নাৎসী নির্যাতনের মধ্যেও তারা দৃঢ় ছিলেন
নাৎসী জার্মানীতে খ্রীষ্টীয় জগতের গির্জাগুলির গৃহীত পদক্ষেপের বিপরীতে, যিহোবার সাক্ষীদের নির্ভীক বিশ্বস্ততা উল্লেখ করার মত। এই বিষয়টি ইতিহাসের অধ্যাপক জন উইস কর্তৃক মৃত্যুর ভাবতত্ত্ব (ইংরাজি) নামক তার বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি লেখেন:
“১৯৩৪ সালে ইভেনজেলিক্যাল গির্জা দৃঢ়ভাবে বলেছিল যে, নাৎসীদের অবশ্যই ‘লুথারীয়দের দ্বারা অভ্যর্থনা পাওয়া উচিত’ এবং জার্মানদের একজন ‘ধার্মিক ও বিশ্বাসযোগ্য মহান সম্রাট’ প্রদানের জন্য তারা ‘প্রভু ঈশ্বরকে’ ধন্যবাদ দিয়েছিল। . . . একজন প্রটেস্টান্ট বিশপ তার পাদ্রিকে লিখেছিলেন, ‘[হিটলার] আমাদের কাছে ঈশ্বর কর্তৃক প্রেরিত হয়েছেন।’” উইস বলে চলেন: “জার্মান মেথোডিস্ট গির্জা . . . বিশপ দিবেলিয়াসের সাথে একমত হয়েছিল যে হিটলার জার্মানীকে আগত এক বলশেভিক বিপ্লব থেকে রক্ষা করেছিলেন, শান্তি এবং স্থিরতা ফিরিয়ে এনেছিলেন . . . মর্মন গির্জা এর অনুগত সদস্যদের উপদেশ দিয়েছিল যে হিটলারের বিরোধিতা করার অর্থ ছিল মর্মন আইনের বিরোধিতা করা।” তিনি আরও বলেন: “ক্যাথলিকদের বলা হয়েছিল যে নতুন সরকারের বাধ্য থাকা পবিত্র দায়িত্ব, এমন এক কর্তব্য যা কখনও এমনকি যাজকদের অবগত প্রাচ্যের পূর্ণ আতঙ্ক সম্বন্ধে জানার পরও, প্রত্যাহার করা যাবে না।”
কিন্তু যিহোবার সাক্ষীদের সম্বন্ধে কী বলা যায়? অধ্যাপক উইস উল্লেখ করেন যে “একটি দল হিসাবে, কেবলমাত্র যিহোবার সাক্ষীরাই নাৎসীদের প্রতিরোধ করেছিল।” তাদের মধ্যে হাজার হাজার ব্যক্তিরা কারারুদ্ধ হয়েছিল, অধ্যাপক উইস বলে চলেন, “তবুও কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে পাঠানো যে কোন সাক্ষী কেবলমাত্র একটি কাগজে স্বাক্ষর করে তার বিশ্বাসকে অস্বীকার করার মাধ্যমেই মুক্তি পেতে পারত।”
যিহোবার সাক্ষীদের বিশ্বস্ততা সম্বন্ধে অধ্যাপক উইস মন্তব্য করেন: “তাদের উদাহরণ দেখায় প্রাথমিক খ্রীষ্টতত্ত্ব এক প্রতিষ্ঠান হিসাবে স্থাপিত হওয়ার আগে এবং সমাজব্যবস্থার প্রতি তাদের কর্তব্যের আগে, তাদের অদ্বিতীয় অটলতা ও বীরোচিত শক্তি তাদেরকে এক আপোশহীন জীবনযাপন করার আকাঙ্ক্ষা দ্বারা আচ্ছন্ন করেছিল। যেমন একজন প্রটেস্টান্ট পাস্টর তাদের সম্বন্ধে লিখেছিলেন, ‘বড় গির্জাগুলি নয় কিন্তু তারা ছিল অবজ্ঞাত ও উপেক্ষিত লোকেরা যারা নাৎসী দানবদের ক্রোধের বিরুদ্ধে দৃঢ় ছিল এবং তাদের বিশ্বাস অনুসারে বিরোধিতা করতে সাহসী হয়েছিল।’”