রাজ্য ঘোষণাকারীদের বিবৃতি
সাক্ষ্যদান ঘরে ও স্কুলে ফল উৎপাদন করে
খ্রীষ্টীয় জীবনের অন্তর্ভুক্ত হল অপরের জন্য উত্তম কাজ করা, বিশেষকরে তাদের সাথে ঈশ্বরের রাজ্যের সুসমাচার বন্টন করা। হিতোপদেশ ৩:২৭ বলে: “যাহাদের মঙ্গল করা উচিত, তাহাদের মঙ্গল করিতে অস্বীকার করিও না, যখন তাহা করিবার ক্ষমতা তোমার হাতে থাকে।” আর্জ্জেন্টিনার এক যুবক সাক্ষী, যে উচ্চ বিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিল, সে তার স্কুলের বন্ধুর সাথে রাজ্যের সুসমাচার বন্টন করতে চেয়েছিল। তার এইরূপ করার দ্বারা এক সুদূর-প্রসারী ফল সম্পাদিত হয়।
একদিন সেই যুবক সাক্ষীটি তার বন্ধুকে বলে যে সব ধর্ম ভাল নয়। যুবক ব্যক্তিটি যখন উত্তরে জানায় যে সে কোন খারাপ কাজ করে না, সাক্ষীটি তখন বলে: “ঈশ্বরের জন্যও তুমি কিছু কর না।” এটি সেই যুবকটিকে চিন্তায় ফেলে দেয়। পরে সেই সাক্ষীটি তাকে বুঝিয়ে বলে যে এখনকার সময় হল শেষকালের সময় আর ঈশ্বরের অনুমোদন পেতে হলে, একজনকে বাইবেলের যথার্থ জ্ঞান নিতে হবে ও তা প্রয়োগ করতে হবে। তার স্কুলের সেই বন্ধুটি সম্মত হয়। কিন্তু তার পরিবার কি তাকে বাইবেল অধ্যয়ন করার অনুমতি দেবে? বন্ধুকে এবিষয় চিন্তা করে দেখবার জন্য সাক্ষীটি তাকে আপনি পরমদেশ পৃথিবীতে চিরকাল বেঁচে থাকতে পারেন নামক বইটি পড়তে বলে।
সময় এগিয়ে চলে আর ওই বন্ধুটি স্কুলও ছেড়ে দেয়। এক বছরেরও বেশি সময় কাটে, কিন্তু তার কাছ থেকে কোন খবর আসে না। এরপর একদিন সেই যুবক সাক্ষীটি তার বন্ধুর কাছ থেকে টেলিফোন পেয়ে আশ্চর্য হয়ে যায় আর সে জানায় যে বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণীগুলির প্রকৃত পরিপূর্ণতা সে দেখতে পেয়েছে। সেই মুহূর্তে সাক্ষীটি তার সাথে বাইবেল অধ্যয়নের ব্যবস্থা করে ফেলে।
যখন সাক্ষীটি তার স্কুলের সেই প্রাক্তন বন্ধুর বাড়িতে যায়, তখন সে লক্ষ্য করে যে তার বাবামা তাদের সন্তানের জন্য উদ্বিগ্ন কারণ তারা জানতে চায় যে তাদের ছেলে কোন্ বিষয়ের সাথে জড়িয়ে পড়ছে। এমনকি বন্ধুটির ছোট ভাইও মনে করেছিল যে সে পাগল হয়ে গেছে। অতএব বাবামা ছোট ভাইটিকে পরবর্তী অধ্যয়নে যোগদান করতে বলেন। এরপরে ছোট ভাইটি কাঁদতে কাঁদতে তার বাবামাকে জানায় যে তার বড় ভাই একেবারেই পাগল নয়, আর এটা শুনে মা অবাক হয়ে বলে ওঠেন, “একটা সমস্যার থেকে এখন আমার সামনে দুটো সমস্যা এসে দাঁড়ালো!”
পরের অধ্যয়নটিতে তিনি নিজে বসলেন এবং তাকে স্বীকার করতেই হল যে ছেলেরা পাগল হয়ে যায়নি। পরে তার ও তার স্বামীর সাথে বাইবেল অধ্যয়নের ব্যবস্থা করা হয়। এর কিছুদিন পরেই সমগ্র পরিবারটি কিংডম হলে মণ্ডলীর সভাগুলিতে যোগদান করতে শুরু করে। কালক্রমে, দাদু-দিদিমাও বাইবেল অধ্যয়ন শুরু করেন আর সভাগুলিতে যেতে থাকেন। সেই সময় থেকে শুরু করে, প্রথম যুবক ব্যক্তিটি বাপ্তিস্ম নেয়। সে বিবাহ করে আর এখন সে ও তার স্ত্রী এক উদ্যোগী প্রকাশক।
এছাড়াও, স্কুলে রীতিবহির্ভূত সাক্ষ্যদান করার দ্বারা সেই যুবক সাক্ষীটি আরও দুজন স্কুলের সাথীকে সাহায্য করতে পেরেছিল, এমনকি সেইসাথে একজনের মা ও বোনও বাইবেল অধ্যয়ন করতে আরম্ভ করে। মোট ১১ জন ব্যক্তি বাইবেলের সত্য জানতে পারে কারণ যুবক সাক্ষীটি তার বন্ধুদের প্রতি উত্তম কাজ করতে কুণ্ঠিতবোধ করেনি। কতই না আনন্দজনক পরিণাম! এটা প্রকৃতই সত্য যে “ধন্য সেই জাতি, সদাপ্রভু যাহার ঈশ্বর।”—গীতসংহিতা ১৪৪:১৫.