ছেলেমেয়ে মানুষ করা এক কঠিন কাজ
আজকে, ছেলেমেয়ে মানুষ করা বাবামায়েদের জন্য ভীষণ কঠিন কাজ, বিশেষ করে কিশোর বয়সী ছেলেমেয়েদের বেলায়। কানাডা, মন্ট্রিলের দ্যা গ্যাজেট জানায় যে মদ ও মাদক দ্রব্য নিয়ে নাড়া-চাড়া করা যেন “কিশোর-কিশোরীদের জীবনের অঙ্গ” হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা জোর দিয়ে বলে যে “[তাদের] কিশোর-কিশোরী ছেলেমেয়েদের চালচলনে আসা পরিবর্তনগুলো সম্বন্ধে সতর্ক থাকার দায়িত্ব” বাবামায়ের।
বাবামায়েরা কী করে এই বিপদের সময়কে চিনতে পারবেন? অ্যামেরিকান অ্যাকাডেমি অফ চাইল্ড অ্যান্ড অ্যাডোলেসেন্ট সাইকিয়াট্রি আমাদের কিশোর-কিশোরীদের শারীরিক, মানসিক ও তাদের ব্যবহারে আসা পরিবর্তনের কিছু লক্ষণ সম্বন্ধে বলে যেমন অনেকদিন ধরে চলতে থাকা অবসাদ, ব্যক্তিত্ব ও মেজাজে পরিবর্তন, দরজা আটকিয়ে শোবার ঘরে অনেক বেশি সময় কাটানো, বিনা কারণে ঝগড়াঝাঁটি করা, অবৈধ কাজে জড়িয়ে পড়া।
তাহলে বাবামায়েরা কীভাবে সতর্ক থাকতে পারেন যাতে তাদের ছেলেমেয়েরা এইধরনের ক্ষতিকর বিষয়গুলো নিয়ে নাড়াচাড়া না করে, যার ফল সবসময়ই খারাপ হয়? ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডঃ জেফেরি এল. ডেরিভেনস্কি মনে করেন যে ছোটবেলা থেকেই যদি তাদের সঙ্গে খোলামেলাভাবে কথাবার্তা বলা হয় ও একে অন্যের প্রতি সম্মান গড়ে তুলতে শেখানো হয়, তাহলে পরে সমস্যা কম হতে পারে। দ্যা গ্যাজেট আরও বলে যে যদিও বয়ঃসন্ধি কালে ছেলেমেয়েরা বেশি স্বাধীনতা চায়, তবুও তাদের সবসময় “বাবামায়েদের পরিচালনা, সাহায্য, শাসন ও ভালবাসার” দরকার হয়। আর বাইবেলও এই কথাগুলোকেই এইভাবে বলে: “বালককে তাহার গন্তব্য পথানুরূপ শিক্ষা দেও, সে প্রাচীন হইলেও তাহা ছাড়িবে না।” (হিতোপদেশ ২২:৬) ঈশ্বর বাবামায়েদের পরামর্শ দেন যে তারা যেন ছেলেমেয়েদের জন্য ভাল উদাহরণ হন, তাদের সঙ্গী হন, তাদের সঙ্গে প্রাণখুলে কথা বলেন আর তাদের ভাল শিক্ষা দেন।—দ্বিতীয় বিবরণ ৬:৬, ৭.