একজন ভাববিনিময়কারী হোন!
১ আমাদের প্রচার ও শিষ্য তৈরি করার দায়িত্ব পালন করতে আমাদের অবশ্যই অন্যদের তথ্য জানাতে হবে। (মথি ২৪:১৪; ২৮:১৯, ২০) তবে ভাববিনিময় করা এমনকি বন্ধুদের মধ্যেও কঠিন হতে পারে। কোন্ বিষয়টা অপরিচিতদের কাছে সুসমাচার পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমাদের সাহায্য করতে পারে?
২ অপরিচিত থেকে বন্ধু: পরিচর্যায় যাদের সঙ্গে আপনি সাক্ষাৎ করেন তাদের জায়গায় নিজেকে রাখার চেষ্টা করুন। এটা স্পষ্ট যে, বর্তমান জগতে কেউ কেউ হয়তো অপরিচিতদের সন্দেহ করতে পারে অথবা এমনকি ভয়ও পেতে পারে। এটা ভাববিনিময় করার পথ বন্ধ করে দিতে পারে। যাদের সঙ্গে আপনি সাক্ষাৎ করেন তাদের প্রথম আশঙ্কাকে আপনি কীভাবে দূর করতে পারেন? এমনকি আমরা কোন কথা বলার আগেই, যে-একটা উপায়ে আমরা ভাববিনিময় করি, তা হল আমাদের ব্যক্তিগত মার্জিত পোশাক-আশাক। আমাদের পরিপাটী পোশাক এবং মর্যাদাপূর্ণ ব্যবহার ভয় দূর করতে সাহায্য করে।—১ তীম. ২:৯, ১০.
৩ ভাববিনিময় করার আরেকটা উপায় হল এক স্বচ্ছন্দ, বন্ধুত্বপূর্ণ স্বভাব। এটা অন্যদের স্বচ্ছন্দ বোধ করতে সাহায্য করে এবং শোনার জন্য তাদের আরও বেশি ইচ্ছুক করে তোলে। এই ক্ষেত্রে ভাল প্রস্তুতির খুবই দরকার। আমরা কী বলব সেটা যখন আমাদের মনের মধ্যে স্পষ্ট থাকে, তখন আমরা অতটা ঘাবড়াই না। আর আমাদের এই শান্ত মনোভাব আমাদের বার্তার প্রতি অন্যদের আকৃষ্ট করতে পারে। একজন সাক্ষির সাক্ষাৎ সম্বন্ধে এক ভদ্রমহিলা এই কথাগুলো বলেছিলেন: “তার হাসি মুখ দেখে যে-বিষয়টা আমার মনে পড়ে, তা হল মনের শান্তি। আমি কৌতূহলী হয়ে পড়েছিলাম।” এটাই ভদ্রমহিলার জন্য সুসমাচার শোনার পথ খুলে দিয়েছিল।
৪ যে-গুণগুলো আকৃষ্ট করে: আমাদের অন্যদের প্রতি ব্যক্তিগত আন্তরিক আগ্রহ দেখানো দরকার। (ফিলি ২:৪) সেটা করার একটা উপায় হল, নিজে কম কথা বলে অন্যকে বলার সুযোগ দেওয়া। আসলে, ভাববিনিময় বলতে কথা শোনাও বোঝায়। আমরা যখন আমাদের শ্রোতাদের তাদের মতামত প্রকাশ করতে বলি এবং তাদের মন্তব্যগুলো আগ্রহের সঙ্গে শুনি, তখন তারা বুঝতে পারে যে, আমরা তাদের জন্য চিন্তা করি। তাই, আপনার শ্রোতারা যখন কথা বলে, তখন তাড়াতাড়ি করে আপনার প্রস্তুত করা উপস্থাপনাটা বলার সুযোগ খুঁজবেন না। যদি পারেন, তা হলে আন্তরিকতার সঙ্গে তাদের প্রশংসা করুন আর তারা যা বলে তার সঙ্গে মিল রেখে আপনার মন্তব্যগুলো করার চেষ্টা করুন। তাদের মন্তব্যগুলো যদি দেখায় যে, তারা কোন বিষয়ে চিন্তিত, তা হলে তাদের চিন্তার বিষয়গুলোকে উল্লেখ করতে আপনার উপস্থাপনাকে খাপ খাইয়ে নিন।
৫ বিনয় ও নম্রতা ভাববিনিময়কে চালু রাখে। (হিতো. ১১:২, NW; প্রেরিত ২০:১৯) লোকেরা যীশুর প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল কারণ তিনি ছিলেন “মৃদুশীল ও নম্রচিত্ত।” (মথি ১১:২৯) অন্যদিকে, নিজেকে বড় মনে করার এক মনোভাব লোকেদের দূরে ঠেলে দেয়। তাই, যদিও আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে আমাদের কাছে সত্য আছে, তবুও আমরা বুদ্ধিপূর্বক একগুঁয়েভাবে কথা বলা এড়িয়ে চলি।
৬ কিন্তু ব্যক্তির মন্তব্যগুলো যদি সেই বিশ্বাসকে প্রকাশ করে যেটা বাইবেল যা শিক্ষা দেয় সেটার সঙ্গে মেলে না, তা হলে কী? তাকে সংশোধন করার দায়িত্ব কি আমাদের? হ্যাঁ, ধীরে ধীরে কিন্তু প্রথম সাক্ষাতেই আমরা তা করার চেষ্টা করব না। বাইবেলের যে-শিক্ষাগুলোর সঙ্গে একমত হওয়া আমাদের শ্রোতার জন্য কঠিন হবে, সেগুলো বলার আগে আমরা দুজনেই যেগুলোর ওপর একমত সেই ধারণাগুলো নিয়ে কথা বলা উপকারজনক হবে। এর জন্য ধৈর্য ও দক্ষতার দরকার। পৌল এ বিষয়ে এক সুন্দর উদাহরণ রেখেছেন যখন তিনি আরেয়পাগের বিচারকদের কাছে সাক্ষ্য দিচ্ছিলেন।—প্রেরিত ১৭:১৮, ২২-৩১.
৭ সর্বোপরি, নিঃস্বার্থ প্রেম কার্যকারী ভাববিনিময়কারী হতে আমাদের সাহায্য করবে। যীশুর মতো, আমাদের অবশ্যই লোকেদের প্রতি করুণা বোধ করা দরকার, যারা ‘ব্যাকুল ও ছিন্নভিন্ন, যেন পালকবিহীন মেষপাল।’ (মথি ৯:৩৬) এটা আমাদের তাদের কাছে সুসমাচার নিয়ে যেতে এবং তাদেরকে জীবনের পথে চলতে সাহায্য করতে পরিচালিত করে। আমাদের বার্তা হল প্রেমের বার্তা, তাই আসুন আমরা প্রেমের সঙ্গে এটা বলে চলি। তা করে আমরা যিহোবা ঈশ্বর ও যীশু খ্রীষ্টকে অনুকরণ করি, যারা হলেন নিখিলবিশ্বের শ্রেষ্ঠ ভাববিনিময়কারী।