দশ আজ্ঞা
ইংল্যান্ডের গ্লুসেসটারের বিশপ আবিষ্কার করেছিলেন যে তার অধীনস্থ এলাকার অর্ধেকের বেশি পাদ্রি দশ আজ্ঞা পুনরাবৃত্তি করতে পারতেন না আর তাদের মধ্যে শতকরা দশ ভাগ জানতেন না যে সেগুলি বাইবেলে কোথায় পাওয়া যায়। কিন্তু সেটি ছিল ৪৫০ বছর আগের ঘটনা। তারপর থেকে কি পরিস্থিতির কোন উন্নতি হয়েছে? একেবারেই নয়—যেমন সাম্প্রতিক সানডে টাইমস্ দ্বারা অ্যাংলিকান পাদ্রিদের উপর কৃত এক পুঙ্খানুপুঙ্খ সমীক্ষা প্রকাশ করেছিল।
২০০ জন যাজকের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল যার মধ্যে মাত্র শতকরা ৩৪ জন দশ আজ্ঞার সবকটি উল্লেখ করতে পেরেছিলেন। বাকি যাজকদের মধ্যে একজন মনে করেছিলেন যে সেগুলি খুবই নেতিবাচক আর আরেকজন সেগুলিকে বাতিল করেছিলেন এই বলে যে সেগুলি আধুনিক নৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলির ক্ষেত্রে প্রসঙ্গোচিত নয়।
আপনি কি দশ আজ্ঞা অথবা সেগুলি কোথায় পাওয়া যায় তা জানেন? সেগুলি বাইবেলের দ্বিতীয় বই, যাত্রাপুস্তকের ২০ অধ্যায়ের প্রথম ১৭টি পদে লিপিবদ্ধকৃত আছে। সেগুলিকে পড়ুন না কেন? সেগুলিকে শ্রেণীবিভক্ত করার একটি সহজ উপায় সম্বন্ধে এখানে উল্লেখ করা হল। প্রথম চারটি ঈশ্বরের প্রতি আমাদের উপাসনা সম্বন্ধে বর্ণনা করে, পঞ্চমটি পারিবারিক জীবনের প্রতি আলোকপাত করে, ছয় থেকে নয় সহমানবদের সাথে আমাদের সম্পর্কের বিষয়ে আলোচনা করে এবং দশমটি হল অদ্বিতীয়, যেটি আমাদের নিজ হৃদয়ের অনুসন্ধান, আমাদের উদ্দেশ্যগুলিকে পরীক্ষা করতে আমাদের অনুপ্রাণিত করে। কিভাবে খ্রীষ্টানেরা এই নীতিগুলিকে প্রয়োগ করতে পারে এখানে তার একটি সংক্ষিপ্ত সারাংশ দেওয়া হল।
প্রথম: আমাদের সৃষ্টিকর্তাকে একান্ত ভক্তি প্রদান করুন। দ্বিতীয়: উপাসনায় মূর্তি ব্যবহার করবেন না। তৃতীয়: ঈশ্বরের নামকে সর্বদা শ্রদ্ধা ও সম্মান করুন। চতুর্থ: বিক্ষেপ ব্যতিরেকে আধ্যাত্মিক বিষয়গুলির উপর মনোনিবেশ করার জন্য সময় করে নিন। পঞ্চম: সন্তানেরা, তোমাদের পিতামাতাদের সম্মান কর। ষষ্ঠ: নরহত্যা করবেন না। সপ্তম: পারদারিকতা এড়িয়ে চলুন। অষ্টম: চুরি করবেন না। নবম: সত্যকথা বলুন। দশম: লোভ পরিহার করুন।
দশ আজ্ঞা মোশিকে দেওয়া ব্যবস্থা বিধির অংশ ছিল। কিন্তু যে নীতিগুলিকে সেগুলি প্রকাশ করে তা চিরন্তন। (রোমীয় ৬:১৪; কলসীয় ২:১৩, ১৪) এই কারণে, যীশুর অনুগামীরা দশ আজ্ঞা থেকে উদ্ধৃতি ও উল্লেখ করেছিলেন। (রোমীয় ১৩:৮-১০) আজকেও জীবন কতই না সুখের ও নিরাপদের হত যদি সকলে ঐশিকভাবে অনুপ্রাণিত এই নীতিগুলিকে সম্মান করত এবং মেনে চলত!