ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯১ ১২/১ পৃষ্ঠা ২৪-২৫
  • সুসমাচার পুস্তকের ওয়াশিংটন কোডেক্স্‌

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • সুসমাচার পুস্তকের ওয়াশিংটন কোডেক্স্‌
  • ১৯৯১ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
১৯৯১ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯১ ১২/১ পৃষ্ঠা ২৪-২৫

সুসমাচার পুস্তকের ওয়াশিংটন কোডেক্স্‌

১৯০৬ সালের ডিসেম্বর মাসে, আমেরিকার ধনী ব্যবসায়ী ও কলাসংগ্রহকারী, চার্লস এল্‌. ফ্রিয়ার, মিশরের গিজা শহরের আলি নামে জনৈক আরবী ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কিছু পুরানো পাণ্ডুলিপি ক্রয় করেন। আলির কথামত সেগুলি সোহাগের নিকট শ্বেত মঠ থেকে এসেছিল, কিন্তু সেগুলি সম্ভবত নীল নদের মোহনায় অবস্থিত গিজার তৃতীয় পিরামিডের নিকটবর্ত্তী ভাইনড্রেসারের মঠের ধ্বংসাবশেষ থেকে পাওয়া গিয়েছিল।

ফ্রিয়ার হাতে পান তিনটি প্রণ্ডুলিপি এবং “গদের আঠার মত শক্ত অথচ ভঙ্গুর নোংরা, ক্ষয়পাওয়া, ও দলাপাকানো মেষ বা ছাগলের চামড়ার কাগজ।” সেটি লম্বায় ৬.৫ ইঞ্চি, চওড়ায় ৪.৫ ইঞ্চি, ও ১.৫ ইঞ্চি মোটা ছিল এবং পাণ্ডুলিপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকায় তার সঙ্গেই বিক্রি হয়েছিল, নিজের কোন মূল্যের জন্য নয়। সেই শুষ্ক পাতাগুলি ছাড়ানো খুবই কষ্টকর হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্য্যন্ত ৮৪টি উদ্ধার করা গিয়েছিল মাত্র, সবকটিই পঞ্চম বা ষষ্ঠ শতাব্দির পৌলের পত্রের কোডেক্স-এর অংশ।

বাকী তিনটে পাণ্ডুলিপির একটা ছিল দ্বিতীয় বিবরণ ও যিহোশূয়ের পুস্তক। অন্যটি ছিল গ্রীক সেপ্টুয়াজিন্টের অনুবাদ থেকে গীতসংহিতার পুস্তক। যাইহোক, তৃতীয় ও সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ পাণ্ডুলিপিটি হচ্ছে চারটি সুসমাচারের পুস্তক।

এই শেষোক্ত পাণ্ডুলিপির মধ্যে বেশীর ভাগই ছিল ১৮৭টি সূক্ষ মেষের চামড়ার কাগজের পাতা, গ্রীক ভাষায় আন্‌সিয়াল অক্ষরে (বড় অক্ষরে) লেখা। তাতে বিরাম চিহ্ন দুর্লভ হলেও, মাঝে মাঝে জায়গা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পাণ্ডুলিপির ধারের দিকগুলি ক্ষয়ে গিয়ে নষ্ট হলেও লেখার বেশীর ভাগ অংশই সংরক্ষিত রয়েছে। পরে, সেটিকে ওয়াশিংটন, ডি. সি.-তে অবস্থিত স্মিথসোনিয়ান ইন্সটিটিউট-এর ফ্রিয়ার গ্যালারী অফ আর্ট-কে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়। একে সুসমাচার পুস্তকের ওয়াশিংটন কোডেক্স নাম দেওয়া হয়, ও “W” বর্ণে সনাক্ত করা হয়।

মেষের চামড়ার কাগজের এই পাতাগুলির অস্তিত্ব চতুর্থ শতাব্দীর শেষের দিকে অথবা পঞ্চম শতাব্দীর শুরুর দিকেই ছিল, তাই শ্রেণীগতভাবে বিদ্যমান গুরুত্বপূর্ণ তিনটে পাণ্ডুলিপি অর্থাৎ সাইনিয়াটিকাস, ভ্যাটিকান, ও অ্যালেক্সাণ্ড্রিন থেকে সেটা কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। (দুটি হারিয়ে যাওয়া পৃষ্ঠা ছাড়া সম্পূর্ণ) সুসমাচারের পুস্তকগুলি তথাকথিত পাশ্চাত্যের রীতি অনুযায়ী প্রথমে মথি, যোহন, লূক ও মার্ক এই ক্রমপর্য্যায় ফেলা হয়।

