আপনি কি বিপদসংকেতে কান দেবেন?
উনিশশো সাতানব্বই সালের ১৯শে মে, এক প্রবল ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলাকে তছনছ করে দিয়েছিল। কক্সবাজারে বাতাসের বেগ ছিল ঘন্টায় ২৫০ কিলোমিটার। গ্রামের কাঁচা ঘর-বাড়িগুলির কোন অস্তিত্বই ছিল না, একসময় যেখানে অনেক ঘর-বাড়ি ছিল সেখানে কেবল মাটির ভিতগুলি পড়ে ছিল। গাছ এবং টেলিগ্রাফ লাইনের খুঁটিগুলি উপড়ে গিয়েছিল; আর কিছু খুঁটি তো মাঝখান দিয়ে এমনভাবে ভেঙে গিয়েছিল যেন সেগুলি দিয়াশলাইয়ের কাঠি। ভোরের কাগজ সংবাদপত্রের শিরোনাম বলেছিল যে ওই ঘূর্ণিঝড়ে ১০৫ জন লোকের মৃত্যু হয়।
ঝড়টি কোথা দিয়ে বয়ে যেতে পারে সেই সম্বন্ধে আবহাওয়া বিভাগ প্রায় ৩৬ ঘন্টা আগে থেকেই ঘোষণা করেছিল। আর নিঃসন্দেহে অনেক লোক প্রাণ বাঁচাতে পেরেছিলেন কারণ লক্ষ লক্ষ লোক ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
যিহোবার সাক্ষীরা আজ থেকে একশ বছরেরও বেশি সময় ধরে আসন্ন ধ্বংস সম্বন্ধে ঘোষণা করে আসছেন, যেটি যে কোন ঘূর্ণিঝড়ের চেয়ে আরও অনেক বেশি ভয়াবহ হবে। বাইবেলে এটিকে ‘সদাপ্রভুর মহৎ ও ভয়ঙ্কর দিন’ বলা হয়েছে। (যোয়েল ২:৩১) বাইবেলের বিভিন্ন ভবিষ্যদ্বাণীমূলক সতর্কবার্তার প্রতি মনোযোগ দিয়ে আমরাও এই ধ্বংস থেকে রক্ষা পেতে পারি।—সফনিয় ২:২, ৩.
না, যিহোবার সাক্ষীরা শুধু ধ্বংসের কথাই শোনান না। তাদের বার্তা হল আশার বার্তা। তারা ঈশ্বরের রাজ্য সম্বন্ধে লোকেদেরকে শিখতে সাহায্য করেন যে শীঘ্রই তা এই পৃথিবীর সমস্ত অন্যায় মুছে দেবে। ঈশ্বরের বাক্য, বাইবেল আমাদের জানায়: “ক্ষণকাল, পরে দুষ্ট লোক আর নাই, তুমি তাহার স্থান তত্ত্ব করিবে, কিন্তু সে আর নাই। কিন্তু মৃদুশীলেরা দেশের অধিকারী হইবে, এবং শান্তির বাহুল্যে আমোদ করিবে।”—গীতসংহিতা ৩৭:১০, ১১.
[৩২ পৃষ্ঠার চিত্র সৌজন্যে]
WHO/League of Red Cross