আমাদের পাঠক-পাঠিকাদের জিজ্ঞাস্য
নোহের দিনের জলপ্লাবন কি সত্যি সত্যিই পৃথিবীব্যাপী হয়েছিল?
নোহের দিনের জলপ্লাবন ৪,০০০রেরও বেশি বছর আগে হয়েছিল। তাই, সেই বিষয়ে আমাদেরকে বলার জন্য রক্ষাপ্রাপ্ত কোনো চাক্ষুষ সাক্ষি এখন আর পৃথিবীতে বেঁচে নেই। কিন্তু, সেই দুর্যোগের লিখিত এক নথি রয়েছে, যা বলে যে জলপ্লাবনের জলে সেই সময়ের সর্বোচ্চ পর্বত ডুবে গিয়েছিল।
ঐতিহাসিক বিবরণ বলে: “চল্লিশ দিন পর্য্যন্ত পৃথিবীতে জলপ্লাবন হইল . . . আর পৃথিবীতে জল অত্যন্ত প্রবল হইল, আকাশমণ্ডলের অধঃস্থিত সকল মহাপর্ব্বত মগ্ন হইল। তাহার উপরে পনের হাত [প্রায় ৬.৫ মিটার] জল উঠিয়া প্রবল হইল, পর্ব্বত সকল মগ্ন হইল।”—আদিপুস্তক ৭:১৭-২০.
কেউ কেউ ভাবতে পারে যে, সমগ্র পৃথিবী জলে ডুবে যাওয়ার বিবরণটি একটা পৌরাণিক কাহিনি কিংবা অন্ততপক্ষে কোনো অতিরঞ্জিত ঘটনা কি না। একেবারেই নয়! বস্তুতপক্ষে, পৃথিবীর অধিকাংশ অংশ এখনও জলে ডুবে রয়েছে। ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৭১ শতাংশ জুড়ে সমুদ্রের জল রয়েছে। তাই বাস্তবে জলপ্লাবনের জল এখনও এখানে বিদ্যমান। আর যদি হিমবাহ ও মেরু অঞ্চলের হিমমুকুট গলে যায়, তাহলে সমুদ্রপৃষ্ঠ নিউ ইয়র্ক ও টোকিওর মতো শহর ডুবিয়ে দেওয়ার মতো উত্থিত হয়ে যাবে।
যে-ভূতত্ত্ববিদরা যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ভূখণ্ডের ওপর গবেষণা করছে, তারা মনে করে যে, একসময়ে ১০০টার মতো সর্বনাশা জলপ্লাবনে সেই এলাকা ডুবে গিয়েছিল। বলা হয়ে থাকে যে, এই ধরনের একটা জলপ্লাবন ঘন্টায় ১০৫ কিলোমিটার বেগে ৬০০ মিটার উঁচু ঢেউ তুলে সেই অঞ্চলে দ্রুতবেগে প্রবেশ করেছিল—এমন এক জলপ্লাবন, যেটা ২,০০০ ঘন কিলোমিটার জায়গা জুড়ে হয়েছিল আর এতে জলের পরিমাণ ছিল দুই লক্ষ কোটি টনেরও বেশি। একই ধরনের তথ্য অন্যান্য বিজ্ঞানীকে এই বিষয়টা বিশ্বাস করতে পরিচালিত করেছে যে, পৃথিবীব্যাপী যে একটা জলপ্লাবন হয়েছে, সেই সম্ভাবনা সুস্পষ্ট।
কিন্তু, যারা বিশ্বাস করে যে বাইবেল হল ঈশ্বরের বাক্য, তাদের কাছে পৃথিবীব্যাপী জলপ্লাবন কেবল এক সম্ভাবনার চেয়েও বেশি কিছু। এটা একটা বাস্তব ঘটনা। যিশু ঈশ্বরকে বলেছিলেন: “তোমার বাক্যই সত্যস্বরূপ।” (যোহন ১৭:১৭) প্রেরিত পৌল লিখেছিলেন যে, ঈশ্বরের ইচ্ছা হল “যেন সমুদয় মনুষ্য পরিত্রাণ পায়, ও সত্যের তত্ত্বজ্ঞান পর্য্যন্ত পঁহুছিতে পারে।” (১ তীমথিয় ২:৩, ৪) যদি ঈশ্বরের বাক্যের মধ্যে পৌরাণিক কাহিনিগুলোই থেকে থাকে, তাহলে কীভাবে পৌল যিশুর অনুসারীদের মতবাদ সংক্রান্ত সত্য শিক্ষা দিতে পারেন?
যিশু কেবল এটাই বিশ্বাস করেননি যে, জলপ্লাবন হয়েছিল কিন্তু তিনি এটাও বিশ্বাস করেছিলেন যে, তা পৃথিবীব্যাপী হয়েছিল। তাঁর উপস্থিতি এবং এই বিধিব্যবস্থার শেষ সম্বন্ধে তাঁর মহৎ ভবিষ্যদ্বাণীকে তিনি নোহের দিনের ঘটনাগুলোর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। (মথি ২৪:৩৭-৩৯) এ ছাড়া, প্রেরিত পিতর নোহের দিনের জলপ্লাবন সম্বন্ধে লিখেছিলেন: “তদ্দ্বারা তখনকার জগৎ জলে আপ্লাবিত হইয়া নষ্ট হইয়াছিল।”—২ পিতর ৩:৬.
নোহ যদি এক পৌরাণিক কাহিনির চরিত্র এবং পৃথিবীব্যাপী জলপ্লাবন যদি এক কাল্পনিক ঘটনা হয়ে থাকে, তাহলে যারা শেষকালে বাস করছে তাদের জন্য পিতর ও যিশুর সতর্কবাণী অর্থহীন হয়ে পড়বে। সতর্কবাণী প্রদান করার পরিবর্তে এই ধরনের ধারণা একজন ব্যক্তির আধ্যাত্মিক বোধগম্যতাকে বিভ্রান্ত করবে এবং নোহের দিনের জলপ্লাবনের চেয়ে বড় দুর্দশা থেকে রক্ষা পাওয়ার সুযোগকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।—২ পিতর ৩:১-৭.
তাঁর লোকেদের জন্য তাঁর চিরন্তন করুণা সম্বন্ধে বলতে গিয়ে ঈশ্বর বলেছিলেন: “আমি যেমন শপথ করিয়াছি যে, নোহের জলসমূহ আর ভূতল আপ্লাবিত করিবে না, তেমনি এই শপথ করিলাম যে, তোমার প্রতি আর ক্রুদ্ধ হইব না, তোমাকে আর ভর্ৎসনাও করিব না।” নোহের দিনের জলপ্লাবন যেমন পৃথিবীকে নিমজ্জিত করেছিল, তেমনই ঈশ্বরের সদয় করুণা সেই ব্যক্তিদের আচ্ছন্ন করবে, যারা তাঁর ওপর নির্ভর করে।—যিশাইয় ৫৪:৯. (w০৮ ৬/১)