তোমাদের জ্যোতি উজ্জ্বল হউক!
অবশেষে সেই বৃদ্ধ ব্যক্তির জন্য প্রতিজ্ঞাত মশীহকে দেখবার সুযোগ এসেছিল! ঐশিক প্রকাশের দ্বারা শিমিয়োন জানতে পেরেছিলেন যে “তিনি প্রভুর খ্রীষ্টকে দেখিতে না পাইলে মৃত্যু দেখিবেন না।” (লূক ২:২৬) তাই এটি কতই রোমাঞ্চকর ছিল যখন শিমিয়োন মন্দিরে প্রবেশ করেছিলেন, আর মরিয়ম ও যোষেফ শিশু যীশুকে তার কোলে দিয়েছিলেন! তিনি এই বলে ঈশ্বরের প্রশংসা করেছিলেন: “হে স্বামিন্, এখন তুমি তোমার বাক্যানুসারে তোমার দাসকে শান্তিতে বিদায় করিতেছ, কেননা আমার নয়নযুগল তোমার পরিত্রাণ দেখিতে পাইল, . . . পরজাতিগণের প্রতি প্রকাশিত হইবার জ্যোতি, ও তোমার প্রজা ইস্রায়েলের গৌরব।”—লূক ২:২৭-৩২; তুলনা করুন যিশাইয় ৪২:১-৬.
যীশু ৩০ বছর বয়সে বাপ্তিস্ম গ্রহণের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জগতের কাছে “জ্যোতি” হিসাবে প্রমাণিত হয়েছিলেন। কোন্ কোন্ উপায়ে? তিনি আধ্যাত্মিক জ্যোতি বিকিরণ করেছিলেন ঈশ্বরের রাজ্য ও তাঁর উদ্দেশ্যগুলি সম্বন্ধে প্রচার করার মাধ্যমে। আরও, তিনি মিথ্যা ধর্মীয় শিক্ষাগুলিকে প্রকাশ করে দিয়েছিলেন ও অন্ধকারের কার্যসকল স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করেছিলেন। (মথি ১৫:৩-৯; গালাতীয় ৫:১৯-২১) সেই কারণে যীশু উপযুক্তভাবেই বলতে পেরেছিলেন: “আমি জগতের জ্যোতি।”—যোহন ৮:১২.
কিন্তু, সা.শ. ৩৩ খ্রীষ্টাব্দে যীশু হত হয়েছিলেন। তখন কি জ্যোতি নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল? অবশ্যই নয়! পৃথিবীতে থাকাকালীন যীশু তাঁর শিষ্যদের বলেছিলেন: “তোমাদের দীপ্তি মনুষ্যদের সাক্ষাতে উজ্জ্বল হউক।” (মথি ৫:১৬) অনুরূপভাবে, যীশুর মৃত্যুর পর তাঁর শিষ্যেরা দীপ্তিকে উজ্জ্বল রেখেছিল।
যীশুর অনুকরণে আজকে খ্রীষ্টানেরা প্রচার কাজে রত থেকে যিহোবার জ্যোতি প্রতিফলিত করে। তারা ‘দীপ্তির সন্তানদের ন্যায়’ চলে খ্রীষ্টীয় জীবনে নিজেদের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসাবে প্রমাণিত করছে।—ইফিষীয় ৫:৮.