ধৈর্য পুরস্কৃত হয়
১ “তোমরা নিজ নিজ ধৈর্য্যে আপন আপন প্রাণ লাভ করিবে।” (লূক ২১:১৯) এই কথাগুলো ‘যুগান্ত’ সম্বন্ধে যিশুর ভবিষ্যদ্বাণীর অংশ আর এটা স্পষ্ট করে যে, আমাদের নীতিনিষ্ঠা বজায় রাখতে হলে আমাদেরকে অবশ্যই অনেক পরীক্ষার মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। কিন্তু যিহোবার শক্তিতে, আমরা প্রত্যেকেই ‘শেষ পর্য্যন্ত স্থির থাকিতে’ বা ধৈর্য ধরতে এবং ‘পরিত্রাণ পাইতে’ পারি।—মথি ২৪:৩, ১৩; ফিলি. ৪:১৩.
২ তাড়না, স্বাস্থ্যগত সমস্যা, আর্থিক সমস্যা এবং মানসিক চাপের কারণে প্রত্যেকটা দিনই এক পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু আমরা কখনোই ভুলে যাব না যে, শয়তান যিহোবার প্রতি আমাদের নীতিনিষ্ঠাকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করছে। প্রতিদিন আমরা যে আমাদের পিতার প্রতি অনুগত থাকি, সেটা হল আরেকটা দিন, যেদিনে আমরা টিটকারীদাতার প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রতি এক উত্তর জোগাতে পেরেছি। এটা জানা কতই না পরিতৃপ্তিজনক যে, পরীক্ষার মুখে আমাদের ‘নেত্রজলকে’ ভুলে যাওয়া হয় না! সেগুলো যিহোবার কাছে খুবই মূল্যবান এবং আমাদের নীতিনিষ্ঠা তাঁর হৃদয়কে আনন্দিত করে!—গীত. ৫৬:৮; হিতো. ২৭:১১.
৩ বিভিন্ন পরীক্ষার দ্বারা পরিশোধিত: নিদারুণ যন্ত্রণা বিশ্বাসের কোনো দুর্বলতা অথবা ব্যক্তিত্বের কোনো ত্রুটিকে, যেমন অহংকার অথবা অধৈর্যকে প্রকাশ করতে পারে। অশাস্ত্রীয় উপায়গুলোর দ্বারা কৌশলে রেহাই পাওয়ার অথবা পরীক্ষাগুলোর শেষ নিয়ে আসার চেষ্টা না করে বরং আমাদের অবশ্যই ঈশ্বরের বাক্যের এই পরামর্শে মনোযোগ দিতে হবে যে, “সেই ধৈর্য্য সিদ্ধ কার্য্যবিশিষ্ট হউক।” কেন? কারণ বিশ্বস্তভাবে পরীক্ষাগুলোকে সহ্য করা আমাদেরকে “সিদ্ধ ও সম্পূর্ণ” হতে সাহায্য করে। (যাকোব ১:২-৪) ধৈর্য আমাদেরকে যুক্তিবাদিতা, সহমর্মিতা এবং করুণার মতো অমূল্য গুণগুলো গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে।—রোমীয় ১২:১৫.
৪ পরীক্ষাসিদ্ধ বিশ্বাস: আমরা যখন বিভিন্ন পরীক্ষা সহ্য করি, তখন আমরা এক পরীক্ষাসিদ্ধ বিশ্বাস অর্জন করি, ঈশ্বরের চোখে যেটার অনেক মূল্য রয়েছে। (১ পিতর ১:৬, ৭) এই ধরনের বিশ্বাস আমাদেরকে ভবিষ্যতের পরীক্ষাগুলোর মধ্যে অটল থাকার জন্য সজ্জিত করে। এ ছাড়া, আমরা ঈশ্বরের অনুমোদন উপলব্ধি করতে পারি আর এটা আমাদের আশাকে শক্তিশালী করে এবং আমাদের কাছে এটাকে আরও বাস্তব করে তোলে।—রোমীয় ৫:৩-৫.
৫ ধৈর্যের সবচেয়ে ভাল পুরস্কার যাকোব ১:১২ পদে উল্লেখ করা হয়েছে যেটা বলে: “ধন্য সেই ব্যক্তি, যে পরীক্ষা সহ্য করে; কারণ পরীক্ষাসিদ্ধ হইলে পর সে জীবনমুকুট প্রাপ্ত হইবে।” তাই, আসুন যিহোবার প্রতি আমরা আমাদের ভক্তিতে অটল থাকি, এই আস্থা রাখি যে, “যাহারা তাঁহাকে প্রেম করে” তাদের তিনি প্রচুররূপে আশীর্বাদ করবেন।