হিংসাপরায়ণ ব্যক্তি
ইব্রীয় ভাষায় “ঈর্ষা” কথাটি বোঝাতে একটিমাত্র মূল শব্দ আছে। যখন পাপপূর্ণ মনুষ্য সম্পর্কে নির্দেশ করা হয়, তখন হয়ত ইব্রীয় শব্দটি “হিংসা” অথবা “প্রতিদ্বন্দ্বিতা” রূপে অনুবাদ করা যেতে পারে। (আদিপুস্তক ২৬:১৪; উপদেশক ৪:৪) কিন্তু, গ্রীক ভাষায়, “ঈর্ষা” কথাটি বোঝাতে একাধিক শব্দ আছে। জিলস শব্দটি ইব্রীয় শব্দের সমরূপে হয়ত ধার্মিক এবং পাপপূর্ণ ঈর্ষা উভয়কেই উল্লেখ করে। আরেকটি গ্রীক শব্দ থোনস কেবলমাত্র নেতিবাচক অর্থ বুঝায়। নতুন জগৎ অনুবাদ (ইংরাজি) এটিকে সবসময় “হিংসা” রূপে বর্ণনা করেছে।
প্রাচীন গ্রীসে থোনস শব্দটি কিভাবে ব্যবহৃত হত? দি অ্যাংক্যার বাইবেল ডিকশনারী জানায়: “লোভী ব্যক্তির বিপরীতে, যে ব্যক্তি থোনস দ্বারা পীড়িত সে অন্যদের কাছে যে বস্তু আছে তা শুধুমাত্র চায় না; সে সাধারণত চায় না যে অন্য ব্যক্তির তা থাকুক। প্রতিযোগিতাপূর্ণ ব্যক্তির লক্ষ্য থেকে সে পৃথক, সেই প্রতিযোগিতাপূর্ণ ব্যক্তিটির বিপরীতে যার লক্ষ্য হল নিজে জয়লাভ করা, এই ব্যক্তি কিন্তু অন্যকে জয়লাভ করা থেকে বিরত করে।”
হিংসাপরায়ণ ব্যক্তি প্রায়ই অবগত থাকে না যে তার নিজের মনোভাবই হল তার সমস্যাগুলির মূল কারণ। “থোনস” এর একটি বিশেষত্ব” একই ডিকশনারী ব্যাখ্যা করে, “হল এর আত্ম-সচেতনতার অভাব। থোনেরস ব্যক্তিকে যদি তার আচরণ বিবেচনা করে দেখতে বলা হয়, সে সবসময় নিজেকে ও অন্যদের বলবে যে যাদের সে আক্রমণ করে তারা এর যোগ্য এবং সেটি হল পক্ষপাতদুষ্ট পরিস্থিতি যা তাকে সমালোচনা করতে পরিচালিত করে। যদি তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় সম্ভবত সে কী করে একজন বন্ধু সম্পর্কে এইভাবে বলতে পারে, তখন সে বলবে যে তার সমালোচনা আসলে তার বন্ধুর উপকারের জন্য।”
সুসমাচার লেখক মথি এবং মার্ক যীশুকে হত্যার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বর্ণনা করতে গিয়ে এই গ্রীক শব্দ থোনস ব্যবহার করেছেন। (মথি ২৭:১৮; মার্ক ১৫:১০) হ্যাঁ, তারা হিংসা দ্বারা চালিত হয়েছিল। সেই একই ক্ষতিকর অনুভূতি ধর্মভ্রষ্টদের তাদের পূর্বের ভাইদের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ ঘৃণাকারী হতে চালিত করেছিল। (১ তীমথিয় ৬:৩-৫) আশ্চর্যের বিষয় নয় যে হিংসাপরায়ণ ব্যক্তিদের ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে না! যিহোবা ঈশ্বর আদেশ জারি করেছেন যে যারা “হিংসাতে পরিপূরিত” ভাবে চলতে থাকবে তারা “মৃত্যুর যোগ্য।”—রোমীয় ১:২৯, ৩২; গালাতীয় ৫:২১.
[Pictures on page 7]
হিংসা দ্বারা আপনার জীবনকে ধ্বংস হতে দেবেন না