রাজ্য ঘোষণাকারীরা বিবৃতি দেয়
প্রতিটি সুযোগ ব্যবহার করা
যিহোবার সাক্ষীরা পৃথিবীব্যাপী তাদের বাইবেল শিক্ষামূলক কাজের জন্য পরিচিত। কিন্তু তারা এমন কার্যক্রমগুলিও পরিচালনা করেন যা সমাজের জন্য বিভিন্ন উপকার নিয়ে আসে। এই জনসেবা সুস্বীকৃতি লাভ করেছে, যা নিচে দেওয়া ইকোয়েডরের অভিজ্ঞতাগুলি দেখায়।
◻ এক বৃহৎ কাঁচ কারখানার পরিচালকবর্গ তাদের কার্মচারিদের জন্য পারিবারিক মূল্যের উপর একটি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে চেয়েছিলেন। কর্মচারী-বন্ধনের পরিচালক বেশ কয়েকজন ক্যাথলিক যাজকদের এতে অংশগ্রহণ করার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন কিন্তু কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। একজন যাজক তাকে জানিয়েছিলেন যে এই বিষয়ে আলোচনা করার জন্য উপযুক্ত যাজক খুবই অল্প ছিলেন বলে কাউকে পাওয়া যাবে না। এই কথা শুনে এক সাক্ষী কর্মী একজন ভাইকে সেই কারখানায় সাক্ষাৎ করার জন্য ব্যবস্থা করে দেন যিনি প্রায়ই বাণিজ্য এলাকাগুলিতে কাজ করেন।
ঠিক তার পরের দিন, সেই সাক্ষী অধ্যয়ন প্রশিক্ষণের একটি প্রস্তাব নিয়ে কর্মচারী-বন্ধনের পরিচালকের কাছে উপস্থিত হয়েছিলেন। ওয়াচ টাওয়ার সোসাইটির বিভিন্ন প্রকাশনা থেকে কিছু বিষয়ের উপর একটি তালিকা উপস্থাপন করা হয়েছিল। পরিচালক অভিভূত হয়েছিলেন। তিনি আলোচনার জন্য তিনটি বিষয় বেছে নিয়েছিলেন—মনুষ্য সম্বন্ধ, কর্মস্থলে নৈতিক সভ্যতা এবং পরিবারের মধ্যে নৈতিক সভ্যতা। তারপর সমস্ত শ্রমিকদের সঙ্গে ওই তথ্যগুলি বিবেচনার জন্য ব্যবস্থাদি করা হয়েছিল।
কর্মীদেরকে ৩০ জন করে সাতটি দলে ভাগ করা হয়েছিল, তারপর তিনজন যোগ্য ভাই তাদের উদ্দেশে তথ্যাদি উপস্থাপন করেছিলেন। ফলাফল কী হয়েছিল? বহু সংখ্যক কর্মীরা তাদের গৃহে সাক্ষাতের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন আর ২১৬টি বাইবেল অধ্যয়নের সহায়কগুলি অর্পণ করা হয়েছিল। পরিচালকবর্গ এতই অভিভূত হয়েছিলেন যে তারা চেয়েছিলেন সাক্ষীরা যেন আরও কিছু বক্তৃতা প্রস্তুত করেন।
◻ সম্প্রতি, ইকোয়েডর একটি আইন প্রবর্তন করেছে যেটি বিদ্যালয়ে ধর্ম শিক্ষা দেওয়াকে অনুমোদন করে। একজন মিশনারি বোন এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন মহিলা তত্ত্বাবধায়কের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন আর জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ওই নতুন আইনটি কিরকম কাজ করছে। সেই তত্ত্বাবধায়িকা ব্যাখ্যা করেন যে মরিয়মের উপাসনার উপর একটি কার্যক্রম চালু করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি। সেই বোন যখন মন্তব্য করেন যে এইধরনের উপাসনা ক্যাথলিক নয় এমন ছেলেমেয়েদের জন্য সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে তখন তত্ত্বাবধায়ক একমত হয়েছিলেন। “যাইহোক,” সেই মিশনারি বলেন, “আমাদের কাছে বাইবেল থেকে নৈতিক নীতিগুলি শেখানোর জন্য একটি কার্যক্রম রয়েছে যা একজন ব্যক্তিকে কোনও নির্দিষ্ট ধর্ম গ্রহণ করতে বাধ্য করে না।” সেই তত্ত্বাবধায়িকা উত্তরে বলেছিলেন: “আপনি কখন আসতে পারবেন? পরশু?” মিশনারি তার মহান শিক্ষকের কাছ থেকে শোনা (ইংরাজি) নামক বইটি দেখানোর পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে “শান্তিপ্রিয়েরা সুখী” এই অধ্যায়টি তারা বিবেচনা করবেন।
ফিরে এসে, মিশনারি সাতটি বিভিন্ন শ্রেণীকক্ষ পরিদর্শন করার জন্য তিন ঘন্টা ব্যয় করেন আর সেই তত্ত্বাবধায়িকা সঙ্গে থেকে তার কথা শুনছিলেন। পঞ্চম শ্রেণীর সঙ্গে আলোচনা পর্বের শেষে, একটি ছাত্র বলেছিল: “দিদিমণি, দয়া করে ষষ্ঠ শ্রেণীতে যেতে ভুলবেন না। তারা সবসময় আমাদের মারধর করে আর এক ঝগড়া শুরু করার চেষ্টায় থাকে!” একজন শিক্ষিকা মন্তব্য করেছিলেন: “দৌরাত্ম্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এই বিষয়ের উপর আলোচনার জন্য আমাদের আরও সময়ের প্রয়োজন।”
বিদ্যালয়ে বাধ্যতা ও মিথ্যা বলা এইধরনের বিষয়বস্তুর উপর আলোচনার জন্য পুনর্সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। অতএব যতদূর বলা যায়, ফলাফল অত্যন্ত সন্তোষজনক হয়েছিল। এখন সেই মিশনারি বোন ওই রাস্তা দিয়ে গেলে, ছেলেমেয়েরা দৌড়ে এসে তাকে নমস্কার জানায় ও বাইবেলের প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে। আর অন্যরা গর্বের সঙ্গে তাকে তাদের বাবামার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। অধিকন্তু, বিদ্যালয়ের দুইজন ছেলেমেয়ের সাথে গৃহে বাইবেল অধ্যয়ন শুরু করা হয়েছে।