প্রজনন ও যুদ্ধের দেবী
সিরিয়ার, এবলা শহরে একটি প্রত্নতাত্ত্বিক অভিযানে এক পুরানিদর্শনের মধ্যে, প্রজনন ও যুদ্ধের এক বাবিলনীয় দেবী ইস্টারের চিত্র আবিষ্কৃত হয়। প্রত্নতত্ত্ববিৎ পাওলো মাথাই এটিকে বর্ণনা করেন এমন “একটি বেলনাকারের মুদ্রণ হিসাবে যার মধ্যে একজন ঘোমটা পরা স্ত্রী পুরোহিতকে এক ঐশিক মূর্তি তার সামনে উপাসনা করার অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায় . . . যার মাথাটি একটি লম্বা অবলম্বনের উপর আটকে রয়েছে।”
এই আবিষ্কারটি তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ মূর্তিটি প্রায় সা.শ.পূ. অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথম দিকে নির্মিত। মাথাইয়ের কথা অনুসারে, ইস্টারের উপাসনা যে প্রায় ২,০০০ বছর ব্যাপৃত এটি তারই এক “সিদ্ধান্তমূলক প্রমাণ” দেয়।
ইস্টারের উপাসনা বাবিলনে শুরু হয় এবং তারপর শতাব্দী ধরে তা সমগ্র রোমীয় সাম্রাজ্যের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। যিহোবা ইস্রায়েলীয়দের আদেশ দিয়েছিলেন যে তারা যেন প্রতিজ্ঞাত দেশ থেকে মিথ্যা ধর্মের লেশ পর্যন্ত নিশ্চিহ্ন করে দেয়, কিন্তু যেহেতু তারা তা করতে অকৃতকার্য হয় তাই অ্যাস্টোরেথের উপাসনা (কনানীয় ইস্টারের সমতুল্য) তাদের ফাঁদস্বরূপ হয়ে উঠে।—দ্বিতীয় বিবরণ ৭:২, ৫; বিচারকর্ত্তৃকগণ ১০:৬.
যদিও ইস্টার ও তার প্রতিমূর্তি অ্যাস্টোরেথের অস্তিত্ব আর নেই, কিন্তু যে প্রবণতাগুলির প্রতিনিধিত্ব এরা করে—অনৈতিকতা ও দৌরাত্ম্য—এগুলি চারিদিকে ছড়িয়ে আছে। আমরা হয়ত যথার্থভাবে জিজ্ঞাসা করতে পারি যে আজকের এই আধুনিক সমাজ কি প্রাচীন সভ্যতা যারা প্রজনন ও যুদ্ধের দেবীর উপাসনা করত তাদের থেকে কোন অংশে আলাদা।
[২০ পৃষ্ঠার চিত্র]
তানিটের কাছে শিশুদেরও বলিদান দেওয়া হত
[সজন্যে]
Ralph Crane/Bardo Museum