শিথিল হয়ে পড়া বিবাহ-বন্ধন
এক যুবতী মা তার দু-মাস-বয়স্ক শিশুকে আদর করছিল। তারপর, হঠাৎ প্রচণ্ড রাগের বশে, সে শিশুটিকে মাটিতে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। কয়েক ঘন্টা পরে শিশুটি মারা যায়। “আমি ইচ্ছা করে ওকে ফেলে দিয়েছিলাম,” সেই মা বলেছিল, “কারণ আমার স্বামী তার পরিবারের যত্ন নেয় না।” তার স্বামীর সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলার পরিবর্তে, সে নিপ শিশুটির উপর তার ক্রোধ প্রকাশ করে।
খুব কম মায়েরাই এইরকম চরম পদক্ষেপ নেয়, কিন্তু অনেকের মনের অবস্থা তারই মত। বিবাহকে সফল করে তোলা, বিবাহিত দম্পতিদের পক্ষে ক্রমশ আরও বেশি কঠিন হয়ে পড়ছে। “বর্তমানে বৈবাহিক সাফল্যের হার যদি যুক্তরাষ্ট্রের মত এইরকম অল্প হয়,” জার্নাল অফ্ ম্যারেজ অ্যান্ড ফ্যামিলি বলে, “তাহলে বিবাহের প্রতি একটি দৃঢ়, শর্তহীন অঙ্গীকার করা . . . এতই বিপজ্জনক, যে সম্পূর্ণ বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন কোন ব্যক্তি তা করবে না।”
এই উদ্বেগপূর্ণ সময়ে, অনৈতিকতা, একে অপরের উপযুক্ত না হওয়া, ধারদেনা, আত্মীয়কুটুম্বদের সঙ্গে মতবিরোধ এবং স্বার্থপরতা এই সমস্তই বিবাহে অশান্তির সৃষ্টি করে, প্রায়ই যার ফল হয় বিবাহবিচ্ছেদ। জাপানে এই সমস্যা এত গুরুতর, যে বিবাহবিচ্ছেদের বিরুদ্ধে দৃঢ় মনোভাব রাখার জন্য বিখ্যাত ক্যাথলিক গির্জাও, যে সদস্যেরা বিবাহবিচ্ছেদ করেছেন অথবা আবার বিবাহ করেছেন, তাদের কাছে বিষয়গুলি সহজ করে তোলার জন্য একটি বিশেষ কমিটি স্থাপন করেছে। ক্রমশ আরও বেশি গির্জার সদস্যেরা বিবাহবিচ্ছেদজনিত সমস্যার দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছেন।
কিন্তু বিবাহবিচ্ছেদের সংখ্যা শুধুমাত্র এক বিরাট সমস্যার অল্প অংশকে প্রকাশ করে। যুক্তরাষ্ট্রে গবেষণা করে জানা গেছে যে বিবাহবিচ্ছেদের বৃদ্ধির কারণ হল বৈবাহিক জীবনের মান পড়ে যাওয়া, সামাজিক প্রবণতা অনুযায়ী বিবাহবিচ্ছেদ আরও সহজ হয়ে ওঠা নয়। প্রচেষ্টা করা এবং দায়িত্ব নেওয়া যত কমে আসে, বৈবাহিক জীবন ততই আকর্ষণহীন হয়ে পড়ে। অনেকে বাইরে থেকে বিবাহিত দম্পতিদের মত আচরণ করে, কিন্তু বাড়িতে তারা আলাদা ঘরে থাকে এবং নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা খুবই কম বলে। কেউ কেউ এই প্রাচ্য দেশের মহিলার মত মনে করেন, যিনি নিজের আলাদা কবরের জন্য জমি কিনেছিলেন এবং বলেছিলেন: ‘আমার স্বামীর সঙ্গে একই কবরে আমি কখনোই থাকব না।’ এখনই বিবাহবিচ্ছেদ করায় সক্ষম না হওয়ায়, তিনি মৃত্যুর পরে বিবাহবিচ্ছেদ করার আয়োজন করছিলেন। দুঃখের বিষয়, এই ধরনের ব্যক্তিরা বিবাহবিচ্ছেদ না করলেও, বৈবাহিক জীবন তাদের পক্ষে সুখের উৎস নয়।
ইসাওয়ের জীবন এইরকম ছিল। হঠাৎ খেয়ালের বশে সে বিবাহ করেছিল, সেই জন্য তার আত্মকেন্দ্রিক জীবনে কোন পরিবর্তন আনার প্রয়োজন সে বোধ করেনি। যদিও একজন ট্রাকচালক হিসাবে তার আয় ভালই ছিল, কিন্তু তার সমস্ত উপার্জন সে খাওয়াদাওয়া করে এবং মদ্যপান করে শেষ করে ফেলত, পরিবারের যত্ন নিত না। সুতরাং, স্ত্রীর সঙ্গে তার ঝগড়ার অন্ত ছিল না। “আমার দিন যখন খারাপ যেত,” ইসাও পরে বলেছিল, “বাড়িতে ফিরে আমার পরিবারের উপর আমি ক্রোধ প্রকাশ করতাম।” জলন্ত আগ্নেয়গিরির মত, প্রত্যেকদিন তাদের জীবনে বিবাহবিচ্ছেদের প্রশ্ন উঠত।
বর্তমানে বহু নরনারী বিবাহের ক্ষেত্রে ব্যর্থতা সহ্য করে চলেছে। বিবাহবিচ্ছেদ করে বা না করেও, তারা সুখী নয়। তাদের বিবাহকে আবার সফল করে তোলার কোন উপায় আছে কি? তাদের বিবাহ-বন্ধন দৃঢ় করে তুলতে কি করা যেতে পারে? (w93 8/15)