যিশুর মনোভাব অনুকরণ করুন
১ যদিও আমরা কখনও ঈশ্বরের পুত্রকে দেখিনি কিন্তু যিশুর জীবন ও পরিচর্যার লিখিত বিবরণের মাধ্যমে আমরা প্রকৃতই তাঁকে ভালবাসতে শিখেছি। (১ পিতর ১:৮) তাঁর পিতার ইচ্ছার প্রতি বাধ্য হয়ে তিনি স্বর্গে তাঁর উচ্চীকৃত পদ ত্যাগ করেছিলেন এবং পৃথিবীতে এসেছিলেন। একজন মানুষ হিসেবে তিনি নিঃস্বার্থভাবে অন্যদের পরিচর্যা করেছিলেন আর এরপর মানবজাতির জন্য তাঁর জীবন দিয়েছিলেন। (মথি ২০:২৮) ঈশ্বরের বাক্য আমাদের জোরালোভাবে উৎসাহ দেয়: “খ্রীষ্ট যীশুতে যে ভাব ছিল, তাহা তোমাদিগেতেও হউক।” আমরা কীভাবে তাঁর আত্মত্যাগের মনোভাব অনুকরণ করতে পারি?—ফিলি. ২:৫-৮.
২ যখন ক্লান্ত বোধ করেন: এমনকি যদিও যিশু সিদ্ধ ছিলেন, তিনিও ক্লান্ত হয়েছিলেন। একবার তিনি যখন “পথশ্রান্ত” ছিলেন, তখন এক শমরীয় স্ত্রীলোকের কাছে পুঙ্খানুপুঙ্খ সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। (যোহন ৪:৬) অনেক খ্রিস্টান আজকে একই ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হয়। এক কর্মব্যস্ত সপ্তাহের পর, প্রচার কাজে অংশ নেওয়ার জন্য শক্তি পাওয়া কঠিন হতে পারে। কিন্তু, যদি আমরা নিয়মিতভাবে তা করি, তা হলে আমরা দেখব যে, খ্রিস্টীয় পরিচর্যা আমাদেরকে আধ্যাত্মিকভাবে সতেজ করে।—যোহন ৪:৩২-৩৪.
৩ আরেকবার যিশু ও তাঁর শিষ্যরা কিছুটা সময় বিশ্রাম নেওয়ার জন্য একটা নির্জনস্থানে গিয়েছিল। কিন্তু, এক বিরাট জনতা তাদের দেখতে পায় এবং তাদের কাছে যাওয়ার জন্য আগেই সেখানে দৌড়ে যায়। বিরক্ত হওয়ার পরিবর্তে যিশু “তাহাদের প্রতি করুণাবিষ্ট হইলেন” এবং “তাহাদিগকে অনেক বিষয় শিক্ষা দিতে” আরম্ভ করেছিলেন। (মার্ক ৬:৩০-৩৪) বাইবেল অধ্যয়ন শুরু ও পরিচালনার জন্য একই মনোভাব দরকার। এর জন্য অবিরত প্রচেষ্টা এবং লোকেদের প্রতি অকৃত্রিম ভালবাসা দরকার। বর্তমানে আপনি যদি কোনো বাইবেল অধ্যয়ন পরিচালনা না করে থাকেন, তা হলে একটা খোঁজার চেষ্টা করতে গিয়ে হাল ছেড়ে দেবেন না।
৪ আধ্যাত্মিক বিষয়গুলো প্রথমে রাখুন: সহায়ক অগ্রগামীর কাজ করা আমাদেরকে আধ্যাত্মিক বিষয়গুলোর ওপর আরও বেশি মনোযোগ কেন্দ্রীভূত রাখতে সাহায্য করতে পারে। এক যুবতী বোন লিখেছিল: “আমার এক বান্ধবীর মা আমাদের দুজনকে এক মাসের জন্য তার সঙ্গে সহায়ক অগ্রগামীর কাজ করতে উৎসাহিত করেছিলেন। আমি সত্যিই খুশি যে, আমরা তার সঙ্গে যোগ দিয়েছিলাম। ভাই ও বোনদের আরও ভালভাবে জানতে পেরে আমি খুশি হয়েছিলাম এবং শীঘ্রই তারা আমার কাছে পরিবারের মতো হয়ে উঠেছিল। এ ছাড়া, আমি যিহোবার সম্বন্ধে অন্যদের কাছে আরও কথা বলার এবং তাদেরকে রাজ্যের চমৎকার সত্যগুলো শেখানোর সুযোগ উপভোগ করেছিলাম। এই সমস্তকিছুই আমাকে যিহোবা ও তাঁর সংগঠনের আরও নিকটবর্তী বোধ করিয়েছিল।”—গীত. ৩৪:৮.
৫ আমরা সকলেই আমাদের অসিদ্ধ মাংস এবং যিহোবাকে খুশি করার ইচ্ছার লড়াইয়ের মুখোমুখি হই। (রোমীয় ৭:২১-২৩) আমাদের অবশ্যই প্রাণপণ করার জন্য জগতের অনিচ্ছুক মনোভাবকে প্রতিরোধ করতে হবে। (মথি ১৬:২২, ২৩) যিহোবা তাঁর পবিত্র আত্মার মাধ্যমে এইক্ষেত্রে আমাদের সফল হতে সাহায্য করতে পারেন। (গালা. ৫:১৬, ১৭) ঈশ্বরের নতুন জগতে আমাদের মুক্তির জন্য অপেক্ষা করার সময় আমরা যেন রাজ্যের বিষয়গুলোকে এবং অন্যদের আগ্রহকে আমাদের নিজেদের আগ্রহের আগে রেখে যিশুর মনোভাবকে অনুকরণ করি।—মথি ৬:৩৩; রোমীয় ১৫:১-৩.
[অধ্যয়ন প্রশ্নাবলি]
১. যিশু কোন মনোভাব প্রদর্শন করেছিলেন?
২. অনেক খ্রিস্টান কোন সমস্যার মুখোমুখি হয় আর এটা কাটিয়ে উঠতে কী তাদের সাহায্য করতে পারে?
৩. আমরা কীভাবে শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে যিশুর ইচ্ছুক মনোভাব অনুকরণ করতে পারি?
৪. সহায়ক অগ্রগামীর কাজ করা কীভাবে আমাদের খ্রিস্টের মনোভাব অনুকরণ করতে সাহায্য করতে পারে?
৫. কেন আমাদের অবশ্যই ক্রমাগতভাবে যিশুর মনোভাব অনুকরণ করার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করতে হবে?