্ত গবেষণা করার জন্য প্রচেষ্টা করি এবং বাইবেল পাঠের মধ্যে যে-শিক্ষাগুলো থাকে, সেগুলো নিয়ে ধ্যান করি? (গীত. ৭৭:১১, ১২; হিতো. ২:১-৫) ঈশ্বরের বাক্য সম্বন্ধে চিন্তা করা ও সেগুলোতে স্থিতি করা বা নিবিষ্ট থাকা কতই না উপকারজনক! (১ তীম. ৪:১৫, ১৬) এই ধরনের অর্থপূর্ণ অধ্যয়ন আমাদের হৃদয়কে পুষ্ট করবে এবং “সৎক্রিয়াতে উদ্যোগী” হতে আমাদের শক্তি জোগাবে।—তীত ২:১৪.