ঠিক ফড়িঙের মত
আপনি কি কখনও গ্রীষ্মকালে একটি মাঠের মধ্যে দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময়ে, আপনার সামনে অসংখ্য ফড়িঙকে লাফিয়ে উঠতে দেখেছেন? সেগুলির দিকে খুবই কম মনোযোগ দিলেও, মনে হয় যেন সেগুলি সর্বত্র রয়েছে। বস্তুতপক্ষে, সেগুলিকে নিতান্তই নিরীহ এবং তুচ্ছ বলে মনে হয়।
তবুও, ফড়িঙেরা এত তুচ্ছ হওয়ার জন্যই, তারা মানবজাতির উপযুক্ত প্রতীক হতে পারে। যদিও কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তিরা নিজেদের খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে করতে পারে, কিন্তু আমাদের সৃষ্টিকর্তা তা মনে করেন না। তাঁর ভাববাদী যিশাইয় বলেছিলেন: “তিনিই পৃথিবীর সীমাচক্রের উপরে উপবিষ্ট; তন্নিবাসীগণ ফড়িঙ্গস্বরূপ।”—যিশাইয় ৪০:২২.
যিহোবা ঈশ্বরের গৌরব, শক্তি এবং প্রজ্ঞার জন্য তিনি সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক মহান, ঠিক যেমন বুদ্ধিতে এবং শক্তিতে মানুষে ফড়িঙের চাইতে অনেক বড়। কিন্তু, ঈশ্বরের সবচেয়ে বড় গুণ হল প্রেম। আর তাঁর অতুলনীয় প্রেমের জন্য তিনি আমাদের প্রতি মনোযোগ দেন, আমাদের সাহায্য এবং রক্ষা করেন—যদি আমরা তাঁকে ভালবাসি এবং মেনে চলি। আমরা তুচ্ছ ফড়িঙের মত হলেও যিহোবা আমাদের প্রতি প্রেমের সাথে ব্যবহার করেন। গীতরচক বলেছিলেন: “কে আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর তুল্য? তিনি ঊর্দ্ধে সমাসীন; তিনি অবনত হইয়া দৃষ্টিপাত করেন আকাশে ও পৃথিবীতে। তিনি ধূলি হইতে দীনহীনকে তুলেন, সারের ঢিবী হইতে দরিদ্রকে উঠান।”—গীতসংহিতা ১১৩:৫-৭.
এই গীতে যেমন বর্ণনা করা আছে, যিহোবা প্রেমের সাথে দীনহীনদের সাহায্য করেন। হ্যাঁ, যারা নম্রভাবে ‘ঈশ্বরের অন্বেষণ করে, যাতে তাঁহার উদ্দেশ পায়,’ এমন লোকেদের তিনি সাহায্য করেন। (প্রেরিত ১৭:২৭) যারা ঈশ্বরের উদ্দেশ পান—এবং তাঁর সেবা করেন—তারা তাঁর চোখে মূল্যবান হয়ে ওঠেন। (তুলনা করুন যিশাইয় ৪৩:৪, ১০.) সুতরাং, নিজেদের তুচ্ছতা সম্বন্ধে এবং সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা, যিনি বাধ্য মানবজাতিকে তাঁর বন্ধু মনে করেন এবং তাদের প্রতি তাঁর অযাচিত করুণা দেখান, সেই সম্বন্ধে তুচ্ছ ফড়িঙ আমাদের মনে করিয়ে দেয়। ঈশ্বরের প্রেমের জন্য আপনি কি উপলব্ধি দেখাচ্ছেন? (w93 9/15)