“বিশ্বাস থেকে পাওয়া অটল শক্তি”
অনেক প্রশংসা ও সুনামের মধ্যে দিয়ে ১৯৯৮ সালে ফ্রেঞ্চ ভাষায় যে নতুন বইটা প্রকাশ করা হয়, সেটার নাম ছিল লেস টেমোয়েস ডি যেহোভা আ হিটলার (হিটলারের মুখোমুখি যিহোবার সাক্ষিরা) যার লেখক ছিলেন গায় কেনোনিসি। বিখ্যাত ফ্রেঞ্চ ইতিহাসবেত্তা, ফ্রাসোঁয়া বেডারিডা তার বইয়ের ভূমিকায় লিখেছিলেন: “বইটা সবাই খুব পছন্দ করেছিল। শুধু এইজন্য নয় যে এটা এক বিরাট ফাঁককে পূরণ করে কিন্তু এইজন্য যে এটা একেবারে ঠিক সময়ে এসেছিল। . . . বিশেষজ্ঞরা ছাড়া আর কারাই বা জানেন যে হিটলারের শাসনে যিহোবার সাক্ষিরা কী কী দুঃখকষ্ট ভোগ করেছেন? তার ১২ বছরের শাসনকালে তাদের ওপর অকথ্য নিষ্ঠুরতা ও নির্মম অত্যাচার করা হয়েছিল। এছাড়াও তারা কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের ভয়াবহ অত্যাচারও সহ্য করেছিলেন। তাদের ধর্ম ও বিশ্বাসের জন্য তাদের চড়া মূল্য দিতে হয়েছিল। ইতিহাস কেন এই খ্রীষ্টানদের কথা ভুলে গেছে? . . .
“এই ছড়ানো-ছিটানো ছোট এবং নির্দোষ দলের ওপর কেন এমন পাশবিক ও পরিকল্পিত নির্যাতন করা হয়েছিল? এটাই এই সত্য বিষয়ের পিছনে রহস্য। জার্মানির জনসংখ্যার তুলনায় যিহোবার সাক্ষিদের সংখ্যা খুবই কম ছিল। হিসাব দেখায় যে জার্মানিতে তখন জনসংখ্যা ছিল ছয় কোটিরও বেশি আর যিহোবার সাক্ষিদের সংখ্যা ছিল মাত্র ২০,০০০ জন। আর যিহোবার সাক্ষিরা সকলেই ছিলেন শান্তিপ্রিয় নাগরিক যারা আইন মেনে চলেন ও কারও ক্ষতি করেন না, যারা শুধু কাজ করতে চান এবং তাদের ছেলেমেয়েদের ঠিক পথে মানুষ করতে চান।. . . .
“এই তাড়না এসেছিল সেই বিশ্বাসীদের ওপর যাদের এক অনমনীয় ও বিজয়ী আধ্যাত্মিক শক্তি ছিল। আর যীশুর ওপর বিশ্বাসের কারণে এই সাক্ষিদের ভিতরের শক্তি তাদেরকে বাইরে থেকে আসা অত্যাচারের মোকাবিলা করতে সাহায্য করেছিল। আর পুলিশী নির্যাতন থেকে শুরু করে তাদেরকে শহীদ পর্যন্ত হতে হয়েছিল।
ধর্মীয় ভেদাভেদের কারণে যে যিহোবার সাক্ষিরা তাদের খ্রীষ্টীয় বিশ্বাসের জন্য শহীদ হয়েছিলেন সেই কাহিনী অনেকের মনে দাগ কাটে। ওই বই নিয়ে আলোচনা করার সময় লা ক্রোয়িক্স নামে একটা ফরাসি ক্যাথলিক খবরের কাগজ বেশ কটাক্ষ করে বলেছিল: “যিহোবার সাক্ষিদের অজানা ইতিহাস সম্বন্ধে গায় কেনোনিসি এত সাক্ষ্যপ্রমাণ দিয়েছেন যে তার থেকে বোঝা যায়, তাদের বিশ্বাস থেকে পাওয়া অটল শক্তি দেখে একজন নির্বাক হয়ে যাবেন, যে বিশ্বাস একেবারে মৃত্যু পর্যন্ত অনড় ছিল, এমনকি ছোট ছেলেমেয়েরাও একইরকম বিশ্বাস দেখিয়েছিল। এই স্মারক যিহোবার সাক্ষিদের খ্রীষ্টীয় আচরণ নিয়ে এখন যে তর্কবিতর্ক রয়েছে তাতে তথ্য জোগাতে সাহায্য করবে।”