কারা সুসমাচার-প্রচারক হবে?
প্রায় ৪০ বছর আগে গির্জাগুলির বিশ্বপরিষদের একটি সভাতে, সদস্যদের উদ্দেশ্যে “সুসমাচার-প্রচারের মনোভাব গড়ে তুলতে” এবং তাদের পালেদের “সুসমাচার-প্রচারের কাজ করে চলার” শিক্ষা দিতে উৎসাহিত করা হয়েছিল। পাঁচ বছর পরে, জন এ. ও’ব্রাইন নামক একজন ক্যাথলিক যাজক, কেবলমাত্র “আমাদের ঘরে বসে না থেকে” নতুন শিষ্যদের আনার জন্য “তাদের কাছে যাওয়ার” প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে লিখেছিলেন। আর ১৯৯৪ সালের জানুয়ারি মাসে, পোপ জন পল ২য় বলেছিলেন যে এখন “সুসমাচার সম্বন্ধে লজ্জিত হওয়ার সময় নয়, বরং ছাদের উপর থেকে এর প্রচার করার সময়।”
আপাতদৃষ্টিতে সুসমাচার-প্রচারকদের জন্য এই সবিরাম আহ্বানগুলি উপেক্ষিত হয়েছে। ইলুওয়ারা মারকুরী নামক অস্ট্রেলিয়ার একটি সংবাদপত্রের এক প্রবন্ধ উল্লেখ করেছিল: “দক্ষিণ উপকূলের বিশিষ্ট ক্যাথলিকেরা যিহোবার সাক্ষীদের মত তাদের বিশ্বাস প্রকাশ করতে উৎসুক নন।” জনৈক ব্যক্তি বলেছিলেন যে সুসমাচার-প্রচার সাধারণভাবে “ক্যাথলিক মানসিকতার কোন অংশ নয়।” অপর একজন যুক্তি করেছিলেন: “গির্জার পক্ষে নিজেদের উন্নতিসাধন করা ভাল, কিন্তু দরজায় করাঘাত করার মাধ্যমে নয়। সম্ভবত বিদ্যালয়গুলি অথবা চিঠির বাক্সে চিঠি ফেলার মাধ্যমটি এর চেয়ে শ্রেয়।” পোপের মন্তব্যকে কিভাবে ব্যাখ্যা করা যায় সে বিষয়ে এমনকি স্থানীয় ক্যাথিড্রেলের এক উচ্চপদস্থ যাজকও সম্পূর্ণ নিশ্চিত ছিলেন না। তিনি বলেছিলেন: “আমরা লোকেদের উৎসাহিত করব যেন তারা যে সুসমাচারকে জানে সেই অনুসারে জীবনযাপন করে। এর অর্থ যদি দরজায় করাঘাত করা হয় সেটি হল এক ভিন্ন বিষয়।” একটি সংবাদ প্রবন্ধের শিরোনাম এটিকে এইভাবে সারসংক্ষেপ করে: “পোপের প্রচার করার আহ্বানে ক্যাথলিকেরা মনোযোগ দেবে না।”
খ্রীষ্টীয়জগৎ সুসমাচার-প্রচার কাজে ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও, ৫০ লক্ষেরও বেশি যিহোবার সাক্ষীরা যীশুর এই আজ্ঞা অনুসরণ করে চলেছে “তোমরা গিয়া সমুদয় জাতিকে শিষ্য কর।” (মথি ২৮:১৯, ২০; তুলনা করুন প্রেরিত ৫:৪২.) বর্তমানে ২৩০টিরও বেশি দেশে এখন তাদের ঘরে ঘরে এই প্রচার কাজ চলছে। তারা যে বার্তা নিয়ে আসে তা ইতিবাচক, যা ভবিষ্যতের জন্য বাইবেলের অপূর্ব প্রতিজ্ঞাগুলির উপর আলোকপাত করে। পরবর্তী সময়ে যখন তারা সাক্ষাৎ করবে তাদের সাথে কথা বলুন না কেন?