‘আমি ঈশ্বরের শরণাগত’
প্রলোভন এবং চাপগুলি এই “বিষম সময়”-এ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, আমাদের সততা হয়ত কর্মস্থলে পরীক্ষিত হতে পারে। আমাদের বিশুদ্ধতা হয়ত সহপাঠীদের মাঝে পরীক্ষিত হতে পারে। আর আমাদের বিশ্বস্ততা নৈতিকভাবে এই কলুষিত জগতে প্রায়ই পরীক্ষায় পড়ে।—২ তীমথিয় ৩:১-৫.
বাইবেল লেখক আসফও এমন এক সময়ে জীবিত ছিলেন যখন দুষ্টতা ব্যাপক পরিমাণে বিদ্যমান ছিল। এমনকি তার সমসাময়িকদের কয়েকজন তাদের অনৈশ্বরিক আচরণের জন্য দম্ভ করেছিল। আসফ লিখেছিলেন, “অহঙ্কার তাহাদের কণ্ঠের হারবৎ, দৌরাত্ম্য বস্ত্রবৎ তাহাদিগকে আচ্ছাদন করে। তাহারা বিদ্রূপ করে, ও দুষ্টতায় উপদ্রবের কথা কহে, তাহারা দর্পকথা কহে।” (গীতসংহিতা ৭৩:৬, ৮) এই মনোভাব কি সুপরিচিত বলে মনে হয়?
যারা সঠিক কাজ করতে চায় তাদের জন্য, এইরূপ আচরণ অত্যন্ত বেদনাদায়ক, এমনকি নিরুৎসাহজনকও। আসফ বিলাপ করেছিলেন, “আমি সমস্ত দিন আহত হইয়াছি। কিন্তু তাহা আমার দৃষ্টিতে কষ্টকর হইল।” (গীতসংহিতা ৭৩:১৪, ১৬) আপনিও হয়ত অনুরূপ বোধ করতে পারেন, কিন্তু হতাশ হবেন না! আসফ তার দিনের দুষ্টতার সাথে মোকাবিলা করতে সক্ষম ছিলেন আর আপনিও অনুরূপ করতে পারেন। কিন্তু কিভাবে?
আসফ উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন যে মানুষের অসিদ্ধ শাসনব্যবস্থার অধীনে প্রকৃত ন্যায়বিচার খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। (গীতসংহিতা ১৪৬:৩, ৪; হিতোপদেশ ১৭:২৩) তাই, তার চতুর্দিকের সমস্ত দুষ্টতা দূর করার চেষ্টা করতে তার মহামূল্যবান সময়, শক্তি এবং সম্পদের অপব্যয় করার চেয়ে বরঞ্চ তিনি ঈশ্বরের সাথে তার সম্পর্কের প্রতি মনোনিবেশ করেছিলেন। আসফ ঘোষণা করেছিলেন: “ঈশ্বরের নিকটে থাকা আমারই পক্ষে মঙ্গল; আমি প্রভু সদাপ্রভুর শরণ লইলাম।”—গীতসংহিতা ৭৩:২৮.
আজকে, যারা দুর্নীতিপরায়ণ ব্যবসাগুলিতে রত, তারা প্রায়ই বস্তুবাদী সুবিধাগুলি ভোগ করে থাকে। এমনকি অনেকে হয়ত ঈশ্বরের নৈতিক আইনগুলির প্রতি তাদের অবজ্ঞার জন্য দম্ভ করতে পারে। কিন্তু তারা অনির্দিষ্ট কাল ধরে থাকবে না। আসফ উল্লেখ করেছিলেন, “তুমি তাহাদিগকে পিচ্ছিল স্থানেই রাখিতেছ, তাহাদিগকে বিনাশে ফেলিয়া দিতেছ।”—গীতসংহিতা ৭৩:১৮.
হ্যাঁ, ঈশ্বরের নিরূপিত সময়ে, প্রতারণা, দৌরাত্ম্য এবং কলুষতা আর সেই সাথে অন্যান্য সমস্ত অনৈশ্বরিক অভ্যাসগুলি যা সত্য খ্রীষ্টানদের অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হয়, তা দূর করা হবে। বাইবেল প্রতিশ্রুতি দেয়: “দুরাচারগণ উচ্ছিন্ন হইবে, কিন্তু যাহারা সদাপ্রভুর অপেক্ষা করে, তাহারাই দেশের [“পৃথিবীর,” NW] অধিকারী হইবে।” (গীতসংহিতা ৩৭:৯) ইত্যবসরে, আসুন আমরা গীতরচকের বাক্যগুলির প্রতিধ্বনি করি যিনি বলেছিলেন: “সদাপ্রভু মম শৈল, মম দুর্গ, ও মম রক্ষাকর্ত্তা, মম ঈশ্বর, মম দৃঢ় শৈল, আমি তাঁহার শরণাগত।”—গীতসংহিতা ১৮:২.