পাদ্রিরা যা শেখান তারা নিজেরা কি তাতে বিশ্বাস করেন?
ভদ্রমহিলার স্বামী এইমাত্র মারা গেছেন। পাদ্রি তাকে বোঝাচ্ছেন যে তার স্বামী সরাসরি স্বর্গে যাওয়ার মত ভাল লোক ছিলেন না আবার নরকের আগুনে কষ্ট পাওয়ার মত খারাপও তিনি নন। সুতরাং পাদ্রির ধারণা অনুযায়ী যতদিন পর্যন্ত না তিনি স্বর্গে যাওয়ার যোগ্য হন ততদিন তাকে পুর্গাতরিতে (শোধন-স্থান) কষ্ট ভোগ করতে হবে। ভদ্রমহিলা পাদ্রিকে তার স্বামীর জন্য প্রার্থনা করতে পয়সা দেন যাতে তার স্বামী তাড়াতাড়িই পুর্গাতরির যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। এই সমস্ত কিছু করে সেই বিধবা স্বস্তি পেয়েছেন। তিনি ভাবতেই পারেন না যে পাদ্রি যা বলেছেন তাতে তিনি নিজেই বিশ্বাস করেন না।
ধরুন সেই বিধবা যদি জানতে পারেন যে মৃত্যুর পরে শাস্তিভোগের বিষয়টা পাদ্রি প্রকৃতপক্ষে বিশ্বাসই করেন না তাহলে তিনি কি ভাববেন না যে তাকে ধোকা দেওয়া হয়েছে? অনেকেই বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন ও দুঃখ পান যখন তারা জানতে পারেন যে বেশিরভাগ পাদ্রিরা যে শিক্ষা দিয়ে থাকেন তার অনেকখানিই তারা নিজেরা বিশ্বাস করেন না। ন্যাশনাল ক্যাথলিক রিপোর্টার এটিকে “যৌনতার চেয়েও গভীর যাজকমণ্ডলীয় সমস্যা” বলে উল্লেখ করে জানায়: “সাধারণত পাদ্রিদের মধ্যে অনেকে ঈশ্বরের অস্তিত্বে, পুরস্কার ও শাস্তির মতবাদে বা পুনরুত্থানে আর বিশ্বাস করেন না . . . আর যাজকমণ্ডলী এই অবিশ্বাসকে তাদের যাজকীয় সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ করে তুলেছেন যা তাদের মধ্যে ধোঁয়ার মত ছড়িয়ে পড়ছে।”
অন্যান্য গির্জাগুলিও একইরকম দোটানায় ভুগছে। অস্ট্রেলিয়ার কেনবেরা টাইমস পত্রিকা জানায় যে চার্চ অফ ইংল্যান্ডের বিশপদের উপর নেওয়া এক সমীক্ষা দেখায়, “অনেকে পরম্পরাগত খ্রীষ্টীয় বিশ্বাসের মৌলিক বিষয়গুলিকে বিশ্বাস করেন না যেমন কুমারী গর্ভে যীশুর জন্ম, যীশুর অলৌকিক কাজ এবং মশীহের দ্বিতীয় আগমন।”
ধর্ম বিষয়ক লেখক জর্জ আর. প্লেগেন্স জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে কিভাবে একজন পাদ্রি পরিষ্কার বিবেকে গির্জার মতবাদ আবৃত্তি করতে পারেন যেটি তিনি নিজে বিশ্বাস করেন না। একজন পাদ্রি বলেছিলেন যে তিনি মতবাদের শুরুর শব্দগুলি বদলে নিয়ে “আমি বিশ্বাস করি”-র জায়গায় “‘তারা সর্বশক্তিমান পিতা ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন . . .’ বলে শুরু করেন।” প্লেগেন্স এই কপটতাকে “দেশের সবচেয়ে বড় প্রতারণা” বলে উল্লেখ করেছিলেন।
দুঃখের বিষয় হল যে যাজকমণ্ডলীর এই অবিশ্বাস ও কপটতা দেখে লোকেরা ধর্মের প্রতিই বিশ্বাস হারিয়ে ফেলছেন। কিন্তু আজকে কেবল এটিই ধর্মের একমাত্র বিভ্রান্তিজনক দিক নয়। গির্জায় যায় এমন অনেক লোকেরা শিখে এসেছেন যে বাইবেল ঈশ্বরের বাক্য। কিন্তু এটি জেনে তারা কি আশ্চর্য হবেন না যে কিছু দীর্ঘ-পরিচিত গির্জার মতবাদগুলি বাইবেলের শিক্ষা নয়? উদাহরণ হিসাবে এইরকমই একটি শিক্ষার বিষয়ে আমরা পরের প্রবন্ধটিতে আলোচনা করব।