যুদ্ধের জন্য কাকে দোষী করা যায়?
মানবজাতি যে যুদ্ধগুলি করেছে তার জন্য কি ঈশ্বরকে দোষ দেওয়া যায়? “না, ঈশ্বর যুদ্ধ চান না।” ঠিক এইভাবেই একজন সুপরিচিত জার্মান প্রটেস্টান্ট যাজক, মার্টিন নিমুলার, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অল্প কিছুদিন পরেই এই প্রশ্নটির উত্তর দিয়েছিলেন। তার মন্তব্যটি ১৯৪৬ সালে আক গট ফম হিম্যাল জি ডারাইন—জেকস প্রেডিগ্টেন (হে ঈশ্বর, স্বর্গ থেকে দেখ—ষষ্ঠ ধর্মোপদেশ)a নামক একটি গ্রন্থে প্রকাশিত হয়েছিল। গ্রন্থটি জানায়:
“যে কোন ব্যক্তি ঈশ্বরকে [যুদ্ধগুলির] জন্য দোষ দিতে চায়, তারা ঈশ্বরের বাক্য জানে না অথবা জানতেও চায় না। অবশ্য, এই নিরন্তর যুদ্ধগুলির জন্য আমরা খ্রীষ্টানেরাই বিরাট পরিমাণে দোষী অথবা নই তা একটি ভিন্ন প্রশ্ন। আর এই প্রশ্নটি থেকে আমরা খুব সহজেই মুক্তি পেতে পারি না। . . . তাছাড়াও যথার্থভাবে স্মরণ করা যেতে পারে যে যুগের পর যুগ ধরে খ্রীষ্টীয় গির্জাগুলি যুদ্ধ, সেনাবাহিনী এবং অস্ত্রগুলিকে আশীর্বাদ করতে বারংবার নিজেকে নিয়োজিত করেছে এবং যুদ্ধে তাদের শত্রুদের ধ্বংসের জন্য তারা অত্যন্ত অখ্রীষ্টীয়ভাবে প্রার্থনা করেছে। এই সবকিছু হচ্ছে আমাদের ভুল এবং আমাদের পিতৃপুরুষদেরই ভুল, কিন্তু কোন ভাবেই ঈশ্বরকে দোষী করা যায় না। আর আমরা আজকের খ্রীষ্টানেরা, ঐকান্তিক বাইবেল ছাত্রদের [যিহোবার সাক্ষীবৃন্দ] মত বহুল পরিচিত সম্প্রদায়ের সম্মুখে লজ্জিত হই, যাদের শত সহস্র জন কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে গিয়েছে এবং [এমনকি] যুদ্ধে কাজ করতে অস্বীকার করায় আর মানুষদের হত্যা করতে অসম্মত হওয়ায় মৃত্যু বরণ করেছে।”
আজকে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রায় ৫০ বছর পরে, নিমুলারের কথাগুলি শান্তি-প্রিয় লোকেদের জন্য চিন্তার খোরাক যোগায়। না, ঈশ্বরকে জাতিগণের রক্তপাতের জন্য কখনই দোষী করা যায় না! বাস্তবিকপক্ষে, তাঁর সত্য উপাসনাকারীরা যারা এই জগতের সংঘাতগুলি থেকে দূরে থাকে, তাদের মাধ্যমে ঈশ্বর ঘোষণা করছেন যে সকল যুদ্ধের অবসান আগতপ্রায়।—গীতসংহিতা ৪৬:৯; যোহন ১৭:১৬.
[পাদটীকাগুলো]
a পরবর্তীকালে মার্টিন নিমুলারের ধর্মোপদেশগুলি আশা এবং দোষের নামক গ্রন্থটিতে, ইংরাজিতে প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু, এই ইংরাজি সংস্করণটি মূল জার্মান পাঠ থেকে ভিন্ন, সেইজন্য এই উদ্ধৃতিটি জার্মান থেকে সরাসরিভাবে অনুবাদ করা হয়েছে।
[৩২ পৃষ্ঠার চিত্র সৌজন্যে]
USAF photo