লূকের বর্ণনা কি ভুল ছিল?
যীশু নাসরতে বড় হয়েছিলেন এবং লোকেদের কাছে নাসরতীয় হিসাবে পরিচিত ছিলেন, তাহলে এটা কিভাবে সম্ভব যে তিনি নাসরত থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বৈৎলেহমে জন্মগ্রহণ করেন? লূক ব্যাখ্যা করেন: “সেই সময়ে [যীশুর জন্মের পূর্বে] আগস্ত কৈসরের এই আদেশ বাহির হইল যে, সমুদয় পৃথিবীর লোক নাম লিখিয়া দিবে। সুরিয়ার শাসনকর্ত্তা কুরীণিয়ের সময়ে এই প্রথম নাম লেখান হয়। সকলে নাম লিখিয়া দিবার নিমিত্তে আপন আপন নগরে গমন করিল।”—লূক ১:১; ২:১-৩.
সমালোচকেরা প্রধানত এই অংশটিকেই গুরুতর ভুল কিংবা চরম বিকৃতি এবং এক মিথ্যা বর্ণনা বলে থাকেন। তারা দাবি করেন যে এই আদমশুমারি ও কুরীণিয়ের শাসনকাল সা.কা. ৬ কিংবা ৭ সালের ঘটনা। তাদের কথা যদি ঠিক হয়, তবে তা লূকের বিবরণ ভুল প্রমাণিত হবে কারণ প্রামাণিক তথ্য দেখায় যে যীশু সা.কা.পূ. ২ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু এই সমালোচকেরা দুটি মুখ্য বিষয়কে উপেক্ষা করেন। প্রথমত, লূক স্বীকার করেন যে সেখানে একাধিকবার আদমশুমারি করা হয়েছিল—লক্ষ্য করুন, তিনি বলেন, “এই প্রথম নাম লেখান হয়।” (বাঁকা অক্ষরে মুদ্রণ আমাদের।) এর অর্থ তিনি দ্বিতীয়বারের নাম নিবন্ধীকরণ সম্বন্ধেও ভালভাবেই জানতেন যা কিছু সময় পরে হয়েছিল। (প্রেরিত ৫:৩৭) এই দ্বিতীয় আদমশুমারিটি সা.কা ৬ সালে হয়েছিল যেটির বিষয়ে ইতিহাববেত্তা যোশেফাস উল্লেখ করেছিলেন। দ্বিতীয়ত, কুরীণিয়ের শাসনকাল যখনই হোক না কেন এর থেকে আমাদের ধরে নেওয়া উচিত নয় যে যীশুর জন্ম সা.কা. ৬ কিংবা ৭ সালে হয়েছে। কেন? কারণ প্রমাণ দেখায় যে কুরীণিয় দুইবার ওই পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন। অনেক পণ্ডিতেরা স্বীকার করেন যে প্রথমে তিনি সা.কা.পূ. ২ সালে নিযুক্ত হয়েছিলেন।
কিছু সমালোচক বলেন যে লূক আদমশুমারির বিষয়টি নিজের খেয়ালখুশি অনুযায়ী লিখেছিলেন যাতে করে যীশু যে বৈথলেহমে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তা প্রমাণ করা যায়। আর এভাবেই তিনি দেখিয়েছিলেন যে মীখা ৫:২ পদের ভবিষ্যদ্বাণীটি পূর্ণ হয়েছিল। এই ধারণা লূককে এক স্বেচ্ছাচার মিথ্যাবাদীতে পরিণত করে আর কোন সমালোচকই একজন বিশ্বস্ত ইতিহাসবেত্তার বিষয়ে এই কথা মেনে নিতে পারেন না, যিনি সুসমাচার ও প্রেরিত পুস্তকটি লিখেছেন।
অন্য একটি বিষয় কোন সমালোচকই ব্যাখ্যা করতে পারেন না: আদমশুমারি স্বয়ং একটি ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ করেছিল! সা.কা.পূ. ষষ্ঠ শতাব্দীতে, দানিয়েল একজন শাসক সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, যিনি “রাজ্যের শোভাস্থানে প্রজাপীড়ককে প্রেরণ” করবেন। এই ভবিষ্যদ্বাণী কি আগস্তের প্রতি প্রযোজ্য হয় না যিনি ইস্রায়েলে এক আদমশুমারি করার জন্য আদেশ দিয়েছিলেন? যাইহোক, ভবিষ্যদ্বাণীটি বলে চলে যে এই শাসকের উত্তরাধিকারীর রাজত্বের সময়, মশীহ কিংবা ‘নিয়মের নায়ক ভগ্ন’ হবেন। আগস্তের উত্তরাধিকারী তিবিরিয়ের রাজত্বের সময়ে যীশু সত্যিই “ভগ্ন” অর্থাৎ হত হয়েছিলেন।—দানিয়েল ১১:২০-২২.
[৭ পৃষ্ঠার চিত্র]
কৈসর আগস্ত (সা.কা.পূ ২৭-সা.কা. ১৪ সাল)
[সজন্যে]
Musée de Normandie, Caen, France
[৭ পৃষ্ঠার চিত্র]
তিবিরিয় কৈসর (১৪-সা.কা. ৩৭ সাল)
[সজন্যে]
Photograph taken by courtesy of the British Museum