আমাদের পাঠক-পাঠিকাদের জিজ্ঞাস্য . . .
যিহোবার সাক্ষিদের মধ্যে কি মহিলারাও শিক্ষা দেওয়ার কাজ করে?
হ্যাঁ, সারা পৃথিবীতে যিহোবার সাক্ষিদের মধ্যে লক্ষ লক্ষ নারী রয়েছে, যারা শিক্ষাদানের কাজে সময় ব্যয় করে থাকে। ঈশ্বরের রাজ্যের সুসমাচার প্রচার করার ক্ষেত্রে তারা এক বড়ো অংশ নেয়। এদের সম্বন্ধে গীতসংহিতা ৬৮:১১ পদ ভবিষ্যদবাণী করে, “প্রভু বাক্য দেন, শুভবার্ত্তার প্রচারিকাগণ মহাবাহিনী।”
তবে, অন্যান্য ধর্মের মহিলা ধর্মগুরুরা যে-পরিচর্যা কাজ করে আর যিহোবার সাক্ষিদের নারীরা যে-পরিচর্যা কাজ করে, তা এক নয়। তাদের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। কীভাবে তারা একে অপরের থেকে ভিন্ন?
তাদের পরিচর্যা কাজের শ্রোতারা আলাদা। মহিলা ধর্মগুরুরা, বিশেষ করে খ্রিস্টীয় জগতের মধ্যে যারা রয়েছে, তারা তাদের মণ্ডলীর মধ্যে নেতৃত্ব নেয় এবং তাদের মূল শ্রোতা হল, তাদের মণ্ডলীর সদস্যরা। কিন্তু, যিহোবার সাক্ষিদের মধ্যে যে-নারীরা পরিচর্যায় অংশ নেয়, তাদের প্রধান শ্রোতা হল মণ্ডলীর বাইরের লোকেরা, যাদের সঙ্গে তারা ঘরে ঘরে অথবা অন্যান্য জায়গায় দেখা করে।
অন্যান্য ধর্ম ও যিহোবার সাক্ষিদের নারীরা, যারা পরিচর্যায় অংশ নেয়, তারা আরেকটা উপায় একে অপরের থেকে ভিন্ন আর তা হল, মণ্ডলীতে তাদের কার্যকলাপ। খ্রিস্টীয় জগৎ ও অন্যান্য ধর্মের মহিলা ধর্মগুরুরা তাদের মণ্ডলীতে নেতৃত্ব নেয় এবং তাদের ধর্মীয় মতবাদগুলো তাদের সদস্যদের শিক্ষা দেয়। কিন্তু, যিহোবার সাক্ষি নারীরা কখনোই বাপ্তাইজিত ভাইদের উপস্থিতিতে তাদের মণ্ডলীতে শিক্ষা দেয় না। কেবলমাত্র শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত পুরুষেরাই এই কাজ করে থাকে।—১ তীমথিয় ৩:২; যাকোব ৩:১.
বাইবেল বর্ণনা করে, কেবলমাত্র পুরুষদের মণ্ডলী দেখাশোনা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। লক্ষ করুন, প্রেরিত পৌল তাদের যোগ্যতা সম্বন্ধে সহঅধ্যক্ষ তীতকে কী লিখেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি তোমাকে এই কারণে ক্রীতীতে রেখে এসেছি, যেন তুমি প্রতিটা নগরে প্রাচীনদের নিযুক্ত কর: যে-ব্যক্তি অনিন্দনীয়, এক স্ত্রীর স্বামী।’ (তীত ১:৫, ৬) পৌল তীমথিয়ের প্রতি লেখা চিঠিতে একই ধরনের নির্দেশনা দিয়েছিলেন, “যদি কোনো পুরুষ অধ্যক্ষ হওয়ার জন্য প্রচেষ্টা করে থাকেন, তা হলে তিনি উত্তম কাজ করার বিষয়ে আকাঙ্ক্ষী। তাই, একজন অধ্যক্ষকে এমন হতে হবে, যিনি অনিন্দনীয়, এক স্ত্রীর স্বামী ... শিক্ষা দিতে সক্ষম।”—১ তীমথিয় ৩:১, ২.
কেন শুধুমাত্র পুরুষেরাই মণ্ডলী দেখাশোনা করার দায়িত্ব পালন করতে পারে। পৌল বলেছিলেন, “শিক্ষা দেওয়ার কিংবা পুরুষের উপর কর্তৃত্ব করার অনুমতি আমি কোন নারীকে দিচ্ছি না বরং তাকে চুপ থাকতে বলছি কারণ প্রথমে আদমকে পরে হবাকে তৈরি করা হয়েছিল।” (১ তীমথিয় ২:১২, ১৩) যেহেতু যিহোবা প্রথমে আদমকে ও পরে হবাকে সৃষ্টি করেছিলেন, তাই এটা দেখায়, ঈশ্বরের উদ্দেশ্য হল পুরুষেরাই শিক্ষা দেবে এবং মণ্ডলী দেখাশোনা করবে।
যিহোবার পরিচারকরা তাদের নেতা যিশু খ্রিস্টের উদাহরণ অনুসরণ করে। যিশুর পরিচর্যা সম্বন্ধে শিষ্য লূক লিখেছিলেন, “কিছু সময় পর, তিনি নগরে নগরে ও গ্রামে গ্রামে ভ্রমণ করে ঈশ্বরের রাজ্যের সুসমাচার প্রচার ও ঘোষণা করতে লাগলেন।” পরবর্তী সময়ে, যিশু তাঁর অনুসারীদের একই কাজ করার জন্য পাঠিয়েছিলেন আর “তারা গ্রামে গ্রামে গিয়ে সুসমাচার ঘোষণা করতে লাগলেন।”—লূক ৮:১; ৯:২-৬.
বর্তমানে যিহোবার সমস্ত পরিচারক, যাদের মধ্যে পুরুষ ও নারীও রয়েছে, তারা যিশুর বলা এই কাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়, “সমস্ত জাতি যেন রাজ্যের সুসমাচার জানতে পারে, তাই পুরো পৃথিবীতে এই সুসমাচার প্রচার করা হবে এবং এরপর শেষ আসবে।”—মথি ২৪:১৪.