পাণ্ডুলিপি পাঠোদ্ধার প্রকাশ করে যে তা হচ্ছে শাস্ত্রাংশের এক অসাধারণ সংমিশ্রনের সমষ্টি, যাতে আছে বৃহদাকারের ক্রমিক অংশ। ভিন্ন ভিন্ন ধরনের শাস্ত্রাংশের উদ্ধারপ্রাপ্ত বিভিন্ন পাণ্ডুলিপির অংশবিশেষ থেকে যে নকল করা হয়, তা এর থেকে প্রতীয়মান হয়। প্রফেসার এইচ্‌. এ. স্যাণ্ডার্স-এর ধারনা অনুযায়ী ৩০৩ খ্রীষ্টাব্দে বাইবেল শাস্ত্রের সব অনুলিপি প্রকাশ্যে পুড়িয়ে ফেলার জন্য সম্রাট ডায়োক্লেটিয়ান-এর আদেশের ফলে খ্রীষ্টিয়ানদের প্রতি হঠাৎ যে তাড়না আসে, এটি সেই সময়ের ঘটনা। ঐতিহাসিক নজির থেকে আমরা জানতে পারি যে কোন কোন পাণ্ডুলিপি সেই সময়ে গুপ্ত ছিল। একজন অজানা লোক কয়েক দশক পরে বিভিন্ন পাণ্ডুলিপির উদ্ধারপ্রাপ্ত অংশগুলির নকল করেন বলে মনে হয় আর সেটিই ওয়াশিংটন কোডেক্স-এর শাস্ত্রাংশ হয়ে রূপ নেয়। পরবর্তীকালে যোহনের পুস্তকের প্রথম খণ্ড (যোহন ১:১ থেকে ৫:১১) হারিয়ে যায়, ফলে সপ্তম শতাব্দীতে তাকে আবার লিখতে হয়।

এই শাস্ত্রাংশের মধ্যে কিছু চিত্তাকর্ষক পরিবর্তন দেখা যায়, যা অসাধারণ ও অতিরঞ্জিত, সম্ভবত আদি পাণ্ডুলিপির মার্জিনের টিকা থেকে নেওয়া অংশটি মার্ক ১৬ অধ্যায়ের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়। এই পাণ্ডুলিপির বিশেষ বৈশিষ্ট যে এটি পুরাতন ল্যাটিন ও সিরিয়াক সংস্করণের সঙ্গে সম্বন্ধযুক্ত। এর ব্যবহার যে ভাল ভাবেই হয়েছিল তার প্রমাণ এর পাতার উপর গলে পড়া মোমবাতির ফোঁটা থেকে পাওয়া যায়।

তাড়না এবং বিরোধীতা ও সময়ের ব্যবধান সত্ত্বেও, বাইবেল আমাদের জন্য বহু পাণ্ডুলিপির মধ্যে দিয়ে অলৌকিক ভাবে সংরক্ষিত হয়েছে। “যিহোবার বাক্য চিরকাল থাকে” কথাটি প্রকৃত সত্য।—১ পিতর ১:২৫; যিশাইয় ৪০:⁠৮. (W90 5/1)

[২৫ পৃষ্ঠার বাক্স]

“আবশ্যক” বিষয়টি কি?

যীশুর ঘনিষ্ট বন্ধু লাসারের ভগিনী মার্থার প্রতি তার মন্তব্য অনুবাদ করতে গিয়ে, সুসমাচার পুস্তকের এই ওয়াশিংটন কোডেক্স-এর অবদান প্রচুর। যীশু যখন তাদের বাড়ী যান, মার্থা যীশুর জন্য উত্তম ভোজের আয়োজন করাটাই বেশী গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেছিল, কিন্তু তিনি সদয়ভাবে পরামর্শ দিয়ে বলেন, যেন সে তার ভগিনী মরিয়মের অনুকরণ করে, যে তার চরণের নিকটে বসে তার কথা শুনতো। তিনি বলেন: “অল্প কয়েকটি বিষয়, বরং একটি মাত্র বিষয় আবশ্যক; বাস্তবিক মরিয়ম সেই উত্তম অংশটি মনোনীত করিয়াছে, যাহা তাহার নিকট হইতে লওয়া যাইবে না।”—লূক ১০:⁠৪২.

এই কথাগুলি ওয়েস্টকট ও হর্ট-এর দ্বারা প্রস্তুত ১৮৮১ সালের গ্রীক শাস্ত্রাংশের অনুবাদ অনুযায়ী, এবং এরই উপর ভিত্তি করে নিউ ওয়ার্ল্ড ট্রান্সলেশন-এর উৎপত্তি। ১৯৮৪ সালের রেফারেন্স বাইবেলের টীকা দেখায় যে এটি সাইনায়াটিক (א) এবং ভ্যাটিকান (B) পাণ্ডুলিপি থেকে নেওয়া। উভয়ই একই ধরনের শাস্ত্রাংশের প্রতিনিধিত্বকারী। কিন্তু অ্যালেক্স্যাণ্ড্রিন (A) পাণ্ডুলিপিতে এই ভাবে পাওয়া যায়: “একটি বিষয়, অবশ্যই, প্রয়োজনীয়। সে তার ক্ষেত্রে . . .” টীকাতে যেমন দেখান হয়, তেমনি W কোডেক্স ও তৃতীয় শতাব্দীর চেস্টার বীটী প্যাপিরাস (p45) এবং বডমার প্যাপিরাস (p75), এই অনুবাদের সাথে একমত। কিন্তু ১৮৮১ সালে প্রকাশিত ওয়েস্টকট ও হর্ট-এর বহু দিন পরে এই পাণ্ডুলিপিগুলি প্রকাশ পায়, তাই এই বিকল্প অনুবাদগুলির পরীক্ষা করার সুযোগ হয়নি। যাইহোক, শাস্ত্রের যে কোন অনুবাদ আজ আমরা স্বীকার করি না কেন, যীশু আমাদের পরিষ্কারভাবে বলেন যেন আমরা আমাদের জীবনে আত্মিক বিষয়কে প্রথম স্থান দিই—পরামর্শটি মেনে চললে ভালই হবে।

[২৫ পৃষ্ঠার চিত্র সৌজন্যে]

Courtesy of Freer Gallery of Art, Smithsonian Institution

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার