আধুনিক দিনে “সাধুদের” প্রতি আগ্রহ
“সেই সময়কার কথা কি মনে পড়ে যখন আমরা মহাত্মাদের সম্বন্ধে শুনতে শুনতে ক্লান্ত হয়ে পড়তাম? সেই বিষয়টা আমেরিকার ৪২ লক্ষ বাসিন্দার ওপর কোনরকম প্রভাব ফেলেছে বলে মনে হয় না, যারা ১৩ই সেপ্টেম্বর মাদার তেরেজার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া দেখেছিল। ৫ই সেপ্টেম্বর তার মৃত্যুর পর থেকে লোকেরা ভ্যাটিকানকে বার বার অনুরোধ করে এসেছে, যাতে তাকে একজন সাধ্বী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এটা যে অনুমোদিত হবেই, তা খুব কম লোকই সন্দেহ করেছিল।”—সান সেন্টিনেল, যুক্তরাষ্ট্র, অক্টোবর ৩, ১৯৯৭.
ক্যাথলিক মিশনারি মাদার তেরেজার মানবিক ও দাতব্য কাজকে অনেকে এক প্রকৃত সাধ্বীর কাজ হিসেবে দেখে। অন্যান্য ধর্মগুলোর মধ্যেও এইধরনের আদর্শ ব্যক্তিত্ব রয়েছে। কিন্তু সম্ভবত কাউকেই আনুষ্ঠানিকভাবে সাধু বলে ঘোষণা করা হয়নি যেমন রোমান ক্যাথলিক গির্জা করে থাকে।
পোপ জন পল দ্বিতীয়, পোপ হিসেবে তার শাসনের সময় ৪৫০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে সাধু-সাধ্বী বলে ঘোষণা করেছেন, যা বিংশ শতাব্দীতে অন্যান্য সমস্ত পোপদের দ্বারা ঘোষিত সাধুদের সংখ্যার চেয়ে বেশি।a “সাধুদের” প্রতি এইধরনের দীর্ঘস্থায়ী ভক্তি দেখানোর কারণটা কী, যাদের মধ্যে অনেকের সম্বন্ধে ক্যাথলিকরা তেমন একটা জানেই না?
নটর ড্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজিয়ান লরেন্স কানিংহাম ব্যাখ্যা করেন: “জগতে পবিত্র থাকার ধারণার প্রতি লোকেরা আগ্রহী। এমনকি আজকেও সাধুরা দেখায় যে, তাদের জীবন সম্ভবত এক আদর্শ ব্যক্তিত্বের।” এ ছাড়া এটাও দাবি করা হয় যে, ঈশ্বরের নিকটবর্তী হওয়ার ব্যাপারে “সাধুদের” এক বিশেষ অধিকার রয়েছে, যা জীবিত ব্যক্তিদের জন্য তাদের কার্যকারী মধ্যস্থ করে তোলে। একজন “সাধু-সাধ্বীর” ব্যবহৃত জিনিসপত্রের অংশ অথবা দেহাবশেষ পাওয়া গেলে সেগুলো থেকে শক্তি নির্গত হয় এই বিশ্বাস করে সেগুলোকে উপাসনা করা হয়।
ক্যাথলিক মতবাদকে দৃঢ়নিশ্চিত করতে ষোড়শ শতাব্দীতে প্রকাশিত ক্যাটিকিসম অফ দ্যা কাউন্সিল অফ ট্রেন্ট এই অধ্যাদেশ জারি করে: “আমরা সঠিকভাবেই এই উপসংহারে এসেছি যে, সাধু-সাধ্বীরা ‘যারা প্রভুতে ঘুমিয়ে রয়েছে’ তাদের সম্মান দেখানো, মধ্যস্থ হতে তাদের অনুরোধ জানানো এবং তাদের ব্যবহৃত পবিত্র জিনিসপত্রের অংশ ও ছাইয়ের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো কোনভাবেই ঈশ্বরের মহিমাকে কমিয়ে দেয় না বরং সেটাকে এতটাই বাড়িয়ে দেয় যে, সেই অনুপাতে খ্রীষ্টানের আশা জীবন্ত ও শক্তিশালী হয় এবং তিনি সেই সাধুদের সদ্গুণগুলোকে অনুকরণ করার জন্য উৎসাহ পান।” (ক্যাটিকিসম অফ দ্যা কাউন্সিল অফ ট্রেন্ট, ১৯০৫) সত্য খ্রীষ্টানরা নিশ্চয়ই বিশুদ্ধভাবে জীবনযাপন করতে, সঠিক উপায়ে ঈশ্বরের নিকটবর্তী হতে এবং ঐশিক সাহায্য পেতে চায়। (যাকোব ৪:৭, ৮) তাই, ঈশ্বরের বাক্য অনুযায়ী প্রকৃত সাধু-সাধ্বী হওয়ার মতো যোগ্য কারা? আর তারা কোন্ ভূমিকাই-বা পালন করে?
[পাদটীকা]
a আনুষ্ঠানিকভাবে সাধু বা সাধ্বী হিসেবে ঘোষিত হওয়া একজন মৃত রোমান ক্যাথলিককে সর্বজনীন ও বাধ্যবাধকতাভাবে উপাসনা পাওয়ার যোগ্য করে তোলে।