সত্য যেভাবে আমাদের স্বাধীন করে
১ যে-যিহুদিরা যিশুকে বিশ্বাস করত, তাদের একবার বলেছিলেন: “তোমরা সেই সত্য জানিবে, এবং সেই সত্য তোমাদিগকে স্বাধীন করিবে।” (যোহন ৮:৩২) তিনি যে-স্বাধীনতার কথা বলছিলেন, সেটা শুধু নাগরিক স্বাধীনতার চেয়ে আরও বেশি কিছুকে বুঝিয়েছিল, যে-স্বাধীনতা সবার জন্য—গরিব বা ধনী, শিক্ষিত বা অশিক্ষিত। যিশু যে-সত্য শিখিয়েছিলেন, তা পাপ এবং মৃত্যুর দাসত্ব থেকে স্বাধীনতা নিয়ে আসবে। যিশু যেমন বলেছিলেন: “যে কেহ পাপাচরণ করে, সে পাপের দাস।” (যোহন ৮:৩৪) নিশ্চিতভাবে আমরা সেই সময়ের জন্য অপেক্ষা করে আছি যখন সমস্ত বাধ্য মানুষ “ক্ষয়ের দাসত্ব হইতে মুক্ত হইয়া ঈশ্বরের সন্তানগণের প্রতাপের স্বাধীনতা পাইবে”!—রোমীয় ৮:২১.
২ যিশুর নিজের সম্বন্ধে ও সেইসঙ্গে ঈশ্বরের উদ্দেশ্য পরিপূর্ণ করার ক্ষেত্রে তাঁর যে-ভূমিকা রয়েছে, সেই সম্বন্ধে সত্য এইধরনের স্বাধীনতা নিয়ে আসে। এর মধ্যে রয়েছে মুক্তির মূল্যরূপ বলিদান সম্বন্ধে জ্ঞান, যা তিনি আমাদের জন্য দিয়েছেন। (রোমীয় ৩:২৪) এমনকি এখন, বাইবেলের সত্য গ্রহণ করা এবং এর প্রতি বাধ্য থাকা আমাদের কিছুটা হলেও ভয়, হতাশা এবং সবধরনের ক্ষতিকর অভ্যাসগুলো থেকে স্বাধীনতা উপভোগ করতে সমর্থ করে।
৩ ভয় এবং হতাশা থেকে স্বাধীনতা: জগতের অবস্থা দেখে আমাদের হতাশ হওয়ার দরকার নেই কারণ আমরা বুঝতে পারি যে কেন দুষ্টতা আছে এবং আমরা জানি যে খুব শীঘ্রই পৃথিবী থেকে তা দূর করে দেওয়া হবে। (গীত. ৩৭:১০, ১১; ২ তীম. ৩:১; প্রকা. ১২:১২) এ ছাড়া, মৃত ব্যক্তিদের অবস্থা সম্বন্ধে মিথ্যা শিক্ষাগুলো থেকে সত্য আমাদের স্বাধীন করে। আমরা জানি যে, মৃতেরা আমাদের ক্ষতি করতে পারে না, তারা অনন্ত যন্ত্রণা ভোগ করছে না এবং ঈশ্বর তাঁর সঙ্গে এক আত্মিক জগতে থাকার জন্য লোকেদের মরতে দেন না।—উপ. ৯:৫; প্রেরিত ২৪:১৫.
৪ এইধরনের সত্য একজন বাবা এবং মাকে স্বস্তি দিয়েছিল যখন একটা দুর্ঘটনায় তাদের সন্তান মারা গিয়েছিল। “আমাদের জীবনে এক শূন্যতা আছে যা পূর্ণ হবার নয়, যতক্ষণ পর্যন্ত না আমরা আমাদের পুত্রকে পুনরুত্থানের মাধ্যমে আবার দেখব,” মা বলেছিলেন। “কিন্তু আমরা জানি আমাদের বেদনা শুধুমাত্র ক্ষণকালের জন্য।”
৫ ক্ষতিকর অভ্যাসগুলো থেকে স্বাধীনতা: বাইবেলের সত্য একজন ব্যক্তির চিন্তাভাবনা এবং ব্যক্তিত্বকে পরিবর্তন করতে পারে আর এর ফলে এড়ানো যায় এমন সমস্যাগুলো থেকে স্বাধীন হওয়া যায়। (ইফি. ৪:২০-২৪) সততার অনুশীলন এবং পরিশ্রমী হওয়া দরিদ্রতা দূর করতে সাহায্য করে। (হিতো. ১৩:৪) আত্মত্যাগমূলক প্রেম দেখানো অন্যদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করে। (কল. ৩:১৩, ১৪) খ্রিস্টীয় মস্তকব্যস্থাকে সম্মান করা পারিবারিক সমস্যাগুলো কমাতে সাহায্য করে। (ইফি. ৫:৩৩–৬:১) মাতলামি, যৌন অনৈতিকতা, তামাক, এবং নেশাকর ওষুধ এড়ানো ভাল স্বাস্থ্য নিয়ে আসে।—হিতো. ৭:২১-২৩; ২৩:২৯, ৩০; ২ করি. ৭:১.
৬ একজন যুবক মাদকদ্রব্যের প্রতি তার নয় বছরের আসক্তিকে দূর করতে পারছিল না। একদিন এক প্রকাশকের সঙ্গে তার দেখা হয়, যিনি রাস্তায় সাক্ষ্য দিচ্ছিলেন। সে সাহিত্য নেয় এবং তার বাড়িতে গিয়ে সাক্ষাৎ করার ব্যবস্থা করা হয়। একটা বাইবেল অধ্যয়ন শুরু হয়। দুমাস পরে সেই যুবক মাদকদ্রব্য সেবন পুরোপুরি বন্ধে করে দেয় এবং অধ্যয়নের আট মাস পরে সে বাপ্তিস্ম নেয়। সে আসক্তি থেকে মুক্ত হয়েছে দেখে তার ভাই ও বৌদি বাইবেল অধ্যয়ন শুরু করতে প্রণোদিত হয়।
৭ অন্যদের স্বাধীনতা লাভ করতে সাহায্য করুন: যারা দীর্ঘদিন ধরে মিথ্যা শিক্ষাগুলোর বন্দিত্বে আছে, তাদের পক্ষে হয়তো ঈশ্বরের বাক্য যে-স্বাধীনতা এনে দেয়, তা বোঝা কঠিন মনে হতে পারে। তাদের হৃদয়ে পৌঁছানোর জন্য শিক্ষকের বিশেষ অধ্যবসায় এবং উত্তম প্রস্তুতির প্রয়োজন। (২ তীম. ৪:২, ৫) ‘বন্দি লোকদের কাছে মুক্তি প্রচার করিবার’ যে-কাজ আমাদের রয়েছে, তাতে ধীর হয়ে পড়ার সময় এখন নয়। (যিশা. ৬১:১) খ্রিস্টীয় স্বাধীনতার বহুমূল্য রয়েছে। এটা লাভ করা মানে অনন্তজীবন।—১ তীম. ৪:১৬.