সুসমাচারের যোগ্যরূপে আচরণ করুন
১ যিহোবার সাক্ষী হিসাবে আমরা চাই যিহোবার নামের সম্মান আনতে। আমরা জানি যে সত্য উপাসনাকে অন্যেরা কিভাবে দেখবে তা আমাদের আচরণ, কথাবার্তা বেশভূষা ও পোশাক-পরিচ্ছদ প্রভাবিত করতে পারে। এটি বিশেষভাবে সত্য যখন আমরা আমাদের সভাগুলিতে যাই। আমরা নিশ্চিত হতে চাই যে প্রতিটি বিষয় যা সভাগুলিতে বলা হয় এবং করা হয় তা যেন সুসমাচারের যোগ্য হয় এবং যিহোবার সম্মান আনে।—ফিলি. ২:৪.
২ জাগতিক মানের বহু পোশাক-পরিচ্ছদ ও বেশভূষা খ্রীষ্টানদের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। এটি একটি বিষয় যার প্রতি সুসমাচার পরিচারকের দ্বারা যত্নপূর্বক মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। জুন ১, ১৯৮৯, প্রহরীদুর্গ (ইংরাজি) পৃষ্ঠা ২০ জানায়: “আমাদের পোশাক-পরিচ্ছদ দামি হওয়ার প্রয়োজন নেই, কিন্তু এটি পরিষ্কার, রুচিপূর্ণ ও মার্জিত হওয়া উচিত। আমাদের জুতোও ভাল অবস্থায় থাকা উচিত। একইভাবে, বুকস্টাডিসহ সমস্ত সভাগুলিতে, আমাদের শরীর পরিষ্কার রাখা এবং পরিপাটি ও উপযুক্ত পরিচ্ছদ পরা উচিত।”
৩ সময়ানুবর্তিতা হল প্রেমপূর্ণ বিবেচনা ও চিন্তাশীলতার একটি চিহ্ন। মাঝে মাঝে, এড়ানো যায় না এমন পরিস্থিতি হয়ত সভার জন্য সঠিক সময়ে উপস্থিত হওয়া থেকে আমাদের বিরত করতে পারে। কিন্তু অভ্যাসগতভাবে দেরিতে পৌঁছানো হয়ত প্রদর্শন করতে পারে সভাগুলির পবিত্র উদ্দেশ্যের প্রতি সম্মানের অভাব এবং অন্যদের অসুবিধা করা এড়াতে আমাদের যে দায়িত্ব তা উপলব্ধি করতে ব্যর্থতা। যারা দেরিতে আসে তারা প্রায়ই অন্যদের বিক্ষিপ্ত করে এবং কার্যক্রম থেকে পূর্ণ উপকার লাভ করতে তাদের বাধা দেয়। সময়ানুবর্তিতা দেখায় উপস্থিত সকলের অনুভূতি ও আগ্রহের প্রতি সম্মান।
৪ আমাদের প্রতিবেশীর প্রতি প্রেম সভা চলাকালীন বিক্ষেপের কারণগুলি এড়াতে আমাদের সতর্ক করবে। ফিস্ফিস্ করে কথা বলা, খাওয়া, চূইং গাম খাওয়া, খড় খড় করে কাগজের শব্দ করা এবং ঘন ঘন অপ্রয়োজনীয়ভাবে শৌচাগারে যাওয়া হয়ত অন্যদের মনোযোগ নষ্ট করতে এবং যিহোবার উপাসনার স্থানকে প্রাপ্ত মর্যাদা দেওয়া থেকে বিক্ষিপ্ত করতে পারে। যদি কোন জরুরি কারণ না থাকে ভাইয়েদের তাদের আসন ছেড়ে উঠে এসে মণ্ডলীর কাজ পরিচালনা করা অথবা অন্যদের সাথে কথা বলা অনুপোযুক্ত হবে। পরিবর্তে, সকলের আসনে বসে থাকা ও কার্যক্রম শোনা উচিত যাতে করে নিজেরা এবং তাদের পরিবার উপকৃত হয়। অশিষ্ট আচরণের স্থান কিংডম হল নয় কারণ “প্রেম . . . অশিষ্টাচরণ করে না।”—১ করি. ১৩:৪, ৫; গালা. ৬:১০.
৫ সভাগুলিতে আমাদের সন্তানদের উত্তম আচরণও যিহোবার নামের প্রশংসা ও সম্মান নিয়ে আসে। পিতামাতাদের দ্বারা কঠোর তত্ত্বাবধান হল অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সন্তানদের শুনতে ও অংশ নিতে উৎসাহিত করা উচিত। অনেক পিতামাতারা ছোট সন্তাদের সাথে বসার জন্য এমন জায়গা বেছে নেন যেখানে তারা অন্যদের বিক্ষিপ্ত না করে সহজেই প্রস্থান করতে এবং তাদের ছোট সন্তানদের প্রয়োজনীয় বিষয়ের যত্ন নিতে পারেন।
৬ পৌল উপদেশ দিয়েছিলেন: “সুসমাচারের যোগ্যরূপে . . . আচরণ কর।” (ফিলি. ১:২৭) তাহলে আসুন, যোগ্যরূপে আচরণ করতে প্রচেষ্টা করি এবং সভায় উপস্থিত হওয়ার সময়ে অন্যদের প্রতি বিবেচনা দেখাই। সকলের দ্বারা সহযোগিতা নিশ্চিত করবে যে “অপরের বিশ্বাসের মাধ্যমে প্রত্যেকের দ্বারা . . . পারস্পরিক উৎসাহ বিনিময়” হবে।—রোমীয় ১:১২, NW.