যীশুর জীবন ও পরিচর্য্যা
গোপনে যিরূশালেম যাত্রা
সময়টি তখন ৩২ খ্রীষ্টাব্দের শরৎকাল, এবং কুটীর উৎসব এগিয়ে এসেছে। ৩১ খ্রীষ্টাব্দের নিস্তারপর্বের সময় থেকে, যখন যিহূদীরা যীশুকে হত্যা করতে চেষ্টা করে, তিনি প্রধানত গালীলেই তার কার্য্য সীমাবদ্ধ রেখেছেন। হয়তো, যীশু যিরূশালেম গিয়েছিলেন শুধুমাত্র যিহূদীদের তিনটি বার্ষিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য।
যীশুর ভ্রাতারা এখন তার কাছে আবেদন জানায়: “এখান হইতে প্রস্থান কর, যিহূদীয়াতে চলিয়া যাও।” যিরূশালেম যিহূদিয়ার প্রধান নগর এবং সারা দেশের ধর্মীয় কেন্দ্রস্থল। তার ভ্রাতারা যুক্তি দেখায়: “এমন কেহ নাই যে, গোপনে কর্ম্ম করে, আর আপনি সপ্রকাশ হইতে চেষ্টা করে।”
যদিও যাকোব, শিমিয়োন, যোসেফ ও যিহূদা বিশ্বাস করে না যে যীশু, তাদের যেষ্ঠ ভ্রাতা, সত্যই মশীহ, তারা চায় তিনি যেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলকে তার অলৌকিক ক্ষমতা প্রদর্শন করেন। যীশু, কিন্তু, যে বিপদ জড়িত ছিল তা সম্বন্ধে অবগত ছিলেন। “জগৎ তোমাদিগকে ঘৃণা করিতে পারে না,” তিনি বলেন, “কিন্তু আমাকে ঘৃণা করে, কারণ আমি তাহার বিষয়ে এই সাক্ষ্য দিই যে, তাহার কর্ম্ম মন্দ।” তাই যীশু তার ভ্রাতাদের বলেন: “তোমরাই পর্বে যাও; আমি এখনও এই পর্বে যাইতেছি না।”
কুটীর উৎসব সাত-দিন যাবৎ অনুষ্ঠান, যা অষ্টম দিনে ভক্তিপূর্ণ কাজের দ্বারা শেষ হয়। এই অনুষ্ঠান কৃষি বৎসরের শেষ চিহ্নিত করে ও অত্যন্ত আনন্দ ও ধন্যবাদপ্রদানের সময়। পথিকদের প্রধান দলটির সঙ্গে তার ভায়েরা যাবার বেশ কিছু দিন পর যীশু তার শিষ্যদের সাথে জনতার চোখ এড়িয়ে যাত্রা শুরু করেন। যর্দ্দন নদীর কাছ দিয়ে যে রাস্তা, যেখান দিয়ে সকলে যায়, সেখান দিয়ে না গিয়ে তারা শমরীয়ার মধ্যে দিয়ে যান।
যেহেতু যীশু ও তার সঙ্গীদের শমরীয়ার একটি গ্রামে থাকার জায়গার প্রয়োজন হবে, তিনি প্রস্তুতির জন্য আগে থেকে দূত পাঠান। কিন্তু, লোকেরা যখন জানতে পারে তিনি যিরূশালেম যাচ্ছেন, তারা কিছু করতে অস্বীকার করে। ক্রোধান্বিত হয়ে, যাকোব ও যোহন জিজ্ঞাসা করে: “প্রভু, আপনি কি ইচ্ছা করেন যে আমরা বলি, আকাশ হইতে অগ্নি নামিয়া আসিয়া ইহাদিগকে ভস্ম করিয়া ফেলুক?” এই মন্তব্যের জন্য যীশু তাদের ভর্ৎসনা করলেন ও তারা অন্য একটি গ্রামে যাত্রা করলেন।
পথে হাঁটার সময় একজন অধ্যাপক যীশুকে বলে: “গুরু, আপনি যে কোন স্থানে যাইবেন, আমি আপনার পশ্চাৎ যাইব।”
“শৃগালদের গর্ত্ত আছে, এবং আকাশের পক্ষিগণের বাসা আছে,” যীশু উত্তর দিলেন, “কিন্তু মনুষ্যপুত্রের মস্তক রাখিবার স্থান নাই।” যীশু দেখাতে চাইলেন যে সেই অধ্যাপককে তার শিষ্য হতে হলে কষ্ট স্বীকার করতে হবে। আর মনে হয় তিনি বোঝাতে চাইছেন সেই অধ্যাপক এই ধরনের জীবন যাপনের জন্য অত্যন্ত গর্বিত।
আরএকজনকে যীশু বলেন: “আমার পশ্চাৎ আইস।”
“অগ্রে আমার পিতার কবর দিয়া আসিতে অনুমতি করুন,” সেই লোকটি উত্তর দেয়।
“মৃতেরাই আপন আপন মৃতদের কবর দিউক,” যীশু উত্তর দিলেন, “কিন্তু তুমি গিয়া ঈশ্বরের রাজ্য ঘোষনা কর।” সেই লোকটির পিতা স্পষ্টতই মারা যায়নি, যদি তাই হত, তাহলে তার পুত্র এখানে বসে যীশুর কথা শুনত না। সেই লোকটি আপাতদৃষ্টিতে তার পিতার মৃত্যু পর্য্যন্ত অপেক্ষা করার সময় চাইছে। ঈশ্বরের রাজ্যকে তার জীবনে প্রথম স্থান দিতে সে প্রস্তুত নয়।
যিরূশালেমের রাস্তায় আরও এগিয়ে যাওয়ার পথে, আরএকজন ব্যক্তি যীশুকে বলে: “প্রভু, আমি আপনার পশ্চাৎ যাইব, কিন্তু অগ্রে নিজ বাটীর লোকদের নিক বিদায় লইয়া আসিতে অনুমতি করুন।”
উত্তরে যীশু বলেন: “যে কোন ব্যক্তি লাঙ্গলে হাত দিয়া পিছনে ফিরিয়া চায়, সে ঈশ্বরের রাজ্যের উপযোগী নয়।” যারা যীশুর শিষ্য হবে তাদের দৃষ্টি রাখতে হবে রাজ্যের পরিচর্য্যার প্রতি। ঠিক যেমন হাল চালাবার রাস্তা বেঁকে যাবে যদি কৃষক সরাসরি সামনে না তাকায়, তেমনি যদি কেউ এই পুরানো বিধিব্যবস্থার দিকে ফিরে তাকায় তাহলে হয়তো সে জীবনের পথে হোঁচট খেতে পারে। যোহন ৭:২-১০; লূক ৯:৫১-৬২; মথি ৮:১৯-২২.
◆ যীশুর ভ্রাতারা কে, ও তার বিষয় তারা কি মনে করে?
◆ শমরীয়রা কেন দুর্ব্যবহার করে, ও যাকোব ও যোহন কি করতে চায়?
◆ রাস্তায় যীশুর সঙ্গে কোন তিনটি কথোপকথন হয়, এবং কিভাবে তিনি আত্মত্যাগী পরিচর্য্যার প্রয়োজনের ওপর জোর দেন? (W88 3/15)