যিহোবার দিন নিকটবর্তী
১ খ্রিস্টানরা পরম আগ্রহের সঙ্গে যিহোবার সেই দিনের আগমনের আকাঙ্ক্ষা করে, যার মাধ্যমে তিনি বর্তমান বিধিব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেবেন এবং এক ধার্মিক নতুন জগৎ নিয়ে আসবেন। (২ পিতর ৩:১২, ১৩) যেহেতু আমরা সঠিকভাবে জানি না কখন সেই দিন উপস্থিত হবে, তাই আমাদের অবশ্যই জেগে থাকতে এবং অন্যদেরও একই বিষয় করার জন্য সাহায্য করতে হবে। (যিহি. ৩৩:৭-৯; মথি ২৪:৪২-৪৪) ঈশ্বরের ভবিষ্যদ্বাণীমূলক বাক্যের ওপর ধ্যান করা আমাদের এই প্রত্যয়কে শক্তিশালী করবে যে, “সদাপ্রভুর [“যিহোবার,” NW] মহাদিন নিকটবর্ত্তী।”—সফ. ১:১৪.
২ বিশ্বশক্তিগুলোর পর্যায়ক্রমে আগমন: প্রকাশিত বাক্য ১৭:৯-১১ পদে যেমন লিপিবদ্ধ করা রয়েছে, প্রেরিত যোহন ‘সপ্ত রাজার’ বিষয়ে উল্লেখ করেন, যা সাতটা বিশ্বশক্তির পর্যায়ক্রমে আগমনকে চিত্রিত করে। এ ছাড়া, যোহন এক “অষ্টম” রাজার বিষয়েও উল্লেখ করেন, যা এখন রাষ্ট্রসংঘকে চিত্রিত করে। দৃশ্যপটে আরও বিশ্বশক্তি আবির্ভূত হবে বলে কি আমরা আশা করব? না, ভবিষ্যদ্বাণী জানায় যে, এই অষ্টম রাজা “বিনাশে যায়,” যার পরে আর কোনো পার্থিব রাজাদের কথা উল্লেখ করা হয়নি। এই ভবিষ্যদ্বাণী কি আপনাকে দেখতে সাহায্য করে যে, সময়ের প্রবাহে আমরা কোথায় আছি?
৩ দানিয়েল ২:৩১-৪৫ পদ আমাদের যিহোবার সেই দিনের আগমন সম্বন্ধে বুঝতে সাহায্য করে। এই ভবিষ্যদ্বাণীতে, একটা স্বপ্নে নবূখদ্নিৎসর প্রকাণ্ড এক প্রতিমা দেখেছিলেন, যা বিশ্বশক্তিগুলোর পর্যায়ক্রমে আগমনকে চিত্রিত করে। এই শক্তিগুলোর প্রত্যেকটা ইতিমধ্যে দৃশ্যপটে আবির্ভূত হয়েছে। ইতিহাসের গতিপথে আজকে আমরা নিজেদের কোথায় খুঁজে পাই? প্রতিমার চরণ যে-সময়কে চিত্রিত করে সেখানে। ভবিষ্যদ্বাণীটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে যে, পরে কী ঘটবে। মনুষ্য শাসনব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধ্বংস করা হবে, যা এমন ‘এক রাজ্যের’ পথকে তৈরি করে, “তাহা কখনও বিনষ্ট হইবে না।” আপনি কি দেখতে পাচ্ছেন কীভাবে এটা দেখায় যে, যিহোবার দিন নিকটবর্তী?
৪ আরও প্রমাণ: যিহোবার দিন যে নিকটবর্তী, তার আরও প্রমাণের আমরাই হলাম প্রত্যক্ষ সাক্ষি। “শেষ কালে” লোকেদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সম্বন্ধে প্রেরিত পৌল যা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, আমরা তার পরিপূর্ণতা দেখতে পাই। (২ তীম. ৩:১-৫) আর আমরা পৃথিবীব্যাপী সেই সাক্ষ্যদানের কাজে অংশ নিচ্ছি, যা শেষ আসার আগে অবশ্যই দিতে হবে। (মথি ২৪:১৪) আমাদের সাধারণ্যে পরিচর্যা যেন দূতের এই ঘোষণার তৎপরতাকে ক্রমাগত প্রতিফলিত করে: “ঈশ্বরকে ভয় কর ও তাঁহাকে গৌরব প্রদান কর, কেননা তাঁহার বিচার-সময় উপস্থিত।”—প্রকা. ১৪:৬, ৭.