ক্লেশ সত্ত্বেও আনন্দ করা
১ আমাদের প্রভু ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, তাঁর শিষ্যরা ক্লেশ ভোগ করবে। (মথি ২৪:৯) পরীক্ষাগুলোকে আমাদের কীভাবে দেখা উচিত? কী আমাদের ক্লেশে ধৈর্য ধরতে সাহায্য করবে? ২০০৪ সালের পরিচর্যা বছরের সীমা সম্মেলন কার্যক্রম এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়েছিল। সম্মেলনের মূলভাব ছিল, “প্রত্যাশায় আনন্দ কর, ক্লেশে ধৈর্য্যশীল হও।”—রোমীয় ১২:১২.
২ দুটো সিম্পোজিয়াম: “ধৈর্যের সঙ্গে ফল উৎপন্ন করুন” শিরোনামের প্রথম সিম্পোজিয়ামে সেই উপায়গুলো সম্বন্ধে আলোচনা করা হয়েছিল, যে-উপায়গুলোতে যিহোবার লোকেরা সরাসরি আক্রমণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা ব্যক্তিগত দুর্দশা সত্ত্বেও ফল উৎপন্ন করে থাকে। আমাদের নিজস্ব উদ্বিগ্নতা ও অন্য ভাইবোনদের যেকোনো সংকটের বিষয়ে অবিরত প্রার্থনা করা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। (১ থিষল. ৫:২৭) বেশ কয়েকজন প্রকাশকের এই বিষয়ে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল যে, তারা কীভাবে এক তৎপরতার মনোভাব নিয়ে প্রচার করে ও শিক্ষা দেয়। “যখন যিহোবার দ্বারা শাসিত” শিরোনামের এই বক্তৃতার দ্বারা বাবামায়েরা বিশেষভাবে উপকৃত হয়েছিল, যেখানে আলোচনা করা হয়েছিল যে, বাবামায়েরা কীভাবে তাদের সন্তানদের সঙ্গে যুক্তি করতে পারে এবং যিহোবার সামনে তাদের জবাবদিহি করার বিষয়টা উপলব্ধি করার ক্ষেত্রে তাদের সাহায্য করতে পারে। (উপ. ১১:৯) সিম্পোজিয়ামের শেষ বক্তা তুলে ধরেছিলেন যে, জগতের প্রভাবকে আমাদের ভিতরে প্রবেশ করা থেকে প্রতিরোধ করার জন্য এবং উদ্বেগ বা ধনের মায়াকে আমাদের ফলহীন করার সুযোগ না দেওয়ার জন্য আমাদের কী করতে হবে।—মার্ক ৪:১৯; মথি ৬:২২.
৩ দ্বিতীয় সিম্পোজিয়ামের মূলভাব ছিল “ধৈর্য ধরে ধাবনক্ষেত্রে দৌড়ান।” এটা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছিল যে, আমাদের উৎসর্গীকৃত জীবনধারা কীভাবে সমস্ত ধাবনক্ষেত্র বা দৌড় প্রতিযোগিতার মধ্যে সর্ববৃহৎ—অনন্তজীবনের জন্য দৌড়। কেন আমাদের বিধিমতো দৌড়াতে হবে? (২ তীম. ১:১৩; ২ করি. ১৩:৫) কীভাবে আমরা সফলভাবে সমস্ত বোঝা ফেলে দিতে এবং জীবনের দৌড় প্রতিযোগিতায় ক্লান্ত না হতে পারি? (লূক ১২:১৬-২১; ১০:৪০-৪২; ২ করি. ৬:১৪-১৫) যে-সময়োপযোগী শাস্ত্রীয় পরামর্শ জোগানো হয়েছিল, তা আমাদের সকলকে ধৈর্যের সঙ্গে অবিরত দৌড়াতে সাহায্য করবে।—ইব্রীয় ১২:১.
৪ ধৈর্য ঈশ্বরের অনুমোদন নিয়ে আসে: ভ্রমণ অধ্যক্ষদের দেওয়া বক্তৃতাগুলো বিশ্বাস দৃঢ়কারী ছিল। জেলা অধ্যক্ষের একটা বক্তৃতার শিরোনাম ছিল, “ধৈর্য অনুমোদিত অবস্থায় পরিচালিত করে।” এটা ব্যাখ্যা করেছিল যে, ধৈর্য আমাদের আধ্যাত্মিকমনা ব্যক্তি হিসেবে ‘সিদ্ধ ও সম্পূর্ণ হইবার’ দিকে পরিচালিত করে। (যাকোব ১:৪) ধৈর্যের সর্বমহান উদাহরণ হলেন যিহোবা ঈশ্বর, যিনি তাঁর সার্বিক সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে করা বিদ্রোহের প্রতি দীর্ঘসময় ধরে ধৈর্য ধরেছেন। জনসাধারণের উদ্দেশে বক্তৃতা এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়েছিল: কার নামে জাতিগণের প্রত্যাশা রাখা উচিত এবং এর সঙ্গে কী জড়িত। “ধৈর্যে আপনি আপন প্রাণ লাভ করবেন,” শিরোনামের শেষ বক্তৃতায় বিবেচনা করা হয়েছিল যে, কীভাবে যিশু তিক্তবিরক্ত না হয়ে অবিচার সহ্য করেছিলেন।—১ পিতর ২:২১-২৩.
৫ যিহোবা নিজে আমাদের জন্য এই আধ্যাত্মিক খাবারের ভোজ প্রস্তুত করেছিলেন। তাই আসুন আমরা সম্মেলন কার্যক্রমে পাওয়া সমস্ত উত্তম পরামর্শ প্রয়োগ করতে এবং এর উৎসাহমূলক বিষয়গুলো থেকে উপকার পেতে সংকল্পবদ্ধ হই।